আমরা বাংলাদেশী ব্লগার কিন্তু আমরা বাংলাদেশিরা ব্লগিং এ ব্যর্থ কেন জানেন? এ টু জেড দেখুন সাথে সফল হওয়ার টিপস

ব্লগিং এমন একটা সেক্টর, যেটা উন্নত দেশে উচ্চ মনের শিক্ষিত মানুষরাই করে থাকে। ব্লগারকে তাঁরা ডিজিটাল লেখক হিসেবে বিবেচনা করে।

আগেকার লেখকরা কাগজে-কলমে লিখে সেটা বই আকারে পাবলিশ করতেন। আর এখনকার ডিজিটাল লেখকরা একটু বেশি স্মার্ট, তাঁরা MS WORD এ লিখে ইন্টারনেটে পাবলিশ করে।

ব্লগার বাংলাদেশ

আর আমরা বাংলাদেশী ব্লগাররা ইনকাম করতে (ইংলিশ ব্লগিং এবং বাংলা ব্লগিং) ব্যর্থ কেন জানেন?

আসুন খোলামেলা জানি বাংলাদেশের ব্লগিং সম্পর্কে-

  • চোর ব্লগার-

বাংলাদেশের হাতে গোনা কিছু ব্লগার ছাড়া, সবাই লেখা চুরি করে ব্লগার সাজে। কি অবাক লাগছে শুনতে! আসলে এটাই সত্য কথা। অতীতে যারা লেখা চুরি করত, এদেরকে কুম্ভিলক বা প্লেগারিস্ট (যতটুকো জানি) বলা হত। কিন্তু এই ডিজিটাল চোরদের কি বলে, হয়তো এখনও ডিকশোনারিতে পাওয়া যাবে না। তবে আমি এদের একটা নাম দিয়েছি, সেটা হল ব্লজার (Blojjer), এদেরকে আমি ব্লজার বলে সম্বোধন করতে ভালবাসি।

যাইহোক আসল কোথায় আসি, কোন ব্লগারের লেখা চুরি করা খুব দোষের না, যদি আমরা তার প্রাপ্য ক্রেডিট দেই। কিন্তু আমরা এমনই চোর যে, সেই ব্লগারের ক্রেডিট তো দেয়ই নি, বরং নিজের বলে চালিয়ে দিই।

তবে আপনি চোর ব্লগার হলে হয়তো একটা জিনিস পাবেন, সেটা হল আপনার বন্ধু মহলে ব্লগার হিসাবে স্বীকৃতি। কিন্তু কি লাভ এই স্বীকৃতি নিয়ে।

কারণ গুগল প্রথম যে লিখছে, তাকেই সারাজীবন গুরুত্ব দিবে। সেহেতু এভাবে এক পয়সাও কখনও ইনকাম করা সম্ভব না।

  • পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম না দিয়ে ক্রেডিট নেওয়ার চিন্তা-

আমরা অনেক সময় লিখি ঠিকই, কিন্তু সেই লেখা নিয়ে গবেষণা না করে, এমনভাবে লিখি যে- কেউ হয়তো আমাদের ব্লগার ভাবে ঠিকই, কিন্তু সেই পাঠকরা আরও ভালো ব্লগারের সন্ধান পেলে তার কথা আর মনে রাখে না।

কি দরকার এই সাময়িক ক্রেডিটের। আমি ২ বছরের বেশি সময় ধরে এই সেক্টরে। অনেককেই দেখছি হারিয়ে যেতে চির জীবনের জন্য। সেহেতু দিতে যদি চানই, আপনি যাতে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারেন, সে ভাবে দিন।

ব্লগিং

আরেক ধরনের মানুষ আছেন, যারা নিজে ভালো লেখে না, তাঁরা কিছু নিয়মিত বা ভালো ব্লগারদের তার অগোছালো ব্লগে লেখার জন্য ইনভাইট করেন।

  • হঠাৎ নিজেকে লেখক প্রমাণ করার প্রত্যয়-

লেখক স্বীকৃতি নেওয়া এত সহজ না। সেই লেখক, যার লেখা ২০ বছর পরেও মানুষ স্মরণ করবে।

কিন্তু আমরা অনেকে এমন লেখক যে, ১ সপ্তাহ গেলে কেউ আর আমাদের মনে রাখে না।

  • ব্লগিং কে ছোট করে দেখা-

অনেকে ভাবে ব্লগিং! এটাতো ওয়ান-টুর ব্যাপার। এই কিছু ফেসবুক, মোবাইল টিপস দিবো, আর আমি হবো ব্লগার।

হায়রে বাঙালী!

আমি বলছি ফেসবুক টিপস দিলে, আপনি যে ব্লগার হতে পারবেন না, তা না। কিন্তু ব্লগিং এর ও কিছু নিয়ম-কানুন আছে।

আমি যেমন ইচ্ছা টিপস দেওয়া শুরু করলাম, আর নিজেকে ব্লগার ভাবলাম, তা কি সম্ভব?

  • প্রেমিকাকে পটানো-

মেয়েরা এমনি একটু সৃজনশীলতা পছন্দ করে বেশি। এটা আদিকাল থেকেই হয়ে আসছে। সেহেতু অনেকে প্রেমিকার কাছে ইনস্ট্যান্ট ক্রেডিট নেওয়ার ধান্দায় চুরি করে ব্লগার সাজার চেষ্টা করে।

বিলিভ ইট ওর নট! আমি নিজে এমনটা হতে দেখছি।

কিন্তু কি দরকার এসব করার, আপনারা গভীর ভাবে ভেবে বলুন তো!? আমাদের বঙ্গালীদের এমন খারাপ ভাবনা কেন?

আবারও বলছি কপি যদি করেনও, প্লিজ এটা নিয়ে ইনকাম আশা বাদ দিন। অন্য কিছু করুন। সবাই সব কিছু করে না, করতে পারে না। কেন ফালতু সময় নষ্ট করবেন।

গুগল এতো বড় টেকনোলজি ব্যবহার করে যে, আপনি কোথায় বসে এসব কপি করছেন, মামা সেটাও জানতে পারে। অন্য হিসাব তো বাদই দিলাম।

সেহেতু আমি আবারও বলছি, কপি করে জীবনেও ইনকাম করতে পারবেন না। এখানে শুধু শুধু আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট হবে; ফল পাবেন সম্পূর্ণ জিরো।

প্লিজ.প্লিজ.

আর যদি সত্যিই ব্লগার হয়ে নাম ও টাকা ২টাই ইনকাম করতে চান। তাহলে পড়ুন, শিক্ষা নিন, নিজের মতো করে ভাবুন।

আপনি সাকসেস পাবেন ইনশাল্লাহ।

আমরা বাংলাদেশীরা ব্লগিং এ কেন ব্যর্থ আরও বিস্তারিত জানতে আমার  এই পোস্টটি পড়ুন।

ব্লগিং রিসোর্সঃ

ব্লগিং কি? কেন?

ব্লগিং নাকি নাস্তিকতা?

ব্লগিং শেখার জন্য আমার এই ব্লগ আপনাকে সবসময় সাহায্য করবে।

 কপিরাইটঃ আইটিসরদার ডট কম

টিউমেন্ট, শেয়ার এবং ভালো লাগলে প্রিয়তে রাখতে ভুলবেন না। দুই ঘণ্টা শ্রমের ফল লেখাটি।

Level 0

আমি আইটি সরদার। Web Programmer, iCode বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 9 বছর 7 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 261 টি টিউন ও 1750 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 22 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

আমি ইমরান তপু সরদার (আইটি সরদার),পড়াশুনা শেষ করছি কম্পিউটার প্রযুক্তিতে (২০১৮); পেশা প্রোগ্রামার। লেখালেখি করি নেশা থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৩ থেকে। লেখালেখির প্রতি শৈশব থেকেই কেন জানি অন্যরকম একটা মমতা কাজ করে। আর প্রযুক্তি সেটা তো একাডেমিকভাবেই রক্তে মিশিয়ে দিয়েছে। ফলস্বরুপ এখন আমার ধ্যান, জ্ঞান, নেশা সবকিছু প্রোগ্রামিং এবং লেখালেখি নিয়ে।...


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

ভালই লেখেছেন ভাই.. নতুন এক নাম শুনলাম ব্লজার…Beautiful নাম…

ভালো লিখেছেন দাদা,ধন্যবাদ আপনাকে।

অনেক ধন্যবাদ আইটি সরদার ভাই। অনেক বাস্তব সত্য গুলো বলেছেন। এখন এইসব পড়ে শুধু ব্লজার -রা লজ্জা পাইলেই হয়। 😛

অনেক ধন্যবাদ আইটি সরদার ভাই ভালো লিখেছেন

খাঁটি কথা ।

হুম

ডিজিটাল লেখকরা একটু বেশি স্মার্ট, তাঁরা MS WORD এ লিখে ইন্টারনেটে পাবলিশ করে।এ ক্ষেত্রে MS WORD এ কোন ফন্ট দিয়ে লিখতে হয়..? আমি যদি বিজয় এর ইউনিকোড ফন্টে লিখে পোস্ট করি তাহলে কোন সম্যসা আছে কিনা।

    @মাহমুদ কলি।: না সমস্যা নাই, তবে অভ্র ব্যবহার করুন। আমরা অভ্র ভালবাসি।