আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা কতটুকু সচেতন ? আপনার সন্তানও হতেপারে বিশ্ময় বালকদের একজন

আমরা প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় বা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিশ্ময় বালকদের কথা শুনে থাকি। বয়স খুবই কম কিন্তু কোন একটা ছেলে এই বয়সেই প্রোগ্রামিংয়ে অনেক জটিল কৌশল আয়ত্ব করে ফেলেছে বা অনেক গুলো ভাষা শিখে ফেলেছে বা ছেলেটি বা মেয়েটির স্মৃতিশক্তি অনেক প্রখর এমন কোন সংবাদ পেলেই আমাদের চোঁখ আটকে যায়। আর বিষয়টি জানার পর মনে হয় আমাদের শিশুটিও যদি ঐ ছেলেটি বা মেয়েটির মতো মেধাবী হতো তাহলে খুব ভালো হতো।

আপনার আমার সন্তানও বিশ্ময় বালক হতে পারে , কিন্তু আমরা আমাদের শিশুদের ব্যপারে কতটুকু সচেতন? কখনো কি একবার আমরা এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে দেখেছি?

  • আমাদের শিশুটি কি সঠিক পরিবেশ পাচ্ছে?
  • আমরা শিশুটির সাথে কি সঠিক আচরণ করছি?
  • শিশুটির আগ্রহ, পছন্দ-অপছন্দের প্রতি আমরা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছি?
  • আমাদের শিশুটি কি তার কৌতুহলের সঠিক উত্তর পাচ্ছে?
  • শিশুটি যে ছোটছোট ভুল করছে, তার ব্যপারে আমরা কতটুকু সচেতন?
  • আমাদের শিশুটিকে আমরা কতটুকু সময় দিচ্ছি?
  • আপনার শিশুটিকে যে গল্প শুনাচ্ছেন তা তার কল্পনার জগৎকে কতটা প্রভাবিত করছে?
  • আমরা শিশুটিকে যে খেলনা কিনে দিচ্ছি, তার কার্যকারিতা শিশুটির মনের উপর কতটুকু প্রভাব ফেলছে?
  • শিশুটি এই বয়সেই যে ডিভাইস গুলোর সাথে পরিচিত হচ্ছে ,তার প্রভাব কতটুকু?

সময় এসেছে এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করার। একটা সাধারণ প্রবণতা আছে, আমরা চাই আমাদের শিশুটি ঠিক আমাদের যা প্রত্যাশা তেমন হবে। আমরা চাই আমাদের এই পিচ্চি ছেলেটি বা মেয়েটি বড় হয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে। অনেক সময় দেখা যায় আমাদের শিশুটির আগ্রহ ভিন্নদিকে থাকে। আমরা সবাই লেখাপড়ার জন্য আমাদের সন্তানদের উপর চাপ সৃষ্টি করি। কিন্তু একটু সচেতন হলেই আমরা ধরতে পারবো আমাদের শিশুটির আগ্রহের বিষয়টি কি?

আপনি হয়তো এতদিন খেয়ালই করেননি আপনার ছেলেটি অনেক ভালো ক্রিকেট খেলে, বা তার কন্ঠস্বর অনেক সুন্দর, সে তার খেলনা জিনিসগুলো খুলে খুলে দেখতে চায় ভেতরে কি আছে?  আপনার মেয়েটি গতসপ্তাহে আপনার কাছে এসেছিলো তার আঁকা একটা ছবি দেখাবে বলে, কিন্তু আপনি ব্যস্ততার দোহায় দিয়ে হয়তো বলেছিলেন " মামনি এখন পড়তে বসো, আমি পরে দেখবো" । এমন ঘটনা প্রায় প্রতিনিয়তই ঘটে, আমাদের পরে আর কখনোই ৫ মিনিট সময় হয়না ঐ ছবিটি দেখার , এধরণের সৃজনশীল কাজে তাদের উৎসাহ দেয়ার।

শিশুদের সাথে আমরা কি সঠিক আচরণ করছি? একটু বিশ্লেষণ করা যাক

আপনার মনে আছে, গত সপ্তাহে আপনার ছেলেকে একটা খেলনা পিস্তল কিনে দিয়েছিলেন? অনেক ব্যস্ততার মাঝে হয়তবা আপনি ভুলেই গেছেন সে কথা। আপনাকে একটা কথা কানে কানে বলি, আপনার বাবুটি ঐ পিস্তল দিয়ে তার মা মানে আপনার স্ত্রীকে প্রায় ১০০ বার গুলি করেছে, আপনার মা মানে ওর দাদিকে তো প্রথমবার আচমকা ভই পাইয়ে দিয়েছিলো, আর আপনার বাবার সাথে সে এখন চোর-ডাকাত খেলা খেলছে।

একটু বিশ্লেষণ করে দেখুন ফলাফল কি ভয়ানক?

ঐ খেলনা পিস্তলটি তার মনের কমোলতাকে কমিয়ে কঠোরতাকে বাড়িয়ে তুলছে। সে কিন্তু এতোদিন জানতো না পিস্তল কিভাবে কাজ করে, এই জিনিসটি সম্পর্কে তার কোন আগ্রহ ছিলো না, কিন্তুএখন তার ভেতরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, অনেক কৌতুহল তৈরি হচ্ছে।

শিশুরা নতুন নতুন জিনিসের ক্রিয়া কৌশল শিখতে পছন্দ করে, আর তাই নিস্ক্রিয় খেলনার থেকে কোন ফাংশনাল খেলনা তাদের বেশি প্রিয় হয়। খেয়াল করে দেখবেন  আপনি দুইটা পুতুল কিনে দিলেন একটা দেখতে অনেক সুন্দর কিন্তু এর কোন কার্যকারিতা নেই, কিন্তু অন্যটা নাচতে পারে এবং সুন্দর মিউজিক শোনা যায়, দ্বিতীয় খেলনাটির প্রতি বেশিরভাগ শিশুর আগ্রহ বেশি থাকবে।

শিশুরা যখন কোন ফাংশনাল খেলনা বা কোন ডিভাইস হাতের কাছে পায়, তখন খুটিয়ে খুটিয়ে তার সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে। আমরা চেষ্টা করলে এই বিষয়টিকে তার মেধা বিকাশে কাজে লাগাতে পারি।

কেমন হয় যদি আমরা একটু বদলে যাই?

আপনি অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় আপনার মেয়ের জন্য ছবি আঁকার উপকরণ রং ইত্যাদি কিনে আনলেন, আপনার মেয়েটি একটা খেলনা পুতুল পেলে যতটা খুশি হতো তার থেকে কম খুশি হবে না। আনলাইনে সার্চ করে দেখতে পারেন পেইন্টিং বিষয়ক এমন কোন সিনেমা বা ভিডিও আছে কিনা যা পরিবারের সবাই সহ শিশুদের সাথে দেখা যায়। যদি পেয়ে যান তাহলে বিনোদন হিসেবে সবাই মিলে উপভোগ করতে পারেন। আপনার সন্তান তার উপহার  হিসেবে যা পেয়েছে তা দিয়ে কি করা যায় সিনেমাতে যখন দেখবে তখন তার আগ্রহ এবং বাস্তব সম্মত জ্ঞান পরিণত হবে, সিনেমা থেকেও অনেক কিছু শিখতে পারবে। এরপর সময় পেলেই আপনার মেয়ের সাথে কিছুটা সময় দেন,  তাকে পেইন্টিং বা ড্রয়িংয়ে কৌশল শেখাতে পারেন, ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে দেখে তাকে ভালো কিছু কাজ শিখতে সহযোগিতা করতে পারেন।

কাগজ কেটে এবং রং করে অনেক সুন্দর পপ আপ বুক তৈরি করা যায় , এধরণের কাজ করতে পারেন ।

তাহলে শিশুদের চিন্তার জগৎ প্রসারিরত হবে। শিশুদের মন সৃজনশীল হয়ে উঠবে।

আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎকে নেতৃত্ব দেবে আজকের দিনের শিশুরাই। তাই এই পৃথিবীকে সুন্দর করতে হলে প্রয়োজন সুন্দর চিন্তার মানুষ। আমরা যদি সচেতন হই, আমরা যদি আমাদের কর্তব্য সম্পর্কে সবসময় চিন্তা করি , আমাদের শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য সহায়ক বিজ্ঞান সম্মত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি তাহলে একটা সুন্দর আগামীর স্বপ্ন সত্য হবে। শান্তিময় হবে পৃথিবী, আর এই দায়িত্ব আমার আপনার আমাদের সকলের।

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা রইলো।

Level 2

আমি অসীম কুমার পাল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 12 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 147 টি টিউন ও 469 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 17 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

আমি অসীম কুমার পাল। ইলেকট্রনিক্স এবং ওয়েব ডিজাইনকে অন্তরে ধারণ করে পথ চলতেছি। স্বপ্ন দেখি এই পৃথিবীর বুকে একটা সুখের স্বর্গ রচনা করার। নিজেকে একজন অতি সাধারণ কিন্তু সুখী মানুষ ভাবতে পছন্দ করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

A great helpful tune and it should be read all the parents of the world.
Thanks a lot Ashim Da. 🙂

চমৎকার হইছে ভাই।

খুব সুন্দর হয়েছে ভাই 🙂

‌শিশু‌দের জন্য ‌শিশু বিভাগ খাক‌লে ভালে হত টেক‌টি

আপনার ভাবনা গুলো সুন্দর এবং ১০০% সঠিক ৷ আসলে এই যায়গাগুলোতেই আমরা পিছিয়ে আছি ৷ জোর করে তাদের উপর আমাদের পছন্দ চাপিয়ে দেই ৷ যেটা তাদের সৃজনশীলতা কে ধ্বংস করে দেয়

খুব সুন্দর টিউন করেছেন।।

টিউন টি ভাল হয়েছে।
বেশ কিছু বিষয় সামনে আনা হয়েছে যেটা সম্পর্কে পিতামাতার যথেষ্ট সচেতন হওয়া দরকার।

ছোটবেলায় পিস্তলের শখ থাকলেও অজানা কোন কারনে যতবারই পিতার কাছে চাইছি ততবারই অন্য কিছু প্রদান করা হইছে। এক কথা “অন্য কি লাগবে নাও, পিস্তল হবে না”
যাই হোক কিছুদিন আগে কৌতুহল বসত এক পিচ্চির পিস্তল হাতে নিয়া কেমন যেন লাগল। আর মনে হইল এই জিনিস আমরা অবলীলায় বাচ্চাদের হাতে তুলে দিতেছি “খেলার জন্য”।
বক্সের গায়ে স্পষ্ট লেখা আছে নন-লিথাল উইপন। অনলি ফর ১৮+