
স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য বর্তমান সময়টা বেশ এক্সাইটমেন্ট পূর্ণ। বিশেষ করে যারা বাজেট এবং পারফরম্যান্সের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছেন, তাদের জন্য Motorola বরাবরই পছন্দের নাম। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টেক দুনিয়ায় একের পর এক Leaks এবং Rumors-এর যে ঝড় বয়ে যাচ্ছিল, তার অবসান ঘটলো। Motorola আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে তাদের দুই শক্তিশালী মিডরেঞ্জ ফোন— Moto G77 এবং Moto G67।
আপনি যদি একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হন কিংবা গেমিং ও ফটোগ্রাফির পোকা—এই দুটি ফোন আপনার দৈনন্দিন জীবনের স্মার্টফোনের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে পারে। যদিও এই দুই সহোদরের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে, কিন্তু ভেতরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ Specs-এ রয়েছে বিশাল তফাৎ। চলুন, একদম বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক কী কী থাকছে এই নতুন প্যাকেজে।

স্মার্টফোন হাতে নিলে প্রথমেই যা আমাদের নজর কাড়ে, তা হলো এর স্ক্রিন। Motorola তাদের এই দুই মডেলেই ব্যবহার করেছে বিশাল 6.8-Inch AMOLED Displays। আপনি যখন কোনো হাই-ডেফিনিশন মুভি দেখবেন বা গ্রাফিক্স সমৃদ্ধ গেম খেলবেন, তখন এর FHD+ Resolution এবং 120Hz Refresh Rates আপনাকে দেবে একদম মসৃণ এবং প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা।
তবে ফোনের দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হতে যাচ্ছে এর ব্রাইটনেস। উভয় ফোনেই দেওয়া হয়েছে 5, 000 Nits Peak Local Brightness। সহজভাবে বলতে গেলে, কাঠফাটা রোদেও আপনাকে স্ক্রিন দেখার জন্য হাত দিয়ে ছায়া তৈরি করতে হবে না। সুরক্ষার দিক থেকেও কোনো কমতি রাখা হয়নি; স্ক্রিনগুলো সুরক্ষিত রাখা হয়েছে Corning Gorilla Glass 7i দিয়ে। এছাড়া নিরাপত্তার আধুনিক ফিচার হিসেবে এতে থাকছে Embedded Fingerprint Scanners এবং ঝকঝকে ভিডিও কলের জন্য 32MP Selfie Cameras।

ফোন কতটা দ্রুত কাজ করবে তা নির্ভর করে তার ভেতরের প্রসেসরের ওপর। এখানে Motorola দুটি ভিন্ন ধরনের Chipset বেছে নিয়েছে:
চিন্তার কোনো কারণ নেই যদি আপনার অনেক বড় ফাইল বা সিনেমা স্টোর করার অভ্যাস থাকে, কারণ উভয় ফোনেই MicroSD Card Slot দেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে অনায়াসেই Storage Expansions করা সম্ভব।

ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য Moto G77 হতে যাচ্ছে একটি স্বপ্নের ফোন। এটিই প্রথম ফোন যা Moto G-Series-এর ইতিহাসে 108MP Camera নিয়ে এসেছে। শুধু পিক্সেল নয়, এতে রয়েছে 3x Lossless Zoom প্রযুক্তি, যার ফলে জুম করলেও ছবির ডিটেইলস নষ্ট হবে না। এর সেন্সরে আছে f/1.7 Aperture এবং উন্নত 9-in-1 Pixel-Binning Technology, যা রাতের অন্ধকারেও দিনের আলোর মতো পরিষ্কার ছবি তুলতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে, Moto G67-এ ব্যবহার করা হয়েছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় 50MP LYTIA 600 Sensor। এই সেন্সরটি বর্তমান সময়ের স্মার্টফোন ফটোগ্রাফিতে বেশ নাম কামিয়েছে। এছাড়া উভয় ফোনেই একটি কমন ফিচার হিসেবে থাকছে একটি 8MP Ultrawide Lens (যার Aperture হলো f/2.2), যা দিয়ে আপনি বিশাল ল্যান্ডস্কেপ বা গ্রুপ ছবি সহজেই ফ্রেমবন্দী করতে পারবেন।

সারাদিন ফোন ব্যবহারের পর যাতে চার্জ নিয়ে টেনশন করতে না হয়, সেজন্য উভয় ফোনেই থাকছে শক্তিশালী 5, 200 mAh Batteries। আর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলেও দ্রুত চার্জ করার জন্য দেওয়া হয়েছে 30W Wired Charging সুবিধা।
সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে Motorola কোনো পুরনো ভার্সন ব্যবহার করেনি। ফোন দুটি আউট-অফ-দ্য-বক্স চলবে একদম লেটেস্ট Android 16-এ। এর ওপর লেয়ার হিসেবে থাকছে Motorola-র নিজস্ব এবং পরিষ্কার ইউজার ইন্টারফেস Hello UX, যা আপনাকে ব্লোটওয়্যার মুক্ত অভিজ্ঞতা দেবে। স্থায়িত্বের কথা মাথায় রেখে এতে দেওয়া হয়েছে IP64 Ingress Protection, যা আপনার ফোনকে ধুলোবালি এবং জলের হালকা ঝাপটা থেকে নিরাপদ রাখবে।

স্মার্টফোনটি দেখতে কেমন হবে তা তো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। Motorola তাদের সিগনেচার Pantone কালার ভেরিয়েন্টে ফোনগুলো নিয়ে এসেছে:

Europe, Middle East এবং Africa-র বাজারে এই ফোনগুলোর Rollout শুরু হচ্ছে। যারা আধুনিক ফিচার, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং চমৎকার ক্যামেরার ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য Motorola-র এই নতুন সিরিজটি সত্যিই একটি বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। আপনার যদি বাজেট ৩০০০ ইউরো বা ২৫০ পাউন্ডের আশেপাশে হয়, তবে এই ফোনগুলো নিঃসন্দেহে আপনার সেরা পছন্দ হতে পারে।
-
টেকটিউনস টেকবুম
আমি টেকটিউনস টেকবুম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 12 বছর 6 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 1175 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 3 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।