আমাদের অবহেলিত যে ৭টি কারণে নতুন মোবাইলও কিছু দিনের মধ্যে Slow হয়

Level 4
দশম শ্রেণি, হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট

আসসালামু আলাইকুম, বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন আশাকরি সবাই মহান প্রতিপালকের অশেষ মেহেরবানীতে সবাই নিজ নিজ স্থানে ভালো ও সুস্থ আছেন।

বন্ধুরা বর্তমান এই যুগে এমন মানুষ খুব কম যারা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহার করে না। কিন্তু আমরা যারা এন্ড্র‍্যেড মোবাইল ব্যবহার করি তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটা সমস্যা হয় আমাদের মোবাইল খুব ধীর গতির হয় এবং হ্যাং করে।

বন্ধুরা আমরা যখন একটা ফোন নতুন একটি স্মার্ট কিনে আনি তখন দেখা যায় ফোনটার পারফরম্যান্স বেশ ভালো থাকে এবং ফোনটা খুব ফাস্ট থাকে। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই দেখা যায় ফোনটা স্লো হয়ে যাচ্ছে। আজকের এই টিউনে বলব ৭টি ভুলের কথা যেই ভুল গুলো আমরা করি আর যেই ভুলের কারণে আমাদের মোবাইল স্লো হয় এবং হ্যাং করে। আমরা সবাই মোটামুটি দেখে শুনেই একটা স্মার্ট ফোন কিনি। কিন্তু কয়েক ব্যবহার করার পরে দেখা যায় নতুন ফোন হিসেবে তেমন পারফরম্যান্স করছে না। তখন আমাদের মনে হয় দূর এই কোম্পানির ফোন মনে হয় ভালো না। কিন্তু একটা কোম্পানি যখন তাদের ফোন বাজারে দেয় তখন ফোনের জিনিসপত্র খুব বুঝে শুনে দেখে বাজারে দেয়। আর আমরা বিভিন্ন ধরনের Customise করার চেষ্টা করি, আর এতে করে ফোনের পারফরম্যান্স তো বাড়েই না আর স্লো হয়ে যায় আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় হ্যাং করে।

এখন আমি একটা একটা করে ৭টি পয়েন্ট বলব, যেগুলো করা বন্ধ করে দিলে আপনার ফোন আরও ফাস্ট হয়ে যাবে। এর মধ্যে অনেকে কিছু পয়েন্ট জানেন, আবার কিছু সময় দেখা যায় এগুলো যেনেও এই কাজ গুলুকে গুরুত্ব দেন না।

১. SD Card, হ্যা বন্ধুরা আপনারা ঠিক শুনেছেন। আপনি যদি SD card ব্যবহার করা বন্ধ করে দেন তাহলে আপিনার ফোন অনেক ফাস্ট হবে। এটা শুনতে অন্যরকম মনে হলেও এটা যদি আমি একটু খুলে বলি যে যখন আপনার ফোনের Internal storage থেকে আপনার ফোনের প্রসেসর কোন Data বা File আদান প্রদান করে তখন কিন্তু প্রসেসর সময় অনেক কম লাগে এককথায় প্রসেসর এর উপরে চাপ পড়ে না। অন্যদিকে SD Card থেকে যখন কোন কিছু আদান প্রদান করে তখন কিন্তু প্রসেসর এর অনেক সময় লাগে এককথায় প্রসেসর এর উপরে কিছু চাপ সৃষ্টি হয়। কারন মোবাইলের Internal storage কিন্তু অনেক ফাস্ট, আর অন্যদিকে আপনি যতই দামি আর ভালো মানের SD Card ব্যবহার করেন না কেন সেটা কিন্তু Internal storage থেকে অনেক স্লো। আর আপনি যদি কম দামি SD Card ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু আপনার ফোনের SD Card অনেক আপনার মোবাইলের পারফরম্যান্স অনেক কমিয়ে দেবে। আর কিছু কিছু দামি ফোনে দেখবেন Internal storage কিন্তু অনেক বেশি দেওয়া থাকে। আর আই-ফোনে SD Card ব্যবহার করার কোন সুযোগ নেই। তাহলে বন্ধুরা SD Card এর ব্যাপারে আমি একটাই বলব আপনি যে কোম্পানির ফোন কিনেন না কেন ফোনের Internal storage একটু বেশি দেখে কিনবেন, তাহলে SD Card এর ঝামেলা আর থাকবে না।

২. এই পুয়েন্টও storage এর মধ্য পরে। আমাদের মধ্যে কিছু মানুষ মোবাইলের storage ফুল করে নেই। এখন এটার জন্য ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই, মনে করেন আপনার আলমারি, পড়ার টেবিল বা অন্য কিছুতে ৪টা ড্রায়ার আছে। এই ড্রায়ার গুলো যদি আপনি কোন কিছু দিয়ে ভরে ফেলেন তখন কিন্তু কাজের সময় কোন একটা জিনিস খুজতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু এই ৪টি ড্রায়ারে আপনি যদি অল্প অল্প করে কোন জিনিস রাখেন তাহলে কিন্তু আপনি খুব সহজেই যেকোন জিনিস খুঁজে নিতে পারবেন খুব সহজেই। আর এই কাজটি করলে আপনার সময় ক্ষতি হবে না। বন্ধুরা storage ফুল করে রাখার ব্যাপারটা অনেকটা এরকম। মনে করেন আপনার ফোনের storage 32 GB। এখন যদি এখান থেকে 30 GB ভরে ফেলেন তাহলে আপনার ফোনের প্রসেসর কোন কিছু খোঁজে নিতে অনেক্ষন লাগবে সে ক্ষেত্রে আপনার ফোন অনেক স্লো কাজ করবে। সবচেয়ে ভালো যদি আপনি আপনার ফোনের ২৫% ফ্রি রাখতে পারেন মঅনে করেন আপনার ফোনের storage 32 GB এখানে যদি আপনি 8 GB ফ্রি রাখতে পারেন তাহলে অনেকটা ভালো হয়। আপনি চেষ্টা করবেন যতটা পারেন খালি রাখার জন্য।

৩. Bttery saving mode বা Power saving mode, এখন এই Battery saving mode বা Power saving mode যদি আপনি আপনার ফোনে অন করে রাখেন তাহলে আপনি আপনার ফোনের চার্জিং বেক আপ পাবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আপনি আপনার ফোনের চার্জিং সেভ রাখার জন্য আপনার ফোনের পারফরম্যান্স একটু Down করে দিচ্ছেন। আপনি Battery saving বা Power saving অন করে রাখলে কখনই আপনি ফোনের পুরো পারফরম্যান্স পাবেন না। আবার এই Battery saving mode বা Power saving mode অন রেখে যদি আপনি গেমস খেলেন তাহলে আপনার ফোন হ্যাংও করতে পারে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে কি Battery saving mode বা Power saving mode ব্যবহার করব না? অবশ্যই করবেন, যখন আপনি দূরে কোথাও যাচ্ছে সেখানে চার্জ দেওয়া সম্ভব না কিন্তু আপনার ফোন অন থাকাটা জরুরি সেখানে আপনি Battery saving mode বা Power saving mode অন রাখতে পারেন। কিন্তু তাতে আপনার ফোনের পারফরম্যান্স অনেকটা কমে যাবে, তখন আপনাকে বুঝতে হবে আপনার ফোনের পারফরম্যান্স দরকার নাকি চার্জিং বেক আপ দরকার।

৪. আমরা অনেকেই Lunch app এই টাইপের কিছু অ্যাপস ব্যবহার করে থাকি। এই অ্যাপস গুলো সাইজে তেমন বড় হয় না, আর তাই আমাদের মনে হয় এই অ্যাপস গুলো আমাদের ফোনে তেমন একটা চাপ দিচ্ছে না। কিন্তু সত্যি হলো অন্যরকম এই অ্যাপস গুলো আপনার ফোনের সব জায়গায় নাগ গলায়। আপনি আপনার ফোনে যা করছেন যে অ্যাপস ওপেন করছেন তাতেও কাজ করছে এই অ্যাপস। আর এটা করতে গিয়ে এই অ্যাপস গুলো আপনার ফোনের প্রসেসর কে যেমন Busy রাখে আর RAM এর বেশি জায়গা ব্যবহার করে সবসময়। যাদের ফোনে RAM কম আছে তাদের ফোন স্লো কাজ করে সাথে হ্যাং ও করতে পারে। তাহলে বন্ধুরা ফোনের পারফরম্যান্স ভালো রাখতে এই অ্যাপস গুলো থেকে বিরত থাকুন।

৫. এখন এই পয়েন্টে যে কথা বলব সেটা আসলে ৪ নাম্বার পয়েন্টের মতোই অনেকটা। আমরা আমাদের ফোন সুন্দর রাখার জন্য অনেক ধরনের অ্যাপস ও Font ডাউনলোড করে থাকি। আর যাদের ফোনের Ram কম তাদের ফোন স্লো কাজ করবে সাথে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হ্যাংও করতে পারে।

৬. আমরা যখন নতুন একটা ফোন কিনে আনি তখন কিন্তু বেশি অ্যাপস ইন্সটল করা থাকে না। কিন্তু ফোন কিনার পরে কিছু দিনের মধ্যে আমরা বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ডাউনলোড ও ইন্সটল করে থাকি। কিন্তু আমরা সব গুলো অ্যাপস ব্যবহার করি না, প্রতিদিন হয়ত ৪-৫ টি অ্যাপস ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। আর যে অ্যাপস গুলো আপনার ফোনে ইন্সটল করা কিন্তু ব্যবহার করা পড়ছে না সেগুলো আপনি হয়ত বলছে থাক Uninstall করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আপনার ভাবনা ভুল কারন ওই অ্যাপস গুলো আপনি ব্যবহার করেন আর নাই করেন সেগুলো কিন্তু সবসময় Run করতে থাকে। একটা জিনিস যদি Run হতে থাকে তাহলে তো প্রসেসর Ram Busy থাকবেই, আর সে ক্ষেত্রে আপনার ফোন স্লো কাজ করবে। তাহলে বন্ধুরা যেসব অ্যাপস আপনার ফোনে ইন্সটল করা কিন্তু ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না সেগুলো Uninstall করাটাই সবচেয়ে ভালো।

৭. গুগল প্লে-স্টোর ছাড়া অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে কোন অ্যাপস ডাউনলোড করলে এর সাথে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস ঢুকার সম্ভাবনা থাকে খুব বেশি। আর এই ম্যালওয়্যার আপনার ফোনের তথ্য চুরি করে। তথ্য চুরি বলতে যে আপনার ফোনের গ্যালারি তে থাকা ছবি বা ভিডিও চুরি করে এরকম কিন্তু না। আপনি কোন কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছেন বা মেসেঞ্জারে কি কথা বলছেন। এখন বলতে পারেন এগুলো জেনে কি হবে। বন্ধুরা আপনি যখন অনলাইনে থাকেন তখন কিন্তু এগুলোর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের Ads দেওয়া হয়। আর এই অ্যাপস গুলো আপনার ফোনে Run করে প্রসেসর ও Ram এর উপর চাপ সৃষ্টি করে।

বন্ধুরা আশাকরি এই ৭টি জিনিস আপনারা খুব চিন্তা করে মোবাইলে ব্যবহার করবেন। আর এগুলো থেকে সবসময় বিরত থাকবেন। যদিও এগুলো অবহেলিত কিন্তু এই অবহেলিত কাজগুলো থেকে আপনার পছন্দের স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতেই ভালো লাগবে না।

বন্ধুরা এই ছিলো আজকের মতো, এতক্ষণ ধৈর্য সহকারে আজকের এই টিউন দেখার ও পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি, দেখা হবে আবার নতুন কোন টিউনে নতুন কোন বিষয় নিয়ে। আর ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো ও সুস্থ থাকুন সবাই আল্লাহ হাফেজ।

Level 4

আমি মাহবুব আলম তারেক। দশম শ্রেণি, হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 6 মাস 1 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 40 টি টিউন ও 112 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

I am a graphics designer, and have worked on a few other web sites 01616234154


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

প্রিয় ট্রাসটেড টিউনার,

আপনার টিউনটি ‘টেকটিউনস ক্যাশ’ এর জন্য প্রসেস হতে পারছে না।

কারণ:

লিস্ট বেইসড টিউনে ফরমেটিং সঠিক হয়নি।

লিস্ট বেইসড টিউনে লিস্টের

  1. প্রতিটি আইটেমের হেডিং H2 হতে হয়।
  2. প্রতিটি আইটেমের ক্রমিক নম্বর থাকতে হয় এবং প্রতিটি আইটেমের ক্রমিক নম্বর টেকটিউনস গাইডলাইন ফরমেট অনুযায়ী হতে হয়।
  3. প্রতিটি আইটেমের হেডিং এর অধীনে, আইটেমের সাথে প্রাসঙ্গিক, আইটেমকে রিপ্রেজেন্ট করে এমন ও ‘টেকটিউনস কপিরাইট ম্যাটেরিয়াল গাইডলাইন’ অনুসরণ করে ছবি/স্ক্রিনসট/ইমেইজ থাকতে হয়।
  4. প্রতিটি আইটেমকে রিপ্রেজেন্ট করা ছবি/স্ক্রিনসট/ইমেইজ গুলো H2 হেডিং এর ঠিক নিচে থাকতে হয়। অর্থাৎ H2 হেডিং এর ঠিক পরেই প্রতিটি আইটেমকে রিপ্রেজেন্ট করা ছবি/স্ক্রিনসট/ইমেইজ থাকতে হয়।
খেয়াল রাখুন

১. টিউনে H2, H3 বা H4 সহ যে কোন হেডিং কখনও বোল্ড করা যায় না ও লিংক করা যায় না।

২. লিস্ট বেইসড টিউনে প্রতি আইটেমের ক্রমিক নম্বর থাকতে হয়।

লিস্ট বেইসড টিউনে প্রতি আইটেমের ক্রমিক নম্বর বাংলা নিচের ফরমেটে থাকতে হয়।

১. আইটেম ১
২. আইটেম ২

এখানে প্রথমে বাংলা ক্রমিক নম্বর, তারপর একটি ডট, ডটের পর স্পেস তারপর আইটেমের নাম।

লিস্ট বেইসড টিউনে লিস্টের প্রতি আইটেমে হুবহু এই ফরমেটে ক্রমিক নম্বর থাকতে হয়।

উদারহরণ সরূপ টিউন ১টিউন ২ লক্ষ করুন।

এখানে লিস্ট বেইড টিউনে লিস্টের

  1. প্রতিটি আইটেমের হেডিং H2 রয়েছে।
  2. প্রতিটি আইটেমের ক্রমিক নম্বরের ফরমেট টেকটিউনস গাইডলাইন অনুসরণ করে রয়েছে।
  3. প্রতিটি আইটেমের হেডিং এর অধীনে, আইটেমের সাথে প্রাসঙ্গিক, আইটেমকে রিপ্রেজেন্ট করে এমন ও ‘টেকটিউনস কপিরাইট ম্যাটেরিয়াল গাইডলাইন’ অনুসরণ করে ছবি/স্ক্রিনসট/ইমেইজ রয়েছে।
  4. প্রতিটি আইটেমকে রিপ্রেজেন্ট করা ছবি/স্ক্রিনসট/ইমেইজ গুলো H2 হেডিং এর ঠিক নিচে অর্থাৎ H2 হেডিং এর ঠিক পরেই প্রতিটি আইটেমকে রিপ্রেজেন্ট করা ছবি/স্ক্রিনসট/ইমেইজ রয়েছে।

করণীয়:

গাইডলাইন অনুযায়ী সংশোধন করুন।

উপরের নির্দেশিত সংশোধন করে এই টিউমেন্টের রিপ্লাই দিন।

খেয়াল করুন, এই টিউমেন্টের রিপ্লাই বাটনে ক্লিক করে রিপ্লাই না করে টিউনে টিউমেন্ট করলে তার নোটিফিশেন ‘টেকটিউনস কন্টেন্ট অপস’ টিম পাবে না। তাই অবশ্যই এই টিউমেন্টের রিপ্লাই বাটনে ক্লিক করে রিপ্লাই করুন।