
বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। আমরা এখন আর কম্পিউটিংয়ের সাধারণ বিবর্তনের সামনে দাঁড়িয়ে নেই, বরং এক সম্পূর্ণ নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। সম্প্রতি এনভিডিয়া (Nvidia)-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) জেনসেন হুয়াং (Jensen Huang) এক বিশেষ বক্তব্যে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তার মতে, Computing moves from being pre-programmed to being creative. জেনসেন হুয়াংয়ের এই বক্তব্য প্রযুক্তিবাজারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
এনভিডিয়া প্রধান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিগত ৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী कंप्यूटिंग মডেল—যাকে আমরা ‘রিট্রিভাল-বেসড’ (retrieval-based) কম্পিউটিং বলে জানি—তা এখন দ্রুত ‘জেনারেটিভ’ (generative) মডেলে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই রূপান্তর কেবল হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের বিষয় নয়, এটি কম্পিউটিংয়ের মৌলিক ধারাই বদলে দিচ্ছে।
সিপিইউ-এর যুগ শেষ, ডেটা সেন্টার এখন ‘এআই ফ্যাক্টরি’
জেনসেন হুয়াং তার বক্তব্যে ডেটা সেন্টারের ভৌত ও কার্যকরী পরিবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, চিরাচরিত ডেটা সেন্টারগুলোতে ব্যবহৃত সিপিইউ (CPU) বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট আধুনিক এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজের জন্য আর কার্যকর নয়। তিনি ডেটা সেন্টারগুলোকে ‘এআই ফ্যাক্টরি’ (AI Factory) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই ফ্যাক্টরিগুলোর কাজ হলো বিদ্যুৎ এবং বিপুল পরিমাণ কাঁচা ডেটাকে ‘বুদ্ধিমত্তা’ (intelligence)-য় রূপান্তর করা, ঠিক যেমন একটি শিল্পকারখানা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কোনো পণ্য তৈরি করে।
এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হলো জিপিইউ (GPU) বা গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট। এনভিডিয়া এই জিপিইউ-কে কেন্দ্র করে একটি সম্পূর্ণ ‘গ্লোবাল কম্পিউটিং ফেব্রিক’ (global computing fabric) গড়ে তুলেছে। হুয়াং জানিয়েছেন, আধুনিক ডেটা সেন্টারে একটি সিপিইউ নয়, বরং সমগ্র ডেটা সেন্টারই একটি সুপারকম্পিউটারের মতো কাজ করে, যেখানে হাজার হাজার জিপিইউ একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত থাকে।
ব্ল্যাকওয়েল প্ল্যাটফর্ম: এআই সুপারকম্পিউটিংয়ের নতুন শিখর
এনভিডিয়া তাদের অত্যাধুনিক ‘ব্ল্যাকওয়েল’ (Blackwell) আর্কিটেকচার এবং জিবি২০০ (GB200) সিস্টেমের মাধ্যমে এই নতুন কম্পিউটিং মডেলকে বাস্তব রূপ দিয়েছে। জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, ব্ল্যাকওয়েল প্ল্যাটফর্ম ট্রিলিয়ন প্যারামিটার স্কেলের জেনারেটিভ এআই মডেলগুলোকে পরিচালনা করতে সক্ষম। এটি আগের জেনারেশনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ইনফারেন্স পারফরম্যান্স (inference performance) প্রদান করে এবং ২৫ গুণ কম শক্তি খরচ করে।
হুয়াং আরও জানান, ব্ল্যাকওয়েল প্ল্যাটফর্মের ভিত্তি হলো বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী চিপ, যা ২০৮ বিলিয়ন ট্রানজিস্টর দিয়ে তৈরি। এটি এনভিলিঙ্ক (NVLink) প্রযুক্তির মাধ্যমে একে অপরের সাথে দ্রুতগতিতে সংযুক্ত থাকে, যা আধুনিক ডেটা সেন্টারের ধারণাই বদলে দিয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সমগ্র একটি ডেটা সেন্টারকে একটি একক কম্পিউটিং সত্তা হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।
রোবোটিক্স ও ফিউচার ভিশন
জেনসেন হুয়াং তার বক্তব্যে রোবোটিক্স এবং বিশেষ করে হিউম্যানয়েড (humanoid) রোবটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রোবোটিক্স এখন এআই-এর অন্যতম বড় প্রয়োগক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এনভিডিয়ার প্রযুক্তিতে চালিত রোবটগুলো এখন বাস্তব ও ডিজিটাল দুনিয়ার সাথে নিবিড়ভাবে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে সক্ষম। প্রজেক্ট ‘জিআর০০টি’ (GR00T)-এর মাধ্যমে এনভিডিয়া হিউম্যানয়েড রোবটগুলোর বুদ্ধিমত্তা ও কার্যক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে শিল্পকারখানা ও ঘরোয়া কাজকর্মে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
বিশেষজ্ঞের মন্তব্য
এ বিষয়ে প্রযুক্তিবাজার বিশ্লেষক ও ‘টেকট্রেণ্ডস বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সায়েম আহমেদ বলেন, “জেনসেন হুয়াংয়ের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, এনভিডিয়া কেবল চিপ নির্মাতা নয়, তারা একটি সম্পূর্ণ এআই ইকোসিস্টেমের মালিক। হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং ইকোলজিক্যাল কন্ট্রোল ব্যবহার করে তারা যে সাম্রাজ্য গড়েছে, তা প্রতিপক্ষের জন্য অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব। তারা কেবল ভবিষ্যৎ দেখাচ্ছে না, বরং ভবিষ্যৎ তৈরি করছে। ”
আমি নাজমুল ইসলাম আবির। Senior Executive, Digital Marketing & eSports, GIGA-BYTE Technology Co., Ltd., Dhaka, Bangladesh। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 বছর 3 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 11 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।