ডিসপ্লের 2K, 4K এবং 8K কি? এবং এগুলো দ্বারা কি নির্দেশ করে?

Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমরা আমাদের বাড়িতে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টেলিভিশন ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকি। এছাড়া আমরা প্রতিদিন স্মার্টফোন ও ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আমরা এসব জিনিস ব্যবহার করার ক্ষেত্রে হয়তোবা কিছু জিনিস কে লক্ষ্যই করি না কিংবা লক্ষ্য করলেও সেগুলো জানিনা।

কোন একটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, সেটি হতে পারে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, আপনার স্মার্টফোন কিংবা আপনার বাড়িতে থাকা টেলিভিশন এর সবচাইতে আকর্ষণীয় এবং দৃশ্যমান জিনিসটা হচ্ছে ডিসপ্লে। কেননা একটি ডিভাইস এর ডিসপ্লের সঙ্গেই আপনি বেশি সময় কাটিয়ে থাকেন এবং ডিসপ্লেতেই আপনি সবকিছুর আউটপুট দেখতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার ব্যবহৃত ডিভাইসটির যদি ডিসপ্লে ভালো না হয় তবে এটির সম্ভাবনা থাকে যে, আপনি সেই ডিভাইসটির চালিয়ে কোনো মজা পাবেন না। ডিসপ্লের কথা চলে আসলে এখানে পাশে এর রেজুলেশনের কথা।

ডিসপ্লের ক্ষেত্রে যেখানে রয়েছে HD, Full HD, Quad HD, Ultra HD, 2K, 4K এমনকি 8K পর্যন্ত। আপনি আপনার স্মার্টফোন, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশন কেনার ক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই বিষয়গুলো লক্ষ্য করে থাকবেন। আর আপনি যদি এখনো না জেনে থাকেন যে এই বিষয়গুলো কি, তবে দেখতে থাকুন সম্পূর্ণ টিউনটি। আজকের টিউনে আমি আপনাদেরকে বলতে চলেছি রেজুলেশন কি এবং আপনার ডিভাইসের জন্য কোন রেজুলেশন টি সবচাইতে ভালো। তো, টিউনটি শেষ পর্যন্ত অবশ্যই দেখুন।

ডিসপ্লে রেজুলেশন কি?

ডিসপ্লে রেজুলেশন দিয়ে একটি ডিসপ্লে তে কতগুলো পিক্সেল রয়েছে সেটিকে বোঝানো হয়। এখন অনেকেই আবার বলতে পারে যে, এই পিক্সেল আসলে কি? তো দেখুন, আমরা আমাদের ডিভাইস এর ডিসপ্লে তে যেসবই দেখি না কেন সেগুলো সমস্তই পিক্সেল দিয়ে তৈরি হয়। একটি ডিসপ্লেতে অনেকগুলো ছোট ছোট পিক্সেল থাকে, যেটি নির্ভর করে এর রেজুলেশন এর উপর। আর একটি পিক্সেল কে আপনি ছোট্ট একটি লাইট বলতে পারেন, যেগুলো যেকোনো কালারে জ্বলতে পারে। তো সেটা কিভাবে?

তো দেখুন, একটি পিক্সেল এর ভিতরে তিনটি করে সাব-পিক্সেল থাকে, যেগুলো হয় Red, Green, Blue রঙ্গের। যেদিকে সংক্ষেপে বলা যায় RGB কালারের এবং এগুলোকে মিশ্রণ করে যেকোন কালার সেগুলো ধারণ করতে পারে। এখানে ডিসপ্লে তে যদি সাদা দেখাতে হয় তবে তিনটি পিক্সেল একসঙ্গে জ্বলবে অর্থাৎ, RGB কালার গুলো এবং সেগুলো মিলে হোয়াইট কালার প্রদর্শন করবে। আর যদি ডিসপ্লেতে কোন অংশকে কালো দেখাতে হয়, তবে তিনটি পিক্সেল ই একসঙ্গে নিভে যাবে। এভাবে করে সাব-পিক্সেল এর মাধ্যমে কোন একটি পিক্সেল যেকোন কালারে জ্বলতে পারে।

একটি ডিসপ্লে তে যত বেশি রেজুলেশন হবে তার মানে সেই ডিসপ্লে ততবেশি পিক্সেল হবে। যেখানে সেই ডিসপ্লে টি ততবেশি সার্ফ এবং ক্লিয়ার হবে। তো, আপনি এবার ভাবতে পারেন সেটি কিসের জন্য? চলুন, তবে এর একটি উদাহরণ দেখে নেওয়া যাক।

এক্ষেত্রে ধরে নিন যে আপনাকে একটি বড় তুলি দেওয়া হল যেটি দিয়ে আপনাকে খাতায় অংকন করতে হবে; কিন্তু সেই তুলিটি ছিল দেওয়ালে অংকন করার জন্য। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনি সেই তুলি দিয়ে খাতায় সঠিকভাবে অঙ্কন করতে পারবেন না, যেরকম ভাবে আপনি ছোট্ট একটি তুলি দিয়ে অঙ্কন করতে পারবেন। এখানে সেই বড় তুলি দিয়ে আপনি খাতায় ডিটেলস এর সঙ্গে অঙ্কন করতে পারবেন না যেরকম ভাবে ছোট তুলি দিয়ে করতে পারতেন। আর এই একই জিনিসটি ডিসপ্লের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেখানে পিক্সেল গুলো যত ছোট হবে সেখানে ডিসপ্লেটি তত বেশি ডিটেলস এর সঙ্গে আপনাকে দেখাতে পারবে এবং ডিসপ্লে টি ততই বেশি ক্লিয়ার হবে।

অন্যদিকে একই ডিসপ্লের পিক্সেল যত বেশি বড় হবে, সেই ডিসপ্লেটির পিকচার কোয়ালিটি ততই বেশি খারাপ হবে এবং এক্ষেত্রে ডিসপ্লে তে ততই কম পরিমাণ ডিটেলস শো করবে। আর একটি ডিসপ্লের যত বেশি রেজুলেশন হবে তার পিক্সেল এর সংখ্যা তত বেশি হবে। কেননা এখানে একই সাইজের বেশি রেজুলেশন অর্থাৎ, পিক্সেল গুলোকে ফিট করা হচ্ছে।

যদি একটি এইচডি রেজুলেশন এর ডিসপ্লে তে 16:9 expect ratio হয় এবং লম্বা তে 1280 পিক্সেল থাকে এবং চওড়াতে 720 পিক্সেল থাকে সেটিকে আমরা 720p বা HD ডিসপ্লে বলে থাকি। তেমনি ভাবে একটি ফুল এইচডি ডিসপ্লে তে লম্বাতে 1920 টি এবং চওড়াতে 1080 টি পিক্সেল থাকে তবে এটিকে আমরা (1080p) বা FHD এর ডিসপ্লে বলে থাকি। তেমনিভাবে কোয়াড এইচডি ডিসপ্লে তে 2560×1440 পিক্সেল থাকলে 1440p বা QHD ডিসপ্লে বলে থাকি এবং 3840×2160 ডিসপ্লে কে UHD (Ultra HD) বা 4k বলা হয়। তবে এটিকে 4k ডিসপ্লে বলা চলে না।

কেন এই ডিসপ্লে দিকে 4k বলা যায় না সেটি নিয়ে একটু নিচে আলোচনা করছি। যাইহোক, আপনি হয়তো বা এখানে 1080p এর এই জায়গায় P-কে বুঝতে পারেননি। এখানে এই P-টি হচ্ছে পিক্সেল।

এখানে বলার মাঝে একটি কথা চলে আসে যে, Expect ratio। অনেকেই আবার বলতে পারে যে এই Expect ratio টি আবার কি? তো দেখুন, একটি ডিসপ্লের লম্বার তুলনায় কতটা চওড়া হবে অথবা চওড়ার তুলনায় কতটা লম্বা হবে সেই Ratio টিকে Expect ratio বলা হয়। আর এখানে 16:9 এর অর্থ হচ্ছে একটি ডিসপ্লে টি যদি 16 ইঞ্চি লম্বা হয় তবে চওড়ায় হবে 9 ইঞ্চি। এবার আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে Expect ratio কি।

ডিসপ্লে এর 2k, 4k, 8k কি‍‌?

আমরা কিন্তু k দিয়ে হাজার কে প্রকাশ করি। অর্থাৎ, একটি ডিসপ্লের লম্বায় যদি দুই হাজার টি পিক্সেল থাকে তবে এটিকে আমরা 2k ডিসপ্লে বলবো। একইভাবে তিন হাজার পিক্সেল থাকলে 3k, চার হাজার পিক্সেল থাকলে 4k এবং আট হাজার পিক্সেল থাকলে সেটিকে 8k ডিসপ্লে বলবো। যেহেতু একটি UHD ডিসপ্লের লম্বায় 3840 পিক্সেল থাকে সেহেতু এটিকে 4k ডিসপ্লে বলা চলে না। কেননা এখানে চার হাজার টি পিক্সেল নেই।

একটি ডিসপ্লেতে যদি চার হাজার টি পিক্সেল থাকে তবে এটিকে 4k ডিসপ্লে বলা হবে, এর নিচে পিক্সেল থাকলে এটিকে স্বাভাবিকভাবে 4k বলা যায় না। কিন্তু যেহেতু 3840 পিক্সেল চার হাজার পিক্সেল এর কাছাকাছি, সেহেতু আমরা UHD ডিসপ্লে গুলোকে আমরা 4k ডিসপ্লে হিসেবে জানি বা গণনা করি। একইভাবে যদি আপনি অন্যান্য ডিসপ্লে গুলোর রেজুলেশন কে বিবেচনা করেন তবে আপনি নিজেই হিসাব করতে পারবেন যে কোন ডিসপ্লেটি কত k রেজুলেশনের। যেখানে আপনি এই হিসাব টিকে খুব সহজেই মেলাতে পারবেন।

আমরা যেমন সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা অনলাইন প্লাটফর্ম গণনার কাজে k-কে ব্যবহার করি হাজার নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে, ঠিক তেমনি ভাবে এখানেও পিক্সেল সংখ্যাকে নির্ধারণ করার জন্য k-এর ব্যবহার করা হয়। এখানে ডিসপ্লেটির যত পিক্সেল হয়েছে সেগুলো কে একত্রে বলার জন্য সহজভাবে 2k, 4k বা 8k বলা হয়। এখন থেকে আপনি যদি এই 2k, 4k বা 8k ইত্যাদি এগুলো দেখেন তবে 2k এর অর্থ বুঝবেন যে, এখানে এই ডিসপ্লেতে হয়তোবা 2000 পিক্সেল রয়েছে অথবা এর আশেপাশে রয়েছে। একইভাবে আপনাকে যদি বলা হয় যে এই ডিসপ্লে 4k রেজুলেশনের, তবে এখানে বুঝতে হবে যে এই ডিসপ্লে তে 4000 পিক্সেল রয়েছে অথবা এর আশেপাশে পিক্সেল সংখ্যা রয়েছে। যেখানে কোন ডিসপ্লের পিক্সেল সংখ্যা যত বেশি হবে সেই ডিসপ্লেটির ততো বেশি সার্ফ এবং ক্লিয়ার হবে।

আর এজন্যই আমরা দেখতে পারি যে, একটি ডিসপ্লে যদি 4k কিংবা 8k হয় তবে সেই ডিসপ্লে টি অনেক বেশ ক্লিয়ার হয়। কেননা এখানে অনেক বেশি পিক্সেল থাকার জন্য এখানে বেশি পরিমাণে লাইট রয়েছে এবং এগুলো খুব ডিটেলস এর সঙ্গে আপনাকে কোন কিছু প্রদর্শন করাতে পারে। তাই একটি ডিসপ্লের যত বেশি পিক্সেল হবে, সেই ডিসপ্লে তত বেশি আপনাকে ক্লিয়ার হবে।

তো বন্ধুরা আমি আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে, HD, FHD, QHD, UHD ডিসপ্লে সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। যদি আজকের এই টিউনটি আপনার কাছে অনেক তথ্যবহুল মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের মাঝে টিউনটির লিংক শেয়ার করতে পারেন; যাতে করে আপনার বন্ধু ও ডিসপ্লে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারে। আপনার কাছে যদি টিউনটি ভালো লেগে থাকে তবে টিউনটিতে একটি জোসস করবেন এবং সেইসঙ্গে কেমন লাগলো সেটিও নিচের টিউনমেন্ট বক্সে টিউমেন্ট করে জানাবেন। আর আপনি যদি আমাকে এখনও ফলো করে না রেখে থাকেন তবে এখনই উপরের ফলো বাটন টি তে ক্লিক করে ফলো করে রাখবেন, কেননা আমি এরকম নিত্যনতুন টিউন নিয়ে আপনাদের সামনে প্রতিদিন হাজির হই। আমাকে ফলো করে রাখলে নিত্যনতুন টিউনগুলো আপনি সর্বদা টেকটিউনসের হোমপেজে দেখতে পাবেন।

তো বন্ধুরা ডিসপ্লে সম্পর্কিত আজকের এই টিউনটি এখানেই তবে শেষ করছি এবং আপনাদেরকে আমার পরবর্তী টিউন দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। দেখা হবে তবে পরবর্তী সেই টিউনে ইনশাআল্লাহ। সবাই যে যার অবস্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করুন, মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন এবং করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। আসসালামু আলাইকুম।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 7 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 163 টি টিউন ও 55 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 15 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস