ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে বা বই পড়ে কোন কিছু দ্রুত শেখার কৌশল জেনে নিন

আমরা প্রতিদিনই  কিছু না কিছু শিখি। এই শেখার কৌশলেও অনেক বৈচিত্রতা আছে। কেউ পছন্দ করেন বই পড়ে শিখতে, কেউ অডিও শুনেই অনেক কিছু শিখে ফেলেন, কেউ কেউ শেখার জন্য বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন , এনিমেশন বা সিনেমা দেখেও অনেক কিছু শেখা যায়, কেউ কেউ আবার শেখার জন্য ল্যবরেটরীতে বিভিন্ন ধরণের গবেষণা চালান।

বর্তমান সময়ে কোন কিছু শেখার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে শেখা। আমার মতো নিশ্চয় আপনারও এই কৌশলটি খুব পছন্দের। আমাদের অনেকেরই মধ্যে অনেক কিছু শেখার আগ্রহ জাগে, এই যেমন বিভিন্ন ধরণের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, গেম ডেভলপমেন্ট আরো অনেক কিছু। কিন্তু আমাদের ইচ্ছা থাকলেও সময় এবং অন্যান্য সীমাবদ্ধতার করণে সবকিছু  শেখা  সম্ভব হয় না। কিন্তু আমরা কিছু কৌশল অবলম্বন করলে সবকিছু শিখে ফেলতে না পারলেও অনেক কিছু শিখতে পারবো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই।

 

ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে বা বই পড়ে কোন কিছু দ্রুত শেখার কৌশল সমূহ

পরিকল্পনা করে শেখা শুরু করুন: কোন বিষয় শেখার শুরুতেই পরিকল্পনা করে শুরু করুন। বাস্তবতার সাথে মিল রেখে একটা লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করুন। হতে পারে এক সপ্তাহ, একমাস, ছয়মাস এমনকি এক বছরের বেশিও হতে পারে। প্রতিদিন কতটুকু সময় শিখবেন , তা নোট করুন এবং একটা ডাইরিতে হিসেব রাখতে পারেন। প্রতিদিন কখন শিখতে শুরু করলেন, কি কি শিখলেন, কখন শেষ করলেন।

প্রতিদিন নিয়মিত শিখুন:  কোন বিষয় শেখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার। কোন একদিন অনেক বেশি শিখলেন, তারপর আর ৭ দিন সময়ই দিলেন না এমনটা করা ঠিক নয়, বরং প্রতিদিন ১ ঘন্টা করে হলেও নিয়মিত শিখুন।

অনুশীলন করা: যা পড়লেন বা যা ভিডিওতে দেখলেন নিজে সেই বিষয়টি সঠিকভাবে কাজ করে কিনা একবার হলেও অনুশীলন করুন। সম্যায় পড়লে কোর্সের প্রশিক্ষক/কতৃপক্ষ বা সম্পর্কযুক্ত ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রুপের বন্ধুদের সাথে বা এক্সপার্টদের সাথে শেয়ার করে সমাধান করে নিন।

ভিডিও টিউটোরিয়াল ম্যাপিং করুন: এটা একটা দারুন কৌশল দ্রুত কাজ শেখা এবং প্রযোজনে প্রয়োগ করার জন্য খুবই সহায়ক। একটা ভিডিও টিউটোরিয়ালের কোন কোর্সে অনেকগুলো ভিডিও থাকে, প্রতিটা ভিডিওতে অনেকগুলো ছোট ছোট বিষয় অলোচনা করা থাকে। আপনি যখন একটা একটা করে ভিডিও দেখবেন তখন প্রতিটা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় কোনটা কখন কত মিনিটে আলোচনা করা হয়েছে একটা .text ডকুমেন্ট তৈরি করে নোট করে রাখুন। এই নোটগুলো প্রয়োজনের মূহর্তে সহযোগিতা করবে। ধরুন আপনার ক্লায়েন্ট একটা কাজ দিয়েছে কাজটি খুব কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, বিষয়টি আপনি ভিডিওতে দেখেছিলেন। এ অবস্থায় ম্যাপিং করা থাকলে দ্রুত   ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশ দেখেই  কাজটি করে দিতে পারবেন।

ছোট ছোট প্রজেক্ট করুন: প্রতিদিন যতটুকু শিখলেন তা দিয়ে নিজের সৃজনশীলতাকে প্রয়োগ করে নিজের মতো করে কিছু তৈরি করার চেষ্টা করুন। যা তৈরি করলেন তা সোশ্যাল মিডিয়ায়ায় বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, ফোরামে পোস্ট করতে পারেন বা codepen এর মতো সাইট গুলোতে শেয়ার করতে পারেন।

সারসংক্ষেপ তৈরি করুন : যা শিখলেন তার উপর দুইচার লাইনে শর্টনোট লিখে রাখতে পারেন। পরবর্তীতে এই শর্টনোট গুলো আপনার কাজে লাগবে। এই নোটগুলো আপনার নিজের ওয়েব সাইটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায়ায় পেজ তৈরি করে রাখতে পারেন।

আপনার অনুশীলন করা কোড এবং প্রয়োজনীয় নোট ক্লাউডে স্টোর করে রাখুন :   অনুশীলন করা সোর্সকোড,প্রজেক্ট ও প্রয়োজনীয় নোট ক্লাউডে স্টোর করে রাখুন যাতে করে আপনি বাসায়,অফিসে বা অন্য যেখানেই থাকুন না কেন প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারেন।

যা শিখলেন সম্ভব হলে নিজের মতো করে লিখুন বা নিজের ভাষায় ভিডিও তৈরি করে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন: শেখার অন্যতম পন্থা হলো অন্যকে শেখানো। আমি যখন HTML,CSS শিখেছিলাম, তার জন্য যা নোট করেছিলাম, সেই নোটগুলো এবং সোর্সকোড দিয়ে দুইটা ই-বুক তৈরি করে সবার সাথে শেয়ার করেছিলাম। অনেক ভুলট্রুটি ছিলো যা আন্যরা আমার সাথে শেয়ার করেছিলো এবং পরবর্তীতে সেই ভুলগুলো থেকে সঠিক বিষয়টি শিখতে পেরেছিলাম।

 

শেষ কথা

কেউ কখনোই একদিনে কোন বিষয়ে ওস্তাদ হয় না, কাজ করতে করতে কোন বিষয়ে দক্ষতা আসে। তাই অনেক অনেক বিষয় শিখুন, নিয়মিত শিখুন, ম্যাপিং করুন, নোট করুন,অন্যদের সাথে শেয়ার করুন, কাজ করুন আর হয়ে যান ওস্তাদ। ভিডিও দেখার সময় বা বই পড়ার সময়ই যে আপনাকে সব শিখে ফেলতে হবে এমনটা নয়, সুন্দর ভাবে ম্যাপিং করে রাখুন, প্রয়োজনের সময় আবার দেখে নিন।

এক সময় সবাই বলতো পুথিগত বিদ্যা কোন কাজে আসে না কথাটা অংশিক সত্য ছিলো, কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা পকেটে ল্যাইব্রেরি নিয়ে ঘুরতে পারি তাই সঠিকভাবে ম্যাপিং করা থাকলে পুথিগত বিদ্যাও অনেক সহায়ক হতে পারে।

আর সব সময় অন্যকে শিখতে সহযোগিতা করতে হবে। অন্যকে জটিল কোন পথ না দেখিয়ে সহজে যেন শিখতে পারে এমন কৌশল শেখাতে হবে, তাহলেই আমাদের সামগ্রিক অগ্রগতি সাধিত হবে।

 

সবাইকে ধন্যবাদ। এখানেই শেষ করছি। শুভকামনা রইলো

Level 2

আমি অসীম কুমার পাল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 12 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 147 টি টিউন ও 469 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 17 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

আমি অসীম কুমার পাল। ইলেকট্রনিক্স এবং ওয়েব ডিজাইনকে অন্তরে ধারণ করে পথ চলতেছি। স্বপ্ন দেখি এই পৃথিবীর বুকে একটা সুখের স্বর্গ রচনা করার। নিজেকে একজন অতি সাধারণ কিন্তু সুখী মানুষ ভাবতে পছন্দ করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

অনেক দিন পর টিউটোরিয়াল সম্পর্কে লিখলাম। লেখাটা যেন নিজের জন্যই লিখলাম মনে হচ্ছে। আমার নিজেরও অনেক কাজে আসবে। আসলে কোন বিষয়ে চিন্তা করলে অনেক কিছু মাথায় আসে যা অনেক কার্যকর, আমরা যা কিছু করি যেভাবে করি ওকটু ভিন্নভাবে করলেই অনেক সহজ হয়ে যায়। অনেক দিন পর এই লেখাটা লিখে অনেক তৃপ্তি অনুভব করছি। বাকিটা আপনারাই বলবেন……..। সবার জন্য শুভকামনা রইলো

Level 0

দাদা অলসতা দূর করার একটা টিউন চাই। অলসতার জন্য জীবনটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

    @Sabuj Sen: নিজেকে ভালো ভালো উদ্যোগে সম্পৃক্ত করুন,তাহলে ব্যাস্ততা বাড়বে। আর ব্যাস্ততা বাড়লেই অলসতা দূর হয়ে যাবে। শুভকামনা রইলো 🙂

সময়ের উপযোগী দারুন একটা টিউন করছেন ! অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে @ অসীম কুমার পাল

আপনার ওয়ার্ডপ্রেস বিষয়ক চেইন টিউন এখন আর পাইনা। আবার লেখা শুরু করলে উপকৃত হতাম।

thank you for this effective tune

Level 0

ধন্যবাদ ভাইয়া টিউন করার জন্য। ভাই আমার একটু হেল্প প্রয়োজন । আমি আপনার FB তে লাইক বা কমেন্ট কিছুই করতে পারিনা, আমি রিকুয়েস্টও পাঠিয়েছি। আমার আইডি fb/faizullah.sayeed.12

পড়ে মজা পেলাম

Level 0

upnar tune all time best 🙂

সুন্দর টিউন। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

দাদা আনেক কিছু শিখলাম , আপনাকে আনেক আনেক ধ্যনবাদ ।