
কেমন আছেন সবাই? ভাবুন তো, আপনি Social Media-য় নিজের এলাকায় হওয়া কোনো সরকারি অভিযানের তথ্য শেয়ার করলেন অথবা সরকারের কোনো ভুল নীতির সমালোচনা করে একটি Email পাঠালেন। আর ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা পরেই আপনার কাছে খবর এল যে, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা আপনার নাম, ঠিকানা, এমনকি আপনার Social Security Number পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে! শুনতে সিনেমার মতো মনে হলেও, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমাদের ঠিক এই বাস্তবতার সামনেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আজকের টিউনে আমরা আলোচনা করব কীভাবে Department of Homeland Security (DHS) বর্তমানে গোপনে Tech Companies-গুলোকে বাধ্য করার চেষ্টা করছে যাতে তারা Trump Administration-এর সমালোচকদের ব্যক্তিগত তথ্য তাদের হাতে তুলে দেয়। এটি কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি আমাদের ডিজিটাল জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে এক বিশাল সতর্কতা।

পুরো বিষয়টির মূলে রয়েছে একটি আইনি হাতিয়ার, যার নাম Administrative Subpoenas। বিষয়টি সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা খুব জরুরি। সাধারণত কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য বা জিনিসপত্র তল্লাশি করতে হলে পুলিশের Judicial Subpoenas বা আদালতের পরোয়ানার প্রয়োজন হয়। সেখানে একজন Judge দেখেন যে কোনো Crime হয়েছে কি না।
কিন্তু Administrative Subpoenas একদম আলাদা। এটি Federal Agencies নিজেরাই ইস্যু করে। অর্থাৎ, এখানে কোনো বিচারকের অনুমতির প্রয়োজন নেই। Investigators-রা কোনো বিচারিক তদারকি ছাড়াই আপনার সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য যেমন—আপনি কখন Login করছেন, কোথা থেকে করছেন, কোন Devices ব্যবহার করছেন এবং আপনার Email Addresses-সহ যাবতীয় Identifiable Information সংগ্রহ করতে পারে।
তবে মনে রাখবেন, এই উপায়ে তারা আপনার Emails-এর ভেতরের কথা, Online Searches বা সরাসরি আপনার Location Data নিতে পারে না। আর যেহেতু এতে কোনো আদালতের সরাসরি আদেশ থাকে না, তাই এটি অনেকটা 'অনুরোধ'-এর মতো; অর্থাৎ Company তথ্য দেবে কি না, তা তাদের নিজস্ব নীতির ওপর নির্ভর করে। তবে ভয়ের ব্যাপার হলো, Trump Officials-রা এখন এই হাতিয়ারটি ব্যবহার করে সেইসব মানুষকে টার্গেট করছে যারা সরকারের নীতির প্রতি Critical বা সমালোচনামূলক।

Bloomberg-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, Homeland Security সম্প্রতি @montcowatch নামে একটি Anonymous Instagram Account-এর পরিচয় জানতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এই অ্যাকাউন্টের কাজ ছিল Montgomery County, Pennsylvania-তে ICE Immigration Raids বা অভিবাসন অভিযানের খবর প্রচার করা, যাতে মানুষ তাদের Immigrant Rights ও Due Process সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
Homeland Security Lawyers সরাসরি Meta-র কাছে একটি Administrative Subpoena পাঠিয়ে ওই ব্যক্তির সব তথ্য চায়। তারা অজুহাত হিসেবে দেখায় যে, একজন ব্যক্তি টিপ দিয়েছেন যে ICE Agents-দের নাকি Stalked করা হচ্ছে। কিন্তু American Civil Liberties Union (ACLU) এই দাবির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। তারা জানায়, পুলিশের কাজ রেকর্ড করা এবং তা প্রচার করা First Amendment-এর অধীনে সম্পূর্ণ Legal। শেষ পর্যন্ত কোনো কারণ না দেখিয়েই Homeland Security তাদের দাবি প্রত্যাহার করে নেয়।
ACLU-এর মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ তথ্য অনুসন্ধান নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে ভয় ধরানোর একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। রিপোর্টে দেখা গেছে, আরও অন্তত চারটি ক্ষেত্রে একই ধরনের Instagram Accounts-কে Unmask করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিগত কয়েক বছরে Tech Companies-গুলো Transparency Reports প্রকাশ করতে শুরু করেছে। সেখানে তারা বলে যে সরকার কতবার তাদের কাছে তথ্য চেয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা বেশিরভাগ সময় Judicial এবং Administrative Subpoenas-কে আলাদা করে দেখায় না। ফলে সাধারণ মানুষ বা গবেষকরা বুঝতে পারেন না যে কতগুলো অনুরোধ কোনো আদালতের অনুমোদন ছাড়াই করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে Meta Spokesperson Francis Brennan কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি পরিষ্কার করেননি যে তারা @montcowatch-এর কোনো তথ্য সরকারকে দিয়েছিলেন কি না।

সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটেছে একজন আমেরিকান Retiree-র সাথে, যা The Washington Post বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। এই ব্যক্তি প্রথম থেকেই Trump Administration-এর কড়া সমালোচক ছিলেন এবং বিভিন্ন Protests-এ অংশ নিতেন।
তিনি Homeland Security-র Lead Attorney Joseph Dernbach-কে একটি সমালোচনামূলক Email পাঠিয়েছিলেন। Email পাঠানোর মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যে তিনি Google থেকে একটি নোটিফিকেশন পান যে, তার Account-এর ওপর একটি Subpoena জারি করা হয়েছে। সেখানে তার IP Address, Online Sessions-এর সময়, এমনকি তার Social Security Numbers, Driver’s License এবং Credit Card তথ্যও চাওয়া হয়েছিল।
এর দুই সপ্তাহ পর, সরাসরি Federal Agents তার দরজায় এসে হাজির হয় এবং তাকে ওই Email নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। যদিও ওই ব্যক্তি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। Google Spokesperson Katelin Jabbari জানিয়েছেন যে তারা সবসময় এই ধরনের অযৌক্তিক বা Overbroad Subpoenas-এর বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

এই নজরদারির বিষয়ে যখন Homeland Security Assistant Secretary Tricia McLaughlin-কে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কেন এই তথ্যগুলো চাওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে তিনি আইনি ঢাল হিসেবে 8 U.S.C. § 1225(d) এবং 19 U.S.C. § 1509(a)(1)-এর দোহাই দিয়েছেন, যা Homeland Security Investigations (HSI)-কে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করে।
তবে সব কোম্পানি তথ্য দিতে পারে না। বিশেষ করে যারা End-to-End Encrypted সেবা দেয়, যেমন—Signal। তাদের কাছে ইউজারদের ডেটা থাকেই না। কিন্তু বেশিরভাগ কোম্পানি এখনও আপনার লগ-ইন সময়, লোকেশন এবং ডিভাইস তথ্য সরকারকে দিয়ে দিতে পারে, যা আপনাকে Unmask করার জন্য যথেষ্ট।
বর্তমানে অনেক European Countries এবং সাধারণ মানুষ আমেরিকান Tech Giants-দের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। কারণ দেখা যাচ্ছে, অনেক বড় কোম্পানির CEOs-রা বর্তমান প্রশাসনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছেন।
আপনার অনলাইন কার্যক্রম কি আসলেই ব্যক্তিগত? আজকের এই আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, ডিজিটাল যুগে আমাদের বাকস্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা উভয়েই ঝুঁকির মুখে। সরকারের এই ধরনের গোপন তৎপরতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অনলাইনে আমরা কতটা অরক্ষিত হতে পারি।
আপনার কি মনে হয়? সরকারের কি এভাবে কোনো বিচারকের অনুমতি ছাড়াই সাধারণ নাগরিকের তথ্য নেওয়া উচিত? টিউমেন্টে আপনার মতামত জানান এবং আমাদের এই টিউনটি শেয়ার করে সবাইকে সচেতন করুন।
-
টেকটিউনস টেকবুম
আমি টেকটিউনস টেকবুম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 12 বছর 7 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 1205 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 3 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।