
আমাদের বর্তমান প্রাত্যহিক জীবনের দিকে একটু গভীরভাবে তাকালেই একটি চরম সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—আজকের Social Media যেন আমাদের মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নিয়ে এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে Screen অন করলেই আমাদের চোখে পড়ে নিখুঁতভাবে সাজানো Curated Feeds, যেখানে প্রতিটি Post, প্রতিটি ছবি আর প্রতিটি মুহূর্তকে অতিরিক্ত মাত্রায় চকচকে এবং কৃত্রিম করে উপস্থাপন করা হয়। এই মেকি পারফেকশনিজমের পেছনে ছুটতে ছুটতে এবং নিখুঁত জীবনের অভিনয় দেখতে দেখতে আজকের Social Media Users-রা ভেতর থেকে ভীষণভাবে হাঁপিয়ে উঠেছেন এবং মানসিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্ত বোধ করছেন।
ঠিক এমন একটি ক্লান্তিকর সময়ে পুরো Internet দুনিয়ায় এক অবিস্মরণীয় গুঞ্জন নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। এক সময় ইন্টারনেটের অবিসংবাদিত রাজা হিসেবে রাজত্ব করা আদি Social Media Platform—MySpace হয়তো আবারও একটি অবিশ্বাস্য Comeback করতে যাচ্ছে! মানুষের এই পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার ব্যাকুলতাই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, অতীতের Nostalgia-র ভেতরে কী প্রবল Power লুকিয়ে রয়েছে।

যাঁরা 2000s-এর শুরুর দিকের ইন্টারনেটের সোনালী দিনগুলো নিজের চোখে দেখেছেন, তাঁদের কাছে MySpace কেবল সাধারণ একটি Site ছিল না; এটি ছিল একটি গোটা প্রজন্মের অস্তিত্ব এবং আত্মপ্রকাশের প্রধানতম মাধ্যম। Y2K Era-র সেই চমৎকার সময়টিকে আধুনিক গবেষক ও ব্যবহারকারীরা প্রায়শই Social Media-র "idgaf" (I don't give a f*) Era হিসেবে গভীর ভালোবাসার সাথে স্মরণ করেন।
কারণটি অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট—তখনকার দিনে ইন্টারনেটে কোনো মেকি ফিল্টারের কৃত্রিমতা ছিল না, ছিল না কোনো লোকদেখানো পারফেকশন প্রদর্শনের সামাজিক চাপ। People অত্যন্ত সাবলীলভাবে নিজেদের একেবারে Raw এবং Unedited Selfies প্রোফাইলে Post করত। কোনো ধরনের দ্বিধা বা কৃত্রিমতা ছাড়া মানুষ যেভাবে নিজেদের উপস্থাপন করত, তা আজকের যুগে কল্পনাও করা যায় না।
তবে সেই সরলতার মাঝেও বন্ধুদের সম্পর্কের গভীরতা মাপার এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর ব্যবস্থা চালু করেছিল MySpace, যা পরিচিত ছিল "Top 8" Friends Hierarchy নামে। নিজের হোমপেজে সবচেয়ে প্রিয় ৮ জন Friends-কে ক্রমানুসারে সাজিয়ে রাখার এই মনস্তাত্ত্বিক ফিচারের কারণে সেই যুগে কত শত গভীর Relationships যে চোখের পলকে ভেঙে চুরমার হয়ে যেত, তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না! কে কার তালিকায় ১ নম্বরে জায়গা পেল আর কে ৮ নম্বরে নেমে গেল—তা নিয়ে চলত তুমুল আলোচনা ও মান-অভিমান।
কিন্তু এসব খুনসুটি সত্ত্বেও, 2000s-এর শুরুর দিকের সেই Internet ছিল পরম স্বস্তির ও আনন্দের এক উন্মুক্ত আঙিনা। তখনকার দিনের Things ছিল আজকের চেয়ে হাজার গুণ বেশি সহজ-সরল, প্রাণবন্ত এবং আমাদের আজকের জটিল ও চাপযুক্ত Social Media-র তুলনায় মনের কাছে অনেক বেশি নির্ভার ও হালকা লাগত।

সময়ের নির্মম পরিক্রমায় Social Media Landscape নাটকীয়ভাবে এবং অভাবনীয় দ্রুততায় পরিবর্তিত হয়ে যায়। একসময় যে প্ল্যাটফর্মটি ছিল কোটি কোটি মানুষের ধ্যান-জ্ঞান, সেই MySpace ধীরে ধীরে তার জৌলুস হারিয়ে ফেলে এবং দীর্ঘ ১৬টি Years ধরে চরম Irrelevance-এর অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। নতুন প্রজন্মের কাছে এটি স্রেফ একটি পুরনো স্মৃতিতে পরিণত হয়।
কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই দীর্ঘ নির্বাসনের পরেও এই প্ল্যাটফর্মটির গল্প কিন্তু চিরতরে শেষ হয়ে যায়নি। ২০১১ সালে যে দুই দূরদর্শী Brothers এই MySpace-এর মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন—সেই Chris Vanderhook এবং Tim Vanderhook—তাঁরা কখনোই এই ব্র্যান্ডটির ওপর থেকে আশা হারাননি। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সাইটটি প্রায় নিষ্ক্রিয় পড়ে থাকার পরেও এই দুই ভাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, MySpace-এর Future-এ এখনও এক অভাবনীয় ও শক্তিশালী Comeback অপেক্ষা করছে।

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা Tommy Avallone-এর পরিচালনায় সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন Documentary MySpace-এ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে। এই Documentary-তে Brothers Chris Vanderhook এবং Tim Vanderhook খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন কীভাবে তাঁরা এই পুরোনো Social Media Platform-টিকে আধুনিক প্রজন্মের সামনে পুনরায় জাগিয়ে তোলার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তাঁদের এই পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা ও কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে MySpace-এর সেই ঐতিহাসিক Artists-রা। একসময় বিশ্বের অসংখ্য কালজয়ী মিউজিশিয়ান, ব্যান্ড ও ক্রিয়েটিভ মানুষের উত্থান ও প্রথম পরিচিতি ঘটেছিল এই প্ল্যাটফর্মের হাত ধরে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন Mark Zuckerberg-এর Facebook গোটা দুনিয়া দখল করে নেয়, তখন Meta-র Facebook দ্বারা এই Site কোণঠাসা ও পরাজিত হয়ে পড়ায় সেই MySpace Artists-রা মানসিকভাবে ভীষণভাবে Heartbroken এবং দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী People-এর বরাতে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যানুযায়ী, Vanderhook Brothers নিজেদের স্রেফ সাধারণ মালিক মনে করেন না; বরং তাঁরা অত্যন্ত গর্বের সাথে নিজেদের "Stewards of the MySpace Brand" হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একই সাথে তাঁরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁরা খুব শীঘ্রই এই Site পুরোপুরি Relaunch করতে যাচ্ছেন। অটুট আত্মবিশ্বাস নিয়ে এই দুই ভাই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন:
"আমরা এই ঐতিহাসিক উদ্যোগটি বাস্তবায়নের জন্য স্রেফ উপযুক্ত ও সঠিক Time-এর অপেক্ষায় রয়েছি। আর যদি প্রথমবারের চেষ্টাটি সফল না-ও হয়, আমরা কোনোভাবেই হাল ছাড়ব না, আমরা আবার নতুন করে চেষ্টা করব। "

এক সময় MySpace ছিল তার Day-এর অবিসংবাদিত Social Network এবং গোটা ইন্টারনেটের সর্বেসর্বা Social Media Champion। যদিও Mark Zuckerberg-এর Facebook ২০০৪ সাল থেকেই মাঠে কাজ করছিল, তবুও দীর্ঘদিন পর্যন্ত MySpace-এর একচ্ছত্র আধিপত্য কেউ ভাঙতে পারেনি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ব্যবহারকারীদের মনস্তত্ত্বে এক ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং ধীরে ধীরে সবাই Facebook-এর সহজ ইন্টারফেসের দিকে ব্যাপকভাবে পা বাড়াতে শুরু করে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পালাবদলটি ঘটে ২০১০ সালে। সে বছর Facebook একাই বিশ্বজুড়ে ৫০০ Million Users-এর এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে গোটা টেক দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেয়। আর ঠিক একই সময়ে MySpace তার Millions of Users হারিয়ে এক অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে যায়।
পরিস্থিতি পুরোপুরি হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে MySpace-এর তৎকালীন Boss Mike Jones জনসমক্ষে এসে এক চরম ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। তিনি স্বীকার করেন যে, MySpace আর কোনো মূল ধারার Social Network হিসেবে টিকে থাকতে পারছে না, বরং এটিকে এখন থেকে একটি "Entertainment Destination" হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
এরপর থেকে প্ল্যাটফর্মটির Ownership একাধিকবার Changed Hands হয়েছে এবং বিভিন্ন কর্পোরেট হাত ঘুরেছে। পরবর্তীতে Vanderhook Brothers এটিকে একটি আধুনিক, ঝকঝকে ও Up-To-Date Feel দেওয়ার জন্য নানামুখী রিব্র্যান্ডিং ও পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত, সে সময় তাঁদের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগে সাধারণ Users-দের দিক থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো User Enthusiasm বা উৎসাহের দেখা মেলেনি।
দীর্ঘ ১৬ Years পর MySpace-এর এই প্রত্যাবর্তনের খবর ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোড়ন ও আবেগের সৃষ্টি করলেও, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বাজার Analysts-রা কিন্তু বিষয়টিকে খুব একটা সহজভাবে দেখছেন না। আজকের এই অতিমাত্রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ Attention Economy-তে শুধুমাত্র ফেলে আসা সোনালী অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করে কোনো Social Media Platform বাস্তবে কতটা টিকে থাকতে পারবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন SEO Agency Intellar-এর Founder Ben Poulton সংবাদমাধ্যম Cybernews-এর কাছে বিষয়টি অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে:
"MySpace-এর সামনে সবচেয়ে বড় Challenge হলো—Nostalgia একটি প্ল্যাটফর্মের জাঁকজমকপূর্ণ Launch হয়তো ঘটিয়ে দিতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষকে এক ঝলক দেখার জন্য আকৃষ্ট করতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র অতীতের আবেগকে পুঁজি করে কখনোই দীর্ঘমেয়াদে একটি Social Network-কে বাঁচিয়ে বা টিকিয়ে রাখা (Sustain) সম্ভব নয়। "
Poulton-এর বিশ্লেষণ অত্যন্ত স্পষ্ট। দীর্ঘ ১৬ Years পর MySpace আজ এমন এক Overly Saturated Market-এ পা রাখতে চলেছে, যা ইতিমধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী ও শিকড়-গাড়া Entrenched Network Effects এবং নিখুঁত গাণিতিক ফর্মুলায় তৈরি Precision-Perfected Algorithms দ্বারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত। বর্তমান প্ল্যাটফর্মগুলোর এই অ্যালগরিদমগুলোকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে, যার একমাত্র লক্ষ্যই হলো প্রতিটি সেকেন্ডে Users এবং তাদের সমস্ত Attention-কে স্ক্রিনের ভেতরে আষ্টেপৃষ্টে আটকে রাখা।
আজকের আধুনিক প্রজন্ম যে অত্যন্ত দ্রুতগতির ও ক্ষণস্থায়ী Goldfish 'Reel' Life-এ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, সেই রিল সংস্কৃতির গোলকধাঁধা ছেড়ে মানুষ কেন হঠাৎ করে এই পুনরুজ্জীবিত প্ল্যাটফর্মে পাড়ি জমাবে, তার জন্য MySpace-কে অবশ্যই অত্যন্ত জোরালো, আকর্ষণীয় ও অর্থপূর্ণ একটি Compelling Reason হাজির করতে হবে। Poulton মনে করেন, MySpace-এর এই সম্ভাব্য Return-এর যাবতীয় Success আসলে বহুলাংশে Millennial Nostalgia-র আবেগের ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করছে।
তবে সমস্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ ও হিসেব-নিকেশের মাঝেও একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল আশার আলো কিন্তু খুব স্পষ্টভাবে জ্বলছে। আধুনিক Social Media যেভাবে দিনে দিনে পুরোপুরি Algorithmically Focused হয়ে উঠেছে, তাতে সাধারণ মানুষের ভেতর এক ধরনের গভীর ক্লান্তি, একঘেয়েমি ও মানবিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। আর ঠিক এই সংকটটিই হতে পারে MySpace-এর জন্য সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস।
আজকের দিনে একজন সচেতন User যখন কোনো আধুনিক Social Media App ওপেন করেন, তখন তিনি যাদের ভালোবেসে ও আগ্রহ নিয়ে ফলো করে রেখেছেন—যেমন তাঁর নিজের পছন্দের মানুষ, পরম Friends এবং Family—তাঁদের কোনো আসল Updates খুঁজে পান না। তার বদলে তাঁর চোখের সামনে অ্যালগরিদম জোর করে তুলে ধরে শুধু Engagement Maximization-এর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হাজারো অর্থহীন ও চটকদার কন্টেন্টের এক Endless Stream। মানুষ আজ এই কৃত্রিম কনটেন্টের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা সামাজিক যোগাযোগের সেই হারিয়ে যাওয়া অকৃত্রিম ও আসল "Social" অনুভূতিটি আবারও ফিরে পেতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।
ঠিক এই শূন্যতার জায়গাটিতেই কম অ্যালগরিদম-চালিত (Less Algorithm-Led) একটি সহজ, খোলামেলা ও বন্ধুভাবাপন্ন MySpace পুরো প্রযুক্তি দুনিয়ায় এক দারুণ সতেজকারী Surprise হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। কোনো বাণিজ্যিক অ্যালগরিদমের ফাঁদ ছাড়া কেবল আপনজন, বন্ধু এবং সৃজনশীল মানুষের সাথে নির্ভেজাল ও আত্মিক যোগাযোগের এই পরিবেশই বর্তমান যুগের যান্ত্রিক প্ল্যাটফর্মগুলোর ভিড়ে MySpace-কে আবারও এক অনন্য, শক্তিশালী ও খাঁটি Point of Difference উপহার দিতে পারে।
-
টেকটিউনস টেকবুম
আমি টেকটিউনস টেকবুম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 13 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 1316 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 3 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।