
আচ্ছা, একটা প্রশ্ন করি? আপনারা যারা অনলাইনে ছবি শেয়ার করেন, তাদের মনে কি কোনো চিন্তা কাজ করে? আমার তো করে! সেটা হলো, আমার শখের তোলা ছবিটা যদি কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করে ফেলে? ক্রেডিট না দিয়ে নিজের বলে চালিয়ে দেয়? খুব খারাপ লাগে, তাই না?
এই সমস্যা থেকে বাঁচতে ওয়াটারমার্ক ব্যবহার করাটা জরুরি। ওয়াটারমার্ক আপনার ছবির আইডেন্টেকটিউনস, আপনার ওনারশিপ-এর প্রমাণ। কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ নয়। অনেক সময় এমন হয়, নিজের ছবিতেই ওয়াটারমার্ক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ধরুন, আপনি কোনো জরুরি কাজে নিজের তোলা একটি ছবি ব্যবহার করতে চান, কিন্তু সেখানে ওয়াটারমার্ক দেওয়া আছে। কী করবেন তখন?
আগে এই সমস্যার সমাধান ছিল বেশ কঠিন। ফটোশপ বা অন্য কোনো ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে ম্যানুয়ালি ওয়াটারমার্ক সরাতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ এবং বেশ ঝামেলার কাজ ছিল। কিন্তু এখন AI-এর যুগে সেই দিন বদলে গেছে।
আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটি AI-Powered Online Tool এর পরিচয় করিয়ে দেব, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আপনার ছবির ওয়াটারমার্ক সরিয়ে দিতে পারে। টুলটির নাম Dewatermark। এই রিভিউ-তে আমরা Dewatermark নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যাতে আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারেন, এটি আপনাদের জন্য কতটা উপযোগী।

Dewatermark হলো একটি ওয়েব-বেসড অ্যাপ্লিকেশন, যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে ছবির ওয়াটারমার্ক অটোমেটিকভাবে সরিয়ে দেয়। টুলটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে যে কেউ খুব সহজে এটি ব্যবহার করতে পারে, কোনো রকম টেকনিক্যাল স্কিল ছাড়াই। এটা অনেকটা প্লাগ অ্যান্ড প্লে (Plug and Play)-এর মতো – শুধু ছবি আপলোড করুন আর ম্যাজিক দেখুন!
Dewatermark কেন দরকারি, তার কিছু প্র্যাক্টিক্যাল রিজন নিচে দেওয়া হলো:
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট @ Dewatermark

Dewatermark-এর প্রাণ হলো এর শক্তিশালী AI ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনটি অ্যাডভান্সড ইমেজ রিকগনিশন টেকনোলজি ব্যবহার করে ছবির ওয়াটারমার্ক ডিটেক্ট করে।
ওয়াটারমার্ক ডিটেক্ট করার পর AI সেই নির্দিষ্ট পিক্সেলগুলোকে এমনভাবে ফিল করে, যাতে ওয়াটারমার্কের অস্তিত্ব বোঝা না যায়। এই ফিলিং প্রসেস-এর সময় AI আশেপাশের পিক্সেলগুলো অ্যানালাইজ করে এবং সেগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে ওয়াটারমার্কের অংশটুকু রিফিল করে দেয়। ফলে, ওয়াটারমার্ক সরানোর পর ছবিটা দেখতে অলমোস্ট অরিজিনাল ছবির মতোই লাগে।
Dewatermark এ মূলত দুইটি মোড রয়েছে:

Dewatermark ব্যবহার করা খুবই স্ট্রেইটফরোয়ার্ড। নতুন ইউজারদের সুবিধার জন্য নিচে স্টেপগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
প্রথমে Dewatermark এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান।
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আপনি একটি "Upload Image" বাটন দেখতে পাবেন। বাটনে ক্লিক করে আপনার ডিভাইস থেকে ছবিটি সিলেক্ট করুন। এছাড়াও আপনি চাইলে ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ-এর মাধ্যমেও ছবি আপলোড করতে পারেন। মডার্ন ব্রাউজারগুলোতে এই ফিচারটি অ্যাভেইল্যাবল থাকে।

ছবি আপলোড করার পর Dewatermark কিছুক্ষণের মধ্যেই ওয়াটারমার্ক খুঁজে বের করে সরিয়ে দেবে। এই টাইমটা আপনার ছবির সাইজ এবং কমপ্লেক্সিটি-এর উপর নির্ভর করে। সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের বেশি লাগেনা।
ওয়াটারমার্ক সরানোর পর আপনি পাশাপাশি অরিজিনাল ইমেজ এবং এডিটেড ইমেজ দেখতে পারবেন। এতে আপনি বুঝতে পারবেন টুলটি কতোটা ভালোভাবে কাজ করেছে।

যদি আপনার মনে হয় ওয়াটারমার্ক পুরোপুরি ক্লিন হয়নি, তাহলে "Edit Result" বাটনে ক্লিক করুন।

"Edit Result" বাটনে ক্লিক করার পর আপনি ম্যানুয়াল এডিটিং-এর অপশন পাবেন। এখানে ব্রাশ সাইজ অ্যাডজাস্ট করে ওয়াটারমার্কের অবশিষ্ট অংশটুকু মার্ক করুন এবং "Remove" বাটনে ক্লিক করুন। আপনি Undo এবং Redo বাটনও পাবেন, যা এডিটিং প্রসেসকে আরও সহজ করে দেবে।

সবশেষে, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ইমেজের সাইজ সিলেক্ট করুন (HD বা Original Size) এবং "Download" বাটনে ক্লিক করে ওয়াটারমার্ক ছাড়া ইমেজটি ডাউনলোড করুন। Dewatermark মাল্টিপল ডাউনলোড অপশনও সাপোর্ট করে।

Dewatermark এর হোমপেজে কিছু স্যাম্পল ইমেজ দেওয়া আছে, যেগুলো ব্যবহার করে আপনি প্র্যাকটিস করতে পারেন। প্র্যাকটিস করলে টুলটি ব্যবহার করা আপনার জন্য আরও ইজি হয়ে যাবে।

যেকোনো টুল ইউজ করার আগে তার পজিটিভ এবং নেগেটিভ সাইডগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। Dewatermark এর কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা নিচে উল্লেখ করা হলো:
সুবিধা:
অসুবিধা:

Dewatermark ছাড়াও ইন্টারনেটে আরও অনেক ওয়াটারমার্ক রিমুভার টুল অ্যাভেইল্যাবল আছে। তাদের মধ্যে কয়েকটি পপুলার টুল হলো:
তবে, আমার ব্যক্তিগত অপিনিয়ন হলো, Dewatermark এর AI-powered ফিচার এবং ক্লিন ইউজার-ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেসের কারণে এটি ওয়াটারমার্ক সরানোর জন্য বেস্ট অপশন।
Dewatermark নিয়ে এই ডিটেইলড রিভিউটা আপনাদের কেমন লাগলো, টিউমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। যদি ওয়াটারমার্ক নিয়ে আপনার কোনো টেনশন থাকে, তাহলে একবার Dewatermark ইউজ করে দেখতে পারেন। আশাকরি, রেজাল্ট দেখে আপনি হতাশ হবেন না।
আর হ্যাঁ, টিউনটি হেল্পফুল মনে হলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবেন। হ্যাপি এডিটিং! ধন্যবাদ।
আমি নূসরাত জাহান শবনম। ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেট। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 2 টি টিউন ও 2 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 2 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।