এখন থেকে রোবট বানাবে শিশুরা

বর্তমান পৃথিবীতে আধুনিক টেকনোলজি মানেই স্বয়ংক্রিয় ডিভাইস, দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ যোগ্য, দূর থেকে দর্শন যোগ্য, সুক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, অধিক দক্ষ কিন্তু আকারে ছোট পরিবেশ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং মানুষের জন্য সহায়ক এমন টেকনোলজিকে বোঝায়। এই সবগুলো টেকনোলজি একসাথে সমন্বয় করলে যে জিনিসটি তৈরি হবে তাকে আমরা রোবট বলতে পারি। ইতোমধ্যেই অনেক কল্পনাকে বাস্তবে সম্ভব করেছে রোবট। আমরা মঙ্গল গ্রহে রোবট পাঠিয়ে প্রতিমূহর্তে সেখানকার ছবি দেখতে পাচ্ছি।

বাংলাদেশেও রোবট নিয়ে গবেষণা হচ্ছে, দেশে বিদেশে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক প্রোগ্রামে বাংলাদেশের তৈরি রোবট পুরস্কৃত হচ্ছে। আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলোতেও স্বয়ংক্রিয় রোবটের ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এতক্ষণ পর্যন্ত ঠিক আছে, কিন্তু শিশুরা বানাবে রোবট , এটা কিভাবে সম্ভব ! অনেকেই হয়তবা শিরোনাম শুনেই অবাক হচ্ছেন, আবার কিছুটা ভয়ও পাচ্ছেন।

হ্যা সত্যিই সম্ভব। আসুন প্রমান করা যাক।

শিশুরা ছোটবেলায় খুব কৌতুহলী থাকে তাই যে কোন কিছু খুব সহযেই শিখে নিতে পারে। এই ধরুন, ভাষা শেখার ব্যাপারটিতেই আসা যাক। আমরা বড়রা গ্রামার, নিয়ম কানুন কতো কিছু শিখেও ভিন্ন কোন ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করতে গেলে আটকে যায়, অথচ দেড় থেকে দুই বছরের পিচ্চি বেশ ভালোই কথা বলতে পারে। তাই ছোট বেলা থেকেই যদি শিশুদেরকে টেকনোলজি বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা যায় তাহলে মন্দ হয় না।

বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ

বর্তমান সমাজ, সংস্কৃতি, আমাদের আচরণ আমাদের শিশুদের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট তৈরি করতে সহযোগিতা করে। একটু মিলিয়ে দেখতে পারেন আপনার কাছের বেবিটির মধ্যেও কি একই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান?

বর্তমান সময়ে আমাদের শিশুরা কার্টুন ছবি দেখতে খুব পছন্দ করে, মোবাইল ফোনে বা ট্যাবলেট ডিভাইসে ভিডিও দেখতে, গেম খেলতে খুব পছন্দ করে, খেলনা পিস্তল, ফাংশনাল কার, ট্রেন, খেলনা ছোট আকৃতির এরোপ্লেন এর মতো  খেলনা সকল শিশুদের কাছেই খুব প্রিয়। এছাড়া একটু বুঝতে শিখেছে এমন শিশুদের কাছে বিভিন্ন ধরণের সায়েন্স ফিকশন বা একশনধর্মী সিনেমা গুলো তারা পছন্দ করে।

এমন কি হতে পারে না ?

একবার চিন্তা করে দেখুন তো । আপনার ৪-৫ বছরের শিশুটি যে কেবল মাত্র স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে, সে যদি কার্টুন মুভির সিডি কেনার বায়না না করে, কম্পিউটারে একটা কার্টুনের এনিমেশন তৈরি করে দেখায় তাহলে কেমন হয়?

বা  আপনার ক্লাস সেভেন-এইটে পড়া ছেলে বা মেয়ে যদি একটা মোবাইল এপ তৈরি করে দেখায় কেমন হয়? অথবা আপনার সন্তান যদি কোন প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে প্রজেক্ট প্রদর্শন করে প্রথম হয়ে বাড়ি ফেরে কেমন লাগবে?

একটু অবাক লাগতে পারে। কিন্তু অগ্রসরমান আধুনিক পৃথিবীতে এগুলো খুব সাধারণ ঘটনা। বিজ্ঞানীরা শিশুদের উপযোগী কম্পিউটার,মোবাইল ডিভাইস তৈরি করার পাশাপাশি শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন ধরণের ব্লক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে কাজ করছে। ইলেকট্রনিক হার্ডওয়্যার কৌশলীরা শিশুদের উপযোগী ইলেকট্রনিক লার্নিং কিট, রোবটিক্স কিট ইত্যাদি তৈরি করছে। হয়তবা ভাবছেন এগুলো নিয়ে কাজ করতে গেলে শিশুরা ভুল করে বিপদ ঘটাতে পারে। বিজ্ঞানীরা এভাবেই কিট গুলোকে ডিজাইন করছে, যাতে করে শিশুরা চাইলেও ভুল করতে পারবে না।

তাই আপনার আমার সন্তান যদি আগামিকাল একটা রোবট তৈরি করে তাতে প্রোগাম লোড করে খেলতে শুরু করে আমাদের অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে জেনে বুঝে উপযুক্ত সময়ে সঠিক টেকনোলজির সাথে তাদের পরিচয় ঘটিয়ে দেয়া। তাহলেই তারা ছোট বেলা থেকেই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারই শুধু শিখবে না প্রযুক্তি কিভাবে কাজ করে, কিভাবে প্রযুক্তি তৈরি করতে হয় এই বিষয় গুলোও শিখতে শিখতে বড় হবে।

আর তখনই আমরা প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হবো, আর তখনই ডিজিটাল হবে আমাদের বাংলাদেশ।

আজ এখানেই শেষ করছি। আগামীতে শিশুদের উপযোগী রোবটিক্স কিট এবং প্রোগ্রামিং কৌশল নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো । সবাইকে শুভকামনা রইলো

 

 

 

 

Level 2

আমি অসীম কুমার পাল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 12 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 147 টি টিউন ও 469 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 17 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

আমি অসীম কুমার পাল। ইলেকট্রনিক্স এবং ওয়েব ডিজাইনকে অন্তরে ধারণ করে পথ চলতেছি। স্বপ্ন দেখি এই পৃথিবীর বুকে একটা সুখের স্বর্গ রচনা করার। নিজেকে একজন অতি সাধারণ কিন্তু সুখী মানুষ ভাবতে পছন্দ করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

ভাল লাগল… ধন্যবাদ #টিউনার সাহেব

অসাধারণ পোষ্ট। ধন্যবাদ ভাই

থ্যাংকস