ভাইরাস আপনার কম্পিউটার দখল করে নিলে যে সমস্যা গুলো হয়

হ্যালো টেকটিউনস জনগণ, কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশাকরি সবাই ভাল আছেন। এখন থেকে নিয়মিত আবার নতুন টিউন নিয়ে আমরা হাজির হলাম আপনাদের কাছে। আর টেকটিউনসের নিত্যনতুন টপিক আর সার্ভিস নিয়ে ভালো না থেকে আর উপায় আছে? আর এই নিত্যনতুন টপিক আর সার্ভিসের ধারা বজায় রাখার নিমিত্তে, আজকে আমি আপনাদের সাথে একদম নতুন একটি টপিক নিয়ে হাজির হলাম। আর আপনারা এই টিউনের মাধ্যমে জানতে পারবেন অনেক নতুন নতুন সব তথ্য।

স্লো কম্পিউটার আপনাকে একজন গোয়েন্দাতে পরিণত করতে পারে। আপনার কম্পিউটারে কি হয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এমনকি আপনি গুগলে "কম্পিউটারে ভাইরাস আছে কিনা তা কিভাবে জানবো" বা "আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সতর্কতা বা লক্ষণগুলো কি কি" ইত্যাদি লিখে সার্চ করেছেন নিশ্চয়ই!

যদিও গুগল সার্চের মাধ্যমে আপনি আবারও ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হতে পারেন। আর এই কারণেই এই টিউনকে আপনাদের জন্য এমন ভাবে সাজিয়েছি যার মাধ্যমে আপনি আপনার কম্পিউটারের স্লো হওয়ার রহস্য উদঘাটন করতে পারবেন। কম্পিউটারের স্লো হওয়ার রহস্যের মধ্যে একটি হচ্ছে, আপনি যখনই ল্যাপটপ চালু করবেন তখনই পপ-আপের মত স্ক্রিন আপনার ডিসপ্লে ভরে যাবে ইত্যাদি।

কিন্তু আপনাকে ভাইরাসের আরও সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো জেনে রাখা উচিত। সমস্ত ভাইরাসই যে আপনার ডিসপ্লে তে দেখাবে তা কিন্তু নয় - কিছু ভাইরাস আপনার সিস্টেমে লুকিয়ে থাকতে পারে। তাছাড়া আপনার কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কিনা তা বোঝার জন্য কিছু নিশ্চিত লক্ষণ রয়েছে।

১. বেশি গরম হওয়া

আপনি যখন ভুলক্রমে কোন ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করে ইন্সটল করেন, তখন আপনার কম্পিউটারের ইন্টারনাল কম্পোনেন্টে এই ম্যালওয়্যার ম্যানেজ করার জন্য ওভারটাইম কাজ করা শুরু করে। আর এই অতিরিক্ত কাজগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় কম্পিউটারের করার কথা নয়, আর তাই আপনার কম্পিউটার সাধারণ অবস্থার থেকে বেশি গরম হয়।

আপনার কম্পিউটারকে ঠান্ডা করতে কম্পিউটারের সিস্টেম ফ্যান অনেক বেশি ঘুরছে এবং এর ফলে আপনার কম্পিউটারের সিস্টেম ফ্যানগুলো নষ্টও হয়ে যেতে পারে।

২. কোন অদ্ভুত সাউন্ড শুনতে পাওয়া

আপনার কম্পিউটার সিস্টেমে কোন সমস্যা হয়েছে সে সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য নোটিফিকেশন দিতে পারে। যদিও ম্যালওয়্যার এই সতর্কীকরণ বার্তাগুলো লুকিয়ে রাখতে পারে, তবে সেগুলো সাউন্ড বক্সের শব্দকে আটকাতে বা বন্ধ করতে পারে না। যদি মনে হয় কোন নোটিফিকেশনের সাউন্ড আসছে কিন্তু নোটিফিকেশন দেখাচ্ছে না বা ঘণ্টার শব্দ বাজছে তাহলে এটি একটি সতর্কতার চিহ্ন হিসাবে নিন।

৩. সিস্টেম ক্র্যাশ করা

ডেস্কটপ অ্যাপস যা কিছুক্ষণ আগেও খুবই সুন্দরভাবে কাজ করেছিল কিন্তু হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। এটি ডেভেলপারদের কোডিংয়ে কোন ভুল থাকার কারণেও হতে পারে, তাই কোন সমস্যায় বিচলিত না হয়ে সরাসরি অফিসিয়াল সোর্স থেকে তথ্য জানুন।

আপনি অফিসিয়াল ওয়েব সাইট থেকে জানতে পারবেন আপনার সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারটি তা সাপোর্ট করছে না, যা পুরাতন ডিভাইস ব্যবহার করার জন্য হতে পারে। আর যদি আপনার সমস্যা নিয়ে অন্য কোন ইউজার অভিযোগ না করে থাকে তাহলে সমস্যাটি আপনার ডিভাইসে বা সিস্টেমের মধ্যেই থাকতে পারে।

তাছাড়া আপনি যদি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ওপেন করতে না পারেন তাহলে আপনাকে বিশেষভাবে সচেতন হওয়া উচিত। র‍্যানসমওয়্যারের মতো ভাইরাসগুলো খুবই বিপজ্জনক, এই ভাইরাসটি আপনার কম্পিউটারের ফাইলগুলোকে নষ্ট করে দেয়, আর সেগুলোকে ওপেন করতে বাধা দেয়। এমনকি আপনার সিস্টেমে যদিও র‍্যানসমওয়্যার ভাইরাস আক্রমণ নাও করে তাহলে আপনার কম্পিউটারে এমন একটি বাজে ভাইরাস থাকতে পারে যা আপনার সিস্টেমে ছড়িয়ে আছে।

৪. ডিভাইস একাই রিস্টার্ট হওয়া

অবশ্যই, সিস্টেম আপডেট ইন্সটল করার সময় আপনার কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট নিতে পারে। কিন্তু এছাড়াও যদি আপনার কম্পিউটার রিস্টার্ট নেয় তাহলে একটু চিন্তা করে দেখুন। তাছাড়া সিস্টেমের সেটিংস থেকে রিস্টার্ট করার জন্য আপনি একটি নির্দিষ্ট সময় সেট করেছেন কিনা তা চেক করে দেখুন।

তবে ভাইরাসের দ্বারা আপনার কম্পিউটার সংক্রমিত হলে রিস্টার্ট একা একাই নিবে। এজন্য আপনার কাছে অনুমতি চাইবে না বা কোন সতর্কতার বার্তা প্রদর্শন করবে না।

হঠাৎ রিস্টার্ট নেওয়া মানে হচ্ছে হ্যাকার আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ইন্সটল করছে তার একটি লক্ষণ। কারণ ক্ষতিকারক সফটওয়্যার ইন্সটল করার জন্য সাধারণত সিস্টেমকে রিস্টার্ট করতে হয়। যদি কেউ দূরে থেকে আপনার সিস্টেমে প্রবেশ করে তাহলে আপনি আপনার ডিভাইসে যে কাজই করেননা কেন সেই অবস্থায় আপনার সিস্টেম রিস্টার্ট করতে পারে।

৫. ভিডিও লোড হতে অনেক সময় লাগা এবং প্রচুর ডেটা খরচ হওয়া

টিউনের এখন পর্যন্ত আপনারা যা জানেন তা হচ্ছে, ভাইরাস আপনার ডিভাইসটিকে আরও গরম করে তুলতে পারে কারণ এটি আপনার ইন্টারনাল সার্কিটগুলোকে তাদের সাধারণ কাজের তুলনায় বেশি কাজ করার জন্য ফোর্স করে। কিন্তু একমাত্র এটাই আপনার হার্ডওয়্যারকে ক্ষতি করছে তা কিন্তু নয়। এর মাধ্যমে আপনার স্টোরেজ স্পেসেরও বড় ধরনের ক্ষতি করে।

যদিও মাঝেমধ্যে বাফারিং হওয়াটা স্বাভাবিক, তবে এই বাফারিং সব সময় হওয়া উচিত নয়। কেননা ম্যালওয়্যার DND হাইজ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আপনার ইন্টারনেট ট্র্যাফিককে স্লো করে দেয়। আর ম্যালওয়্যারগুলো আপনার ইন্টারনেট ট্র্যাফিককে অনিরাপদ সার্ভারে রিডিরেক্ট করে ফলে সাধারণ অবস্থার থেকে বেশি ডেটা খরচ হয় আর তাতেই আপনার অনলাইন স্ট্রিমিং স্লো হয়ে যায়।

আর এই অবস্থাকে VPN সার্ভিসের সাথে তুলনা করতে পারেন, VPN সার্ভিসের মাধ্যমে আপনি আপনার ট্র্যাফিককে নিরাপদ সার্ভারে রিডিরেক্ট করতে পারেন। আর যখন VPN এটি করে তখন তারা আপনার গোপনীয়তা রক্ষা করে যাতে বিজ্ঞাপনদাতারা আপনার এক্টিভিটি কালেক্ট করতে না পারে। তাছাড়া হ্যাকাররা যখন আপনার ট্র্যাফিক রিডিরেক্ট করে তখন তারা আপনার কাছ থেকে আপনার ব্যক্তিগত ডেটা হ্যাক করে নেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে আপনি বিশাল নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরেন।

শেষ কথা

কিভাবে আপনার সিস্টেমকে ভাইরাসের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করবেন? এমন প্রশ্ন আমাদের সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। বর্তমানে সাইবার আক্রমণ বাড়ছে, এবং ভবিষ্যতে আমরা আমাদের স্কুলের কাজ, অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন কাজে আমরা ডিভাইসের উপর যতবেশি নির্ভরশীল হয়ে যাব আমরা ততবেশি সাইবার আক্রমণের শিকার হব। আপনার ব্যক্তিগত ডেটা যেমনঃ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত ডেটা, ফটো বা কথোপকথনই হোক না কেন, সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য আপনার নিজের অনেক কিছুই করার আছে। আপনি একটি ভাল মানের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন, ইন্টারনেট থেকে কোন ফাইল ডাউনলোড করার আগে যাচাই করুন আপনি অফিসিয়াল সাইট থেকে ডাউনলোড করছেন কিনা, আপনাকে কেউ কোন লিংক শেয়ার করলে তা যাচাই বাছাই ছাড়াই ব্রাউজ না করা ইত্যাদি সতর্কতামূলক কাজগুলো করলে আপনি সেইফ থাকতে পারবেন।

টিউন জোসস করুন, আমার টিউন শেয়ার করুন, টেকটিউনসে আমাকে ফলো করুন, আপনাদের মতামত জানান

আমি এরকম নিত্যনতুন কাজের সফটওয়্যার নিয়ে টেকটিউনসে হাজির হবো নিয়মিত। তবে সে জন্য আপনার যা করতে হবে তা হলো আমার টেকটিউনস প্রোফাইলে আমাকে ফলো করার জন্য 'Follow' বাটনে ক্লিক করুন। আর তা না হলে আমার নতুন নতুন টিউন গুলো আপনার টিউন স্ক্রিনে পৌঁছাবে না।

আমার টিউন গুলো জোসস করুন, তাহলে আমি  টিউন করার আরও অনুপ্রেরণা পাবো এবং ফলে ভবিষ্যতে আরও মান সম্মত টিউন উপহার দিতে পারবো।

আমার টিউন গুলো শেয়ার বাটনে ক্লিক করে সকল সৌশল মিডিয়াতে শেয়ার করুন। নিজে প্রযুক্তি শিখুন ও অন্য প্রযুক্তি সম্বন্ধে জানান টেকটিউনসের মাধ্যমে।

Level 8

আমি রায়হান ফেরদৌস। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 8 বছর 10 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 175 টি টিউন ও 131 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 66 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস