
টেক জায়ান্ট Apple যখন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তখন পুরো পৃথিবী সেদিকে তাকিয়ে থাকে। আর সেই পদক্ষেপ যদি হয় বিশাল কোনো Acquisition, তবে তো কথাই নেই! সম্প্রতি প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে Apple কিনে নিয়েছে অত্যন্ত গোপনীয় এবং সম্ভাবনাময় একটি Israeli Audio AI Startup, যার নাম Q.ai।
আপনি যদি ভেবে থাকেন এটি সাধারণ কোনো কেনাবেচা, তবে আপনাকে একটু বিস্তারিত জানাতে চাই। এই পুরো Transaction-টির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় $2 Billion! একবার ভেবে দেখুন, এটি Apple-এর পুরো History-তে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি Purchase। এর আগে কেবল Beats-এর Acquisition-এর সময় তারা এর চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছিল। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, Q.ai-এর কাছে এমন কিছু আছে যা আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রাকে বদলে দিতে পারে।

Q.ai মূলত Audio-র ক্ষেত্রে AI Technology নিয়ে কাজ করে। তারা এমন এক স্তরের Machine Learning নিয়ে গবেষণা করছে, যা আমাদের কল্পনার বাইরে। এই Startup-টির প্রধান লক্ষ্য হলো আমাদের দৈনন্দিন Devices-গুলোকে এমনভাবে তৈরি করা যাতে তারা মানুষের অতি সূক্ষ্ম আওয়াজও বুঝতে পারে।
নিচে তাদের মূল কাজের ক্ষেত্রগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

এই চুক্তির সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং রোমাঞ্চকর দিকটি হলো তাদের একটি ইউনিক Patent Application। গত বছর Q.ai একটি পেটেন্টের আবেদন করেছে যা শুনলে আপনি চমকে যাবেন। তারা "Facial Skin Micromovements" বা আমাদের মুখের চামড়ার অতি সূক্ষ্ম এবং অদৃশ্য নড়াচড়া ট্র্যাক করার প্রযুক্তি তৈরি করেছে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যা যা করা সম্ভব:

একটি সফল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পেছনে থাকে একদল তুখোড় মেধাবী মানুষ। Q.ai-এর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এই চুক্তির ফলে Q.ai-এর দক্ষ ১০০ জন Employees এখন সরাসরি Apple-এর অংশ হয়ে যাচ্ছেন। এই টিমের নেতৃত্বে আছেন অত্যন্ত অভিজ্ঞ CEO Aviad Maizels এবং তার সাথে আছেন দুই Co-Founders Yonatan Wexler এবং Avi Barliya।
এখানে একটি গভীর Context আছে যা আপনার জানা প্রয়োজন। Aviad Maizels কিন্তু Apple-এর কাছে কোনো অপরিচিত নাম নন। তিনি এর আগে বিখ্যাত PrimeSense প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আপনারা কি জানেন, ২০১৩ সালে Apple এই PrimeSense কিনে নিয়েছিল? আর সেই PrimeSense-এর প্রযুক্তিই কিন্তু আজকের iPhone-এর জনপ্রিয় Face ID ফিচারের ভিত্তি। অর্থাৎ, যে মানুষটি আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে ফোন আনলক করা শিখিয়েছেন, তিনি এবার আসছেন আমাদের ফিসফিসানি শোনাতে এবং মুখের চামড়ার ভাষা বুঝতে।
Apple-এর এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা Audio এবং Personal Sensing প্রযুক্তিকে একদম নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে। Face ID-র জনক যখন Audio AI নিয়ে কাজ করতে Apple-এ ফিরে আসেন, তখন ধরে নেওয়া যায় যে আগামী দিনের iPhone, AirPods, অথবা Apple Watch-এ আমরা বিস্ময়কর কিছু পেতে যাচ্ছি।
প্রযুক্তি এখন কেবল আমাদের কথা শোনে না, এটি এখন আমাদের অনুভূতি এবং শারীরিক অবস্থা বুঝতেও সক্ষম হচ্ছে। Q.ai-এর এই অন্তর্ভুক্তি সম্ভবত সেই আগামীরই শুরু।
-
টেকটিউনস টেকবুম
আমি টেকটিউনস টেকবুম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 12 বছর 6 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 1134 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 3 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।