Dewatermark – Watermark এর জ্বালা থেকে মুক্তি! AI দিয়ে ছবিকে করুন আরও প্রাণবন্ত!

Level 0
৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেট

আচ্ছা, একটা প্রশ্ন করি? আপনারা যারা অনলাইনে ছবি শেয়ার করেন, তাদের মনে কি কোনো চিন্তা কাজ করে? আমার তো করে! সেটা হলো, আমার শখের তোলা ছবিটা যদি কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করে ফেলে? ক্রেডিট না দিয়ে নিজের বলে চালিয়ে দেয়? খুব খারাপ লাগে, তাই না?

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে ওয়াটারমার্ক ব্যবহার করাটা জরুরি। ওয়াটারমার্ক আপনার ছবির আইডেন্টেকটিউনস, আপনার ওনারশিপ-এর প্রমাণ। কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ নয়। অনেক সময় এমন হয়, নিজের ছবিতেই ওয়াটারমার্ক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ধরুন, আপনি কোনো জরুরি কাজে নিজের তোলা একটি ছবি ব্যবহার করতে চান, কিন্তু সেখানে ওয়াটারমার্ক দেওয়া আছে। কী করবেন তখন?

আগে এই সমস্যার সমাধান ছিল বেশ কঠিন। ফটোশপ বা অন্য কোনো ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে ম্যানুয়ালি ওয়াটারমার্ক সরাতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ এবং বেশ ঝামেলার কাজ ছিল। কিন্তু এখন AI-এর যুগে সেই দিন বদলে গেছে।

আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটি AI-Powered Online Tool এর পরিচয় করিয়ে দেব, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আপনার ছবির ওয়াটারমার্ক সরিয়ে দিতে পারে। টুলটির নাম Dewatermark। এই রিভিউ-তে আমরা Dewatermark নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যাতে আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারেন, এটি আপনাদের জন্য কতটা উপযোগী।

Dewatermark কী? কেন এটা দরকারি?

Dewatermark কী

Dewatermark হলো একটি ওয়েব-বেসড অ্যাপ্লিকেশন, যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে ছবির ওয়াটারমার্ক অটোমেটিকভাবে সরিয়ে দেয়। টুলটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে যে কেউ খুব সহজে এটি ব্যবহার করতে পারে, কোনো রকম টেকনিক্যাল স্কিল ছাড়াই। এটা অনেকটা প্লাগ অ্যান্ড প্লে (Plug and Play)-এর মতো – শুধু ছবি আপলোড করুন আর ম্যাজিক দেখুন!

Dewatermark কেন দরকারি, তার কিছু প্র্যাক্টিক্যাল রিজন নিচে দেওয়া হলো:

  • সময়ের সাশ্রয়: ম্যানুয়ালি ওয়াটারমার্ক সরাতে একজন এক্সপার্ট-এরও অনেক সময় লেগে যায়। Dewatermark সেই কাজ কয়েক সেকেন্ডে করে দেয়। আপনার মূল্যবান সময় বাঁচে।
  • ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ: এর ইউজার ইন্টারফেস এতটাই ইউজার-ফ্রেন্ডলি যে, একজন নতুন ইউজারও কোনো রকম কনফিউশন ছাড়াই এটি ব্যবহার করতে পারবে। প্রতিটি অপশন সুন্দরভাবে সাজানো আছে।
  • ছবির কোয়ালিটি বজায় রাখে: ওয়াটারমার্ক সরানোর সময় অনেক টুল ছবির কোয়ালিটি কমিয়ে দেয়। Dewatermark চেষ্টা করে অরিজিনাল কোয়ালিটি বজায় রাখতে, যাতে আপনার ছবির ডিটেইলস ঠিক থাকে।
  • খরচ নেই: Dewatermark ব্যবহারের জন্য কোনো হিডেন চার্জ বা সাবস্ক্রিপশন ফি নেই। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Dewatermark

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট @ Dewatermark

Dewatermark কীভাবে কাজ করে? টেকনিক্যাল বিষয়গুলো একটু ঝালিয়ে নেয়া যাক

Dewatermark কীভাবে কাজ করে

Dewatermark-এর প্রাণ হলো এর শক্তিশালী AI ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনটি অ্যাডভান্সড ইমেজ রিকগনিশন টেকনোলজি ব্যবহার করে ছবির ওয়াটারমার্ক ডিটেক্ট করে।

ওয়াটারমার্ক ডিটেক্ট করার পর AI সেই নির্দিষ্ট পিক্সেলগুলোকে এমনভাবে ফিল করে, যাতে ওয়াটারমার্কের অস্তিত্ব বোঝা না যায়। এই ফিলিং প্রসেস-এর সময় AI আশেপাশের পিক্সেলগুলো অ্যানালাইজ করে এবং সেগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে ওয়াটারমার্কের অংশটুকু রিফিল করে দেয়। ফলে, ওয়াটারমার্ক সরানোর পর ছবিটা দেখতে অলমোস্ট অরিজিনাল ছবির মতোই লাগে।

Dewatermark এ মূলত দুইটি মোড রয়েছে:

  1. Automatic Mode (অটোমেটিক মোড): এই মোডে AI নিজে থেকেই ওয়াটারমার্ক খুঁজে বের করে এবং এক নিমেষে সরিয়ে দেয়। আপনাকে কিছুই করতে হবে না।
  2. Manual Brush Editing (ম্যানুয়াল ব্রাশ এডিটিং) মোড: যদি অটোমেটিক মোড আপনার মনের মতো রেজাল্ট দিতে না পারে, তাহলে ম্যানুয়াল ব্রাশ এডিটিং মোড ব্যবহার করে ওয়াটারমার্কের অংশটুকু সিলেক্ট করে সরিয়ে দিতে পারবেন। এই মোডটি আপনাকে ম্যাক্সিমাম কন্ট্রোল দেয়।

Dewatermark ব্যবহারের A to Z: Beginners Guide গাইড

Dewatermark ব্যবহারের A to Z

Dewatermark ব্যবহার করা খুবই স্ট্রেইটফরোয়ার্ড। নতুন ইউজারদের সুবিধার জন্য নিচে স্টেপগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

প্রথমে Dewatermark এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান।

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আপনি একটি "Upload Image" বাটন দেখতে পাবেন। বাটনে ক্লিক করে আপনার ডিভাইস থেকে ছবিটি সিলেক্ট করুন। এছাড়াও আপনি চাইলে ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ-এর মাধ্যমেও ছবি আপলোড করতে পারেন। মডার্ন ব্রাউজারগুলোতে এই ফিচারটি অ্যাভেইল্যাবল থাকে।
Dewatermark upload image

ছবি আপলোড করার পর Dewatermark কিছুক্ষণের মধ্যেই ওয়াটারমার্ক খুঁজে বের করে সরিয়ে দেবে। এই টাইমটা আপনার ছবির সাইজ এবং কমপ্লেক্সিটি-এর উপর নির্ভর করে। সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের বেশি লাগেনা।

ওয়াটারমার্ক সরানোর পর আপনি পাশাপাশি অরিজিনাল ইমেজ এবং এডিটেড ইমেজ দেখতে পারবেন। এতে আপনি বুঝতে পারবেন টুলটি কতোটা ভালোভাবে কাজ করেছে।
Dewatermark before after

যদি আপনার মনে হয় ওয়াটারমার্ক পুরোপুরি ক্লিন হয়নি, তাহলে "Edit Result" বাটনে ক্লিক করুন।
Dewatermark Manual Edit

"Edit Result" বাটনে ক্লিক করার পর আপনি ম্যানুয়াল এডিটিং-এর অপশন পাবেন। এখানে ব্রাশ সাইজ অ্যাডজাস্ট করে ওয়াটারমার্কের অবশিষ্ট অংশটুকু মার্ক করুন এবং "Remove" বাটনে ক্লিক করুন। আপনি Undo এবং Redo বাটনও পাবেন, যা এডিটিং প্রসেসকে আরও সহজ করে দেবে।
Dewatermark watermark remove manually

সবশেষে, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ইমেজের সাইজ সিলেক্ট করুন (HD বা Original Size) এবং "Download" বাটনে ক্লিক করে ওয়াটারমার্ক ছাড়া ইমেজটি ডাউনলোড করুন। Dewatermark মাল্টিপল ডাউনলোড অপশনও সাপোর্ট করে।

Dewatermark image download

Dewatermark এর হোমপেজে কিছু স্যাম্পল ইমেজ দেওয়া আছে, যেগুলো ব্যবহার করে আপনি প্র্যাকটিস করতে পারেন। প্র্যাকটিস করলে টুলটি ব্যবহার করা আপনার জন্য আরও ইজি হয়ে যাবে।

Dewatermark: সুবিধা-অসুবিধাগুলো একনজরে দেখে নেয়া যাক

Dewatermark সুবিধা-অসুবিধা

যেকোনো টুল ইউজ করার আগে তার পজিটিভ এবং নেগেটিভ সাইডগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। Dewatermark এর কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা নিচে উল্লেখ করা হলো:

সুবিধা:

  • ইন্টারফেস খুব ইউজার-ফ্রেন্ডলি হওয়ার কারণে ইউজ করা এক্সট্রিমলি ইজি।
  • AI টেকনোলজি ইউজ করার ফলে ওয়াটারমার্ক সরানোর প্রসেস ফাস্ট হয়।
  • অরিজিনাল ইমেজ কোয়ালিটি বজায় রাখার ম্যাক্সিমাম চেষ্টা করে।
  • কমপ্লিকেটেড পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ম্যানুয়াল এডিটিং-এর অপশনও রয়েছে।
  • সম্পূর্ণ ফ্রিতে ইউজ করা যায়। কোনো হিডেন কস্ট নেই।

অসুবিধা:

  • খুব বেশি কমপ্লিকেটেড ওয়াটারমার্ক সরাতে মাঝে মাঝে স্ট্রাগল করতে হয়।
  • লিমিটেড ইমেজ ফরম্যাট সাপোর্ট করে। সব ধরনের ফরম্যাট সাপোর্ট করে না।
  • ভালো ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া ইউজ করা পসিবল নয়। অফলাইনে ইউজ করার কোনো সুযোগ নেই।

Dewatermark এর অল্টারনেটিভ: আর কী কী অপশন অ্যাভেইল্যাবল আছে?

Dewatermark এর Alternative

Dewatermark ছাড়াও ইন্টারনেটে আরও অনেক ওয়াটারমার্ক রিমুভার টুল অ্যাভেইল্যাবল আছে। তাদের মধ্যে কয়েকটি পপুলার টুল হলো:

  • Watermark Remover: এটি একটি সিম্পল ওয়েব-বেসড টুল, যা অটোমেটিকভাবে ওয়াটারমার্ক সরিয়ে দেয়। ইউজ করাও বেশ ইজি।
  • HitPaw Online: এটি একটি ওয়ান-স্টপ ভিডিও, অডিও এবং ইমেজ অনলাইন এডিটিং টুল। এখানে ওয়াটারমার্ক সরানোর পাশাপাশি আরও অনেক এডিটিংয়ের অপশন রয়েছে।

তবে, আমার ব্যক্তিগত অপিনিয়ন হলো, Dewatermark এর AI-powered ফিচার এবং ক্লিন ইউজার-ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেসের কারণে এটি ওয়াটারমার্ক সরানোর জন্য বেস্ট অপশন।

শেষ কথা

Dewatermark নিয়ে এই ডিটেইলড রিভিউটা আপনাদের কেমন লাগলো, টিউমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। যদি ওয়াটারমার্ক নিয়ে আপনার কোনো টেনশন থাকে, তাহলে একবার Dewatermark ইউজ করে দেখতে পারেন। আশাকরি, রেজাল্ট দেখে আপনি হতাশ হবেন না।

আর হ্যাঁ, টিউনটি হেল্পফুল মনে হলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবেন। হ্যাপি এডিটিং! ধন্যবাদ।

Level 0

আমি নূসরাত জাহান শবনম। ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেট। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 2 টি টিউন ও 2 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 2 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস