অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Tor ব্যবহার করার আলটিমেট গাইড

টিউন বিভাগ টিপস এন্ড ট্রিকস
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 6
১ম বর্ষ, বগুড়া আজিজুল হক কলেজ, গাইবান্ধা

Tor ব্রাউজার সম্পর্কে আপনারা হয়তো অনেকেই শুনেছেন। বিশেষ করে ডার্ক ওয়েব ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি আমাদের ডিভাইসের গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন গুলোর গোপনীয়তা রক্ষা করে এবং ব্যবহারকারীকে অ্যানোনিমাস থাকতে সাহায্য করে।

কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমে তো আমরা এটি খুব সহজেই ডাউনলোড করতে পারি। কিন্তু, আমরা কি এটাকে আমাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনেও ব্যবহার করতে পারি? যদি অ্যান্ড্রয়েড এ ব্যবহার করাই যায়, তাহলে সেটা কিভাবে?

আজ আপনাদের সামনে আমি আলোচনা করতে চলেছি, অ্যান্ড্রয়েডে ”টর” চালানোর সবচেয়ে কার্যকরী ও সহজ উপায়। আমরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও স্টোর গুলোতে টরের অফিসিয়াল ব্রাউজার দেখতে পাই।

আর আমরা হয়তো নিশ্চয় জানি যে, ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন হলো Tor। সত্যি কথা বলতে, এটি ডার্ক ইন্টারনেটে প্রবেশের প্রবেশদ্বার। ডার্ক ইন্টারনেট কি তাও আপনাদের হয়তো ইতোমধ্যে জানা হয়ে গেছে। কারণ আমি এর আগের টিউনে সে সম্পর্কে স্পষ্ট আলোচনা উপস্থাপন করেছি।

সাধারণত আমরা আমাদের প্রচলিত কম্পিউটার গুলোতে অনেকেই টর ব্রাউজার ব্যবহার করি। কারণ, কম্পিউটারের জন্য এটি পারফেক্ট একটি সফটওয়্যার এবং সর্বদা ঠিকঠাক ভাবে কাজ করে থাকে।

কিন্তু, আমি আপনাদেরকে জানাতে আগ্রহী যে, বর্তমানে আমাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনেও টর ব্রাউজারটি ঠিকঠাক ভাবে কাজ করছে এবং বিভিন্ন অফিসিয়াল সাইটগুলোতে এই সফটওয়্যারটি এখন সহজলভ্য।

আর প্রতিনিয়ত এই সফটওয়্যারটির আপডেটের মাধ্যমে এর পারফরম্যান্স এর ও উন্নতি ঘটানো হচ্ছে। অর্থাৎ, মূল কথা হচ্ছে টর ব্রাউজার এর কার্যক্রম গুলী এখন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসেও সঠিকভাবে চলছে।

খুশির খবর হচ্ছে, টর ব্রাউজারের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনটি এখন পাওয়া যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন হলো টর প্রজেক্ট এর ওনাররা অফিসিয়াল ভাবে অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনটি বাজারে এনেছে। তবে অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে টর ব্রাউজারই একমাত্র উপায় নয়। এটি ছাড়াও ইন্টারনেটে অনেক অ্যাপ্লিকেশন আছে, যেগুলো অ্যানোনিমাস থাকার জন্য কার্যকরী।

তো বন্ধুরা, আজকের এই টিউনটির মাধ্যমে আমরা জানবো Orfox ও Orbot সম্পর্কে। Orfox এবং Orbot সম্পর্কে কী কী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা দরকার, সেটিও জানবো আজকের আর্টিকেলে। এবং এদের মধ্যে কোনটি সেরা, তা অ্যান্ড্রয়েড টর ব্রাউজার ব্যবহার করে নির্ধারণ করব।

অফিসিয়াল Tor Project এর অ্যান্ড্রয়েড টর ব্রাউজার আসলে কি?

টর প্রজেক্টের ধারণা অনেক পুরনোকালের এবং এসময়কাল আনুমানিক ১৯৯০ এর দিকে হবে। ২০০০ সালের দিকে এই প্রজেক্টকে Tor Project নাম দেয়া হয়। এটি সেই কাল থেকে ধীরে ধীরে বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে কম্পিউটার সিস্টেমে। কম্পিউটার সিস্টেমে জনপ্রিয় হওয়ার কারণেই ব্যবহারকারীদের আকাঙ্ক্ষা এই যে, তারা টর ব্রাউজারের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন ও চায়।

Tor Project একটা বিষয় ভালোভাবে খেয়াল করে যে, দিন যত যাচ্ছে মোবাইল ব্রাউজিং তত বাড়ছে। এক্ষেত্রে, অনলাইনে বিচারণ করার জন্য স্মার্টফোনই একমাত্র উপকরণ হয়ে উঠে। আর, ইন্টারনেটে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অনলাইন নজরদারি এবং বিজ্ঞাপণের জন্য ডেটা সংগ্রহ বাড়তে থাকে।

বিশেষ করে সেইসব এলাকাতে, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেশি। আর অনলাইনে কম্পিউটারের মত নিজের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সামনে আসে অফিশিয়াল অ্যান্ড্রয়েড টর ব্রাউজার।

একজন ব্যবহারকারী হিসেবে, অ্যান্ড্রয়েড টর ব্রাউজারের এর কাছে আপনি যা আশা করতে পারেন তাই রয়েছে এই টর ব্রাউজারে:

  • থার্ড পার্টি ট্র্যাকার এবং অন্যান্য সকল ধরনের নজরদারি ব্লক করা। এতে করে আপনার ভিজিট করা ওয়েবসাইটে থার্ড পার্টি কুকিজ বা অন্য কোন উপায়ে ট্র্যাক করা যাবে না।
  • ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং বন্ধ করে থাকে। সংক্ষেপে ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং হলো ব্রাউজার কর্তৃক আপনার উপর নজরদারি। অর্থাৎ, ব্রাউজার আপনার সম্পর্কে অনেক তথ্য সংগ্রহ করে। যেসব তথ্য গুলোর মাধ্যমে আপনাকে পরবর্তীতে শনাক্ত করা এবং আপনার তথ্যগুলো ব্যবহার করে বিজ্ঞাপণ দেখাতে কাজে লাগবে।
  • আপনার ডেটা সুরক্ষিত রাখতে আপনার ডেটাগুলোকে বহুস্তরে এনক্রিপ্ট করে থাকে।
  • ডেটার সোর্স সিকিউর রাখতে টর নেটওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহার করে।
  • বিশেষ ওয়েবসাইট যেগুলোতে ISP সেন্সর করা, সেসব ওয়েবসাইটেও অ্যাক্সেসের অনুমতি দেয়। অর্থাৎ, আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার দ্বারা ব্লক করা ওয়েবসাইটগুলোতেও প্রবেশ করতে পারবেন।
  • টর ডিপ ওয়েবের অথবা ডার্ক ওয়েবের লুকানো সার্ভিস গুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

তো, এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, অফিসিয়াল টর ব্রাউজার টি নিয়মিত আপডেট করা হয়। অর্থাৎ, এর দুর্বলতাগুলো ফিক্স করে এর পারফর্মেন্স এর উন্নতি ঘটানো হয়। প্রতিনিয়ত এর বৈশিষ্ট্য গুলোর উন্নতি ঘটানো হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। আর অন্যদিকে, নিচে আলোচনা করা টর ব্রাউজার বা অন্যান্য ব্রাউজার এর ক্ষেত্রে এই সুবিধাটি নাও পেতে পারেন।

Orfox এবং Orbot কি?

Tor এর পূর্ণরূপ হলো The Onion Router। অফিসিয়াল ভাবে অ্যান্ড্রয়েড টর ব্রাউজার রিলিজ হওয়ার পূর্বে ইন্টারনেটে Orfox এবং Orbot ছিলো।

  • টর প্রজেক্ট অফিসিয়াল ভাবে টর ব্রাউজার রিলিজের পূর্বে একটি সফটওয়্যার রিকমান্ডেশন করেছিলো, যাকে Orfox বলা হচ্ছে।
  • মোবাইল ডাটা টর নেটওয়ার্ক সিস্টেমের মাধ্যমে রুট করে এমন একটি প্রক্সি অ্যাপ্লিকেশন হলো Orbot।

Guardian Project একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান যা বর্তমানে Tor প্রজেক্ট এর সাথে কাজ করছে এবং অ্যান্ড্রয়েড টর ব্রাউজারের ডেভেলপ এর কাজ করছে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার কারীদের টর নেটওয়ার্ক এ অ্যাকসেস পারমিশন এর ব্যবস্থা করছে।

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় অফিসিয়াল ভাবে অ্যান্ড্রয়েড টর ব্রাউজার রিলিজ হওয়ায়, Orfox কে ধীরে ধীরে অপসারণ করে নেয়া হচ্ছে এবং এটির আপডেট দেওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে, এখনো যেহেতু এর বেশ কিছু ব্যবহারকারী রয়েছে তাই আপাতত Orfox কে গুগল প্লে স্টোর এ রাখা হয়েছে।

আপনি কি এখনো Orbot ব্যবহার করেন?

আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো, Orfox এর পরিবর্তে Orbot ব্যবহার করেছি অথবা এখনো ব্যবহার করছি। কেননা, Orbot এখনো বন্ধ হয়নি, অনিয়মিত হলেও এর আপডেট এর দেখা পাওয়া যাচ্ছে।

আপনি VPN যেভাবে ব্যবহার করেন এবং ঠিক যে কারণে ব্যবহার করেন, ঠিক একই কারণে আপনি Orbot ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ, আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ট্রাফিক রুট পরিবর্তন করার জন্য আপনি Orbot ব্যবহার করতে পারেন।

Orbot এর নিজস্ব কিছু ইউনিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এটিকে VPN থেকে আলাদা করে। উদাহরণ হিসেবে, Orbot আপনার ডেটা বা ইনফরমেশন গুলো কে এনক্রিপ্ট করে, তারপর বিশ্বের বিভিন্ন সাইটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নোডের ভিতর দিয়ে গিয়ে আপনাকে সংযুক্ত করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ডেটা বেশি সিকিউর থাকে।

আর নরমালি যদি আপনি VPN ব্যবহার করেন, তাহলে এটিও ডেটা এনক্রিপ্ট করে ঠিকই, কিন্তু ডেটাগুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন সাইটের ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নোডের ভিতর দিয়ে আপনাকে সংযুক্ত করে না অর্থাৎ এটি আপনাকে সরাসরি সংযুক্ত করে।

Orbot ও VPN এর মাঝে আরো একটা মেজর পার্থক্য বিদ্যমান। আর সেটা হলো ডেটা ট্রান্সফারের গতি। আপনার প্রচলিত VPN তুলনামূলক অনেকটাই ফাস্ট। এটির ক্ষেত্রে খুব সহজেই ডেটা তার গন্তব্য খুঁজে পায়। কিন্তু Orbot এর ক্ষেত্রে ডেটা যেহেতু বিশ্বের বিভিন্ন নোড এর মধ্য দিয়ে গন্তব্যে পৌছায় তাই সময় বেশি লাগে। অর্থাৎ ডেটার ট্রান্সফার ধীর প্রকৃতির।

Orbot ধীর গতির হলেও এটি VPN এর তুলনায় অধিক সিকিউর। শুরুর দিকে অ্যান্ড্রয়েড টর ব্রাউজারের কয়েকটি আলফা ভার্সনের জন্য Orbot এর প্রয়োজন ছিলো। টর নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে ট্রাফিক রুট করার জন্য Orbot এর প্রয়োজন পড়ত। বর্তামান সময়কালে Orbot এর সাহায্য ছাড়াই টর নিজে নিজেই ট্রাফিক রুট কর‍তে পারে।

Orbot

Official Download @ Orbot

অ্যান্ড্রয়েডে টর ব্রাউজার কীভাবে ইন্সটল করবেন এবং সেট আপ করবেন?

আমরা এতক্ষণে জানলাম যে, অ্যান্ড্রয়েড টর ব্রাউজার ডেটা বা ইনফরমেশন এর নিরাপত্তার জন্য দুর্দান্ত সার্ভিস দিয়ে থাকে। তো, এই অ্যান্ড্রয়েড Tor ব্রাউজারটিকে কীভাবে ইন্সটল করব এবং কীভাবে সেট-আপ করব এমন প্রশ্ন হয়তো অনেকের মনে। আজ আমি আমার টিউনের মাধ্যমে সব ধারাবাহিক ভাবে দেখিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ।

অ্যান্ড্রয়েড টর ব্রাউজার সেটআপ করার জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুনঃ

১. প্রথমে আপনাকে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের গুগল প্লে স্টোর এ যেতে হবে।

২. এরপর, গুগল সার্চ বারে লিখতে হবে Official Tor Browser। এবং নিচের চিত্রের মতো ব্রাউজারটিকে ডাউনলোড ও ইন্সটল করে নিতে হবে।

ইন্সটলের সময় একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। আর তা হলো অফিসিয়াল টর ব্রাউজারটি বেগুনি রঙের লোগোতে তৈরি। আর টর ব্রাউজারের আলফা ভার্সনটি সবুজ রঙের লোগোতে তৈরি।

৩. এখন অ্যাপটি ওপেন করুন এবং প্রথমেই Connect বাটনে ক্লিক করুন।

সংযোগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কয়েক মিনিট বা তার চেয়ে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। এটা নির্ভর করবে আপনার নেটওয়ার্ক সিস্টেমের স্পীড এর উপর।

৪. সংযোগ সম্পন্ন হলে, আমাদের সংযোগ টর নেটওয়ার্ক এর উপর নির্ভর করে চলছে কি না তা আমাদেরকে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। আর এ পরীক্ষাটি সম্পন্ন করার দুটি সহজ উপায় আছে।

প্রথমত, Tor ব্রাউজারের সার্চ বারে 'what is my ip' কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করুন। DuckDuckGo আপনার সামনে আইপি অ্যাড্রেস প্রদর্শন করবে এবং যেখানে থেকে অনুসন্ধানের অনুরোধ টি এসেছে তাও দেখাবে। আপনার ডেটার সোর্স সম্পর্কে জানতে চাইলে, যেকোন একটি লিংক এ ট্যাপ করুন।

দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হচ্ছে The Hidden Wiki ভিজিট করা। এ ক্ষেত্রে আপনাকে The Hidden Wiki তে ভিজিট করতে হবে। The Hidden Wiki এক ধরনের নির্দেশনা যা ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের জন্য দিয়ে থাকে। এটি একটি অনিয়ন Onion ওয়েবসাইট, যেখানে প্রবেশ করতে টর ব্রাউজারে সঠিক কনফিগারেশন থাকতে হয়। সঠিক কনফিগারেসন থাকলেই আপনি এটিতে অ্যাক্সেস করতে পারবেন। আর তাই আপনি যদি The Hidden Wiki ভিজিট করতে পারেন তবে আপনি নিশ্চিত হবেন যে আপনি সঠিক ভাবে Tor ব্রাউজার দিয়ে ডার্ক ওয়েবে কানেক্ট হয়েছেন।

তো বন্ধুরা, এখন আপনার অফিসিয়াল টর ব্রাউজারটি ব্যবহার এর জন্য একদম প্রস্তুত।

Tor

Official Download @ Tor

অ্যান্ড্রয়েড Tor ব্রাউজারের নিরাপত্তা সেটিংস

টর ব্রাউজারের সেটিংস এর খুঁটিনাটি বিষয় গুলো একটু সংবেদনশীল। একটু ভুলভাল হলে আপনি আপনার নিরাপত্তা কমিয়ে ডেটা হারাতে পারেন। তাই সেটিংস এ উলটা পালটা কিছু করবেন না। যদিও বা সেটা কম্পিউটার, অ্যান্ড্রয়েড বা অন্য কোন ডিভাইস ও হয়।

আমি আসলে ঐখানে যেতে পরামর্শ দিচ্ছি না, অর্থাৎ সেটিংস এ না যাওয়াই ভালো। একটা ভুল করা কনফিগারের কারণে আপনার গোপনীয়তা প্রকাশ পেতে পারে অর্থাৎ এটা আপনার ব্রাউজারকে কম সিকিউর করে তুলতে পারে।

Tor ব্রাউজারে সিকিউরিটি সেটিংস রয়েছে, যার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন লেভেলে আপনার ডাটাকে সিকিউর করতে পারেন। অর্থাৎ এখানে নিরাপত্তার বিভিন্ন লেভেলে আপনি সিকিউরিটি সেটিং করতে পারবেন। নিচে তা আলোচনা করা হলো:

  • প্রথমে যে অপশন দেখবেন তা হলো স্ট্যান্ডার্ড। এই অপশন সকল টর ব্রাউজার ও ওয়েবসাইট গুলোর ফিচার গুলো Enable করে।
  • দ্বিতীয় যে অপশন যা দেখবেন তা হচ্ছে Safer। এক্ষেত্রে এই অপশন ওয়েবসাইটের ফিচার গুলোকে ডিজেবল করে এবং ইহা প্রায়ই বিপদ এর কারণ হয়। এছাড়াও এই অপশন Non- HTTPS সাইটগুলো থেকে জাভাস্ক্রিপ্ট কেও ডিজেবল করে। এবং এই অপশন কিছু ফন্ট ও গাণিতিক চিহ্নগুলোকেও ডিজেবল করে থাকে। এবং এখানেও সমস্ত অডিও ও ভিডিও মিডিয়া ক্লিক করলেই প্লে হয়ে যায়।
  • তৃতীয় অপশনটি হলো Safest। এক্ষেত্রে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট ও Basic ওয়েবসাইটের ফিচার গুলোকে Access এর অনুমতি দেয়। এক্ষেত্রে সব ওয়েবসাইটে জাভাস্ক্রিপ্ট, ফন্ট, আইকন, গণিতের চিহ্ন এবং ছবি দেখতে পাওয়া যায়। এবং সকল অডিও ও ভিডিও ফাইল গুলো এক ক্লিকেই প্লে করে থাকে। এটি টর ব্রাউজারের ক্ষেত্রে সিকিউরিটির সর্বোচ্চ স্তর।

আপনি যদি টর ব্রাউজারটিকে প্রতিদিনের ব্রাউজার হিসেবে ব্যবহার করতে চান, তবে আপনার সিকিউরিটি লেভেল স্ট্যান্ডার্ড রাখতে হবে। যদি আপনি সিকিউরিটি লেভেল স্ট্যান্ডার্ড রাখেন, তাহলে অন্যান্য ব্রাউজারে যেভাবে ব্রাউজ করেন এই ব্রাউজারেও ঠিক সেই ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

অর্থাৎ ওয়েবসাইটগুলোর সকল ফিচার Enabled থাকবে। অর্থাৎ আপনি স্বাভাবিক ভাবে ব্রাউজিং করতে পারবেন। টর ব্রাউজার ব্যবহার এর ক্ষেত্রে কিছু কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ টর ব্রাউজার ডেটা বা আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাকিং এর অনুমতি দেয় না। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু ওয়েবসাইট ওনাররা অভিযোগ করে থাকে।

কিন্তু আপনি যদি নিজেকে আরো সিকিউর করতে চান, তাহলে আপনি পরবর্তী সিকিউরিটি লেভেল Safer ও Safest নির্বাচন করতে পারেন। এই অপশন গুলো আপনাকে স্বাভাবিক ব্রাউজিং করতে দেবে না।

অধিকাংশ ওয়েবসাইট গুলো জাভাস্ক্রিপ্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি। আর Safer অপশন জাভাস্ক্রিপ্টের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যকে ডিজেবল করে। ফলে সমস্যা সম্মুখীন হতে হয়। একটা কথা হচ্ছে, ফেসবুক অ্যাপের নিজস্ব টর সাইট আছে। এইরকম অনেক ওয়েবসাইটেরই নিজস্ব টর সাইট রয়েছে।

টর ব্রাউজারের সিকিউরিটি লেভেল পরিবর্তন করতে চাইলে যা করবেন।

১. আপনি যদি সিকিউরিটি লেভেল গুলো পরিবর্তন করতে চান, তাহলে প্রথমে টর ব্রাউজার এর থ্রি ডট এ ক্লিক করুন। ঠিক নিচের স্ক্রিনশট এর মতো।

২. তারপর যে স্ক্রিন ওপেন হবে, সেখান থেকে সেটিংস এ ক্লিক করুন। স্ক্রিনশট এর মতো।

৩. এরপর যে স্ক্রিন ওপেন হবে সেখান থেকে সিকিউরিটি সেটিংস এ ক্লিক করুন। ঠিক নিচের স্ক্রিনশট এর মতো।

এখন সিকিউরিটি লেভেল হিসেবে Standard, Safer অথবা Safest নির্বাচন করুন। ছবি দেখে মিলিয়ে নিন যে, আমি আসলে কি বলছি।

এখন আপনার সিকিউরিটি সেটিংস সেটআপ করা কমপ্লিট।

Tor ব্যবহারের সময় আপনার কী VPN ব্যবহার করা উচিত?

আমি যদি আপনাদেরকে প্রশ্ন করি, Tor ও VPN কি একসাথে ব্যবহার করা যায়? এদেরকে একসঙ্গে ব্যবহার করলে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং কী কী অসুবিধা পাওয়া যাবে, তা কী বলতে পারবেন?

টেনশন এর কোন দরকার নাই, এ প্রশ্নের উত্তর আমিই আপনাদেরকে দিচ্ছি। আমি যদি পার্সোনালি আপনাদেরকে উপদেশ দেই তাহলে বলব যে, আপনি যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটে বিচরণ করতে চান এবং চান যে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সবচেয়ে বেশি সিকিউর থাকুক, তাহলে Tor ও VPN একসঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

অর্থাৎ, বিভিন্ন সংবেদনশীল ডেটাগুলোতে অ্যাক্সেস এর জন্য টর এবং ভিপিএন একসঙ্গে ব্যবহার করাই শ্রেয়। এর ফলে আপনার আইপি অ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Tor ও VPN একসঙ্গে ব্যবহারের সময়, যদি Tor নেটওয়ার্কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, সেক্ষেত্রে অন্তত পক্ষে ভিপিএন আপনার ডেটা গুলোর জন্য দ্বিতীয় আরেকটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

Tor ও VPN একসঙ্গে ব্যবহারের ফলে, ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় একটু বেশি সময় নিবে অর্থাৎ, ওয়েবসাইট লোড হতে বেশি সময় লাগবে। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, এভাবে আপনার ডেটা অধিক সিকিউর হবে। ডেটা বা ইনফরমেশন অন্যের হাতে যাওয়ার চেয়ে, নিঃসন্দেহে সময় বেশী লাগাটা ভালো। একটু সময় বেশি লাগলে লাগুক না, এতে আমার ডেটা সিকিউর হচ্ছে, তাই নয় কি?

আপনি যদি সংবেদনশীল তথ্য গুলোতে অ্যাক্সেস করতে চান এবং চান যে, এই অ্যাক্সেসের তথ্য সরকারের হাতে না যাক, তাহলে অবশ্যই আপনাকে Tor এর সাথে একটা VPN ব্যবহার করতে হবে। আর একটা বিষয় সবসময় মনে রাখবেন, যে বিনামূল্যে সেবা প্রদানকারী VPN এর চেয়ে হাজারগুন ভালো VPN হচ্ছে পেইড VPN।

যদি VPN ওনাররা ইন্টারফেয়ার না করে, তাহলে আপনি পেইড VPN এর জন্য সর্বোচ্চ সুরক্ষা পাবেন অর্থাৎ পেইড VPN আপনার সমস্ত গোপনীয়তা রক্ষা করবে। বিনামূল্যে ব্যবহারকৃত VPN এর ক্ষেত্রে আপনার গোপনীয়তা প্রকাশ পেতে পারে অথবা আপনার তথ্য চুরি হতে পারে অথবা আপনার তথ্যগুলো ট্র্যাক হয়ে যেতে পারে। তো বন্ধুরা, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সর্বদা পেইড VPN ব্যবহার করতে হবে।

অ্যান্ড্রয়েডের জন্য দুর্দান্ত Tor ব্রাউজার কোনটি?

The Official Tor Project অ্যান্ড্রয়েড Tor ব্রাউজার বাজারে নিয়ে এসেছে বেশ কিছু দিন হলে। তবে অ্যান্ড্রয়েড এর সাথে টর ব্রাউজার সফটওয়্যারটি এখনো ঠিকমতো খাপ খাইয়ে উঠতে পারেনি। দেখা গেছে যে, কিছু কিছু অ্যান্ড্রয়েড এর ক্ষেত্রে Tor ব্রাউজার ঠিকঠাক মত কাজ করলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা করছে।

অর্থাৎ, অ্যান্ড্রয়েড Tor ব্রাউজারে এখনো ছোট ছোট বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। আপনি যদি গুগল প্লে স্টোরে, টর ব্রাউজার রিভিউগুলো দেখেন তাহলে দেখবেন কিছু ব্যবহারকারী তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছে। কিছুসংখ্যক অ্যান্ড্রয়েড Tor ব্রাউজার ব্যবহারকারী রিপোর্ট করছে যে, এই সফটওয়্যার টি ডিভাইস ও ওয়েবসাইটের মাঝে ঠিকমতো সংযোগ করতে পারছেনা।

আমাদের ডেটাগুলো ডিভাইস ও সাইটের মাঝের যে রুটটি বেছে নিচ্ছে তা দেখাতে পারছে না Tor ব্রাউজারটি, এমন রিপোর্ট করছে ব্যবহার কারীরা। তো, এসব মূলত ছোট ছোট সমস্যা। অ্যান্ড্রয়েড Tor প্রজেক্ট শীঘ্রই এসব ছোট ছোট সমস্যার সমাধান নিয়ে আসবে। তারপর এই সফটওয়্যারটিকে আরো ভালোভাবে ব্যবহার করা যাবে ইনশাআল্লাহ।

তো, এখনো বেশ কিছুসংখ্যক ব্যবহারকারী রয়েছে, যারা Orfox এ অভ্যস্ত এবং তাদের ক্ষেত্রে Orfox থেকে Orbot এ আসতে বেশ কিছু সময় লাগতে পারে। মূল কথা হচ্ছে, বর্তমান সময়কালে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অ্যানোনিমাস ভাবে অ্যাক্সেস এর অন্যতম উপায় টর ব্রাউজার। আর এ দুর্দান্ত অ্যাপ্লিকেশনটি বর্তমান সময়ে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস এর জন্যও সহজলভ্য।

তো বন্ধুরা, এই ছিল আজকের টিউন। যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই একটি জোসস দিয়ে আমাকে উৎসাহিত করবেন। টিউন সম্পর্কে যদি কোন মন্তব্য থাকে তাহলে টিউমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাবেন। আমার টিউন গুলো সবার আগে দেখতে চাইলে আমাকে ফলো করবেন। দেখা হচ্ছে পরবর্তী কোন এক টিউনে। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।

Level 6

আমি মো. তানজিন প্রধান। ১ম বর্ষ, বগুড়া আজিজুল হক কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 বছর 10 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 87 টি টিউন ও 63 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 23 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 4 টিউনারকে ফলো করি।

কখনো কখনো হারিয়ে যাই চিন্তার আসরে, কখনোবা ভালোবাসি শিখতে, কখনোবা ভালোবাসি শিখাতে, হয়তো চিন্তাগুলো একদিন হারিয়ে যাবে ব্যাস্ততার ভীরে। তারপর ব্যাস্ততার ঘোর নিয়েই একদিন চলে যাব কবরে।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস