জলপরি সম্পর্কে তথ্য Information about mermaids

Information about mermaids

জলপরির গল্প আমরা ছোট বেলায় অনেক শুনেছি কিন্তু কখনো কি আপনারা জলপরি দেখেছেন? পৃথিবিতে কী আসলেই জল পরি আছে? এসকল প্রশ্ন আজও মনে গেথে আছে তাই জানতে ইচ্ছা হয় আসলেই কী জলপরি পৃথিবিতে আছে তাহা আমরা আলোচনা করব তো সাথে থাকুন এবং পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলঃ-

হঠাৎ করে অনেক তিমি মাছ সমুদ্র সৈকতে মৃত অবস্থায় ভেসে আসতে থাকে তাই এ তিমি মাছ কেন মৃত বরণ করে এ বিষয়ে তিনজন বিজ্ঞানী পল রবার্টসন, ডা. রেবিকা ডেভিস ও ব্রায়েনকে তদন্ত দেওয়া হয় তখন তারাহা তদন্ত শুরু করেন।  তদন্তকালে  সেই গবেষণা অনুযায়ী তাহারা একটি তথ্যচিত্রও তৈরি করেছিলো। সেই তথ্যচিত্রর  অনুযায়ী ১৯৯৯ সালে হঠাৎ করে সমুদ্র হতে অনেক মৃত তিমি রহস্যজনকভাবে ভেসে আসতে শুরু করেছিল। এই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য এই তিনজনকে তদন্ত দেওয়া হয়।

তদন্তকালে তারা তদন্ত করে বের করেছিলেন যে তিমি মাছ আঘাতপ্রাপ্ত ছিলো ও তাদের শরীর থেকে রক্ত বের হওয়ার কারনে মৃত বরণ করেছিল। এর কারণ অনুসন্ধান করার জন্য তারা সমুদ্রের নিচে একটি সুপারসনিক মাইক্রোফোন রাখেন এবং সেখানে একটি রহস্যময় শব্দ শোনা যায়। এই ধরনের শব্দ ১৯৯৭ সালেও শোনা গিয়েছিল। অনেক দীর্ঘ সময় ধরেই এই শব্দটি বিজ্ঞানীরা শুনতে ছিলেন। এই তিন বিজ্ঞানী রহস্যময় এই শব্দের ওপরে গবেষণা অব্যহত রাখেন। আর এদিকে সেই সময়েও সমুদ্র সৈকতে মৃত তিমি মাছ ভেসে আসতে থাকলো আর আগের মতোই তাদের শরীর ছিল আঘাতপ্রাপ্ত ছিল। সমুদ্রের তলদেশ থেকে এই ধরনের অদ্ভুত শব্দ ও একই সময়ে তিমি মাছের এরকম আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যাওয়ার কারণে একটি ব্যাপার তো ধারণা করাই যাচ্ছিল, আর সেটা হল সমুদ্রের নিচে রহস্যময় কোন কিছু একটা অবশ্যই ঘটিতেছে যার কারনে এ রকম হচ্ছে।

আর এই কারণে গবেষণাটি আরো গুরুত্বদিয়ে করা হলো এবং সমুদ্র থেকে অন্যান্য শব্দ ধারণ করে সেগুলোও নিয়েও গবেষণা করতে থাকলো। আগের যে ধরনের শব্দ আসত কিন্ত এখন আর সে ধরনের শব্দ আসে না ভিন্ন ধরনের শব্দ আসতে থাকে যাতে শব্দের মধ্যে কোন মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। এমনকি সমুদ্রে থাকা কোন প্রাণীও এ ধরনের  রহস্যময় শব্দ কখনো করে না। পরবর্তীতে এই রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে নতুন একজন বিঞ্জানীর বিজ্ঞানীর সাহায্য গ্রহণ করেন। সেই বিজ্ঞানী ছিলেন প্রাণীদের তৈরি সকল শব্দের ওপরে বিশেষজ্ঞ। তিনি এই শব্দের ওপর গবেষণা করে আশ্চর্যজনক একটি তথ্য বের করেছিলেন। আর সেই অবাক করা তথ্যটি হলো আমরা মানুষেরা যে ধরনের কথার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করি  এই শব্দগুলো সেই রকম প্রায় ১০০ থেকে ১০০০ প্রাণীর নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতার শব্দ।

এরই মধ্যে সমুদ্র থেকে তিমিসহ অন্যন্যা মাছের ভেসে আসতে শুরু করলো হাঙ্গর আর সেই হাঙ্গরগুলো তিমি মাছের মতোই আঘাতপ্রাপ্ত ছিল এবং এই হাঙ্গরগুলোর শরীরের অনেক অংশ কোনও প্রাণী খেয়ে ফেলেছে এরকম দেখতে লাগলো। তবে হাঙ্গরের পেটের মধ্যে বেশকিছু রহস্যজনক টিস্যু, হাড় ও কঙ্কাল খুঁজে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সেগুলো ল্যাবে পাঠিয়ে গবেষণা করে জানা যায় যে, এগুলো হাঙর অথবা অন্য কোন প্রাণীর শরীরের টিস্যু নয়। এরপর একজন ইভল্যুশন বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীকে নিয়োগ করা হয় এ বিষয়ে। তিনি সেই হাড়গুলো থেকে গবেষণা করে বলেন এই প্রাণীটি একসময় পৃথিবিতে মাটিতে দুই পায়ে হাঁটতে পারত।

এছাড়াও হাঙ্গরের পেটের মধ্যে পাওয়া হাড়গুলো একসাথে জোড়া লাগিয়ে একটি কঙ্কাল তৈরী করে যা খুঁজে পাওয়া যায় সেটা শুনে আপনি চমকে উঠবেন। কারণ সেটা ছিল একটা মানুষের মাথার খুলির আকৃতি! তবে সেই মানুষের মাথার খুলিতে চোখের অংশটুকু অনেক বড় ছিল। আর তখনই এই প্রশ্ন ভেসে আসে যে মানুষের মত এই কি সেই প্রাণী যা কিনা এত বছর ধরে খোঁজা হচ্ছিলো অর্থাৎ এটাই কি জলপরি?

এই পর্যন্ত এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলোর ওপরে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট খুশি ছিলেন এবং তারা এই গবেষণাটি আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন। আর এইজন্য তারা ওয়াশিংটন যাওয়ার জন্য ভাবতেছিলেন। তবে তারা ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগেই পুলিশ হঠাৎ করে এসেই তাদের যাবতীয় সরঞ্জাম ও মৃত প্রাণীর শরীরের অংশসহ সবকিছুই জব্দ করে নিয়ে যায়। অর্থাৎ এই গবেষণা সম্পর্কে পুলিশ জেনে গিয়েছিলো এবং সেটি আরো সামনে এগিয়ে যাক তারা এটা চাচ্ছিলেন না। বিজ্ঞানীরা ডিএনএ স্যাম্পলগুলো পরীক্ষা করতে পাঠিয়েছিলেন সেগুলোও পুলিশ জব্দ করে নেয়।

 

পুলিশ তাদের সকল তথ্য জব্দ করার পর তারা সাময়িকভাবে গবেষণাটি থামিয়ে দিয়েছিলো কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তারা এক অদ্ভুত ঘটনা শুনতে পান। কিছু বাচ্চা সমুদ্র সৈকতে খেলা করতে যায় তখন ছোট বাচ্ছাড়া অদ্ভুত একটা জিনিস দেখতে পায়। সেই অদ্ভুত জিনিসটা কী তাহা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা সেই শিশুদের বাসায় যান এবং তাদেরকে জানান যে কীভাবে তাদের গবেষণার সমস্ত তথ্য ও সরঞ্জামাদি পুলিশের জব্দ করেছিল। তাদের কথা শুনে শিশুদের মায়েরা শিশুদের আঁকা একটি ড্রইং দেখান। আর ড্রইংয়ে একটি জলপরি অর্থাৎ মারমেইডের ছবি আঁকা ছিল!

শুধু তাই নয় সেই শিশুরা বিজ্ঞানীদেরকে একটি ভিডিও দিয়েছিলো। সেখানে একটি অদ্ভুত প্রাণীকে দেখা যায়। আর এই অদ্ভুত প্রাণীটির খুলির সাথে ল্যাবের সেই হাড় জোড়া লাগিয়ে পাওয়া আকৃতি একদমই মিলে গিয়েছিলো। এরপর সেই শিশু ও তাদের পরিবার বিশ্বাস করে শুরু করেছিলো যে মারমেইড আসলে আছে এবং এটা তারা পুরো বিশ্বকে জানাতে চাচ্ছিলো। তবে তখনই সেই শিশুদের বাসায় নৌসেনারা আসে এবং তাদেরকে বোঝাতে শুরু করে যাতে তারা সবাইকে বলে আদতে শিশুরা একটা সিল মাছকেই দেখেছে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ভিডিওটিও নিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর বিজ্ঞানীরা আরো কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য সমুদ্রে আবারও গবেষণা শুরু করেন। সে ধরনের আরো শব্দ শোনার জন্য তারা আর সমুদ্রে গিয়েছিলেন কিন্তু নৌসেনারা আবারও তাদের থামিয়ে দেন।

এই ঘটনার পর বিজ্ঞানীরা গবেষণাটি সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন। কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন যে মারমেইডদের বেঁচে থাকার জন্য তাদের অস্তিত্বের খবরটি গোপন থাকাই জরুরি।

এ থেকে আপনারা কী জানতে পেরেছেন?

আপনার মতামত বলুনঃ-

Level 1

আমি রফিকুল ইসলাম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 বছর 3 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 4 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 9 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস