পাইরেসি আমাদের কতটা পিছিয়ে দিয়েছে?

শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকে বুঝতে পারছেন না আমি কিসের পাইরেসির কথা বলছি। অনেকের কাছে হয়তো আবার পাইরেসি শব্দটি নতুন মনে হতে পারে। তাই, প্রথমেই পাইরেসি সম্পর্কে আলোচনা করা দরকার। এরপর আমরা আমাদের জীবনে পাইরেসির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবো।

পাইরেসি বলতে বোঝায় চুরি। মনে করুন, আপনি একটি খুব ই মূল্যবান বই লিখলেন এবং এই বইটি লিখতে আপনার জীবনের অর্ধেক সময় ব্যয় করে ফেলেছেন। এখন আপনি বইটি ১২০০ টাকায় বাজারে ছেড়েছেন। আপনার বইটি খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে। এখন এক লোক আপনার বইটি কিনে সে আবার বইটি ছাপিয়ে মাত্র ৩০০ টাকায় বিক্রি শুরু করে দিল। এটাই হচ্ছে পাইরেসি।

বাংলাদেশের ৯২ % লোক পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে, বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। এটা আমাদের দেশের জন্য খুবই লজ্জাজনক। এই সমস্যার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। আমরা যদি এখন সচেতন না থাকি তাহলে পরবর্তিতে এটা অনেক ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

আমরা এতটাই পাইরেসির সাথে যুক্ত হয়েছি যে, অনলাইন থেকে কোন সফটওয়্যার কেনা যায় এটা আমরা বিশ্বাস ই করতে পারিনা। আমরা পাইরেটেড জিনিস এর প্রতি খুব বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছি। বর্তমানে, একলোক যদি ভালো একটি রিসোর্স তৈরি করে তাহলে দেখা যায় ২-৩ দিনের মধ্যে সেটার পাইরেসি শুরু হয়ে যায়। পাইরেসির কারণে আমরা আপডেটেড সফটওয়্যার পাচ্ছি না।

আমরা কম্পিউটার এ অপারেটিং সিস্টেম এ পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করে অভ্যস্ত। অনেকে, আমাকে বলে কিসের পাইরেসি? ৫০ টাকা দিয়ে ডিভিডি কিনেছি। ভাই, একটি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম অরিজিনাল কিনতে ৭০০০-১২০০০ টাকা লাগে। আর আপনি সেটা ৫০ টাকায় কিনে পাইরেসি মুক্ত দাবী করেন? আবার মাইক্রোসফট অফিস কিনতে গেলে ৩০০০-৪০০০ টাকা লাগে, ফটোশপ কিনতে গেলে টাকা লাগে, অ্যান্টিভাইরাস কিনতে গেলে ১০০০-১২০০ টাকা লাগে।

কিন্তু, আমরা এসব সফটওয়্যার পাইরেটেড ব্যবহার করে অভ্যস্ত। আপনার মনে এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, "সব সফটওয়্যার-ই পাইরেটেড তাহলে আমরা কি ব্যবহার করবো?” আপনার যদি কেনার সামর্থ্য থাকে তাহলে কিনে ব্যবহার করুন। আর যদি কেনার সামর্থ্য না থাকে তাহলে? কেনার সামর্থ্য না থাকলেও এর বিকল্প আছে। এক্ষেত্রে, আপনি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম যেমন উবুন্টু ব্যবহার করতে পারেন।

প্রায় প্রত্যেকটি পাইরেটেড সফটওয়্যার এর বিকল্প ফ্রি সফটওয়্যার রয়েছে। আমি উইন্ডোজ ব্যবহার করার বিপক্ষে না, আমি পাইরেসির বিপক্ষে কথা বলছি। তবে, আমরা চাইলেই পাইরেসি থেকে মুক্ত থাকতে পারি। প্রথমদিকে একটু সমস্যা হতে পারে। তবে, আমাদের নিজেদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এতটুকু তো করতেই হবে। আমরা যদি পাইরেসি বন্ধ করে কোন জিনিস কিনে ব্যবহার করি তাহলে আমাদের দেশেই খুব ভালো মানের প্রোডাক্ট তৈরি হবে।

ইসলাম ধর্মে পাইরেসি করার অনুমতি নেই। এমনকি, পাইরেসির সফটওয়্যার ও ব্যবহার করার অনুমতি নেই যদিও আপনি সেটি কিছু টাকার বিনিময়ে কিনে থাকেন। কেননা, পাইরেসি সফটওয়্যার কেনার মাধ্যমে অন্যায় কাজকে সাহায্য করা হয়। তাহলে, আপনি নিজেই চিন্তা করুন, আপনি কম্পিউটার এ যে অপারেটিং সিস্টেম এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন সেটা জায়েজ হচ্ছে কি না? যদি বাজারে এসব সফটওয়্যার এর বিকল্প না থাকতো তাহলে হয়তো ব্যবহার করতে পারতেন।

কিন্তু আমরা জেনে শুনে বাজার থেকে পাইরেটেড সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করছি। এতে, অন্যরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আবার অনেকের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কিনে ব্যবহার করছেন না। ইসলাম ধর্ম কখনো অন্যের হক নষ্ট করা কিংবা চোরাই পণ্য কেনা-বেচা সমর্থন করে না। আশাকরি, আমাদের চিন্তাভাবনা কিছুটা পরিবর্তন হবে। আমি আবারো, বলছি আমি কোন সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেম এর বিপক্ষে কথা বলছিনা আমি পাইরেসির বিপক্ষে কথা বলছি। আমি পাইরেসি থেকে মুক্ত। আশাকরি, আপনিও পাইরেসি মুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত তো?

আমি এখানে আমার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছি। কোন ভুল থাকলে জানাবেন। ধন্যবাদ সবাইকে লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য।

আমার ফেইসবুক আইডি এখানে

Level 0

আমি জিহাদুর রহমান নয়ন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর 11 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 2 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস