ডিজিটাল অ্যামনেশিয়া কী? ডিজিটাল অ্যামনেশিয়া কীভাবে আপনার স্মৃতিশক্তি ধ্বংস করে? ডিজিটাল অ্যামনেশিয়ার প্রতিকার

Level 34
সুপ্রিম টিউনার, টেকটিউনস, ঢাকা

আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন সবাই, আশা করছি ভাল আছেন। বরাবরের মত হাজির হলার নতুন একটি টিউন নিয়ে।

ছোট ছোট ইনফরমেশন যেগুলো সহজেই ইন্টারনেট বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে এক্সেস করা যায় সেগুলো আপনি মনে করতে পারছেন না? যদিও প্রযুক্তির কল্যাণে খুব সহজেই ইনফরমেশন গুলো পাওয়া যায় তবুও আপনি রয়েছেন ডিজিটাল অ্যামনেশিয়া ঝুঁকিতে।

এই টিউনে আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব ডিজিটাল অ্যামনেশিয়া কাকে বলে এবং কীভাবে আপনি এটা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন।

Digital Amnesia কী?

ধরুন আপনি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে কোন কিছু লিখছেন এবং দ্রুত কাজ করার জন্য শর্টকাট গুলো মনে করতে পারছেন না। কিছুদিন আগেও আপনি শর্টকাট গুলো জানতেন। ভাবছেন সমস্যা কোথায় গুগলে সার্চ করে নেবেন।

আপনি বেশি ঝামেলায় আছেন বুঝবেন তখন, যখন দেখবেন এই সার্চ করা শর্টকাটটি আবার ভুলে যাবেন। আপনার অবস্থা আরও খারাপ যখন দেখবেন, কী সার্চ করেছিলেন সেটাও ভুলে গিয়েছেন।

স্মার্ট ডিভাইসে এক্সেস পাওয়া যায় এমন ইনফরমেশন ভুলে যাওয়াকে বলে ডিজিটাল অ্যামনেশিয়া। স্মার্ট ডিভাইস এবং ইন্টারনেট কীভাবে আমাদের স্মৃতি শক্তিতে প্রভাব ফেলে এটা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে Kaspersky Lab এই টার্মটি বের করেছে।

টেকনোলজি বিশেষ করে ইন্টারনেটের প্রতি বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সেটা Digital Amnesia তে রূপ নেয় একে অবশ্য Google Effect ও বলা হয়। আপনি যখন সব কিছু গুগল থেকে নিয়ে নিচ্ছেন তখন আপনার ব্রেনকে ভাবার সময় দিচ্ছেন না, ব্রেন সেই কাজটি করার সুযোগ পাচ্ছে না।

আর যখন ব্রেন কোন কিছু মনে করার চেষ্টা করবে না তখন ওই সব কিছু ভুলে যেতে থাকবেন। এটা শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না আস্তে আস্তে আপনার জ্ঞানের ক্ষমতা কমতে থাকবে।

Digital Amnesia এর কারণ ও ক্ষতিকর দিক

বিভিন্ন কারণে আমরা ইন্টারনেট এনেভল ডিভাইস গুলোর প্রতি অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। প্রতিদিন অনেক বেশি ইনফরমেশন কনসিউম করছি এবং নিজেদের ব্রেনকে ক্লিয়ার রাখতে ওই সমস্ত ডিভাইস বা স্টোরেজে ইনফরমেশন সেভ করে রাখছি।

যেমন আমরা চাইলেও বিভিন্ন একাউন্টের ইউনিক পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পারব না। পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের উপর নির্ভর করতে হয়। আর এই নির্ভরশীলতা গুলো আস্তে আস্তে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপনি খেয়াল করে দেখুন কয়টা ফোন নাম্বার আপনার মনে আছে। হটাৎ করে ফোন বন্ধ হয়ে গেলে কীভাবে কারো সাথে যোগাযোগ করবেন।

এই সমস্যা কেবল ডিভাইস রিলেটেড বিষয় গুলোতে সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটি কিন্তু নয়। পড়াশুনাও ভুলে যেতে পারেন অনেক পড়াশুনা করেও মনে রাখতে অসুবিধা হতে পারে।

কীভাবে এটি থেকে বাঁচবেন

Digital amnesia থেকে নিজেকে বাচাতে প্রথমত আপনাকে মেনে নিতে হবে ইন্টারনেটে এভেইলেবল তথ্য আপনি যেকোনো সময় ভুলে যেতে পারেন, দ্বিতীয়ত এমন পরিস্থিতি গুলোতে ফোকাস করুন যখন ইন্টারনেটে নির্ভর না করে নিজে নিজে মুখস্থ করে ফেলা বেশি জরুরি।

এই সমস্যা এড়াতে নিচের পদক্ষেপ গুলো আপনি নিতে পারেন,

থামুন এবং ভাবুন

কোন কিছু ভুলে গেলে সাথে সাথে ফোনটা হতে নিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ করার আগে নিজে নিজে একবার ভাবুন। এটা মনে রাখবেন সেই ইনফরমেশন আপনার ব্রেনে স্টোর করা আছে এবং আপনার ব্রেন পাওয়ারফুল একটি স্টোরেজ ডিভাইস।

সুতরাং আপনি সেই সুযোগটা কাজে লাগান আপনার ব্রেনের মেমোরি পেশি গুলোকে এক্সারসাইজ করার সুযোগ দিন।

ডিজিটাল লাইফ সিম্পল করুন

আমাদের চারপাশে প্রচুর ডিজিটাল ডিভাইস এবং জীবনের জন্য সেগুলো অপরিহার্যও। তবে ডিজিটাল লাইফকে সহজ এবং ঝামেলা মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। অব্যবহৃত অ্যাপ গুলো রিমুভ করে দিন, অহেতুক নিউজলেটার গুলো আনসাবস্ক্রাইব করে দিন, নোটিফিকেশন লিমিট করে দিন।

মননশীলতার অনুশীলন করুন

মননশীলতার অনুশীলন করার চেষ্টা করুন। কী ভাবছেন কী করছেন এই সব বিষয়ে সতর্ক থাকুন। কাজে ফোকাস থাকার জন্য মেডিটেশন করুন। উপযুক্ত মেডিটেশন আপনার স্মরণশক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘ সময় নির্দিষ্ট বিষয়ে ফোকাস থাকতে সাহায্য করতে পারে।

আপনি মননশীলতার অনুশীলন করতে 1 Giant Mind এবং Insight Timer এর মত টুল গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

মেমোরি এক্সারসাইজ করুন

আপনি মেমোরি এক্সারসাইজ করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনার মনে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ব্রেন বা মেমোরি এক্সারসাইজ করার জন্য ইন্টারনেটে অনেক গেম পেয়ে যাবেন তবে আপনি Peak and Luminosity ইউজ করতে পারেন।

নিজের যত্ন নিন

আপনার স্মৃতি শক্তি ভাল রাখতে নিজের শরীরের প্রতিও আপনার যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান, পানি খান, এক্সারসাইজ করুন এবং পুষ্টিকর খাবার খান।

প্রতিদিন সাত ঘণ্টা ঘুমান, ভাল ভাল খাবার খান, অলসতা ত্যাগ করে পরিশ্রম করুন।

ডিভাইসের প্রতি খেয়ার রাখুন

আপনি চাইলেও সব কিছু মনে রাখতে পারবেন না। চাইলেও ফোনের সব নাম্বার আপনার মনে রাখা সম্ভব না তবে যতটুকু সম্ভব নির্ভরশীল কমিয়ে আনুন। যেহেতু ডিভাইসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেভ থাকে সেহেতু ডিভাইস সব সময় আপডেট রাখুন। অনলাইনে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস এর ব্যাকআপ রাখুন।

শেষ কথা

কিছু কিছু ক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে কাজ করতে আপনার প্রযুক্তির উপর নির্ভর করতেই হবে এটা এড়িয়ে যাবার কোন পথ নেই তবে আপনাকে এর মধ্যে ব্যালেন্স রেখে চলতে হবে। যতটুকু ব্রেনে রাখা সম্ভব ততটুকু মনে রাখার চেষ্টা করুন, ভুলে গেলে মনে করার চেষ্টা করুন।

আজকে এ পর্যন্তই শীঘ্রই দেখা হবে নতুন কোন টিউনের সাথে ততদিন ভাল থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।

Level 34

আমি সোহানুর রহমান। সুপ্রিম টিউনার, টেকটিউনস, ঢাকা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 10 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 568 টি টিউন ও 200 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 116 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

কখনো কখনো প্রজাপতির ডানা ঝাপটানোর মত ঘটনা পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস