শো-রুম, অনলাইন শপিং সাইটগুলো শুধু কি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, নাকি প্রতারণা কেন্দ্র?

টিউন বিভাগ টিপস এন্ড ট্রিকস
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

বাংলাদেশে এখন বছরে এক হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয় অনলাইন শপিং সাইটগুলোতে ৷ আর প্রতিদিন অনলাইনে ডেলিভারি দেয়া হয় ২০ হাজারের বেশি অর্ডার৷ দেশে ওয়েবভিত্তিক অনলাইন শপ আছে হাজারো ৷ ফেসবুক ভিত্তিক শপিং পেইজ আছে ১০ হাজারেরও বেশি ৷

অনলাইন মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সভাপতি ফাহিম মাশরুর  জানান, ‘‘আমাদের হিসেবে এখন শুধু অনলাইন ওয়েবসাইটেই (ফেসবুক বাদে) প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার অর্ডার প্রসেস হয়৷ বছরে টাকার হিসেবে আড়াইশ' থেকে তিনশ' কোটি টাকার লেনদেন হয়৷ তাহলে বুঝতেই পারছেন অনলাইন শপিং এর জনপ্রিয়তা বেশ বাড়ছে। (সূত্রঃ অনলাইন নিউজ পোর্টাল)

পণ্যের মান কি ঠিক থাকে? জাকিয়া আহমেদ জানান, ‘‘আমি এখন পর্যন্ত পণ্যের মান নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যায় পরিনি৷ অনলাইনে যে পণ্যটি দেখেছি, পণ্যটি সেই মানেরই পেয়েছি৷'' তবে তাঁর কথায়, ‘‘কর্মজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং তরুণরাই অনলাইন শপিং এর দিকে বেশি ঝুকছে ৷''

তবে বেশ কয়েকজন ক্রেতা অনলাইন শপিং সাইটগুলোর পণ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, " যেই ছবি দেখানো হয় বাস্তবে তার সাথে কোন মিল নেই। বর্তমানে কিছু মেন ফ্যাশন ভিত্তিক অনলাইন শপিং কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সেখান থেকে অর্ডার করা টিশার্ট গুলো বাস্তবে ডিজাইনের সাথে মিল থাকলেও দাম অনুযায়ী কাপড় একদম বাজে। প্রথম ধোয়াতেই রং উঠে যায়। "

অনলাইনে এমন অনেক শপিং সাইট আছে, যেখানে মূলত লোকাল পণ্য, গার্মেন্টস রিজেক্ট মাল পাইকারি মূল্যে নিয়ে আসে। ৫০ টাকার পণ্য ৫০০ টাকা লিখে আপলোড দিয়ে দেয়। ক্রেতারা যাচাই না করেই হুমড়ি খেয়ে অর্ডার করে। তবে কিছু বিশ্বাসযোগ্য অনলাইন সাইট অবশ্যই আছে। যারা পণ্যের মান, গুন সব ঠিক রেখেই ব্যবসা করছে। তবে সংখ্যায় সেগুলো খুব বেশি না। এবার আসি কিছু গ্যাজেট শপিং সেন্টারের কথা নিয়ে।

ফেসবুকে কিছু গ্রূপ আছে, যেখানে ক্রেতারা তাদের মনের ক্ষোভ প্রকাশ করে বা মনের তৃপ্তির কথা জানিয়ে সেই রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্রাভেল স্পট, থাকার হোটেল নিয়ে রিভিউ দেয়। Travelers Of Bangladesh, Food Bloggers BD, Food Bank ইত্যাদি। বাংলাদেশের শপিং রিভিউ নিয়ে একটা নতুন গ্রূপ (BD Shopping Review) আমিই চালু করেছিলাম। সেখানে ২টা টিউনে আসা ক্রেতার ভুক্তভোগী হওয়ার ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

রিয়াজ মোরশেদ নামের ঐ ক্রেতা  Asus ল্যাপটপ কিনে ভুক্তভোগী হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি সাত মাসে তিন বার ঠিক করিয়েছেন তার ল্যাপটপ। রোমান মাহফুজ নামক এক ক্রেতাও Asus ল্যাপটপ কিনে ধরা খেয়েছেন বলে লিখেছেন। তিনি Core i7 কিনে ২ বার ঠিক করানোর পর ৩ বারের মাথায় নতুন রিপ্লেসমেন্ট পান। তবে সেই রিপ্লেসমেন্ট ল্যাপটপ ১ মাসের মাথায় ডিসপ্লে তে সমস্যা দেখা দেয়।

আমরা বিভিন্ন সময় দেখে থাকি যে, ল্যাপটপ মেলা, জুতা-স্যান্ডেল মেলা, থ্রি পিস মেলা, গ্যাজেট মেলা হয়ে থাকে। এসব মেলায় যারা পণ্য কিনে থাকেন তাদের বেশির ভাগই অখুশী থাকেন। কেননা সব রিজেক্ট প্রোডাক্ট, ছোট খাটো ত্রূটি থাকে এমন প্রোডাক্ট গুলো প্রোমোট করে তারা বিশাল ডিসকাউন্টের অফার গুলো দিয়ে থাকে। এসব মেলা থেকে কেনার সময় তাই সাবধান থাকবেন। একটু যাচাই করে কিনবেন।

এবার আসেন শপিং কমপ্লেক্স গুলোর কথায়। যে কোন কিছু কিনতে যাবেন আপনাকে তারা খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে শুনিয়ে ২ নম্বর জিনিস ধরিয়ে দিবে। এমনও হয় যে পরবর্তীতে আপনি পণ্য পরিবর্তন করতে গেলে তারা আপনাকে চিনবেই না। কসমেটিক প্রোডাক্ট, ব্যবহারেজ ড্রিঙ্কস প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে ২ নাম্বারি কাজকর্ম বেশি হয়।

সাধারণ প্লাজা, কমপ্লেক্স এর কসমেটিক দোকানগুলোতে সব থেকে বেশি লোকাল প্রোডাক্ট বিক্রি হয়। এক বিক্রেতা বলেছেন, বেশির ভাগ কসমেটিক প্রোডাক্ট নরসিংদি, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার মিরপুর থেকে তৈরি করে উপরে শুধু বড় বড় কোম্পানির লোগো লাগিয়ে দেয়া হয়।

সেদিন বন্ধুকে সাথে নিয়ে পাঞ্জাবি কেনার উদ্দেশ্যে গেলাম মিরপুর ১০। শো-রুমের নগরী বলা যেতেই পারে এই মিরপুরকে। সেখানে নামকরা শো-রুমসহ বেশ কিছু জায়গায় পাঞ্জাবি দেখলাম। পাঞ্জাবির কাপড় যেমন বাজে তেমন বিশ্রী কারুকাজ। অথচ দাম ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা। আপনি এই পাঞ্জাবি গুলো বিভিন্ন লোকাল মার্কেটে অনেক স্বল্প মূল্যে পেয়ে যাবেন। শুধু তাদের ব্র্যান্ডের লোগোটাই পাবেন না।

আরেকটা উদাহরণ দেই, 'মান্যবর' এর যে পাঞ্জাবি কলকাতার মূল শো রুমে ৭০০০ টাকায় পাওয়া যায়, সেই একই পাঞ্জাবি গুলশানের এক অভিজাত শো রুমে (নাম উল্লেখ করলাম না) ২৭৪০০ টাকায় ফিক্সড প্রাইসে বিক্রি হচ্ছে। ভাবতে পারছেন আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের কথা? তাহলে কেন আমরা ভারতমুখী হব না? যেখানে আমরা সব কিছু বাংলাদেশের তুলনায় কম খরচে আমাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছি, আমরা সেখানেই যাব। তাই নয় কি?

আজ দেড় লাখ বাংলাদেশী সেখানে শপিং করতে যাচ্ছে, কাল হয়তো সংখ্যাটা হবে চার লাখ। পরশু তার দ্বিগুণ। তারা একটা পণ্য ভারতীয়দের কাছে যেই দামে রাখবে, আমাদের কাছেও তাই রাখবে। ভারতীয়দের যেই মানসম্মত পণ্য দিবে, আমাদেরও সেই ধরনের পণ্য দিবে। কিন্তু বাংলাদেশে এমনটা আশা করা যায় না। এজন্যই দরকার পরিবর্তন, দরকার তারুণ্য উদ্যোগ।

সবার উদ্দেশ্যে একটাই কথা, কষ্টে উপার্জিত টাকা ব্যয় করার পূর্বে একটু সাবধানে ব্যয় করুন। চারপাশ সম্পর্কে ভালো করে জানুন। আর যেমন ভাবে ট্রাভেলিং স্পট বা খাবার রেস্টুরেন্ট ও খাবারের মান নিয়ে রিভিউ লেখেন, তেমনভাবে শপিং করেও ভাল-মন্দ রিভিউ লিখুন BD Shopping Review গ্রূপে। নিজে সচেতন হোন, অন্যকে জানতে সহায়তা করুন।

টিউনটি পড়ুন, ভালো লাগলে শেয়ার করুন। আর এরকম তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন টিউমেন্ট বক্সে, ফেসবুক গ্রূপে। আপনার শেয়ারকৃত অভিজ্ঞতা নিয়ে হাজির হব পরবর্তী টিউনে। সাথেই থাকুন।

Level 0

আমি মোঃ মুশফিকুর রহমান। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 3 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস