
কল্পনা করুন এমন এক পৃথিবীর কথা, যেখানে রাস্তায় কোনো চালক থাকবে না, তবুও গাড়িগুলো একদম নিখুঁতভাবে আপনাকে আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে। এক সময় যা ছিল সায়েন্স ফিকশন সিনেমার গল্প, আজ তা বাস্তবের পথে। Alphabet-এর মালিকানাধীন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী Autonomous Vehicle Company, Waymo, তাদের কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১৬ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল Funding সংগ্রহ করেছে। এই অর্থ দিয়ে তারা শুধুমাত্র আমেরিকায় নয়, বরং London And Tokyo-এর মতো বিশ্বসেরা মেগাসিটিগুলোতে তাদের Driverless Taxicabs-এর রাজত্ব কায়েম করতে চায়। আজকের টিউনে আমরা এই বিশাল প্রজেক্টের প্রতিটি খুটিনাটি এবং এর পেছনের রোমাঞ্চকর গল্প নিয়ে ইন-ডেপথ আলোচনা করব।

Waymo-এর এই সাম্প্রতিক Funding Round পুরো টেক-ওয়ার্ল্ডকে চমকে দিয়েছে। এই রাউন্ডের পর Company-টির বর্তমান বাজারমূল্য বা Valuation দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১২৬ বিলিয়ন ডলারে। একটি Blog Post-এর মাধ্যমে তারা এই ঘোষণা দেয়। এই বিশাল অর্থ সংস্থানের পেছনে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কিছু Investors।
বিনিয়োগের এই মহাযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়েছে:
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তাদের Parent Company Alphabet এই রাউন্ডে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে And Majority Investor হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এছাড়াও আরও অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে, যেমন:
এত বড় অংকের Investment প্রমাণ করে যে, স্বয়ংক্রিয় যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর বিশ্বের বড় বড় পুঁজিদাতাদের আস্থা এখন তুঙ্গে।

Waymo জানিয়েছে যে, এই নতুন Funds তাদের প্রবৃদ্ধির গতিকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। গত এক বছরে তাদের যে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় তারা এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে প্রস্তুত। এই Year-এর মধ্যেই তারা তাদের Robotaxi Fleet-কে বিশ্বের এক ডজনেরও বেশি নতুন Cities-এ সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে অন্যতম চমক হলো London And Tokyo-এর মতো শহরগুলো, যেখানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জটিল।
আমেরিকার অভ্যন্তরেও তারা তাদের সেবার পরিধি অনেক বাড়িয়েছে। সম্প্রতি তারা San Francisco International Airport-এ যাতায়াতের অনুমতি বা Rides নিশ্চিত করেছে। এছাড়া Northern California-এর বিভিন্ন এলাকা And U.S.-এর গুরুত্বপূর্ণ শহর যেমন Los Angeles, Austin, And Miami-তে তাদের Robotaxi Service এখন অনেক বেশি জনপ্রিয়।

Waymo কিন্তু একদিনে এই পর্যায়ে আসেনি। এটি একসময় Google-এর একটি উচ্চাভিলাষী Self-Driving Project ছিল। বছরের পর বছর ধরে তারা অত্যন্ত গোপনে And সতর্কতার সাথে তাদের Autonomous Vehicle Tech পরীক্ষা করেছে। শুরুতে এটি শুধুমাত্র Silicon Valley And Bay Area-এর Public Roads-এ সীমাবদ্ধ ছিল।
২০১৬ সালে তারা প্রথম বড় একটি সাহসী পদক্ষেপ নেয়। তারা Phoenix-এ তাদের কার্যক্রম শুরু করে And সেখানে প্রথমবার কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই অর্থাৎ Human Safety Driver ছাড়াই গাড়ি চালানো শুরু করে। Phoenix ছিল তাদের প্রথম সফল Robotaxi Market, যেখানে সাধারণ মানুষ Driverless Chrysler Pacifica Minivans-এ চড়ে যাতায়াত করতে পারত। এটি ছিল পৃথিবীর যাতায়াত ব্যবস্থার ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক ঘটনা।

২০২৩ সালের August মাসটি ছিল Waymo-এর জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। তারা California-তে বাণিজ্যিকভাবে Robotaxi Service পরিচালনার And যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়ার চূড়ান্ত Permit বা অনুমোদন পায়। এরপর তাদের গতি আর কেউ থামাতে পারেনি। San Francisco থেকে শুরু করে সমগ্র Bay Area, Silicon Valley And বড় বড় Freeways-গুলোতে তাদের গাড়িগুলো এখন নিয়মিত যাতায়াত করছে।
২০২৫ সালে তারা জনপ্রিয় অ্যাপ Uber-এর সাথে এক শক্তিশালী Partnership গড়ে তোলে। এই জোটের মাধ্যমে তারা Austin And Atlanta-তে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। আর এই বছরের শুরুতেই তারা Miami-তেও তাদের Expansion বা সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে আপনি বুঝতে পারবেন কেন Waymo-কে নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে। তাদের কার্যক্রম এখন আর কোনো পাইলট প্রজেক্ট নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক সাফল্য।
Company-এর দাবি, তারা এখন আর কোনো Concept প্রমাণ করার পর্যায়ে নেই; তারা এখন একটি Commercial Reality। ২০২৬ সালের মধ্যে আরও ২০টিরও বেশি নতুন Cities-এ Ride-Hailing Operations শুরু করার জন্য তারা এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এত সাফল্য আর প্রসারের মাঝেও কিছু অন্ধকার দিক রয়েছে যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। Waymo-এর দ্রুত প্রসারের সাথে সাথে বাড়ছে নানা সমালোচনা And আইনি কড়াকড়ি বা Scrutiny। কিছু ক্ষেত্রে তাদের Robotaxis এমন কিছু ভুল বা Missteps করেছে যা সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
বিশেষ করে School Zones-এ এই গাড়িগুলোর আচরণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেখা গেছে যে, কিছু Robotaxis স্কুল বাসের আশেপাশে অনিয়ম বা Illegal Behavior প্রদর্শন করছে। এই কারণে National Highway Traffic Safety Administration (NHTSA)-এর Office of Defects Investigation And National Transportation Safety Board (NTSB) ইতিমধ্যেই কয়েকটি Investigations বা তদন্ত শুরু করেছে।
সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তাটি আসে গত সপ্তাহে, যখন Santa Monica-এর একটি School-এর কাছে একটি Waymo Robotaxi একজন Child-কে ধাক্কা দেয়। যদিও গাড়িটি মাত্র ৬ mph গতিতে চলছিল And শিশুটি সামান্য Minor Injuries পেয়েছে, তবুও এই ঘটনাটি স্বয়ংক্রিয় গাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে অনেক বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই ঘটনার পরপরই NHTSA আরও একটি গভীর তদন্ত শুরু করেছে।

Waymo-এর ১৬ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল বিনিয়োগ And আন্তর্জাতিক প্রসারের পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে, আমরা যাতায়াতের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। চালকহীন গাড়ি এখন কেবল আমেরিকার রাস্তার দৃশ্য নয়, খুব শীঘ্রই তা London And Tokyo-এর রাস্তায় আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হতে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তির এই জয়যাত্রায় নিরাপত্তাকে কতটুকু নিশ্চিত করা যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আপনার কি মনে হয়? একটি চালকহীন গাড়ি কি একজন মানুষের চেয়েও নিরাপদ হতে পারে? আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করুন!
-
টেকটিউনস টেকবুম
আমি টেকটিউনস টেকবুম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 12 বছর 7 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 1215 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 3 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।