৭২০০ এমএএইচ ব্যাটারি আর আইপি ৬৯ প্লাস রেটিং! স্মার্টফোনের নতুন যুগের শুরু!

স্মার্টফোন দুনিয়ায় সাধারণত কোনো বড় লঞ্চিং ইভেন্ট মানেই প্রচুর শোরগোল আর ঢাক-ডোল পেটানো। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু Phone কোনো রকম শব্দ না করেই বাজারে আসে এবং তাদের ফিচার দিয়ে সবাইকে চমকে দেয়। ঠিক তেমনি এক চমক নিয়ে Vivo অত্যন্ত নিরবে বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের নতুন Handset, যার নাম Vivo Y31d

আপনি যদি বর্তমান সময়ের Y31 এবং Y31 Pro মডেল দুটির কথা জানেন, তবে এই নতুন ফোনটি আপনার কাছে পরিচিত মনে হতে পারে। তবে পরিচিত মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বড় কিছু Key Differences। বিশেষ করে যারা গেম খেলেন বা যাদের সারাদিন বাইরে কাটাতে হয়, তাদের চাহিদাকে মাথায় রেখে এতে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। চলুন, এই 'ব্যাটারি দানব' ফোনটির প্রতিটি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।

১. ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি: স্লিম চেহারায় মজবুত গঠন

ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি

প্রথম দেখায় Vivo Y31d ফোনটি আপনার নজর কাড়বে এর চমৎকার দুটি রঙের কারণে—একটি হলো Glow White এবং অন্যটি Starlight Gray। ফোনটির ডিজাইন বেশ আধুনিক। এর Dimensions বা আকার হলো 166.6 x 78.4 x 8.39mm। তবে মজার বিষয় হলো, আপনি যদি White Color ভেরিয়েন্টটি পছন্দ করেন, তবে এর পুরুত্ব হবে সামান্য বেশি, অর্থাৎ 8.49mm। ফোনটির ওজন রাখা হয়েছে 219g

এর তৈরির উপাদানেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ফোনের পুরো Body তৈরি করা হয়েছে উচ্চমানের Plastic Composite দিয়ে, যা একে হালকা অথচ মজবুত রাখে। তবে ফোনের পেছনের Camera Island বা ক্যামেরার অংশটি তৈরি করা হয়েছে Metal দিয়ে, যা ফোনটিকে একটি প্রিমিয়াম টাচ দেয়।

২. IP69+ Rating: পানির নিচেও কি এই ফোনটি অজেয়?

IP69+ Rating

স্মার্টফোনের সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত IP68 Rating দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু Vivo Y31d সবাইকে চমকে দিয়ে নিয়ে এসেছে IP69+ Rating। এটি সাধারণ কোনো ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স নয়; বরং এটি একটি বিশেষ প্রোটেকশন লেভেল।

এর মানে হলো আপনার ফোনটি শুধু সাধারণ Splashes (পানির ছিটেফোঁটা) বা Rain (বৃষ্টি) থেকেই নিরাপদ নয়, বরং এটি High-Pressure Water Jets (তীব্র গতির পানির ঝাপটা) অনায়াসেই সহ্য করতে পারবে। এমনকি ফোনটি যদি 1.5m গভীর পানির নিচে টানা 30 Minutes পর্যন্ত Submersion বা ডুবে থাকে, তবুও এর কোনো ক্ষতি হবে না। যারা এডভেঞ্চার পছন্দ করেন বা বৃষ্টির মধ্যেও কাজ করতে হয়, তাদের জন্য এটি একটি বড় পাওয়া।

৩. ব্যাটারি পারফরম্যান্স: এক চার্জে চলবে দিনের পর দিন

ব্যাটারি পারফরম্যান্স

এই ফোনের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো এর বিশাল 7, 200mAh BlueVolt Battery। বর্তমানে বাজারে যেখানে বেশিরভাগ ফোনে 5, 000mAh এর বেশি ব্যাটারি দেখা যায় না, সেখানে Vivo এই স্লিম বডির ভেতরেই এত বড় ব্যাটারি ব্যবহার করেছে।

এই ব্যাটারির শক্তি কতটা তা বোঝাতে কিছু পরিসংখ্যান দেওয়া যাক:

  • আপনি যদি MOBA Gaming করতে পছন্দ করেন, তবে এক চার্জে একটানা 13 Hours এর বেশি সময় ধরে গেম খেলতে পারবেন।
  • একটানা 14 Hours এর বেশি সময় ধরে Navigation বা ম্যাপ ব্যবহার করা যাবে।
  • সবচেয়ে অবিশ্বাস্য হলো এর Video Playback টাইম—টানা প্রায় দুই দিন অর্থাৎ 45 Hours পর্যন্ত ভিডিও দেখা সম্ভব।

৪. চার্জিং টেকনোলজি এবং ব্যাটারি লাইফ

চার্জিং টেকনোলজি এবং ব্যাটারি লাইফ

বিশাল ব্যাটারি মানেই কি চার্জ হতে সারা রাত লাগবে? না, Vivo এখানে ব্যবহার করেছে 44W FlashCharge System। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, মাত্র 43 Minutes এ ফোনটি 1% থেকে 50% Charge হয়ে যাবে।

গেমারদের কথা মাথায় রেখে এতে যুক্ত করা হয়েছে Bypass Charging Option। এর মাধ্যমে আপনি যখন ফোনে চার্জ দিয়ে গেম খেলবেন, তখন বিদ্যুৎ সরাসরি ব্যাটারিতে না গিয়ে ফোনে যাবে। এতে ফোন অতিরিক্ত গরম হবে না এবং ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার ভয় থাকবে না। মজার ব্যাপার হলো, এই Battery টি টানা 6 Years ব্যবহারের জন্য Rated করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বিশাল স্বস্তির খবর।

৫. ক্যামেরা সেটআপ: প্রতিদিনের মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করতে

ক্যামেরা সেটআপ

ফটোগ্রাফির জন্য Vivo Y31d এর পেছনের দিকে রয়েছে একটি 50MP Main Module (f/2.0 Lens)। এটি দিয়ে আপনি স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল ছবি তুলতে পারবেন। এর সাথে একটি 2MP Helper ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে যা পোর্ট্রেট বা ডেপথ ইফেক্টে সহায়তা করবে। আর সামনের দিকে সেলফি বা ভিডিও কলের জন্য রয়েছে একটি 8MP (f/2.0) Selfie Camera

৬. ডিসপ্লে এবং অডিও: স্মার্ট বিনোদনের অভিজ্ঞতা

ডিসপ্লে এবং অডিও

বিনোদনের জন্য এতে রয়েছে একটি বিশাল 6.75” LCD স্ক্রিন যার Resolution হলো 720 x 1, 570px। যদিও এটি এইচডি প্লাস প্যানেল, কিন্তু এর 120Hz Refresh Rate আপনার ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে একদম স্মুথ করে তুলবে। কড়া রোদেও যেন স্ক্রিন দেখা যায়, তাই এতে রয়েছে 1, 250 Nits এর Brightness

নিরাপত্তার জন্য ফোনের Side-এ একটি Fingerprint Reader দেওয়া হয়েছে। অডিওর ক্ষেত্রে এই ফোনে কোনো Headphone Jack নেই, তবে এতে আছে Stereo Speakers। এই স্পিকারগুলোতে 400% Volume Boost ফিচার দেওয়া হয়েছে, যা ছোটখাটো ঘরে মিউজিক বা মুভি দেখার জন্য যথেষ্ট জোরালো শব্দ তৈরি করতে পারে।

৭. প্রসেসর এবং স্টোরেজ: 4G-এর দুনিয়ায় এক শক্তিশালী প্রতিযোগী

প্রসেসর এবং স্টোরেজ

এই ফোনের ভেতরে মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করছে Snapdragon 6s 4G Gen 2 Chipset। এটি একটি 4G-Only Chipset, যা মূলত তাদের জন্য যারা 5G-এর চেয়ে লম্বা ব্যাটারি ব্যাকআপকে বেশি প্রাধান্য দেন। এতে রয়েছে 6GB অথবা 8GB এর LPDDR4X RAM এবং 128GB অথবা 256GB এর UFS 2.2 Storage

সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে এটি একদম লেটেস্ট Android 16 এবং OriginOS 6 এর সাথে বাজারে আসছে। এটি একটি Dual Nano-SIM Slots সমৃদ্ধ ফোন যা শুধুমাত্র 4G নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে।

অন্যান্য কানেক্টিভিটি ফিচারের মধ্যে এতে রয়েছে:

  • Dual-Band Wi-Fi এবং Bluetooth 5.1
  • USB 2.0 Port
  • উল্লেখ্য যে, এতে কোনো NFC সুবিধা রাখা হয়নি।

৮. কোথায় পাওয়া যাবে এবং দাম কত?

কোথায় পাওয়া যাবে এবং দাম কত?

সবশেষে আসি দাম এবং প্রাপ্তি নিয়ে। Vivo এখনো পর্যন্ত এই ফোনটির কোনো অফিসিয়াল Pricing Details বা দাম জানায়নি। তবে ফোনটি ইতিমধ্যে Cambodia এবং Vietnam এর অফিসিয়াল Vivo Sites গুলোতে দেখা গেছে। আশা করা যায় খুব দ্রুতই অন্যান্য দেশের বাজারে এর দাম সম্পর্কে আমরা জানতে পারবো।

আপনি যদি এমন একটি ফোন খুঁজছেন যা দিয়ে আপনি নিশ্চিন্তে কয়েকদিন কাটিয়ে দিতে পারবেন এবং যার স্থায়িত্ব নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না, তবে Vivo Y31d আপনার তালিকায় উপরের দিকেই থাকা উচিত। বিশেষ করে এর IP69+ Rating এবং 7, 200mAh Battery একে এই বাজেটের অন্যান্য ফোনের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে রেখেছে।
-

টেকটিউনস টেকবুম

Level 9

আমি টেকটিউনস টেকবুম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 12 বছর 6 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 1175 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 3 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস