ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার উপায় ব্লগার নিয়ে সম্পুর্ন গাইড লাইন

টিউন বিভাগ ওয়েব ডিজাইন
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

ব্লগার কি?

ব্লগার একটি উন্মুক্ত প্লাটফর্ম। পাইরা ল্যাবস ব্লগার তৈরি করে কিন্তু ২০০৩ সালে গুগল ব্লগার কিনে নেই। বর্তমানে ব্লগার গুগলের অধিনে। ব্লগার দিয়ে খুব সহজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।

 নিজস্ব অথবা বানিজ্যিক দুই রকমই ওয়েবসাইট ব্লগার দিয়ে তৈরি করা সম্ভব। ব্লগার দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করলে আপনাকে কোনো হোস্টিং অথবা ডোমেইন খরচ দেওয়া লাগবে না।

এমনকি ব্লগারের অনেক ফ্রি থিম আছে সেগুলোই ব্যবহার করে একটি সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।

কিভাবে ব্লগারে ওয়েবসাইট তৈরি করবো?

ব্লগারে ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনার একটি জিমেইল একাউন্ট থাকা লাগবে। gmail.com থেকে খুব সহজেই একটি জিমেইল তৈরি করতে পারবেন।

 তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন জিমেইলে দেওয়া বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের উপরে হতে হবে। জিমেইল তৈরি করা হয়ে গেলে নিচের স্টেপ গুলো ফলো করে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

1. প্রথমে blogger.com এ যান।
2. Create a free blog এ ক্লিক করুন।
3. আপনার জিমেইল একাউন্ট দিয়ে সাইন আপ করুন।
4. এরপর ব্লগের নাম দিন।
5. ব্লগের টাইটেল দিন।
6. ডোমেইন নাম দিন।

খুব সহজেই তৈরি হয়ে গেলো আপনার ওয়েবসাইট। তবে ওয়েবসাইট তৈরি করলেই হবে না। নিয়মিত টিউন করা লাগবে। অনেকেই ওয়েবসাইট তৈরি করে ইনকাম করার জন্য।

 এখন একটি ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে ইনকাম হয়? চলুন দেখে নিই।

ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে ইনকাম হয়?

গুগল এডসেন্স:
বর্তমানে অনলাইনে সবথেকে বেশি ইনকাম হয় গুগল এডসেন্স থেকে। বড় বড় কোম্পানি তাদের পন্য প্রচার করার জন্য গুগল এডওয়ার্ড নামের একটি প্লাটফর্ম ব্যবহার করে।

তবে তাদের পন্য প্রচার করার জন্য গুগল এডওয়ার্ড কে কিছু অর্থ বরাদ্দ করতে হয়। এখন গুগল বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ভিডিও ইত্যাদিতে সেই বিজ্ঞাপণ গুলো দেখাই।

 যারা ঐ বিজ্ঞাপণ গুলো দেখাই গুগল তাদের অধিকাংশ টাকা দিয়ে বাকি টাকা গুগল রেখে দেই। এখন আপনার ওয়েবসাইটেও গুগলের বিজ্ঞাপণ দেখিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

 তবে গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করতে হলে আপনার ওয়েবসাইটের কিছু যোগ্যতা থাকা লাগবে। চলুন দেখে নিই কি কি যোগ্যতা থাকা লাগবে। প্রথমত আপনার ওয়েবসাইটে ২০-২৫ টি হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট থাকা লাগবে।

 গুগল বর্তমানে কন্টেন্টের উপর বেশি গুরুত্ব দেই। এরপর আপনার ওয়েবসাইটে প্রাইভেসি পলিসি, যোগাযোগের মাধ্যম ইত্যাদি থাকা লাগবে। এবং আপনার ওয়েবসাইটে গুগল থেকে ভিজিটর আনতে হবে।

 তবে কন্টেন্ট অবশ্যই হাই কোয়ালিটি হতে হবে এবং একটুও কপি করা যাবে না অর্থাত সম্পুর্ন ইউনিক হতে হবে।

ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার আরোও কিছু পদ্ধতি:

গুগল এডসেন্স ছাড়া আরো বিভিন্ন ভাবে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা যায়। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি আফিলিয়েট মার্কেটিং করে খুব সহজেই টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

 তাছাড়া ওয়েবসাইটে ভালো পরিমাণে ভিজিটর থাকলে স্পন্সর নিয়ে ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যদি গুগল এডসেন্স এপ্রুভ না পান তাহলে আরোও বিভিন্ন বিজ্ঞাপণ নেটওয়ার্ক সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

তাছাড়া একটি ওয়েবসাইট থেকে শর্টলিংক, সেফলিংক, রেফার ইত্যাদি মাধ্যমে খুব সহজেই ইনকাম করা যায়।

ইনকাম করতে হলে ওয়েবসাইটে ভিজিটর থাকা লাগবে। এখন কিভাবে ভিজিটর পাবেন? বেশি বেশি ভিজিটর পেতে হলে অবশ্যই ওয়েবসাইট এসইও করা লাগবে। এখন কিভাবে ব্লগার ওয়েবসাইটে এসইও করবেন দেখে নিন।
ব্লগার এসইও

বিষয় নির্বাচন:

এখন আপনি ব্লগে কি নিয়ে লিখবেন সেটাই আপনার বিষয়। ধরুন আপনি টেকনোলজি সম্পর্কিত টিউন করবেন তাহলে আপনার ব্লগের বিষয় হবে টেকনোলজি। ব্লগের বিষয় কি হবে সেটা আপনার উপর নির্ভর করবে।

তবে এমন একটি বিষয় বেছে নিতে হবে যেটা জনপ্রিয়। তবে আপনি একসাথে অনেক গুলো বিষয় নিয়েও টিউন করতে পারেন। এরূপ ব্লগকে মাল্টিনিশ ব্লগ বলা হয়।

তবে বিষয় নির্বাচনের উপর আপনার ব্লগের ভিজিটর নির্ভর করবে। তাই ভেবে চিন্তে একটি পারফেক্ট বিষয় বেছে নিন। বাংলা ব্লগের কিছু জনপ্রিয় বিষয় নিচে আলোচনা করা হলো।

1. নিউজ: আপনি ভালো প্রতিবেদন লিখতে পারলে একটি নিউজ সাইট খুলতে পারেন। গুগলে অনেক মানুষ নিউজ বিষয়ে সার্চ দেই এবং এসব সাইট অনেক জনপ্রিয়। ব্লগার দিয়ে সাধারণত নিউজ সাইট সবথেকে সুন্দর করে তৈরি করা যায়।

2. টেকনোলজি: বর্তমানে টেকনোলজি বিষয়ক ব্লগ খুব জনপ্রিয় এবং এর দিন দিন জনপ্রিয়তা আরোও বাড়ছে। আপনি টেকনোলজি সমন্ধে ভালো লিখতে পারলে টেকনোলজি বিষয়ক ওয়েবসাইট খুলতে পারেন। তবে কন্টেন্ট ইউনিক এবং আরোও ভালো হতে হবে কারন টেকনোলজি বিষয়ক ওয়েবসাইট অনেক আছে এবং তাদের সাথে চলতে গেলে অবশ্যই কন্টেন্ট ভালো করা লাগবে।
3. রান্না বান্না
আপনি যদি ভালো রান্না পারেন তাহলে এই বিষয়ে একটি ব্লগ খুলতে পারেন। বর্তমানে অনেক গৃহিণী গুগলে রান্না বিষয়ক কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে থাকে। বর্তমানে রান্নার ওয়েবসাইট কম আছে তাই নিজের ওয়েবসাইটকে তাড়াতাড়ি র‌্যাংকে আনতে পারবেন।

4. রিভিউ
আমরা যখন কোনোকিছু কিনি তার আগে বেশিরভাগ সময়ই গুগল থেকে ঐ জিনিসটার রিভিউ দেখে নিই। বিশেষ করে মোবাইলের ক্ষেত্রে। আপনি যদি কোনো কিছু নিয়ে ভালো রিভিউ করতে পারেন তাহলে একটি রিভিউ চ্যানেল খুলতে পারেন।

5. অনলাইন ইনকাম: আমরা অনেকেই অনলাইনে ইনকাম করতে চাই। বেশিরভাগ সময় আমার গুগলে অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে সার্চ দিয়ে থাকি। এখন আপনার যদি অনলাইন ইনকাম সমন্ধে ভালো জ্ঞান থাকে তাহলে একটি অনলাইন বিষয়ক ওয়েবসাইট খুলতে পারেন।

কিওয়ার্ড রিসার্চ

কিওয়ার্ড হলো একটি শব্দ বা একাধিক শব্দগুচ্ছ। ধরুন গুগলে কেও সার্চ করলো কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হয়। তাহলে এখানে তার প্রধান কিওয়ার্ড ইউটিউব চ্যানেল।

এখন আপনাকে এমন কিওয়ার্ড নিয়ে টিউন করতে হবে যেটি জনপ্রিয় এবং কম্পিটিশন অনেক কম। বর্তমানে এমন কিওয়ার্ড পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছে।

 তবে যে কিওয়ার্ডে কম্পিটিশন বেশি সেই কিওয়ার্ড বেছে নিয়েও টিউন করতে পারেন তবে অন্যদের টিউন থেকে বেশি ইউনিক এবং কার্যকরী হতে হবে। বিভিন্ন ধরনের কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল আছে তবে বেশিরভাগ পেইড অর্থাৎ টাকা খরচ করতে হয়।

 তবে গুগলের কিওয়ার্ড প্লানার দিয়ে সম্পুর্ন ফ্রিতে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারবেন।

ওয়েবসাইটের ডিজাইন

আপনার ওয়েবসাইটে যে শুধু ভিজিটর লাগবে তা কিন্তু নয়। আপনার প্রয়োজন অর্গানিক ভিজিটর। যেসব ভিজিটর প্রত্যেক দিন অন্তত একবার হলেও আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করে তাদের অর্গানিক ভিজিটর বলে।

এখন সাইটের ডিজাইন যদি একদম খারাপ হই তাহলে কেও আপনার কন্টেন্ট পড়তে চাইবে না। ওয়েবসাইটের ডিজাইন অনেকটা কভারের মতো।

যদি কোনো পন্যের কভার ভালো হয় তাহলে সেই পন্যের দিকে লোকের নজর বেশি পড়বে এবং বেচাকেনা অনেক ভালো হবে।

তাই ওয়েবসাইট যথাসম্ভব সুন্দর করুন। নিজে না পারলে ভালো কোনো ওয়েব ডিজাইনারকে দিয়ে ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন।

কন্টেন্ট

আপনি যতই কিওয়ার্ড রিসার্চ করুন না কেনো কন্টেন্ট ভালো না হলে কখনও ভিজিটর পাবেন না। বর্তমানে গুগল কন্টেন্টর উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই ওয়েবসাইটকে প্রথম পেজে আনতে হলে অবশ্যই কন্টেন্ট ভালো হতে হবে।

যত ভালো এবং ইউনিক কন্টেন্ট লিখবেন তত ভিজিটর পাবেন। যদি গুগলে কোনো কিছু সার্চ করেন তাহলে প্রথম যে সার্চ রেজাল্ট আসবে সেটা যদি দেখেন তাহলে দেখবেন তাদের কন্টেন্ট অনেক বড় এবং ইউনিক।

যেহেতু গুগল কন্টেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তাই নতুন ওয়েবসাইটকে প্রথম পেজে র‌্যাংক করানো তেমন কষ্টসাধ্য নয়। তাই যথাসম্ভব ভালো কন্টেন্ট লিখুন।

ব্যাকলিংক

গুগলের র‌্যাংকিং ফ্যাক্টরের মধ্যে ব্যাকলিংক অন্যতম। কোনো জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের সাথে একটি নতুন ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করাকেই ব্যাকলিংক বলে।

এভাবে অনেক ভিজিটর পাওয়া যায়। এখন ব্যাকলিংক কোথা থেকে পাবেন? ব্যাকলিংক পাওয়ার সবথেকে ভালো মাধ্যম ফোরাম টিউনিং করা। বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট যেখানে সাইন আপ করে গেস্ট টিউনিং করা যায়।

 উদাহরণ হিসেবে বলা যায় প্রথম আলো। প্রথম আলো ওয়েবসাইট গুগলের প্রথম পেইজে থাকে তাই সেখানে টিউনিং করে ব্যাকলিংক পেতে পারেন।

তাছাড়া নিজের সাইট কে বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে যুক্ত করতে পারেন। নতুন ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ব্যাকলিংক একটি কার্যকরী মাধ্যম।

টিউমেন্টের মাধ্যমে

এটি একটি বিশেষ কার্যকরী মাধ্যম। ধরুন কেও একটি টিউন করেছে। এখন সেই টিউন যে পড়ছে সে টিউনের মধ্যে কিছু অংশ বুঝতে পারেনি তাই টিউমেন্টে প্রশ্ন করেছে।

 এখন আপনি তার প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দিয়ে নিচে লিখে দিলেন আরোও জানতে আমার ওয়েবসাইট ভিজিট করুন এবং আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে দিলেন।

 এখন সে আপনার নিখুঁত উত্তর দেখে তার মনে কৌতুহল জাগবে এবং আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে। আপনার ওয়েবসাইটে যদি ভালো ভালো কন্টেন্ট থাকে তাহলে সেই প্রত্যেক দিন ভিজিট করবে অর্থাৎ আপনি একটি অর্গানিক ভিজিটর পেয়ে গেলেন।

আবার অন্য কেউ যদি সেই উত্তর দেখে তাহলে তারাও ভিজিট করবে অর্থাৎ আপনি মোটামুটি ভিজিটর পেয়ে গেলেন। এভাবে অনেক ভিজিটর পাওয়া যায়।

এই স্টেপ গুলো ফলো করলে খুব সহজেই ওয়েবসাইটে ভালো পরিমাণে ভিজিটর পেয়ে যাবেন।

আমাদের শেষ কথা

ব্লগার থেকে ইনকাম করতে হলে প্রথমেই ধৈর্য্য থাকা লাগবে। দ্বিতীয়ত আপনার কন্টেন্ট সবথেকে ভালো হতে হবে। যদিও অনেকে একটু তেই হাল ছেড়ে দেই তবে এমন করলে চলবে।

ব্লগার থেকে ইনকাম করতে গেলে কখনো কখনো এক বছরের থেকেও বেশি লাগে। মোট কথা ধৈর্য্য ধরে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে হবে।

আশাকরি ব্লগার সম্পর্কে আপনাদের ভালো ধারণা দিতে পেরেছি। যদি ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মাঝে আমাদের ওয়েবসাইট শেয়ার করে দিন।

কোনো কিছু না বুঝলে টিউমেন্টে জানাতে পারেন। আশাকরি সাহায্য করতে পারবো। আজ এই পর্যন্তই।

আল্লাহ হাফিজ।

Level 2

আমি রায়হান মাহমুদ সাকিব। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 7 মাস 1 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 14 টি টিউন ও 8 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 3 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস