স্মার্টফোন ধীরগতির হয়ে গেলে এর তাৎক্ষণিক সমাধান করে নিন

Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে অনেক আছেন। বরাবরের মতো আজও নতুন একটি টিউন নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের সামনে। আমরা যখন স্মার্টফোন ব্যবহার করি তখন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় সমস্যা যেতে হয় তা হচ্ছে ফোনটি স্লো বা ধীরগতির হয়ে যাওয়া। নতুন অবস্থায় একটি স্মার্টফোন অনেক ভালো থাকলেও দিন যাবার সঙ্গে সঙ্গে যেটির অবস্থা একেবারেই কমে যায় এবং মোবাইলটি স্লো হয়ে যায়।

স্মার্টফোন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি এবং বড় সমস্যা হচ্ছে ফোনটি ধীর গতির হওয়া। কমবেশি আমাদের সকলের ফোন একটি পর্যায়ে গিয়ে ধীর গতির হয়ে যায়। এছাড়া স্মার্টফোনটি প্রতিদিন ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও অনেক সময় ধরে ধীর গতির হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি যদি কয়েকটি টিপস ফলো করেন তবে আপনার স্মার্টফোনটি আগের চাইতেও অনেক ভাল পারফর্ম করবে। চলুন তবে কথা না বাড়িয়ে দেখে নেওয়া যাক এরকমই এরকম কয়েকটি টিপস, যেগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি আপনার স্মার্টফোনকে তাৎক্ষণিক কিছুটা হলেও ফাস্ট করতে পারবেন।

১. স্মার্টফোনের Cache (ক্যাশ) ডাটা গুলো কে পরিষ্কার করা

আমরা স্মার্টফোনের যখন কোন অ্যাপ ব্যবহার করি তখন সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে আমাদের মেমোরিতে অনেক ডাটা খরচ করে। যার ফলে আমাদের মোবাইলের স্টোরেজ অনেকটা পূর্ণ হয়ে যায়। অ্যাপ্লিকেশন ভেদে একেকটি অ্যাপ একেক রকম জায়গা দখল করে। অনেক সময় দেখা যায় যে কোন অ্যাপ কয়েকশো মেগাবাইট পর্যন্ত ক্যাশ ডেটা জমা করেছে। এই ক্যাশ এর ডাটা গুলো কিন্তু আমাদের কোনো কাজে আসে না।

ক্যাশে থাকা ডাটাগুলো শুধুমাত্র এমনিতেই আমাদের মোবাইলের স্টোরেজ কে পূর্ণ করে দেয়। আপনার মোবাইলটি যদি বারবার স্লো হয়ে যায় তবে আপনার উচিত হবে আপনার মোবাইলে ইন্সটল করা অ্যাপ গুলোর ক্যাশ ডেটা পরিষ্কার করা। এজন্য আপনার মোবাইলের সেটিং এ গিয়ে সেই অ্যাপটির Cache ডেটা গুলোকে পরিষ্কার করতে হবে। কিভাবে আপনি কোন একটি আপের ক্যাশ ডাটা পরিষ্কার করবেন তার নিচে দেওয়া হল।

কোন একটি অ্যাপের ক্যাশ (Cache) মুছে ফেলবেন যেভাবে

কোন অ্যাপের ক্যাশ ডাটা মুছে ফেলার জন্য আপনাকে মোবাইলের সেটিং এ যেতে হবে অথবা সরাসরি অ্যাপের উপর ট্যাপ করে ধরে রেখে অ্যাপ সেটিং এ গিয়ে ক্যাশ ডাটা পরিষ্কার করতে পারেন। চলুন তবে, কীভাবে এটি করবেন সেটি দেখে নেওয়া যাক।

১. এজন্য প্রথমে আপনাকে চলে যেতে হবে আপনার মোবাইলের Setting-এ। এবার এখানে Apps সেটিং থেকে App management-এ যেতে হবে। উল্লেখ্য যে, এখানে কারো মোবাইলের সেটিং শুধুমাত্র Apps লেখা হতে পারে। তো আপনার হয়ে যেটিই হোক না কেন আপনি App সেটিং এ চলে যাবেন।

২. এবার আপনাকে বাছাই করতে হবে যে আপনি কোন অ্যাপের ক্যাশ ডাটা পরিষ্কার করবেন। এক্ষেত্রে আমি এখান থেকে ফেসবুক অ্যাপকে বেছে নিয়েছি। আপনি সেই অ্যাপটির ওপর ক্লিক করার পর পরবর্তী ধাপে Storage সেটিং এ চলে যাবেন, যেমনটি আপনি নিচের দ্বিতীয় চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন।

৩. এবার আপনি এখানে দেখতে পাবেন যে সেই অ্যাপটি কি পরিমাণ জায়গা দখল করে রয়েছে আপনার মেমোরিতে। যেখানে আপনি উপরের পেয়ে যাবেন 'Clear Cache' অপশন। যেখানে ক্লিক করার মাধ্যমে আপনি সেই অ্যাপটির ক্যাশে থাকা সমস্ত ডাটা মুছে দিতে পারেন। কোন অ্যাপের ক্যাশে থাকা ডেটা গুলোকে মুছে দিলে আপনার সেই আপের কোন কিছুর ঘাটতি হবে না। বরং অ্যাপটি আগের মতোই চলতে থাকবে।

সেটিং থেকে যদি আপনি অ্যাপ গুলো খুঁজে না পান তবে অন্য একটি পদ্ধতিতে এখানে যেতে পারেন। কিভাবে সেটি করবেন সে প্রক্রিয়াটি নিচে আলোচনা করা হলো।

১. কোনো অ্যাপের ক্যাশে থাকা ডাটাগুলোকে ডিলিট করার জন্য আপনি সেই অ্যাপের উপর ট্যাপ করে ধরে রাখবেন। এরপর Application details-এ ক্লিক করলেই আপনাকে সেই অ্যাপটির স্টোরেজ মুছে ফেলার সেটিং এ নিয়ে যাবে, যেমনটি আপনি আপনার মোবাইলের মূল সেটিং এ দেখেছিলেন।

তো বন্ধুরা এই ভাবে করে আপনি আপনার মোবাইলের সমস্ত অ্যাপ গুলোর ক্যাশে থাকা ডাটাগুলোকে মুছে ফেলার মাধ্যমে আপনার স্মার্টফোনটিকে আগের চাইতে ফাস্ট করতে পারেন।

২. অযাচিত বা অব্যবহৃত অ্যাপগুলো ফোন থেকে ডিলিট করে দিবেন

আমরা প্রতিদিন অনেক অ্যাপ ব্যবহার করে থাকি আমাদের স্মার্টফোনে। সেসব অ্যাপের অধিকাংশই থাকে আমাদের অপহৃত। অর্থাৎ সেসব অ্যাপ গুলোর মধ্যে অধিকাংশ অ্যাপই আমরা মাসে ২-১ বার ব্যবহার করি এবং বাকি কিছু অ্যাপ রয়েছে যেগুলো আমরা নিয়মিত বা প্রতিদিন ব্যবহার করি। কিন্তু আমাদের ফোনে যে অতিরিক্ত অ্যাপ্লিকেশনগুলো থেকে গেল এটি কিন্তু আমাদের মোবাইলকে কাজ থেকে অবসরে রাখবেনা। আপনি সেসব অ্যাপ গুলো ব্যবহার না করলেও সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে ঠিকই আপনার মোবাইলের প্রসেসিং পাওয়ার এবং আপনার মোবাইলের ব্যাটারি খরচ করতে থাকবে।

এবার আপনি একটু ভেবে দেখুন যে, আপনি যদি সেসব অ্যাপ্লিকেশন গুলো আপনার মোবাইলে অহেতুক ইন্সটল করে রাখেন তবে আপনার মোবাইলের কি রকম সমস্যা হতে পারে। যদিও আপনি সেসব অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করছেন না, কিন্তু সেগুলো ঠিকই আপনার মোবাইলের প্রসেসিং পাওয়ার ব্যবহার করছে। এতে করে যদি আপনার ফোনে অতিরিক্ত অব্যবহৃত অ্যাপ থেকে থাকে তবে সেগুলো যদি একটু করে হলেও আপনার মোবাইলের প্রসেসিং পাওয়ার কে ব্যবহার করে তবে সেটি কিন্তু অনেক হয়ে যায়। এর ফলে আপনার মোবাইলটি এমনিতেই হ্যাং কিংবা স্লো হয়ে যাবে।

অহেতুক কোন অ্যাপ আপনার মোবাইলে ইন্সটল করা থাকলে সেটি আপনার মোবাইলের প্রসেসিং পাওয়ার কে ব্যবহার করার পাশাপাশি মোবাইলের স্টোরেজ কেও ব্যবহার করবে। এতে করে আপনার ফোনের মেমোরি পূর্ণ হয়ে যেতে পারে এবং যার ফলে আপনার মোবাইলটি হ্যাং কিংবা স্লো হতে পারে। যদি মোবাইলের স্টোরেজ ডিভাইস পরিপূর্ণ হয়ে যায় তবে ফোনটি স্লো হয়ে যায়। এসব অযাচিত বা অব্যবহৃত অ্যাপ গুলো আপনার মোবাইলের স্টোরেজ কে ব্যবহার করার কারণে আপনার ফোনটিও অনেক স্লো মনে হতো। এছাড়া আপনার ফোনে অতিরিক্ত অ্যাপ ইন্সটল করা থাকলে সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি কেও খরচ করে। আর এতে করে আপনার মোবাইলে অল্প কাজ করলেও চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

তাই আপনার মোবাইলকে যদি স্লো হওয়ার হাত থেকে উদ্ধার করতে চান তবে এখনি আপনার মোবাইলে অবাঞ্চিত বা অব্যবহৃত সকল অ্যাপ গুলো আনইন্সটল করে ফেলুন। এতে করে আপনার ব্যবহৃত অন্যান্য অ্যাপ গুলো খুব দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে পারবে এবং আপনার স্মার্টফোনটি তাৎক্ষণিক আগের চাইতে অনেকটা ফাস্ট হয়ে যাবে।

৩. স্মার্টফোনটিতে সবসময় সফটওয়্যার এর আপডেট করে রাখুন

আপনার মোবাইলটি স্লো হওয়ার আরও একটি কারণ হতে পারে মোবাইলে সফটওয়্যার আপডেট না দেওয়া। কোন একটি সফটওয়্যার আপডেট দিলে যে রকম ভাবে আপনার মোবাইলটি ধীর গতির হতে পারে ঠিক তেমনি ভাবে সফটওয়্যার আপডেট এর ফলে আপনার মোবাইলটি আবার ফাস্ট ও হতে পারে। এজন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার মোবাইলটির সফটওয়্যার আপডেট এবং অ্যাপগুলোর আপডেট দিতে হবে।

স্মার্ট ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলোর নিয়মিত তাদের ফোনগুলোতে সফটওয়্যার আপডেট দিয়ে থাকে। তাদের সফটওয়্যার আপডেট দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে যাতে করে ব্যবহারকারীরা আরো এক্সপেরিয়েন্স বা অভিজ্ঞতা ভালো পায়। যদি স্মার্টফোনে বর্তমান সফটওয়্যার আপডেটের কোন সমস্যা থাকে তবে পরবর্তী আপডেটে সেটিকে সংশোধন করে দেওয়া হয়। এতে করে বর্তমান সময়ের সাথে সফটওয়্যার গুলোকে ভালোভাবে অপটিমাইজ করে দেওয়া হয়। একটি স্মার্টফোন ব্যবহারের যদি কোন একটি সমস্যা ধরা পড়ে তবে কোম্পানি গুলো সফটওয়্যার আপডেট দিয়ে থাকে।

এক্ষেত্রে স্মার্ট ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলো নতুন সফটওয়্যার আপডেট দেবার ক্ষেত্রে স্মার্টফোনে কিছু ফিচার যুক্ত করে দিতে পারে, আবার যদি পূর্ববর্তী কোন কিছুতে সমস্যা থেকে থাকে তবে সেটি সংশোধন করে দিতে পারে। মোটকথা একটি স্মার্টফোনকে বর্তমানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবার জন্য সকল কিছু করে থাকে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে সেটি হতে পারে সিকিউরিটি আপডেট কিংবা অ্যাপে কোন সমস্যার সংশোধন। তাই একটি স্মার্টফোনকে সবসময় ফাস্ট রাখার জন্য সফটওয়্যার আপডেট দেওয়া অবশ্যই প্রয়োজনীয়। যেখানে আপনার স্মার্টফোনটিকে আগের চাইতে অনেক কিছুতে উন্নতি করা হয়।

শুধুমাত্র আপনার ফোনটিকে সফটওয়্যার আপডেট দিলেই চলবে না। আপনি আপনার মোবাইলে যে সমস্ত অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করেন তার সমস্ত গুলোকেই আপনাকে আপডেট করে নিতে হবে। আপনি আপনার ফোনে যে সমস্ত অ্যাপ গুলো ব্যবহার করেন সেগুলোতে যদি কোন সমস্যা ধরা পড়ে তবে ডেভলপাররা সেগুলোকে আপডেট করে। এছাড়া কোন অ্যাপে নতুন নতুন ফিচার যোগ করার জন্যও অ্যাপ গুলো কে আপডেট করে থাকে। আপনার ব্যবহৃত অ্যাপটিতে যদি কোন সমস্যা ধরা পড়ে তবে সেটি একমাত্র ধরতে পারবে সেই ডেভলপার।

এক্ষেত্রে সেই অ্যাপটিতে যদি কোনো সমস্যা ধরা পড়ে অথবা কোন কিছু নতুন যোগ করার প্রয়োজন পড়ে সেই ক্ষেত্রে ডেভলপার সেটি আপডেট করে নেয়। তাই আপনার মোবাইলটিকে সবসময়ে ফাস্ট রাখার জন্য অ্যাপ আপডেট করে নিবেন। তবে এখানে সমস্যা হতে পারে যে, বর্তমান অ্যাপটির চাইতে আপডেট দেবার পর অ্যাপটির দৈর্ঘ্য অনেক বেশি হয়। কেননা বর্তমানে যে অ্যাপটি ইন্সটল করা রয়েছে তার উপর যদি আবার আপডেট দেই তাহলে অতিরিক্ত জায়গা নিবে। তবে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল।

আপনি যদি কোন একটি অ্যাপকে আপডেট করেন তবে সেটির দৈর্ঘ্য কোনভাবেই বৃদ্ধি পায় না, বরং সেই অ্যাপটির সাইজ আরো কমে যায়। আপনার যদি এটি বিশ্বাস না হয় তবে আপনি কোন একটি অ্যাপ আপডেট করার আগে গিয়ে Storage পরীক্ষা করে এবং আপডেট দেওয়ার পর আবার দেখতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন যে পূর্বের চাইতে আপডেট দেবার পর এই অ্যাপটির সাইজ অনেক কমে গিয়েছে। ‌কোন একটি অ্যাপ আপডেট দেবার পর সেটির Size, User Data, Cache সমস্তগুলোই কিছুটা হলেও কমে যায়। এক্ষেত্রে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে, কোন একটি অ্যাপ আপডেট দেবার পর সেটির দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপটিতে যদি আরো কোন ফিচার যুক্ত করা হয় তবে সেটির সাইজ বাড়তে পারে।

কোন একটি সফটওয়্যার আপডেট এর ফলে যদি সেটির দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় তবে সেটিও হয় খুব সামান্য। আপডেট দেওয়ার পর অ্যাপটিতে যে সমস্ত ফিচারগুলো যুক্ত করা হয়েছে শুধুমাত্র সেই মেগাবাইট টিই অতিরিক্ত যোগ হয় অ্যাপের সঙ্গে। তাই আপনি এক্ষেত্রে নিশ্চিত হতে পারেন যে, অ্যাপ আপডেট করলে সেটির সাইজ বড় হয়ে যাবে না। বরং সেটি পূর্বের ডাটা গুলোকে মুছে দিয়ে নতুন ডাটাগুলোকে যুক্ত করবে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে যে আপনার মোবাইলে যদি সেই অ্যাপটি না ই কাজ করে, তবে ব্যাপারটি কেমন হয়?

বর্তমানে এরকম অনেক অ্যাপ রয়েছে যেগুলো আপডেট করার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত দৈর্ঘ্য বেড়েই চলেছে। উদাহরণস্বরূপ আপনি Shareit অ্যাপটির কথাই কল্পনা করুন। যে অ্যাপটি শুরুর দিকে ছিল মাত্র 5MB এর মত। কিন্তু বর্তমানে সেটি প্রায় 50MB এর মত হয়ে গিয়েছে। ‌এবার আপনার ফোনে যদি 30MB দৈর্ঘ্যের কোন অ্যাপই ভালো ভাবে রান করে তবে এই অ্যাপ টি কিভাবে রান করবে। এক্ষেত্রে এই অ্যাপসটি মোবাইলে ওপেন করার পর সেই মোবাইলটি হ্যাং হয়ে যেতে পারে।

কোন কোন ক্ষেত্রে অ্যাপ আপডেট দেবার পর সেটির দৈর্ঘ্য না কমে বরং বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে এটি হতে পারে সেই অ্যাপটিতে নতুন কোন কিছুর যুক্ত করার মাধ্যমে। আমরা উপরে একটি উদাহরণ দিলাম Shareit অ্যাপের কথা। যেখানে পূর্বে সেই অ্যাপটির মাধ্যমে শুধুমাত্র ফাইল আদান প্রদান করা যেত, বর্তমানের মত কোন ভিডিও আসতো না কিংবা অতিরিক্ত কোনো বিজ্ঞাপণ ও চোখে পড়তো না অ্যাপটির ভেতরে গেলে। কিন্তু বর্তমানে সে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বর্তমানে অ্যাপটি কোন সাধারন মোবাইলে চালানো সম্ভব নয়। কেননা অ্যাপটির দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। তবে আমরা কি এই অ্যাপটি আর ব্যবহার করব না? অবশ্যই করবো এবং Shareit ও চায় যে আপনারা তাদের অ্যাপটি ব্যবহার করুন। ‌আর এজন্য আমাদেরকে সেই অ্যাপটির লাইট ভার্সন ব্যবহার করতে হবে। কোন একটি অ্যাপকে যখন প্রতিনিয়ত ও বড় করা হয় তখন সেটির একটি লাইট ভার্সন ও তারা বের করে।

যদি কোন ফোনে তাদের অফিসিয়াল অ্যাপটি ভালোভাবে চালানো না যায় তবে লাইট অ্যাপটি ব্যবহার করার মাধ্যমে তাদের কিছুটা সেবা ও পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আমাদের Shareit অ্যাপ ব্যবহার করার জন্য তাদের লাইট ভার্সন ব্যবহার করতে হবে। কোন‌ একটি অ্যাপ এর অফিসিয়াল ভার্সন এর মতই লাইট ভার্সনে ও তাদের প্রায় সম্পূর্ণ সেবা পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সেটি তাদের মূল অ্যাপ এর সমান হয় না। তবে এক্ষেত্রে কোনরকমে কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়।

আপনার ফোনে যদি কোন একটি বড় দৈর্ঘ্যের অ্যাপ ভালোভাবে রান না করে তবে আপনি সেটির লাইট ভার্সন খুঁজতে পারেন। যদি আপনার ফোনে কোন একটি অ্যাপ অনেক বড় হয়ে যায় তবে সেটি স্বাভাবিকভাবে চালালে আপনার ফোনটি স্লো মনে হবে। আর যদি আপনি তাদের অ্যাপ এর লাইট ভার্সন গুলো ব্যবহার করেন তাহলে খুব ভালভাবেই চালাতে পারবেন এবং আপনার ফোনটিকে অনেক ফাস্ট মনে হবে। বর্তমানে প্রায় সকল বড় অ্যাপ গুলোর লাইট ভার্সন রয়েছে। যেমনঃ Facebook lite, Messenger lite, YouTube go, Google maps lite, Likee lite, Tiktok lite ইত্যাদি।

বর্তমানে আমরা উপরের অ্যাপ গুলোকেই বেশি ব্যবহার করে থাকি। আর এসব অ্যাপ গুলো প্রতিনিয়ত আপডেট করার মাধ্যমে নতুন নতুন ফিচার যুক্ত হচ্ছে। যেখানে কম কনফিগারেশন এর ফোন গুলোতে সেগুলো ভালোভাবে চালানো সম্ভব নয়। আপনার ফোনটিও এই ক্যাটাগরির হয়ে থাকে তবে আপনিও এসব অ্যাপগুলোর লাইট ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন। যেখানে আপনি তাদের মূল অ্যাপ এর চাইতে সামান্য কিছু সেবা কম পেতে পারেন, তবে সেগুলো মূল অ্যাপের মতোই কাজ করবে।

তো বন্ধুরা, আপনার ফোনটি যদি স্লো মনে হয় তবে অবশ্যই আপনার মোবাইলের সফটওয়্যার গুলো আপডেট করে নিবেন। কেননা এতে করে যদি অ্যাপটিতে কোন সমস্যা থাকে তবে সেটিকে সমাধান করে দেওয়া হয়‌ এবং অ্যাপটি আগের চাইতে ভালো কাজ করে। এছাড়া আপনার কোনটিতে কোন সমস্যা হলে স্মার্ট ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি গুলো তাদের সফটওয়্যার আপডেট দেয়। আপনার স্মার্টফোনের যদি সফটওয়্যার আপডেট আসে তবে আপনিও সেটি আপডেট করে নিবেন, এতে করে আপনার মোবাইলটি আগের চাইতে ভালো কাজ করবে। এক্ষেত্রে আপনি সেটিং এ গিয়ে দেখুন যে নির্মাতারা সফটওয়্যার আপডেট দিয়েছে কিনা।

এই পয়েন্টটি শুরু করার প্রথমেে বলেছিলাম যে, সফটওয়্যার আপডেট এর ফলে যেমন ফোনটি স্লো হয় এবং ঠিক তেমনি ভাবে ফোনটি ফাস্টও হয়। সফটওয়্যার আপডেট এর ফলে ফোনটি স্লো হয়ে যাবার কারন হচ্ছে যদি অ্যাপটিতে কোন নতুন কিছু যুক্ত করা হয়। আর যদি পূর্ববর্তী ভার্সনে কোন সমস্যা থাকে তবে পরবর্তী আপডেটের ফলে অ্যাপটি আরো দ্রুত কাজ করে। এটি হচ্ছে সফটওয়্যার আপডেট এর ফলে ফোন ধীর গতির এবং ফাস্ট হয়ে যাবার প্রক্রিয়া।

মোবাইল অ্যাপ আপডেট করার ক্ষেত্রে যদি সেটি অনেক বড় হয়ে যায় তবে সেগুলোর লাইট ভার্সন ব্যবহার করবেন। এতে করে আপনার মোবাইলটি তাৎক্ষণিক আগের চাইতে অনেক ফাস্ট হবে। আশা করছি এই টিপসটি আপনারা কাজে লাগাবেন।

৪. পুরনো ফোনে লাইভ ওয়েলপেপার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন

অনেক ব্যবহারকারী তাদের স্মার্টফোনের ডিসপ্লের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য লাইভ ওয়েলপেপার ব্যবহার করে থাকে। যেটি আপনার ফোনের পারফরমেন্সের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। যদিও সকল ফোনে লাইভ ওয়েলপেপার সাপোর্ট করেনা, কিন্তু যেসব ফোনে লাইভ ওয়েলপেপার সাপোর্ট করে সেগুলোতেও লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে করে আপনার মোবাইলের ডিসপ্লের সৌন্দর্য বেড়ে গেলেও আপনার মোবাইলের বারোটা বাজবে।

লাইভ ওয়ালপেপার আপনি ব্যবহার করতে পারেন, তবে সেটি হতে হবে স্মার্টফোন কেনার শুরুর দিকে। কেননা এ সময় স্মার্টফোনের সকল যন্ত্রাংশ গুলো অনেক ভাল কাজ করে। এ সময় যদি আপনার ফোনে অতিরিক্ত চাপও দেন তবে সেটি খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু দিন যাবার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ফোনে যদি হালকা কোনো কাজও করেন তবে ফোনটি অনেক গরম, হ্যাং কিংবা স্লো হতে পারে। কেননা সেটির আয়ু দিন দিন কমে এসেছে।

আমরা সকলেই জানি যে কোন একটি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র দিন যাবার সঙ্গে সঙ্গে তার পারফরম্যান্স কে হারিয়ে ফেলে। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটিও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের ব্যবহার করা স্মার্টফোনটিও একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস। যেটিও দিন যাবার সঙ্গে সঙ্গে তার আগের পারফরমেন্স কে হারিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে শুরুর দিকে আপনার স্মার্টফোনের লাইভ ওয়েলপেপার ভালোভাবে কাজ করলেও দিন সবার সঙ্গে সঙ্গে সেটি ভালোভাবে কাজ নাও করতে পারে। যদিও পরবর্তীতে লাইভ ওয়ালপেপার ঠিকই কাজ করবে কিন্তু এতে করে আপনার স্মার্টফোনটি অনেক ধীর গতির হয়ে যাবে।

আপনার ফোনের লাইভ ওয়েলপেপার শুধুমাত্র আপনার ফোনের সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ করেনা। এটি আপনার মোবাইলকে স্লো করে দেয় এবং আপনার মোবাইলের ব্যাটারিকে অনেকটা টাকা খরচ করে। একটি লাইভ ওয়ালপেপার মূলত ভিডিওর মতো। আপনি আপনার স্মার্টফোনে যদি কোন একটি ভিডিও প্লে করতেন তবে সেটি যেরকম ভাবে আপনার ফোনে চলত, ঠিক সে রকম ভাবেই একটি লাইভ ওয়ালপেপার কাজ করে। এক্ষেত্রে আপনি বুঝতেই পারছেন যে একটি লাইভ ওয়ালপেপার আপনার ফোনের ব্যাটারি কে কিভাবে খরচ করতে পারে।

আপনার ফোনটি যদি পুরনো হয়ে যায় তবে ফোনটিতে লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার না করাই ভালো। কেননা সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোনের ব্যাটারি এবং অন্যান্য যন্তাংশ গুলো আগের মত আর কাজ করে না। দেখা হলো যে, স্মার্টফোনটি নতুন কেনা অবস্থায় যদি সেখানে 5000mAh এর ব্যাটারি থাকে তবে দুই বছর পর সেটি 3000mAh কিংবা তার চাইতেও কম কাজ করবে। এক্ষেত্রে তখন লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করলে আপনার ফোনের চার্জ অনেকে দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া পুরাতন ফোনের লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করলে সেটি ফোনের প্রসেসর এর ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করবে।

কেননা আস্তে আস্তে ফোনের প্রসেসর টিও অনেক দুর্বল হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে এ অবস্থায় আপনি যদি লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করেন এবং অন্যান্য কাজ গুলো একই সঙ্গে করেন তবে একাধিক কাজ একসঙ্গে করার কারণে আপনার ফোনটি ভয়ানক রকমের স্লো হতে পারে। তাই আপনার ফোনটিকে যদি সব সময় ফাস্ট থাকতে চান তবে এখন থেকেই আপনার ফোনে লাইভ ওয়েলপেপার ব্যবহার করা বন্ধ করে দিন এবং আপনার ফোনের সাধারণ ওয়েলপেপার গুলো ব্যবহার করুন। এতে করে আপনার ফোনটি এখন থেকেই আগের চাইতে অনেক ফাস্ট হবে।

৫. মোবাইলের এনিমেশন কে কমিয়ে দেওয়া

আমরা যখনই স্মার্টফোনের কোন কিছুতে ট্যাপ করি তখন সেটি একটি এনিমেশন এর মাধ্যমে ওপেন হয়। যে কারণে কোন একটি স্মার্টফোন ব্যবহারে সৌন্দর্যতা বোঝা যায়। আপনি কোন একটি অ্যাপ এ ক্লিক করলে সেটি কিভাবে চালু হচ্ছে এবং অন্যান্য সকল কাজগুলো করার ক্ষেত্রে সেগুলো কিভাবে ওপেন হচ্ছে এটি হলো এনিমেশন। আপনার ফোনটি যদি আস্তে আস্তে ধীরগতি রকমের যায় তবে এনিমেশনের সময়টি অনেক বেশি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আপনি যদি এটিকে কমিয়ে দিতে পারেন তবে আপনার ফোনটিকে আগের চাইতে দ্বিগুণ ফাস্ট মনে হবে।

আমার এই কথাটি শুধুমাত্র কোন টিপস নয়, বরং এটি একটি কার্যকরী পদ্ধতি। আপনার ফোনে এনিমেশন স্কেল কমানোর মাধ্যমে আপনার ফোনটিকে আরও দ্বিগুন ফাস্ট করতে পারেন। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক এটি আপনি কিভাবে করবেন।

১. এজন্য প্রথমে আপনাকে আপনার মোবাইলের সেটিং এ চলে যেতে হবে এবং এখানে গিয়ে System setting-এ যেতে হবে। তারপর System সেটিং থেকে About phone-এ চলে যাবেন।

২. এবার এখানে নিচে পেয়ে যাবেন Build number, এবার এখানে আপনাকে 3 থেকে 7 বার পরপর ক্লিক করতে হবে। এখানে কয়েক বার ক্লিক করার পর Back-এ চলে আসলে আপনি নতুন একটি সেটিং দেখতে পাবেন 'Developer option' নামে। এবার আপনি এই সেটিং এ চলে যাবেন।

৩. এবার এখানে এসে উপরে থেকে এই সেটিং টি চালু করে দিবেন এবং আপনি কিছুটা নিচে চলে আসবেন। এখানে কিছুটা নিচে চলে আসলে পেয়ে যাবেন 'Window animation scale' নামে প্রথম সেটিং এবং তার নিচে আরো দুইটি এনিমেশন স্কেল সেটিং। এবার আপনাকে এখান থেকে এনিমেশন স্কেল গুলো কমিয়ে দিতে হবে। এজন্য আপনি প্রত্যেকটির ওপর ক্লিক করে একে একে কমিয়ে দিবেন।

৪. এখান থেকে এনিমেশনে স্কেলটি 1x থেকে 0.5x করে দিবেন। এভাবে করে প্রত্যেকটি এনিমেশন স্কেল 0.5x করে দিবেন।

৫. এখানকার তিনটি এনিমেশন স্কেল 1x থেকে 0.5x করে দেবার পর আপনার কাজ শেষ। এবার আপনি যদি কোন কিছু ট্যাপ করেন তবে বুঝতে পারবেন যে আপনার মোবাইলটি আগের চাইতে কতটা ফাস্ট হয়েছে।

এখানে এনিমেশন স্কেল কমিয়ে দেওয়ার পর আপনি যখন কোন অ্যাপ এ ক্লিক করবেন তখন সেখানে অনেক কম পরিমাণে লোড নিবে। পূর্বে যেমন কোন ওয়েবসাইটে কিংবা কোন অ্যাপ ওপেন করতে অনেক সময় নিতে সেখানে এখন আর সে সময় নিবে না। আগের চাইতে বর্তমানে আপনি প্রায় দ্বিগুণ স্পিড পাবেন। যদি আপনার ফোনটি সত্যিই অনেক স্লো বা ধীরগতির হয়ে যায় তবে আপনি এই সেটিংটি করতে পারেন। যেখানে আপনি নিশ্চিত অনেক উপকৃত হবেন।

এনিমেশন স্কেল কমানোর পাশাপাশি আপনি আরো একটি কাজ করতে পারেন। আর সেটি সেটি হচ্ছে, আপনার মোবাইলে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস কে বন্ধ করে রাখা। আপনি যখন কোনো একটি অ্যাপ ব্যবহার করা অবস্থায় সেটি মিনিমাইজ করে দিয়ে অন্য একটি অ্যাপ আবার চালু করেন তখন সেই অ্যাপটি ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করতে থাকে। এক্ষেত্রে আপনি দেখে থাকবেন যে কোন একটি অ্যাপ, এক্ষেত্রে ধরুন একটি ব্রাউজার এর কথা, যেখানে আপনি কোন কিছু সার্চ করা অবস্থায় যদি সেটি মিনিমাইজ করে রাখেন তবে সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে এবং আপনার সেই সার্চ ফলাফল টি এনে দেয়। এটিই হচ্ছে কোন অ্যাপ এর ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করা।

কোন একটি মোবাইল স্লো হয়ে যাবার পেছনে সবচাইতে যে বিষয়টি বেশি কাজ করে তা হল অ্যাপ এর ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করা। যেকোনো কিছুই যদি আপনার মোবাইলের ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করতে থাকে তবে অতিরিক্ত কাজের ফলে আপনার মোবাইলটি হ্যাং এবং ধীর গতির হয়ে যেতে পারে। আর এটি হওয়ার কারণ হচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার মোবাইলের প্রসেসিং পাওয়ার কে ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে আপনি লক্ষ্য করুন, আপনি যখন কোন অ্যাপকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করাবেন তখন সেটি অবশ্যই আপনার মোবাইলের প্রসেসিং পাওয়ার কে ব্যবহার করবে। আর এতে করে আপনার মোবাইলটি হ্যাং অথবা ধীরগতি হতে পারে।

তো বন্ধুরা এবার তবে আমরা জানতে পারলাম যে ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন অ্যাপে রান করা থাকলে সেটির কারনে আমাদের মোবাইল ধীর গতির হয়ে যেতে পারে। তবে চলুন কথা না বাড়িয়ে এবার দেখে নেয়া যাক যে, এই ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেসকে আপনি কিভাবে বন্ধ করে রাখবেন।

১. এজন্য আপনাকে মোবাইলের সেটিং এর Developer option থেকে নিচে চলে আসলে দেখতে পাবেন 'Background process limit' অপশন। এবার আপনাকে এখান থেকে 'No background process' অপশনটি সিলেক্ট করে দিবেন। এবার আপনার কাজ শেষ।

এখান থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস কে বন্ধ করে দিলে কোন অ্যাপ আর ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রসেসিং হবে না। এতে করে আপনার মোবাইলে যদি ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন কিছু মিনিমাইজ করে রাখেন তবে সেটি আর সেখানে প্রসেস হবে না। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে যদি কোন অ্যাপ কিংবা ডাটা প্রসেস না হয় তবে এমনিতেই আপনার স্মার্টফোনটি আগের চাইতে অনেক দ্রুত কাজ করবে। তবে আপনি চাইলে এই সেটিং টি না করেও অতিরিক্ত অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে না রান করানোর মাধ্যমে চালাতে পারেন।

আপনি যদি চান যে এই সেটিং না করে আপনি নিজেই অতিরিক্ত কোন অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করাবেন না, সেটিও করতে পারেন। তবে আপনার এটি হবে অনেক কার্যকরী পদ্ধতি। কেননা মোবাইলের এই সেটিং থেকে যদি 'No background process' আপনি করে দেন তবে যেকোনো সময় সেটি আবার 'Standard limit' এ আশাকরি তবে এটি আবার পুনরায় Standard limit-এ চলে আসে।

তবে আপনি যদি এনিমেশন স্কেল কমিয়ে দেন তবে সেটি চিরস্থায়ী ভাবে হয়ে থাকবে। আপনি এনিমেশন স্কেল কমানোর মাধ্যমে আপনার ফোনটিকে পূর্বের চাইতে দ্বিগুণ ফাস্ট করাতে পারেন। যে সেটিং টি আপনার মোবাইলে তাৎক্ষণিক কাজে দিবে এবং আপনার মোবাইলটি পূর্বের চাইতে দ্বিগুণ দ্রুত কাজ করবে।

৬. সর্বশেষ উপায় হিসেবে মোবাইলকে ফাস্ট করার জন্য ফ্যাক্টরি রিসেট করুন

আপনার ফোনটিতে যদি সকল টিপস এবং ট্রিকস কাজে লাগিয়ে ও কোন ভাল ফলাফল না পাওয়া যায় তবে সর্বশেষ উপায় হতে পারে ফ্যাক্টরি রিসেট। ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট করার মাধ্যমে আপনার ফোনটি আবার আগের মতোই হয়ে যাবে। আপনার ফোনে যদি সফটওয়্যার জনিত কোন সমস্যা কিংবা কোন ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে তবে ফ্যাক্টরি রিসেট করার মাধ্যমে সেটির সমাধান হয়ে যাবে। তবে মোবাইলটি ফ্যাক্টরি রিসেট করার আগে আপনার মোবাইলের ফোন মেমরিতে থাকা সমস্ত তথ্যগুলোকে অন্যত্র ট্রান্সফার করে নিবেন। কেননা ফ্যাক্টরি রিসেট করার মাধ্যমে আপনার মোবাইলটি আবার আগের মত হয়ে যাবে, যেখানে নতুন মোবাইল কেনা অবস্থায় যেরকম ছিল।

নতুন মোবাইল কেনার সময় আপনার ফোন মেমোরিতে কোন কিছুই ছিল না। এছাড়া ফ্যাক্টরি রিসেট করার পর আপনার ফোনের সমস্ত অ্যাপ গুলো ডিলিট হয়ে যাবে। ফ্যাক্টরি রিসেট করার পর পুনরায় আপনার মোবাইলের সেটিং গুলোকে সেটআপ করে নিতে হবে। আপনার ফোনে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে তবে ফ্যাক্টরি রিসেট করার পর সেগুলোর সমস্তই দূর হয়ে যাবে এবং আপনার ফোনটি অনেক ফাস্ট হয়ে যাবে। ফ্যাক্টরি রিসেট করাই হচ্ছে, একটি স্মার্টফোনকে ফাস্ট করার সবচাইতে বড় কার্যকরী পদ্ধতি।

যেখানে আপনি অন্যান্য সকল টিপস এন্ড ট্রিক্স ফলো করার মাধ্যমে আপনার ফোনটিকে যতটা না পরিমাণ ফাস্ট করতে পারবেন, সেখানে আপনার স্মার্টফোনটিকে ফ্যাক্টরি রিসেট করার মাধ্যমে তার চাইতে বেশি ফাস্ট করাতে পারবেন। তাই আপনার ফোনটি থেকে ভয়ানক রকমের স্লো হয়ে যায় এবং কোনভাবেই সেটিকে আগের অবস্থায় ফিরে আনা না যায় তবে সেটিকে ফ্যাক্টরি রিসেট করুন। ফ্যাক্টরি রিসেট করার মাধ্যমে আপনার মোবাইলকে তাৎক্ষণিক ফাস্ট করাতে পারবেন।

৬. হার্ডওয়্যার জনিত সমস্যা পরীক্ষা করুন

আপনার ফোনটিতে যদি সকল টিপস এন্ড ট্রিকস এবং ফ্যাক্টরি রিসেট করার পর ও আগের চাইতে ফাস্ট না হয় তবে আপনার ধরে নেওয়া উচিত যে, আপনার ফোনটির হার্ডওয়্যার গত সমস্যা হয়েছে। আপনার ফোনটি যদি দীর্ঘদিনের হয়ে থাকে তবে এমনিতেই আপনার ফোনে হার্ডওয়্যার গত সমস্যা দেখা দিবে এবং যে কারণে আপনার ফোনটি স্লো হয়ে যাবে। সময় সবার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলটি ধীর গতির হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আপনার ফোনটি ও যদি কয়েকবছর যাবার পর এরকম ধীরগতি হয়ে যায় তবে আপনি ধরে নিবেন সেটির হার্ডওয়্যার গত সমস্যা রয়েছে।

কোন একটি স্মার্টফোন ধীর গতির হয়ে যাবার পিছনে সবচাইতে বড় কারণ হয়ে থাকে হার্ডওয়্যার জনিত সমস্যা। হার্ডওয়্যার জনিত সমস্যা একটি ফোনে শুরুর দিকে থাকে না, বরং এটি হয় সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। যদি হার্ডওয়্যার গত ত্রুটির কারণে আপনার ফোনটি ধীর গতির হয়ে যায়, তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই নির্দিষ্ট ব্রান্ডের সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন। সাধারণভাবে কয়েকবছর যাবার পর আপনার ফোনটি যদি স্লো হয়ে যায় তখন ফ্যাক্টরি রিসেট করার পর ও ফোনটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। সেটি তখন দিনদিন ধীরগতির হতেই থাকে।

এক্ষেত্রে আপনার আর কোন কিছুই করার নেই। এটি থেকে উত্তরণের উপায় হতে পারেন নতুন আরো একটি স্মার্ট ফোন কিনে নেওয়া। যেখানে আপনি আবার নতুনের মতো অভিজ্ঞতা পাবেন। তবে ফোনটি নতুন কেনা অবস্থার প্রথমদিকে যদি এরকম কোন সমস্যা দেখা দেয় তবে ওয়ারেন্টি থাকলে সার্ভিস সেন্টারে অবশ্যই যোগাযোগ করা উচিত এবং সেটির সার্ভিসিং করে নেওয়া উচিত।

বন্ধুরা এই ছিল তবে আজকের সম্পূর্ণ টিউনটি। আশা করছি এই টিউনটির মাধ্যমে আপনারা অনেক উপকৃত হয়েছেন। যদি টিউনটি আপনাদের কাছে সত্যিই ভালো লেগে থাকে তবে জোসস করবেন এবং সেইসঙ্গে আমাকে ফলো করে রাখবেন যাতে করে পরবর্তীতে আরও টিউন করার উৎসাহ পাই। আজ তবে এখানেই থাক। অন্য একটি টিউনে আরো নতুন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে ইনশাআল্লাহ। ততক্ষণ পর্যন্ত অবশ্যই আমাকে ফলো করে সঙ্গে থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 7 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 163 টি টিউন ও 55 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 15 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস