ইন্টারনেটের বিভিন্ন জায়গায় কেন আমাদের Captcha পূরণ করতে হয়? এবং এই Captcha না থাকলে বর্তমানে আমাদের যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো, যা আমাদের কল্পনারও বাহিরে

Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছেন। বরাবরের মতো আজও হাজির হয়েছি আপনাদের জন্য নতুন আরো একটি টিউন নিয়ে। অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করতে গেলে আমাদের সামনে একটি সাধারণ বিষয় চলে আসে নিজেকে মানুষ হিসেবে পরীক্ষা করার।

আপনি হয়তো বা এ পর্যন্ত অনেকবার এ রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। যেখানে আপনাকে কোন কাজের সাবমিট করতে হলে নিজেকে মানুষ হিসাবে পরীক্ষা দিতে হয়। অর্থাৎ, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে থাকে "I'm not a robot" অপশন এবং যেখানে আপনাকে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি যে রোবট ননঃ এটি তাদেরকে বোঝাতে হয়। অনলাইনে কোন কিছু কিনতে গেলে কিংবা কোন সাইন আপ এর ধাপ পার হতে গেলে আমাদেরকে এখানে টিক চিহ্ন দিয়ে পার হতে হয়। অনেকে মনে করতে পারে যে, কেনই বা এই বাড়তি ঝামেলার দরকার ছিল।

যেখানে এই I'm not a robot এর উদ্ভাবক হচ্ছে গুগল। গুগল এর নাম দিয়েছে reCaptcha। এবার এই টিউনে আমি আলোচনা করব এই বাড়তি ঝামেলা টি আমাদের কোন উপকারে আসে কিনা এবং কেনই বা আমাদেরকে এই ধরনের টিক চিহ্ন দিয়ে পার হতে হয়। এছাড়া আমরা যে সেখানে টিক চিহ্ন দেই এবং সেখানে তারা কিভাবে বোঝে যে আমরা মানুষ নাকি রোবট? তো চলুন এবার তবে এর আদ্যোপান্ত জেনে নেওয়া যাক।

গুগলের তৈরি reCaptcha এর ইতিহাস

Recaptcha

গুগলের তৈরি reCaptcha এর ইতিহাস জানতে হলে আমাদেরকে চলে যেতে হবে ১৯৯৭ সালের দিকে। যখন প্রথম এই Captcha আবিষ্কার হয়। যদিও এর নামকরণ করা হয়েছে পরবর্তীতে 2003 সালে। Captcha এর পূর্ণরূপ হচ্ছে, Completely Automated Public Burning Test to tell Computer and Humans Apart; যদিও এর পূর্ণরূপ অনেক দীর্ঘ কিন্তু এর মধ্যে অনেক কিছু বা অনেক তথ্য লুকিয়ে আছে। Luis Von Ahn নামের এক ব্যক্তি এই ক্যাপচা এর আবিষ্কারক।

ক্যাপচা ব্যবহার করা হয় স্প্যাম থেকে বাঁচার জন্য। ১৯৯৮ সালে ইয়াহুতে হাজার হাজার মেইল এড্রেস খোলা হয়েছিল Spam bot এর মাধ্যমে। আর তখনই Luis Von Ahn ক্যাপচা নামক এই বিশেষ নিরাপত্তা পদ্ধতির কথা চিন্তা করে। এই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে বুঝানোর জন্য আপনাকে একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। মনে করুন, বাংলাদেশ এবং ভারতের সঙ্গে কোনো এক দিন ক্রিকেট খেলা দেখার টিকিট ছাড়া হয়েছে এবং ক্রিকেট খেলার টিকিট অনলাইনে ছাড়া হল।

যদি অনলাইনে ক্যাপচা না থাকতো তবে কি হত? যেখানে কোনো একজন প্রোগ্রামার নিজের মত করে কোড বানিয়ে সেই টিকিট গুলো একের পর এক কিনতেই থাকত এবং এমনকি সে সবগুলো টিকিট ই একসাথে কিনে নিত। পরবর্তীতে দেখা যেত সেই টিকিটগুলো সে কালোবাজারে উচ্চ দামে বিক্রি করছে। যেখানে সেই চালাক প্রোগ্রামার এক ক্লিকেই অনলাইনে থাকা সমস্ত টিকিট গুলো কিনে নিত এবং সে একাই সেগুলোর মালিক হয়ে যেত। এছাড়া এই ব্যবস্থা টিকে কাজে লাগিয়ে নতুন কোন ইমেইল এড্রেস খোলা এবং কোন ওয়েবসাইটে সাইন ইন করা অনেক সহজ হয়ে যেত।

অর্থাৎ, একসাথে অনেকগুলো ইমেইল এড্রেস খোলা যেত যদি এই ক্যাপচা নামক জিনিসটির অস্তিত্ব না থাকতো। কেউ বুঝতেই পারতো না যে কোন একজন মানুষ এতগুলো ইমেইল এড্রেস খুলছে; কেননা সেই সময় সে সব মেইল এড্রেস গুলো খুলত একজন রোবট। যেখানে কোন একজন চালাক প্রোগ্রামার এমনভাবে কোডিং করেছে, যার মাধ্যমে হাজার হাজার ইমেইল এড্রেস খুললেও তার কোনো পরিশ্রম হবে না। শুধুমাত্র সে তার প্রোগ্রামটি রান করে রাখবে এবং হাজার হাজার মেইল এড্রেস সেই Bot বা Robot নিজেই খুলে নিবে। আপনি এরকম অনেক ওয়েবসাইটে দেখতে পাবেন আঁকাবাঁকা লেখা যুক্ত অনেক ছবি; যেগুলা লিখে ‌সাবমিট করার পর ই একমাত্র সাইন ইন বাটন কাজ করে।

উপরের আপনি যেরকম লেখাগুলো দেখতে পাচ্ছেন এগুলোকে Captcha বলা হয়। ক্যাপচার ভেতরে এই সব লেখাগুলো মানুষ ভালোভাবে পড়তে পারলে ও কম্পিউটার বট এগুলোকে পড়তে পারে না। তবে একসময় গিয়ে দেখা গেল যে, এই ক্যাপচা মানুষের কাজকে অনেক ধীর গতির করে দিচ্ছে এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা এই ধাপটি পার ই হতে পারছে না। কেননা এসব জায়গায় যে সব লেখাগুলো আঁকাবাঁকা ভাবে লেখা হয়েছে সেগুলো সবাই ঠিকমতো বুঝতে পারছেনা। যে সমস্যাটি সবার ক্ষেত্রেই কমবেশি হচ্ছে।

যদিও ক্যাপচা‌ পূরণ করার সময় কোন একটি লেখা না বুঝলে পরবর্তী আরও কোনো ক্যাপচা নেবার অপশন রয়েছে। ‌ কিন্তু যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তারা এই বিষয়টি ও ভালো ভাবে দেখতে পারে না। কেননা অনেক সময় অনেক ঝাপসা পূর্ণ জায়গায় লেখাগুলোকে প্রদর্শন করা হয়। আর এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য গুগল নতুন একটি পদ্ধতি তৈরি করে। আর এটি হচ্ছে reCaptcha।

ক্যাপচা কে মানুষের জন্য সহজ এবং কম্পিউটার বট এর জন্য আরো কঠিন করে তোলার জন্য reCaptcha আমাদের সামনে আনা হয়। যেখানে একটি ক্যাপচা না বুঝলে অন্য একটি ক্যাপচা, অডিও ক্যাপচা, ফান ক্যাপচা এবং সহজ অংকের মত নানা ধরনের ক্যাপচা আবিষ্কার করা হয়। কিন্তু কম্পিউটার এবং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে সবকিছু এগুলোর কাছে হার মেনে যায়। যেখানে এমন একটি সময় আসলো যে, ক্যাপচা সমাধানে মানুষের চাইতে রোবটই বেশি এক্সপার্ট হয়ে গেল। আর তখনই গুগল নিয়ে আসলো NoCaptcha reCaptcha, যেটি মানুষের জন্য সহজ এবং কম্পিউটার বট এর জন্য অনেক কঠিন বা অসম্ভব।

তবে reCaptcha-তেও কিছু ছবি দিয়ে সেগুলো সনাক্ত করতে বলা হয়। যেখানে তারা অনেক প্রমান পাবার পরও এটি দেখার চেষ্টা করে আপনি কি মানুষ নাকি অন্য কিছু বা রোবট। এবার চলুন আলোচনা করা যাক reCaptcha কিভাবে কাজ করে।

reCaptcha কিভাবে কাজ করে?

আপনি যখন আপনার স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটারে I'm not a robot এর জায়গায় বক্সে ক্লিক করেন, তখন সেখানে আপনার মাউসের মুভমেন্ট খেয়াল করা হয়। যদি এক্ষেত্রে মানুষ হয় তবে মাউসটি এদিক-ওদিক নড়ে চড়ে আসবে এবং সেটি যদি বট হয় তবে ক্লিকটি সরাসরি এসে পড়বে। এছাড়া আপনার আইপি, ব্রাউজিং কুকিজ, হিস্টরি, একই কাজটি পূর্বে কতবার করার চেষ্টা করেছেন এবং আরো কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো গুগল প্রকাশ করেনি, সেসব বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে এটি নির্ধারণ করা হয় আপনি মানুষ নাকি রোবট। এসব কাজগুলো খুব দ্রুত করা হয়। আর এসব বিষয়গুলো লক্ষ্য নির্ধারণ করে যদি আপনাকে মানুষ এবং রোবটের পার্থক্য গুগল বুঝতে না পারে তবে আপনাকে ছবি দেখে সনাক্ত করতে বলা হয়।

এ পদ্ধতিতে সেই ক্যাপচার ভেতরে কিছু ছবি দেওয়া থাকে এবং আপনাকে কোন ছবিগুলো কে সিলেক্ট করতে হবে তা উপরে লেখা থাকে। এবার আপনি যে রোবট নন এটি প্রমাণ করার জন্য সেসব ছবি গুলোর মধ্য থেকে সেই নির্দিষ্ট ছবিগুলোতে টিক চিহ্ন দিতে হবে। সেই লেখার সঙ্গে যদি সেই ছবিগুলো এর মিল খুঁজে পাওয়া যায় তবে I'm not a robot এর বক্সে টিক চিহ্ন উঠে যাবে এবং আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, আপনি যে রোবট নয় এটি প্রমাণ করার জন্য আপনাকে অনেকবার এই ছবিগুলো কে সিলেক্ট করতে বলা হতে পারে। যদিও আমরা এই জিনিসটি সকলেই লক্ষ্য করে থাকি।

আপনি অনেক সময় দেখে থাকবেন যে, ক্যাপচা পূরন করার জন্য বক্সে ক্লিক করার পর আপনাকে কোন ধরনের ছবি না দেখিয়ে সেই বক্সে টিক চিহ্ন উঠে যায়। ক্যাপচা এর মাধ্যমে আপনি যে রোবট নন এটি প্রমাণ করার জন্য যেখানে আপনাকে কোন ছবি শনাক্ত করতে বলা হয় না। এর কারণ হচ্ছে, গুগল আপনার অন্যান্য অ্যাক্টিভিটি গুলো বিবেচনা করে সেটি নির্ধারণ করেছে যে আপনি একজন মানুষ। reCaptcha বক্সে ক্লিক করার আগে আপনি যদি এমন আচরণ করেন যে আপনি একজন মানুষ তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে গুগল সেটি বুঝতে পারবে।

বিশেষ করে আপনি যদি reCaptcha বক্সে ক্লিক করার আগে ডিসপ্লের উপর হাত নড়াচড়া করেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন আপনাকে আর reCaptcha এর জায়গায় কোন ছবিতে ক্লিক করে প্রমাণ করতে হবে না আপনি একজন রোবট। এছাড়া আপনি যদি ডেক্সটপ থেকে এই কাজটি করেন তবে সরাসরি সেই বক্সে ক্লিক না করে বরং কিছুক্ষণ মাউস পয়েন্টার এদিক-ওদিক নিয়ে গেলে অনেক সময় বিনা প্রমাণে সেটিতে টিক চিহ্ন উঠে যায়। যদিও এই কৌশলটি সবসময় কাজে লাগে না। কিন্তু অনেক সময় এই কৌশলটি কাজে লাগালে আর reCaptcha পূরণ করতে হয় না। আমিও এই ট্রিকসটি অনেক সময় কাজে লাগিয়ে দেখেছি।

সবশেষে বলব, ক্যাপচা আমাদের উপকারেই ব্যবহার করা হয়। তাই মাঝে মাঝে এটি আমাদের জন্য বিরক্তিকর মনে হলেও বৃহৎ স্বার্থে এই ক্ষুদ্র ত্যাগকে আমাদের মেনে নিতে হবে। যেখানে তারা যদি ওয়েবসাইটের ভেতরে এসব ক্যাপচা না দিত, তবে কোন একজন প্রোগ্রামার কম্পিউটার বট এর মাধ্যমে হাজার হাজার স্প্যাম জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুলতে পারতো। অনলাইনে ক্যাপচা না থাকলে শুধুমাত্র যে স্প্যাম জিমেইল একাউন্ট কিংবা অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট ভরে যেত তা নয়। বরং আপনিও আপনার জীবনের অনেক সমস্যায় পড়ে যেতেন।

যেমন ধরুন, কোন একদিন বাংলাদেশ এবং ভারতের সঙ্গে আমাদের ক্রিকেট খেলা রয়েছে। এবার সেই টিকিটগুলো যদি অনলাইনে ছাড়া হয়, তবে দেখা যাবে কিছুক্ষণের মধ্যে সেই টিকিটগুলো উধাও হয়ে গিয়েছে। এর কারণ হচ্ছে কোন একজন প্রোগ্রামার এমন কোন কোড বানিয়েছে যেটির মাধ্যমে হাজার হাজার টিকিট একসঙ্গে কেনা যাবে। যেখানে সেই কম্পিউটার বট একটি টিকিট কেনার পর আরও একটি টিকিট পর্যায়ক্রমে কিনতেই থাকবে। আর তখন আপনাকে চড়া দামে টিকিট কিনতে হবে কালো বাজার থেকে।

কিন্তু এখানে যদি সেই কম্পিউটার বট এর পরিবর্তে কোন মানুষ সেই কাজটি করে, তবে একজন মানুষের পক্ষে এত সময় ধরে টিকিট কাটা সম্ভব না। একইভাবে জিমেইল একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রেও মানুষ এত সময় ধরে হাজার হাজার জিমেইল খুলতে পারবেনা বা পারলেও তা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আর এ কারণে গুগল বেঁচে যাবে হাজার হাজার স্প্যাম একাউন্ট এর হাত থেকে। সেইসঙ্গে কোন ওয়েবসাইটে ক্যাপচা বসানোর মাধ্যমে সেই ওয়েবসাইটে রোবটের প্রবেশ ঠেকানো সম্ভব। যেখানে ক্যাপচা এর জন্য আপনি এবং ওয়েবসাইটের মালিক থাকছে নিরাপদ।

শেষ কথা

বর্তমান প্রযুক্তি উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বিভিন্ন কৌশল এবং অপরাধ করার প্রবণতা বেড়েছে। যেখানে মানুষ সব রকমের চেষ্টা করে কোন একটি প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেবার জন্য। যেটির ব্যতিক্রম নয় কোন ওয়েবসাইটও। আর এসব ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে গুগলের ক্যাপচা। যেটি কোন ওয়েবসাইটে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাজ করে।

শেষে আপনাকে আরো একটি কথা বলে নিচ্ছি তা হলো, আপনি যদি একজন মানুষ হয়ে থাকেন তবে আমাকে ফলো করে রাখুন। কেননা আমি এরকমই টিউন নিয়ে প্রতিনিয়ত ও আপনাদের সামনে হাজির হই। সেইসঙ্গে টিউনটি ভাল লাগলে তো জোসস দিতে ভুলবেন ই না। আর যদি আপনি একজন রোবট হয়ে থাকেন তবে বসে বসে মুড়ি খান। 🤣

আজ তবে এ পর্যন্তই। খুব শীঘ্রই আপনাদের সামনে দেখা হচ্ছে নতুন আরো কোন টিউন নিয়ে ইনশাআল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 7 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 163 টি টিউন ও 55 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 15 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস