C-V2X, Cellular-Vehicle-to-Everything প্রযুক্তি কী? এটি কীভাবে কাজ করে?

হ্যালো টেকটিউনস জনগণ, কেমন আছেন আপনারা সবাই? আশাকরি সবাই ভাল আছেন। এখন থেকে নিয়মিত আবার নতুন টিউন নিয়ে আমরা হাজির হলাম আপনাদের কাছে। আর টেকটিউনসের নিত্যনতুন টপিক আর সার্ভিস নিয়ে ভালো না থেকে আর উপায় আছে? আর এই নিত্যনতুন টপিক আর সার্ভিসের ধারা বজায় রাখার নিমিত্তে, আজকে আমি আপনাদের সাথে একদম নতুন একটি টপিক নিয়ে হাজির হলাম। আর আপনারা এই টিউনের মাধ্যমে জানতে পারবেন অনেক নতুন নতুন সব তথ্য।

বিশ্ব যখন স্ব-চালিত বা স্ব-নিয়ন্ত্রিত Self Driving গাড়ির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, আর যে প্রযুক্তি এই স্ব-চালিত বা স্ব-নিয়ন্ত্রিত Self Driving গাড়ির পাওয়ার বা চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে তা প্রায় গত ১০ বছরে দ্রুত ডেভেলোপড হয়েছে। একসময় বিজ্ঞান যাকে কল্পকাহিনী হিসাবে ভাবত তা দ্রুতই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, কারণ ইঞ্জিনিয়াররা যাত্রীদের জন্য স্মার্ট কারগুলোকে ফাস্ট, এফিসিয়েন্ট এবং নিরাপদ করার জন্য কার্যকরী সব উপায়গুলো আস্তে আস্তে খুঁজে বের করছে।

আর চালক-বিহীন গাড়ির প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই C-V2X প্রযুক্তি, কিন্তু C-V2X এর অর্থ কি এবং ভবিষ্যতে যে গাড়িগুলো আসবে তাতে নতুনত্ব কি কি থাকবে? আমার সাথে থাকুন আমরা চালক-বিহীন গাড়ির ময়নাতদন্ত করবো।

C-V2X বলতে কি বোঝায়?

C-V2X মানে হচ্ছে "Cellular-Vehicle-to-Everything". একটি এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে স্মার্ট গাড়িগুলো তার চারপাশের জগৎ এর সাথে কমিউনিকেট করতে পারে।

স্মার্ট গাড়ির চারপাশে কি আছে তা সনাক্ত করা হচ্ছে স্মার্ট গাড়ি তৈরি করার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের একটি। তাছাড়া কম্পিউটারের মাধ্যমে সহজেই সাধারণ কাজগুলো খুবই দ্রুত করা যায়, তবে বাস্তব বিশ্বের বস্তু দেখতে কেমন এবং তা সঠিকভাবে সনাক্ত করা কম্পিউটারের জন্যে  আরও বেশি কঠিন।

চালক হিসেবে মানুষের পক্ষে সামনের রাস্তার দিকে তাকানো এবং সামনের গাড়ি ট্র্যাকিং এবং পথচারীদের দেখা সহজ। তো যাইহোক, কম্পিউটারের মাধ্যমে এই (সামনের রাস্তার দিকে তাকানো, সামনের গাড়ি ট্র্যাকিং এবং পথচারীদের দেখা) ছবিগুলোকে সনাক্ত করা এবং আলাদা করা অনেক কঠিন কাজ ও কিছুটা সময় সাপেক্ষও বটে। আর এই কারণেই ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইটে ভিজিট করার সময় আপনি মানুষ নাকি রোবট তা যাচাই করার জন্য ওয়েব সাইটে এমন কিছু ক্যাপচা ইমেজ শো করে, আর এই ইমেজগুলো থেকে আপনাকে সমস্ত সাইকেল বা বাস সিলেক্ট করতে বলা হয়। আর আমাদের মস্তিষ্ক এই কাজটিকে খুবই সহজ বলে মনে করে, ঠিক তদ্রূপ একটি কম্পিউটার এই কাজটিকে ততটাই কঠিন মনে করে।

তাহলে এর সমাধান কি হবে? স্মার্ট গাড়ি গুলোকে প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করতে হবে যা অন্য গাড়িগুলোকে সনাক্ত করতে সহায়তা করবে, একই সাথে স্মার্ট গাড়ির চারপাশে যা আছে সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে। একইভাবে, গাড়িটি তার সামনে কি আছে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে এবং যাত্রীদের সবাইকে কিভাবে নিরাপদ রাখা যায় তারপরিকল্পনা করবে। আর এই সব কাজ করার জন্যই Cellular-Vehicle-to-Everything (C-V2X) প্রযুক্তিটিকে ব্যবহার করা হয়।

শব্দটির "Cellular" অংশটির মাধ্যমে বোঝান হয়, স্মার্ট গাড়িগুলোতে কিভাবে 4G বা 5G নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে ডেটা আদান প্রদান করে। আর 5G নেটওয়ার্ক সত্যিই খুবই দ্রুত কাজ করে এবং লেটেন্সি অনেক কম থাকে, ফলে যাত্রীদের সুরক্ষিত রাখার জন্য এবং আক্ষরিক ভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য 5G নেটওয়ার্ক আমাদের কাছে সবচেয়ে সেরা প্রযুক্তি।

এরপরে "Vehicle-to-Everything" অংশটির মাধ্যমে বোঝান হয়, কিভাবে অন্যান্য গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি কমিউনিকেশন করতে পারে। আর হ্যাঁ, এটা একটু অদ্ভুত যে, "Everything" শব্দটি "X" দ্বারা উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু "X" হল বিভিন্ন ধরনের অক্ষরগুলোর জন্য একটি প্লেস-হোল্ডার যা টেকনোলজিতে ব্যবহার করা হয়।

C-V2X-এ "Everything" এর যত প্রকারভেদ

Qualcomm হচ্ছে C-V2X এর সাপোর্টে কাজ করে যাচ্ছে, এবং এর ভিতরে কি কি ফিচার থাকতে পারে তা এই "X" পরিভাষার মাধ্যমে বলা হয়েছে।

Vehicle-to-Vehicle (V2V) প্রযুক্তি

প্রথমত, আমাদের স্মার্ট গাড়িটিকে তার চারপাশে থাকা সাধারণ যানবাহনগুলোকে সনাক্ত এবং অন্যান্য স্মার্ট গাড়িগুলোর সাথে কমিউনিকেশন করতে হয়। আর এই Vehicle-to-Vehicle (V2V) কমিউনিকেশন প্রযুক্তিটি C-V2X প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই করা সম্ভব হয়েছে।

কারণ গাড়িগুলো মানুষের মতো একে অপরকে চোখের মাধ্যমে সহজেই দেখতে পারে না, তাই V2V কমিউনিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি স্মার্ট গাড়ি কোথায় আছে তা একে অপরকে জানতে দেয়। প্রকৃতপক্ষে, V2V প্রযুক্তির সুবিধাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, স্মার্ট গাড়িটি অতি সূক্ষ্ণ চেকিং এবং মেজারমেন্ট করতে পারে যা একজন সাধারণ মানুষের দ্বারা করা খুবই কঠিন (যদিও সম্ভব) মনে হয়।

উদাহরণস্বরূপ, আপনার স্মার্ট গাড়িটি তার চারপাশে 360-ডিগ্রি ব্যাসার্ধে ডেটা আদান প্রদান করতে পারে। আর স্মার্ট গাড়ির জন্য কোন ব্লাইন্ড স্পট নেই, কারণ এটি কোথায় আছে তা ট্র্যাক করার জন্য মানুষের উপর নির্ভর করতে হয় না।

এছাড়াও যদি আপনার গাড়িটি বাদেও সেখান অন্য একটি স্মার্ট গাড়ি থাকে তাহলে সে সাধারণ অবস্থার থেকে বেশি ডেটা গ্রহণ করতে পারো। আর এই ডেটা আদান প্রদানের মাধ্যমে গাড়িটি তার বর্তমান গতি, গন্তব্য এবং লেন পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও অ্যাড করতে পারে। ফলে আপনার গাড়িটি চলন্ত অবস্থায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং আপনার চারপাশের থাকা অন্যান্য গাড়ি সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারে ফলে স্মার্ট গাড়িটি জানে যে এই মুহূর্তে অন্য গাড়িগুলো কি করতে যাচ্ছে।

তার উপরে, একটি স্মার্ট গাড়ি প্রতি সেকেন্ড ১০ বার এই তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। সুতরাং, সংক্ষেপেঃ আপনার স্মার্ট গাড়িটি 360-ডিগ্রি কোণে প্রতিটি গাড়ির অবস্থান, স্পীড এবং গন্তব্য সম্পর্কে জানতে পারে এবং প্রতি সেকেন্ডে ১০ বার এই তথ্য আপডেট করতে থাকে। এর মানে হচ্ছে যে আপনার স্মার্ট গাড়িটি ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে আগে থেকেই সবকিছুই জানে যা আপনি নিজেও নিজের সম্পর্কে জানেন না।

Vehicle-to-Infrastructure (V2I) প্রযুক্তি

কিন্তু এই প্রযুক্তিটি কি শুধু গাড়িতেই ব্যবহার করতে হবে নাকি অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে? জীবনকে আরও সহজ করার জন্য আমরা এই প্রযুক্তিকে রাস্তা ভিত্তিক অবকাঠামোতে ব্যবহার করতে পারি।

উদাহরণস্বরূপ, ইঞ্জিনিয়ারদের স্মার্ট গাড়িরতে ট্রাফিক লাইটের স্ট্যাটাস শনাক্ত করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে অথবা তারা ট্রাফিক লাইটের পরিবর্তে স্মার্ট গাড়ির কি স্ট্যাটাস হবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে এটি গাড়িগুলোর অবস্থান, বর্তমান অবস্থা এবং যখন ট্র্যাফিক লাইট লাল বা সবুজ হয় তখন আপনার স্মার্ট গাড়িটিকে সর্বোত্তম সিদ্ধান্তটি নিয়ে সাহায্য করে।

এছাড়াও পার্কিং লট থাকা আপনার স্মার্ট গাড়ির লাইভ আপডেট পাবেন যেকোনো যায়গা থেকেই। তাছাড়া নতুন কোন পার্কিং স্পটে পার্কিং করতে আপনাকে ড্রাইভ করতে হবে না; আপনি শুধু গাড়িকে পার্কিং লটের লোকেশন বলে দিন ব্যাস আপনার গাড়িটি নিজেই ড্রাইভ করে সেখানে গাড়িটি পার্ক করবে।

Vehicle-to-Pedestrian (V2P)

অবশ্যই, স্মার্ট গাড়িগুলো শুধু অন্যান্য গাড়ি এবং ট্র্যাফিক লাইটের স্ট্যাটার যাচাই করে তা কিন্তু নয়। কেননা পথচারীদের রাস্তা পার হতে হবে এবং যদি স্মার্ট গাড়ি তা সনাক্ত করতে না পারে তাহলে যেকোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

দুর্ভাগ্যবশত, V2P কমিউনিকেশনে মানুষের উপর চিপ বসানো অসম্ভব। তাই এই ক্ষেত্রে গাড়িগুলোকে মানুষের মতো দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে পথচারীদের সনাক্ত করতে হয়। আর এজন্য C-V2X প্রযুক্তিটি স্মার্ট গাড়ি তৈরি করার ক্ষেত্রে এটি খুবই কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ফলে ডেভেলপারদের মানুষ সনাক্তকরণের কাজটি সঠিকভাবে ডেভেলপ করতে হয়েছে। আর মানুষ সনাক্তকরণ পাওয়ার যদি খুবই নরমাল হয় তাহলে এটি রাস্তা পার হওয়া একজন ব্যক্তিকে সনাক্ত করতে পারবে এবং ফলে মানুষের সাথে গাড়ির সংঘর্ষ হবে না। আর যদি মানুষ সনাক্তকরণ পাওয়ার খুব বেশি কঠিন হয় তাহলে এটি রাস্তা পার হওয়া ক্ষুদ্রতম বস্তুর জন্যও থেমে যেতে পারে, যা যাত্রীদেরকে বিরক্ত করবে।

যাইহোক, এটি সঠিকভাবে ডেভেলপ করা সম্পন্ন হলে, আপনি এমন একটি গাড়ি পাবেন যা আপনার প্রতিক্রিয়া শুরু হওয়ার অনেক আগেই কেউ রাস্তা পার হচ্ছে কিনা তা শনাক্ত করতে পারবে এবং সত্যিই উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে স্মার্ট গাড়িটি ফুটপাতে পথচারীদের নিরীক্ষণ করতে পারে এবং কেউ রাস্তা পার হচ্ছে কিনা তার ভবিষ্যদ্বাণীও করতে পারে।

Vehicle-to-Cloud (V2C) প্রযুক্তি

অবশেষে, আমাদের কাছে Vehicle-to-Cloud (V2C) প্রযুক্তি রয়েছে। আর এর মাধ্যমে আপনার গাড়িটিকে ক্লাউড ভিত্তিক সার্ভিসের সাথে সংযুক্ত করে, ঠিক যেমনি ভাবে আপনি আপনার ফোনে ক্লাউড সার্ভিসগুলোর সাথে কানেক্টেড হয়েছেন। কেননা ক্লাউড সার্ভিসের মাধ্যমে আপনার গাড়িটিকে আপডেট রাখা যায় এবং ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে ক্লাউড সার্ভিস সহায়তা করে আর তা করার জন্য এর জন্য একটি অ্যাপ এর সাথে কানেক্টেড থাকে।

শেষ কথা

C-V2X প্রযুক্তিটিকে একটু জটিল লাগছে তাই না! কিন্তু এটিই হচ্ছে স্মার্ট গাড়ি তৈরির অপরিহার্য অংশ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়িগুলো রাস্তার গাড়ি থেকে শুরু করে ট্র্যাফিক লাইট পর্যন্ত চারপাশের জগৎ এর সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ করে দেয়। এবং আরও বেশি সংখ্যক কোম্পানি যদি স্মার্ট গাড়ি তৈরির প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয় তাহলে এই প্রযুক্তির একটি গাড়ি আমাদের সাধ্যের মধ্যে পেতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলে আশাকরি।

টিউন জোসস করুন, আমার টিউন শেয়ার করুন, টেকটিউনসে আমাকে ফলো করুন, আপনাদের মতামত জানান

আমি এরকম নিত্যনতুন কাজের সফটওয়্যার নিয়ে টেকটিউনসে হাজির হবো নিয়মিত। তবে সে জন্য আপনার যা করতে হবে তা হলো আমার টেকটিউনস প্রোফাইলে আমাকে ফলো করার জন্য 'Follow' বাটনে ক্লিক করুন। আর তা না হলে আমার নতুন নতুন টিউন গুলো আপনার টিউন স্ক্রিনে পৌঁছাবে না।

আমার টিউন গুলো জোসস করুন, তাহলে আমি  টিউন করার আরও অনুপ্রেরণা পাবো এবং ফলে ভবিষ্যতে আরও মান সম্মত টিউন উপহার দিতে পারবো।

আমার টিউন গুলো শেয়ার বাটনে ক্লিক করে সকল সৌশল মিডিয়াতে শেয়ার করুন। নিজে প্রযুক্তি শিখুন ও অন্য প্রযুক্তি সম্বন্ধে জানান টেকটিউনসের মাধ্যমে।

Level 8

আমি রায়হান ফেরদৌস। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 8 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 175 টি টিউন ও 131 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 66 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

ধন্যবাদ ভাই…