হার্ডডিস্ক এবং এসএসডি এর মধ্যে পার্থক্য সমূহ

Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

বর্তমান সময়ে টেকনোলজি দিনদিন পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমান সময়ে সবকিছু প্রায় মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। একটা সময় ছিল যখন কোনো তথ্য খোঁজার জন্য যেতে হতো লাইব্রেরীতে এবং সেখানে গিয়ে সারি সারি পুস্তক এর ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করতে হতো। কোন তথ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে লিখতে হতো পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা। কিন্তু বর্তমানে সে ধারণা একেবারেই পাল্টে গেছে।

বর্তমানে একটি আস্ত লাইব্রেরির ভেতরে যত বই রাখা সম্ভব তার চাইতেও বেশি পরিমাণে বইয়ের তথ্য রাখা সম্ভব একটি মাত্র চিপে। শুধু তাই নয়, এ তথ্য আবার খুঁজে বের করাও মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। যে বিষয়গুলো বর্তমান সময়ে একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সর্বপ্রথম যখন কম্পিউটার আবিষ্কার হয় তখন সেটি রাখার জন্য দরকার হয়েছিল বিশাল একটি ঘরের। তখন সেসব কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সামগ্রীগুলো ছিল অনেক বড় এবং এর কার্যক্ষমতা ও ছিল অনেক কম। তবে দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে। ডিভাইসগুলো যত ছোট হচ্ছে তাদের গতি এবং কার্যক্ষমতা পূর্বের চাইতে আরো ভালো হচ্ছে। ছোট্ট একটি জায়গার ভিতরে কোটি কোটি তথ্য জমা থাকছে। আজকে আমরা সেরকমই একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে এসএসডি (SSD) এবং এইচডিডি (HDD)।

HDD

SSD এর অর্থ হচ্ছে Solid State Drive এবং HDD এর অর্থ হচ্ছে Hard Disk Drive। এই দুইটি ডিভাইসই হচ্ছে স্টোরেজ ডিভাইস। যেখানে কম্পিউটারের মূল্যবান বিভিন্ন ডাটা সংরক্ষণ থাকে। যেটিকে আপনি একটি মেমোরি কার্ডের মতও ভাবতে পারেন। একটি কম্পিউটার কত তাড়াতাড়ি চালু হবে এবং কোন ফাইল কত দ্রুত ওপেন হবে সেটি নির্ভর করে সে কম্পিউটারের স্টোরেজ ডিভাইসের স্পিড এর উপর। তাই বলা যায়, স্টোরেজ ডিভাইস কম্পিউটারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার সামগ্রী।

এবার তবে এ দুইটি ডিভাইস সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। এজন্য সম্পূর্ণ টিউনটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ করছি। যদিও এখানে আমি হার্ডডিস্ক ড্রাইভ নিয়ে বেশি আলোচনা করেছি। তবে নিচে SSD এবং HDD এর সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আলোচনা করেছি। তবে প্রথমেই জেনে নেয়া যাক এইচডিডি বা হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ সম্বন্ধে।

HDD বা হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ

Hard disk

আপনাদের মধ্যে সকলেই হয়তোবা হার্ড ডিস্ক চিনে থাকবেন। কেননা প্রত্যেকটি কম্পিউটারেই স্বাভাবিকভাবে এই ডিভাইস টি ব্যবহার করা হয়। আইবিএম সর্বপ্রথম ১৯৫৬ সালে হার্ডডিস্ক আবিষ্কার করে। এই হার্ডডিস্ক এর মধ্যে কিছু স্পিনিং প্লেট থাকে। কম্পিউটার চালু থাকা অবস্থায় এই প্লেটগুলো খুব জোরে ঘুরতে থাকে। একটি হার্ডডিস্কে এই প্লেট গুলো মিনিটে স্বাভাবিকভাবে প্রায় ৪০০০ বারেরও বেশি ঘুরতে ঘুরতে আমাদের তথ্য সরবরাহ এবং সংগ্রহ করে। তবে বর্তমানে এর চাইতেও বেশি স্পিডে ঘূর্ণায়নমানের হার্ডডিস্ক পাওয়া যায়।

কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক এর মধ্যে কি এমন জিনিস থাকে যেটি আস্ত একটি লাইব্রেরির মতো তথ্য সংগ্রহ করে রাখে?

হার্ডডিস্ক ড্রাইভে ম্যাগনেটিজম বা চৌম্বক ধর্ম ব্যবহার করে এখানে ডাটা জমা করা হয়। এই প্লেটগুলোর উপরে একটি রিড এবং রাইট হেড থাকে। যেটির মাধ্যমে ডাটাগুলোকে রিড এবং রাইট করা হয়। এই হার্ডডিস্কের প্লেটগুলো যত দ্রুত ঘুরবে, রিড এবং রাইট ততবেশি দ্রুত হবে। এবার তবে চলুন হার্ডডিস্ক সম্বন্ধে আরও কিছু বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

কি কি থাকে একটি হার্ডডিস্কে?

হার্ডডিস্ক এর ডিক্স শব্দটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এখানে ডিস্ক বা চাকতির জাতীয় কোন কিছু রয়েছে। আধুনিক একটি অ্যালুমিনিয়ামের হার্ডডিস্ক খুললেই এর ভেতরে দেখা যাবে পরপর কয়েকটি স্তরের চাকতির মত ডিস্ক। এসব প্রত্যেকটি চাকতি খুবই পাতলা হয়ে থাকে। কোন হার্ডডিস্কে এসব চাকতির সংখ্যা হার্ডডিস্ক টির মোট ধারণ ক্ষমতা নির্ধারণ করে।

Disk

হার্ডডিস্ক এর ভেতরে প্রত্যেকটি চাকতি একটি শক্তিশালী মোটর এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই মোটর এর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ডিস্ক গুলো অনেক দ্রুত ঘুরতে থাকে। এই ঘূর্ণনের ওপর নির্ভর করে অনেক কিছু। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ডাটা ট্রান্সফার রেট। অর্থাৎ, ঘূর্ণন যত বেশি দ্রুত হবে ডেটা স্থানান্তরের গতি তত বেশি হবে। হার্ডডিস্ক এর এই ঘূর্ণন মাপার একক হচ্ছে RPM বা Revolutions Per Minute। সাধারণত এখনকার হার্ডডিস্ক গুলোতে RPM এর পরিমাণ 4200 থেকে 15000 পর্যন্ত হয়ে থাকে।

প্রত্যেকটি চাকতির উপর লাগানো থাকে একটি রেকর্ডিং হেড। যেটি তার প্রয়োজন অনুসারে ম্যাগনেটাইজড ডিস্ক থেকে কোনো ডেটা রিড এবং রাইট করে। ডিস্ক গুলো সাধারণত গ্লাস বা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হয়ে থাকে। আর তাতেই প্রলেপ দেওয়া থাকে এমন সব পদার্থের যেগুলোর চুম্বকত্ব ধর্ম আছে। এগুলোকে বলা হয় 'মাইক্রোস্কোপিক ম্যাগনেটাইজড মেটাল গ্রেইনস'।

হার্ডডিস্ক এর দুই পৃষ্ঠা থেকেই ডাটা রিড এবং রাইট করা যায়। সে ক্ষেত্রে ডিস্কের উভয় পাশেই থাকে রেকর্ডিং হেড। ডিস্ক থেকে মাত্র কয়েক ন্যানো মিটার উপরে থাকে রেকর্ডিং হেড। আর সেগুলো সংযুক্ত থাকে 'মুভিং অ্যাকচুয়েটর আর্ম' এর সাথে। যার ফলে সেগুলো ডিস্কের ওপরে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পারে তার প্রয়োজন অনুসারে।

হার্ডডিস্ক এর ভেতরে থাকা চাকতি বা ডিস্কের উপরে থাকা হেডের কাজ হল তড়িৎ প্রবাহকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রূপান্তর করা অথবা তার বিপরীত করা। যখন বাহিরে থেকে কোন ডাটা হার্ডডিস্কে জমা করা হবে তখন সেই তড়িৎ প্রবাহকে চুম্বক ক্ষেত্রের রূপান্তরিত করতে হয়। আর যখন হার্ডডিস্ক থেকে কোনো তথ্য বা ডেটা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে তখন চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করতে হয়। যে কাজটি ডিস্কের উপরে থাকা হেড করে থাকে।

এছাড়াও হার্ডডিস্ক এর ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম করা চিপ যুক্ত সার্কিট গুলোতে প্রোগ্রাম করা থাকে যে কিভাবে কি করতে হবে। কোন নির্দেশ অনুযায়ী কি করতে হবে মেশিনের ভাষায় এরকম সব নির্দেশনা। যেটি হার্ড ডিস্কে থাকা চিপস গুলোর মধ্যে প্রোগ্রাম করা থাকে। এবার দেখা যাক এসএসডি সম্পর্কে।

SSD বা সলিড স্টেট ড্রাইভ

SSD

সাধারণত মেমোরি কিংবা পেনড্রাইভে যে টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় এসএসডিতে ঠিক একই রকম প্রযুক্তির ব্যবহার হয়। যেটিকে আপনি একটি মেমোরির মতোও ভাবতে পারেন। তবে এরমধ্যে আলাদা কিছু সার্কিট থাকে। এটি কোন হার্ড ডিস্ক নয়, তবে এটি হার্ড ডিস্ক এর মতই একটি ড্রাইভ যেটি হার্ড ডিস্কের এর থেকেও বেশি গতিসম্পন্ন। এটি দেখতে আকারে অনেক ছোট হলেও অনেক গতিসম্পন্ন। যেটি বর্তমান সময়ের সর্বাধুনিক স্টোরেজ ডিভাইস।

এইচডিডি এর মতো এসএসডি এর বিবরণ অতটা দীর্ঘ করা সম্ভব না। সেজন্য নিচে HDD এবং SSD এর কিছু সুবিধা-অসুবিধা বা এদের পার্থক্য সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে SSD এর সকল বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠবে।

১. এইচডিডি তে মুভিং পার্টস থাকার কারণে এটি খুব সহজেই ড্যামেজ হয়ে যাবার আশঙ্কা থাকে। যে কারণে এটি যেকোন সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে এসএসডি তে কোন মুভিং পার্টস না থাকায় এটি ফিজিক্যালি ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সে দিক থেকে বলতে গেলে HDD এর চাইতে SSD হবে অনেক দীর্ঘস্থায়ী এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ।

২. HDD তে মুভিং পার্টস থাকার কারণে এটি কম্পন হয় এবং যার কারণে এটির শব্দ হয়। এছাড়া মুভিং থাকার কারণে এটি গরম হয়ে যায়। অন্যদিকে SSD তে কোন মুভিং পার্টস না থাকার কারণে এটি কোন প্রকার শব্দ করে না কিংবা বেশি গরমও হয়না।

৩. HDD তে অনেক মুভিং পার্টস থাকার কারণে পাওয়ার অনেক বেশি লাগে। SSD তে মুভিং পার্টস না থাকার কারণে পাওয়ার অনেক কম খরচ হয়। যে কারণে হার্ডডিস্ক এর তুলনায় এসএসডি অনেকটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।

৪. এইচডিডি যুক্ত একটি কম্পিউটার বুট হতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড। অপরদিকে এসএসডি যুক্ত একটি কম্পিউটার বুট হতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৩ সেকেন্ড।

৫. এইচডিডি তে কোন ফাইল কপি কিংবা স্থানান্তর করতে স্পিড পাওয়া যায় ৫০ থেকে ১২০ এমবিপিএস। যেটি এসএসডি তে হয় ২০০ থেকে ৫০০ এমবিবিএস। ফাইল ট্রান্সফারের এই গতি সময় এবং শ্রমকে অনেকটা সাশ্রয় করে।

৬. এসএসডি তে এইচডিডি এর চাইতে ৩০% আগে ফাইল ওপেন হয়। যেখানে এইচডিডি তে অনেক ধীরগতিতে হয়। যেটি কিন্তু কম্পিউটার ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকেই পাল্টিয়ে দেবে।

এতক্ষণ যে বিষয়গুলো বললাম এগুলো দেখে মনে হতে পারে যে তবে এসএসডি অনেক ভালো। তবে এসবের মাঝে ও একটি জায়গায় অসুবিধা রয়েছে। সেটি হল এসএসডি এর দাম। এইচডিডি এর তুলনায় এসএসডি এর দাম অনেক বেশি হয়। বলতে গেলে, ভালো জিনিস ব্যবহার করতে হলে তো ভালো দামই দিতে হবে। দামের ক্ষেত্রে বিবেচনা করলে এসএসডি এর দাম এইচডিডি এর চাইতে অনেক বেশি হয়ে যায়।

যেখানে একটি ওয়ান টেরা বাইট এইচডিডি এর দাম ৫ থেকে ৭০০০ টাকার মধ্যে, সেখানে ওয়ান টেরা বাইট একটি এসএসডি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। যেটি কিন্তু দামের দিক থেকে অনেক বেশি। তবে আপনি যদি খুব দ্রুততার সঙ্গে কম্পিউটার ব্যবহার করতে চান তবে একটি ছোট সাইজের এসএসডি কিনে সেখানে অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করে রাখলে কম্পিউটার ব্যবহারে অনেক ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর জন্য একটি সিঙ্গেল এবং ছোট সাইজের এসএসডি কিনে সেখানে অপারেটিং সিস্টেমটি ইনস্টল করে রাখলে কম্পিউটার অনেক দ্রুত কাজ করবে। বাকি কাজগুলো না হয় কোন HDD তে করলেন।

বন্ধুরা এই ছিল এইচডিডি এবং এসএসডি নিয়ে আজকের টিউন। যদি টিউনটি আপনাদের কাছে ভাল লেগে থাকে তবে জোসস করতে ভুলবেন না। আজ তবে এখানেই বিদায় নিচ্ছি। দেখা হবে তবে পরবর্তী টিউনে আরো নতুন কিছু নিয়ে ইনশাআল্লাহ।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 6 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 123 টি টিউন ও 51 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 13 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

প্রিয় ট্রাসটেড টিউনার,

আপনার টিউনটি ‘টেকটিউনস ক্যাশ’ এর জন্য প্রসেস হতে পারছে না।

কারণ:

টিউনের শিরোনাম, টিউন থাম্বনেইল, টিউন কন্টেন্ট এ বানান ভুল করা হয়েছে।

হার্ডডিক্স => হার্ডডিস্ক

করণীয়:

টিউনের শিরোনাম, টিউন থাম্বনেইল, টিউন কন্টেন্ট এ ভুল বানান ঠিক করুন।

উপরের নির্দেশিত সংশোধন করে এই টিউমেন্টের রিপ্লাই দিন।

খেয়াল করুন, এই টিউমেন্টের রিপ্লাই বাটনে ক্লিক করে রিপ্লাই না করে টিউনে টিউমেন্ট করলে তার নোটিফিশেন ‘টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস’ টিম পাবে না। তাই অবশ্যই এই টিউমেন্টের রিপ্লাই বাটনে ক্লিক করে রিপ্লাই করুন।