মোবাইলে চার্জ দেওয়া নিয়ে আমাদের মাঝে প্রচলিত ৫টি ভুল ধারণা, যেগুলো আমাদের সবার জনা উচিত

টিউন বিভাগ টিপস এন্ড ট্রিকস
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বর্তমানের প্রায় বেশিরভাগ মানুষই কিন্তু স্মার্টফোন ব্যবহার করে। কিন্তু স্মার্টফোন ব্যবহার করার সময় চার্জ এর ক্ষেত্রে আমাদের সবার মধ্যে কয়েকটি ভুল ধারণা রয়েছে। স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার সময় আপনাদের যেসব ভুল ধারণা রয়েছে আজকে আমি সে সব ভুল ধারনাগুলো আপনাদেরকে বলে দেবার চেষ্টা করব। এই টিউনটি যদি আপনি সম্পূর্ণ দেখেন, তবে আপনার স্মার্টফোন চার্জের ক্ষেত্রে ভুল ধারণা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

আজকের এই টিউনটি আপনাদের সকলের বিস্তারিত বা সম্পূর্ণ দেখা উচিত। টিউনটি সম্পূর্ণ শুরু করার আগে আপনাকে বলে নিচ্ছি, আপনি যদি আমার এই টিউনে এখন পর্যন্ত নতুন হয়ে থাকেন তবে টিউনটিতে একটি জোসস করবেন। এর জন্য উপরের যে ফলো বাটন রয়েছে সেটিতে ক্লিক করে রাখবেন। সেইসঙ্গে টিউন শেষে যদি আপনাদের কাছে এই টিউনটি সত্যিই ভালো লেগে থাকে, তবে টিউনমেন্ট করে আপনার মতামত জানাবেন। চলুন তবে আজকের টিউনটি শুরু করি।

টিউনটি শুরু করার আগে আপনাদেরকে বলে নিচ্ছি, টিউনটির শেষ পর্যায়ে আমি স্মার্ট ফোনের চার্জ দেওয়ার বিষয় নিয়ে আমার মতামত বলেছি। আশা করছি আপনি সম্পূর্ণ টিউন টি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।

১. স্মার্টফোনটি সারারাত চার্জে দিলে নষ্ট হয়ে যায়

আমাদের সবার মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, স্মার্টফোনকে যদি সারারাত চার্জে রাখা হয় তবে সেটির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এই ধারণাটি আসলে অনেকাংশেই ভুল। বর্তমানের যেসব স্মার্টফোনগুলো রয়েছে সেগুলোর অধিকাংশ ব্যাটারীতে অভার চার্জ প্রোটেকশন রয়েছে। আপনি যখন আপনার ফোনটি চার্জ দিবেন এবং ফোনটির ব্যাটারি যখন সম্পূর্ণ ফুল হয়ে যাবে তখন অটোমেটিক চার্জিং ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আপনাকে বলে নিচ্ছি যে, এটি শুধুমাত্র আপনার ফোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

আপনি যদি ভাল মানের চার্জার ব্যবহার করেন, তবে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি টি ফুল হলে চার্জার থেকেও চার্জ দেওয়া বন্ধ করে দেবে। আপনি নিশ্চয়ই এবার বুঝতে পারছেন যে, আপনি যদি বেশিক্ষণ ধরে মোবাইলটা চার্জে রেখে যান, তবে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে এই ধারনাটি সম্পুর্ন ভুল। তবে আপনার উচিত হবে ফোনে অভার চার্জ না দেওয়া। তবে আপনার ফোনটি ওভার চার্জ দিলে ক্ষতি হবে এরকম ধারনা ভুল। এখানে উচিত না এক জিনিস এবং ধারণা করা অন্য জিনিস।

বর্তমানে আমরা যেসব স্মার্টফোনগুলো ব্যবহার করি, সেগুলোতে ওভারে চার্জ এর প্রটেকশন দেওয়া থাকে। তাই আমরা আমাদের কোনটি যতই চার্জ করি না কেন, এক্ষেত্রে ফোনে নির্দিষ্ট চার্জ নেবার পরে অতিরিক্ত আর কোন চার্জ নিবে না। আগেকার ফোনগুলোতে ওভার প্রটেকশন থাকত না; যে কারণে আমাদের অনেকের মধ্যে বর্তমানে এই ভুল ধারণা টি থাকতে পারে। তবে বর্তমানে অধিকাংশের মধ্যেই এই ভুল ধারণা টি আর নেই। তাই আপনার মোবাইলের যত ইচ্ছা চার্জ দিতে থাকুন, এক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের ব্যাটারির কোন সমস্যা হবে না।

এখানে আমি আরো একটি কথা বলে নিচ্ছি, আমরা যখন নতুন কোন মোবাইল কিনি তখন আমরা বাড়িতে এসে ভাবি মোবাইলটি কত ঘন্টা চার্জ করব। মোবাইলটিতে যতটা চার্জ রয়েছে সেটি আগে ব্যবহার করব নাকি মোবাইলটিকে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা চার্জে রেখে দেবো ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। আসলে কোনটাই না, আপনি যখন বক্স খুলে ফোনটি বের করবেন, তখন দেখবেন ফোনে ইতিমধ্যেই কিছু চার্জ রয়েছে। তারমানে ফোনটির ব্যাটারীতে চার্জ দিয়ে বারবার পরীক্ষা করা হয়েছিল। যেখানে ফোনটাতে চার্জ করা হয়েছিল এবং এই জন্যই আপনি এখনো দেখতে পারছেন ফোনটিতে কিছুটা চার্জ রয়েছে।

কেননা ফোনে প্রথমবার চার্জ দেওয়ার দায়িত্ব কোম্পানি আপনার হাতে ছেড়ে দেয়নি। এজন্য এটি নিয়ে আপনার উদ্বিগ্ন হতে হবে না, যে দায়িত্বটি স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি নিয়েছিল। তাই আপনি সাধারণভাবে যেভাবে চার্জ করেন সেভাবেই চার্জ করতে পারেন। তবে আপনার মনের শান্তির জন্য প্রথম বার আপনি সারারাত চার্জ করতে পারেন, কয়েক ঘন্টা চার্জ করতে পারেন অথবা কয়েকদিন চার্জে রেখে দিতে পারেন। তবে এখানেই আমাদের মনে প্রশ্ন আসে, আমরা যদি কয়েক দিন ধরে ব্যাটারীটি চার্জ দিয়ে রেখে দেই তবে কোন সমস্যা হবে কিনা।

বর্তমান টেকনোলজি অনুযায়ী এই ভয়টি আর নেই। বর্তমানে ব্যাটারীর গুলোতে আপনি যতই চার্জ দেননা কেন সেগুলো তার অতিরিক্ত চার্জ নেবে না। বর্তমানের সমস্ত ব্যাটারিগুলো ওভার চার্জিং প্রটেক্টেড এবং এগুলোতে পূর্ণ চার্জ হয়ে যাবার পর ব্যাটারি এবং চার্জার থেকে ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। আগেকার ফোনের ব্যাটারি গুলোতে আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পেতেন, ফোনটিতে পূর্ণ চার্জ হয়ে যাবার পর বলা হতো, চার্জার থেকে ডিসকানেক্ট করতে। কিন্তু বর্তমানে আপনি যতই চার্জ দেননা কেন এই সমস্যাটি আর নেই।

২. মোবাইলের চার্জ ১০% এর নিচে না আসলে চার্জ দেওয়া যাবে না

অনেকে মনে করতে পারে মোবাইলের চার্জ ১০% এর নিচে আসলে তারপর চার্জ দেওয়া উচিত। যেখানে এটি আসলে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বর্তমানের যেসব লিথিয়াম আয়ন এবং লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি যুক্ত স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় সেগুলোর অনেক নিরাপত্তা পদ্ধতি থাকে এবং এগুলো থাকে অনেক ক্ষমতা সম্পন্ন। এসব ব্যাটারীতে ১০% এর নিচে আসলে চার্জ দিতে হবে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। এসব ব্যাটারীতে আপনি যেকোন পারসেন্টেন্স থেকে চার্জ দিতে পারবেন; যেখানে কোন সমস্যা হবার কথা নয়।

কিন্তু অযৌক্তিকভাবে বারবার চার্জ দেওয়া এবং চার্জার খুলে ফেলা এটি হয়তো বা স্মার্টফোনের ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু ১০% এর নিচে আসলেই যে চার্জ দিতে হবে এটি আসলে ভুল ধারণা। আপনি বরং এর ওপরে থেকে চার্জ দিলে আপনার ব্যাটারির পারফরম্যান্স ভালো থাকবে। আপনি যখন আপনার স্মার্টফোনে চার্জ দিবেন তখন খেয়াল করবেন, যেন সেটি ৩০% এর নিচে হয়। এটি যে ১০% এর নিচে আনতে হবে এমন কোনো বিষয় নয়।

এছাড়া আপনি যখন মোবাইল টিতে চার্জ করবেন তখন খেয়াল করবেন যেন ৮০% এর মধ্যে আপনার মোবাইলের চার্জ থাকে। কোন অবস্থাতেই আপনার মোবাইলে ফুল চার্জ বেশি করবেন না। আপনার মোবাইলের ব্যাটারি কে সবসময় ভালো রাখার জন্য চেষ্টা করবেন ৭০ থেকে ৯০% এর মধ্যে চার্জ রাখতে এবং ভালো হয় ৮০% পর্যন্ত করতে। অর্থাৎ, চার্জ করার সময় এ পর্যন্তই চার্জ করতে। এক্ষেত্রে আপনি যদি এর চাইতে বেশি চার্জ করেন তবুও কোন সমস্যা নেই। তবে আপনি যদি সব সময় ৮০% এর নিচে বা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করেন তবে সেটি আপনার মোবাইলের ব্যাটারির জন্য ভালো।

এছাড়া আপনি যখন আপনার মোবাইলে চার্জ করবেন তখন আপনার মোবাইলের চার্জ ৩০ শতাংশের নিচে নামলেই চার্জে দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ২০% থেকে ৩০% এরমধ্যে আপনার মোবাইলটিকে চার্জে লাগানো উচিত। আপনি অনেকের কাছে বা অনেকের মুখে শুনে থাকবেন মোবাইলের চার্জ ০% হবার পর তখন চার্জ দিতে হবে এবং মোবাইলের চার্জ ১০০% হবার পর খুলে রাখতে হবে। যেখানে পূর্বে আমরা এই ধারণাটি বিশ্বাস করে এসেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে আমরা জানতে পেরেছি এই ধারনাটি সম্পুর্ন ভুল।

মোবাইলের চার্জ যদি ০% এর নিচে নামে তবে এটি ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। যদি ব্যাটারীতে ০% পার্সেন্ট চার্জ থাকে, তবে ব্যাটারীতে থাকা কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন এর মাধ্যমে ব্যাটারি অনেক ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া ব্যাটারিকে যদি বেশি পরিমাণে চার্জ করা হয়, অর্থাৎ যদি ১০০% চার্জের জন্য রেখে দেওয়া হয় তবে সেটি ও ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। বরং, এই দুইটির মধ্যে কোনোটিই নয়; আপনি এর চাইতে ৩০% এর নিচে আসলে ব্যাটারী কে চার্জে দিবেন এবং ৮০% হলে মোবাইলকে খুলে রাখবেন। তবে এর কম-বেশি করলে যে আহামরি এমন কিছু হয়ে যাবে, তা নয়।

আপনি অনেককে হয়তোবা বলতে শুনেছেন, ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য প্রতি মাসে অথবা কয়েক মাস পর পর ব্যাটারির চার্জ ০% আনা উচিত এবং সেখান থেকে চার্জ দেওয়া উচিত। কিন্তু এটি কখনোই করা উচিত না। এখানে আমি বলব যে, বর্তমান দিনের ব্যাটারি টেকনোলজি যে জায়গায় পৌঁছেছে সেখানে ব্যাটারির লাইফ সাইকেল পুনরুদ্ধার করার কোন দরকার নেই বা দরকারই পড়ে না। বরং আপনি যদি এরকম টি করেন, তবে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। আপনার ফোনের চার্জ যখন ০ শতাংশ হতে এসে পৌঁছাল তখন ব্যাটারীতে কিছু কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন হতে পারে; যার ফলে ব্যাটারি লাইফ এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সে ক্ষেত্রে ব্যাটারি চার্জ দেবার ক্ষেত্রে কিংবা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ব্যাটারি পুরোপুরি খালি করবেন না। বরং আমার উপদেশ থাকবে, যখন ব্যাটারির চার্জ 30% এর নিচে চলে আসবে তখনই চার্জ দেওয়া উচিত। তাহলে আপনার ব্যাটারির উপরের যে একটি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে সেটি কেটে যাবে। ব্যাটারীতে চার্জ দেবার এই প্রক্রিয়াটি আপনি নিশ্চয় বুঝে গিয়েছেন।

৩. চার্জে দিয়ে মোবাইল চালানো যাবে না

আমরা অনেক সময় শুনে থাকি যে, চার্জে দিয়ে মোবাইল চালানো উচিত নয়। চার্জে দিলে মোবাইল চালালে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেগুলো এটিও একটি ভুল ধারণা। এটি ঠিক যে, চার্জে দিয়ে মোবাইল চালালে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের ব্যাটারির উপর প্রভাব পড়ে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের ব্যাটারির ওপর অতটা প্রভাব পড়ে না।

এক্ষেত্রে এটি ঠিক যে, আপনি যদি চার্জে দিয়ে মোবাইল চালান এবং আপনার চার্জার যদি নন-ব্র্যান্ডের হয়ে থাকে তবে সেই ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এটার মানে এই না যে, আপনি যদি ব্র্যান্ডের চার্জার ব্যবহার করেন তবে ইচ্ছামত চার্জে দিয়ে আপনি মোবাইল চালাতে পারবেন। এক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে; আপনি যদি চার্জে দিয়ে হালকা কিছু কাজ করেন তবে সেটি মোবাইলের ব্যাটারির উপর তেমনটা প্রভাব ফেলে না। যেমন চার্জে দিয়ে গান শোনা, মুভি দেখা বা অন্য কোন অডিও প্লে করা। কিন্তু আপনি যদি মোবাইলটিকে চার্জে দিয়ে গেম খেলা শুরু করেন তবে এক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি অত্যধিক গরম হয়ে যাবে এবং যেটি আপনার ব্যাটারির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

আর আমরা এটা সকলেই জানি যে, কোন একটি স্মার্টফোন যদি অতিরিক্ত তাপ এবং অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়ায় ব্যবহার করা হয় তবে এটি ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। যেখানে আপনার মোবাইলের তাপমাত্রা যদি বেশি পরিমাণে হয়ে যায় তবে আপনার ব্যাটারির কর্মক্ষমতা ও আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। তবে আপনি যদি মোবাইলটিকে চার্জে দিয়ে সাধারন কাজগুলো করেন, তবে তেমন কোনো সমস্যা হবে বলে আমার মনে হয় না। আপনি যদি মোবাইলকে চার্জে রেখে মাল্টিটাস্কিং করে আপনার মোবাইলের প্রসেসর কে ব্যস্ত রাখেন তবে এক্ষেত্রে আপনার মোবাইল গরম হওয়া শুরু হতে পারে। এক্ষেত্রে দেখা যাবে আপনার মোবাইলের পারফর্মেন্স ড্রপ করতে পারে।

চার্জে দিয়ে মোবাইল ব্যবহার করার জন্য আপনি সাধারণ কাজগুলোকে করতে পারেন। যেমনঃ টুকটাক মুভি দেখা, অডিও প্লে করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের চার্জার যদি ভালো হয় তবে আহামরি কোনো কিছু হবে না।

৪. সপ্তাহে সর্বনিম্ন একদিন মোবাইলকে বন্ধ রাখতে হবে

আমাদের মধ্যে মোবাইল চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, আমাদের মোবাইলটিকে ভালো রাখার জন্য সপ্তাহে একদিন হলেও সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা উচিত। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি একটি ফোন ২০-৩০ দিন ধরে চালু করেছেন কিন্তু সেটি আর বন্ধ করেননি, তবে মোবাইলের লাইফ সাইকেল এর ক্ষেত্রে এটি সামান্য কিছু তারতম্য সৃষ্টি করতে পারে; তবে এটি আহামরি এমন কোন বিষয় না। ‌এটি আসলে ভুল ধারণা; তবে আপনি সপ্তাহে একদিন মোবাইলটিকে রিস্টার্ট করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার মোবাইলটিকে সপ্তাহে একদিন বন্ধ রাখতে হবে না। বরং আপনি যদি সপ্তাহে একদিন মোবাইল রিস্টার্ট দেন, তবে দেখবেন মোবাইলটি কিছুটা হলেও ফাস্ট কাজ করছে।

আপনি যে সপ্তাহ জুড়ে মোবাইলটিকে চালু করেছেন, এজন্য মোবাইলে অনেক কুকিজ জমা হয়ে থাকে। এছাড়া মোবাইলটি সপ্তাহজুড়ে ব্যবহার করার পর অ্যাপ গুলো একটানা চালু অবস্থায় থাকে এবং বিভিন্ন ফাইল তৈরী করতে থাকে। আপনি যদি মোবাইলটি রিস্টার্ট দেন, তবে আপনার মোবাইলের প্রত্যেকটি অ্যাপ আবার নতুন করে চালু হবে। আপনি যদি মোবাইলটি রিস্টার্ট দেন তবে আগের চাইতে কিছুটা মোবাইলটিকে ফাস্ট অনুভব করবেন। এক্ষেত্রে যে কয়েকদিন পর একদিন মোবাইল বন্ধ রাখতে হবে, এটি আসলে ভুল ধারণা।

৫. সব চার্জার একই হয়

অনেকেই মনে করতে পারে যে, সব চার্জার গুলোই একই হয়। যারা চার্জার সম্পর্কে ধারণা রাখে না তারাই একমাত্র এই কথাটি বলে থাকে। যেখানে ৫০ টাকা দামের চার্জার ও ৫০০ টাকা দামের চার্জার একই বলে তারা মনে করে। মোট কথা বলতে গেলে, তাদের কাছে মোবাইলে চার্জ হলেই হল। তবে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

আপনি যদি কোন লোকাল ব্রান্ডের চার্জার ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে হয়তো বা আপনার মোবাইলে চার্জ ঠিকই হবে। কিন্তু এসব ধরনের চার্জার এর মধ্যে কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। যেমন কোন চার্জারে ওভারহিট প্রটেকশন, অভার চার্জিং প্রটেকশন, হাই ভোল্টেজ প্রোটেকশন ইত্যাদি। বাজারে কিন্তু অনেক ভালো ভালো ব্র্যান্ড রয়েছে যাদের চার্জার আপনি কিনতে পারে। এছাড়া বাজারে ৫০-৭০ টাকা দামের ও চার্জার পাওয়া যায়, যেগুলোতে কিন্তু অতটা নিরাপদ নয় আপনার মোবাইলের জন্য।

আপনি আপনার স্মার্টফোনটি যতবারই এবং যে নিয়মেই চার্জ দেননা কেন সেটি যেন অবশ্যই ভালো কোন চার্জার দিয়ে হয়। আপনি যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে বেশীক্ষন চার্জে দেন কিংবা ব্যাটারি ০% তে এলেও চার্জে দেন, তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সেটি যেন ভালো কোন চার্জার দিয়ে হয়। যদি আপনি চার্জে দিয়ে মোবাইল চালাতে চান তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে মাথায় রাখা উচিত সেটি যেন অবশ্যই ভালো মানের কোন চার্জার হয়। ভালো মানের চার্জার দিয়ে চার্জ দেওয়া মানেই আপনার ফোনের ব্যাটারি টি নিরাপদ থাকা।

ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার কিছু কথা

আপনার স্মার্টফোনটিকে চার্জ দেবার ক্ষেত্রে সবশেষে আপনাকে যে কথাটি বলবো তা হয়তোবা আমার উপরে বলা কথার পরিপন্থী। তবুও আমাকে এই বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করতেই হচ্ছে। যেখানে আমি বলব, আপনি আপনার ইচ্ছামত আপনার স্মার্টফোনটিকে চার্জে দিতে পারেন। তবে চেষ্টা করবেন যেন আপনার মোবাইলের চার্জ বেশি কমে গেলে চার্জে না দিতে হয়। বরং, কিছুটা চার্জ থাকবেই আপনি মোবাইলটিকে চার্জে দিতে পারেন এবং মোবাইলের চার্জ পরিপূর্ণ হবার আগেই চার্জ থেকে ডিসকানেক্ট করতে পারেন।

এত এত নিয়ম অনুসরণ করে মোবাইলে ও কিছুদিন পর দেখা যায় মোবাইলের ব্যাটারি টি আর আগের মত নেই এবং যেখানে কোন কৌশলই কাজে লাগে না মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার জন্য। দেখা গেল, আপনি এতসব নিয়ম অনুসরণ করে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি টিকে ৩-৪ বছর ধরে ভালো রেখেছেন; কিন্তু সে সময় পর্যন্ত আপনার মোবাইলের অন্যান্য পারফরম্যান্স কমে গিয়েছে। ‌আর তখন আপনার মোবাইলের ব্যাটারি ভালো থাকলেও সেটি কোন কাজের থাকবে না। কয়েকবছর পরে যদি আমাদের মোবাইলই ব্যবহার করা না যায়, তখন ব্যাটারি দিয়ে করবো কি? তখন আপনাকে ব্যাটারি ধুয়ে ধুয়ে পানি খেতে হবে। 🤣

যেখানে আমাদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন গুলো কয়েক বছর পরে গিয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, এইসব মোবাইলগুলো কিছুদিন পরে গিয়ে ধীরগতির হয়ে যায়। যদি আমাদের মোবাইলগুলো ধীরগতি ই হয়ে যায় এবং সেগুলো আমাদের ব্যবহারের অযোগ্য ই হয়ে পড়ে তবে সেসব এর ব্যাটারি দিয়ে আর হবে কি‌? আমরা আমাদের এ স্মার্টফোনটি তো আর সারা জীবনের জন্য কিনে থাকি না। যেখানে বর্তমানে আমরা একটি মোবাইল শুধুমাত্র কয়েক বছর ব্যবহার করে থাকি।

আর আমাদের মোবাইলের ব্যাটারি যদি নষ্ট হয়েই যায়, তবে সময়মতো এটিকে আবার পাল্টে নিতে পারব। কিন্তু আমরা যতই বিভিন্ন জায়গায় কৌশল দেখি না কেন সেগুলো কোনটাই কাজে লাগে না মোবাইল চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে। কেননা আমরা যখন মোবাইলে চার্জ দেই তখন আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজন থাকে। আর সেসব প্রয়োজনের কথা বাদ দিয়ে মোবাইলের ব্যাটারি বাঁচানোর দিকে মনোযোগ দিলে আর চলে না। যেখানে সে সময় আমাদের মাথায় থাকে, মোবাইলের ব্যাটারি তো একদিন নষ্ট হবেই।

আমাদের মোবাইলের ব্যাটারি টিকে যতই আমরা যত্ন নেই না কেন সেটি কিছুদিন পরে গিয়ে আর ভালো থাকে না। বরং আপনি নতুন মোবাইল কেনার সময় যেখানে সেটি ১০ ঘন্টা ব্যাকআপ দিত, সেখানে ১-২ বছর পরে গিয়ে দেখবেন সেটি ৬-৮ ঘন্টা হয়ে গিয়েছে। যেখানে এর চাইতেও আরো কমতে পারে। এভাবে করে দেখা যাবে কয়েক বছর পরে গিয়ে দেখা যাবে মোবাইলের ব্যাটারি টি আর চলছেই না। যেখানে এটি একটি সাধারণ ঘটনা।

আপনি যদি এত এত নিয়ম ফলো করতে চান আপনার মোবাইলের ব্যাটারির ওপর, তবে এটি তেমন কোন কাজে দেবে না বলে আমি মনে করি। তার চাইতে যে কয়দিন ব্যবহার করবেন সে কয়দিন শান্তি মতো ব্যবহার করুন🥰। তবে হ্যাঁ, আপনার মোবাইলটি তে চার্জ দেবার সময় অবশ্যই ভালো মানের কোন চার্জার দিয়ে চার্জ দিবেন। অযথা নিম্নমানের চার্জার দিয়ে চার্জ দিলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আপনার মোবাইলের ব্যাটারি টি তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। যেখানে নিম্নমানের চার্জার গুলো ব্যবহার করলে ঘটে যেতে পারে অনেক বড় দুর্ঘটনা।

আপনার মোবাইলের ব্যাটারি তে যদি সত্যিই নষ্ট হয়ে যায়, তবে আপনি পরবর্তীতে একটি ব্যাটারি কিনে নিয়ে সেটিতে লাগাতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি যদি এডজাস্ট হয়, তবুও বর্তমানে আপনি ব্যাটারি পরিবর্তন করতে পারবেন। তাই ব্যাটারি নিয়ে আমার মতে চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনি আপনার শান্তি মত মোবাইলে চার্জ দিতে থাকুন এবং ব্যবহার করতে থাকুন। আশা করছি আহামরি তেমন কোনো সমস্যা হবে না। 🥰

শেষ কথা

বন্ধুরা এই টিউনের বিষয়বস্তু ছিল মোবাইলে চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ভুল ধারণা সম্পর্কে। স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার সম্পর্কে আমি আপনাদেরকে কিছু ভুল ধারণা বলে দিয়েছি। তবে সর্বশেষ আমি আমার মত থেকে কিছু কথা বলেছি, যেটি মোবাইলে চার্জ দেওয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। যেখানে মোবাইলে চার্জ দেওয়া নিয়ে ভুল ধরনা সম্পূর্ণই ভিন্ন। যাইহোক, আপনারা এই বিষয় সর্ম্পকে বুঝতে পেরেছেন।

মোবাইলে চার্জ দেওয়া নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেকই দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকতে পারে। তবে মোবাইলে চার্জ দেওয়া নিয়ে আমাদের যেসব ভুল ধারণা রয়েছে সেগুলো তেমন কোন বড় বিষয় নয়। তবুও আমি টিউনে আপনাদের কাছে সব বিষয়গুলো সম্পর্কে তুলে ধরেছি। আশা করছি স্মার্ট ফোনের চার্জ দেওয়া নিয়ে ভুল ধারণা সম্পর্কিত আজকের এই টিউনটি আপনাদের কাছে ভাল লেগেছে। যদি আপনার কাছে সত্যিই টিউনটি ভাল লেগেই থাকে, তবে টিউনটিতে একটি একটি জোসস করবেন এবং সেইসঙ্গে আপনার মতামত টিউনমেন্টে জানাবেন।

দেখা হবে পরবর্তী টিউনে আরো নতুন আঙ্গিকে এবং নতুন কোন বিষয় নিয়ে ইনশাআল্লাহ। সে সময় পর্যন্ত আমাকে ফলো করে সঙ্গেই থাকুন। আসসালামু আলাইকুম।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 7 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 163 টি টিউন ও 55 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 15 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস