
টেক জায়ান্ট Apple-এর গত ৩০ বছরের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দুইজন কিংবদন্তি CEO-কে দেখতে পাই। একজন হলেন Innovation-এর জাদুকর Steve Jobs এবং অন্যজন Supply Chain-এর জাদুকর Tim Cook। কিন্তু আজকের এই বিশেষ আলোচনা তাদের নিয়ে নয়। আজ কথা বলব পর্দার আড়ালের এমন এক মানুষকে নিয়ে, যাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুব একটা চর্চা নেই। তিনি হলেন John Turnis। বর্তমান সময়ে Apple যখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, তখন ৫১ বছর বয়সী এই Hardware Guy-এর হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে কোম্পানির ভবিষ্যৎ। মজার ব্যাপার হলো, ঠিক ৫১ বছর বয়সেই Tim Cook ২০১১ সালে CEO হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে John Turnis আগামী অন্তত এক দশকের জন্য Apple-এর সিংহাসনে বসতে যাচ্ছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এমন এক সময়ে যখন Apple বছরের পর বছর কোনো নতুন Hit Product উপহার দিতে পারছে না, যখন তারা AI-এর দৌড়ে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের Regulation যখন Apple-এর Core Values-কে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ করছে, তখন John Turnis কি আদেও সঠিক ব্যক্তি? চলুন, তার জীবনের একেবারে শুরু থেকে আজকের এই অবস্থানে আসার রোমাঞ্চকর গল্পটি বিস্তারিতভাবে জেনে নেই।

John Turnis একজন নির্ভেজাল California Native। তিনি ১৯৯৭ সালে University of Pennsylvania থেকে Mechanical Engineering-এ Degree নিয়ে তার পড়াশোনা শেষ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি Virtual Research Systems নামের একটি Company-তে কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি Early Virtual Reality Headsets তৈরির প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। যদিও অনেকে মনে করেন Apple-এর সাম্প্রতিক Apple Vision Pro-এর পেছনে তার এই অভিজ্ঞতার যোগসূত্র আছে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন এটি নিছক একটি Coincidence। কারণ বিভিন্ন Reporting থেকে জানা যায়, Turnis ব্যক্তিগতভাবে Apple Vision Pro নিয়ে খুব একটা আগ্রহী নন। ২০০১ সালে Apple-এ যোগ দেওয়ার আগে এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম এবং একমাত্র Job।
Apple-এ যোগ দেওয়ার পর তার প্রথম Project ছিল Apple Cinema Display, যা ছিল Mac-এর একটি External Monitor। এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি একবার UPenn Graduation Ceremony-তে বলেছিলেন যে, কাজের প্রতি তার একাগ্রতা কতটা গভীর ছিল। মাঝরাতে এক Supplier Facility-তে তিনি একটি Magnifying Glass দিয়ে একটি Screw-এর মাথায় Grooves বা খাঁজ গুনছিলেন। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী সেখানে ২৫টি খাঁজ থাকার কথা থাকলেও ছিল ৩৫টি। সাধারণ চোখে হয়তো কোনো Customer এটি খেয়াল করত না, কিন্তু Turnis-এর কাছে Product-এর প্রতিটি সূক্ষ্ম অংশ নিখুঁত হওয়া ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি Product-এর প্রতিটি অংশ নয়, বরং পুরো Product-টিই যেন শ্রেষ্ঠ হয়। এর একটি আধুনিক উদাহরণ হলো iPhone Air, যার ভেতরের Internals বাইরের কাঠামোর মতোই আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো।

২০০৪ সালে Apple-এ কাজ করার তিন বছরের মাথায় Turnis একটি Management Position-এ পদোন্নতি পান। সে সময় একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। প্রথমবারের মতো তার নিজের একটি Private Office পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি চেয়েছিলেন Open Space-এ সবার সাথে বসে কাজ করতে। এই "Man of the People" মানসিকতাই তাকে সবার কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।
২০০৫ সালের দিকে তিনি iMac-এর Hardware Engineering বিভাগের দায়িত্ব নেন। Manufacturing প্রক্রিয়া ঠিকঠাক চলছে কি না তা দেখার জন্য তিনি মাসের পর মাস Silicon Valley এবং Asia-র মধ্যে যাতায়াত করেছেন। বিশেষ করে iMac G5 লঞ্চের সময় তিনি একটি সাহসী ও Unorthodox সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন Glass Screen-টি কোনো Adhesive বা Screws ছাড়াই শুধু Magnets দিয়ে আটকে রাখতে। তৎকালীন সময়ে এটি ছিল একটি বিস্ময়কর Engineering Solution। তিনি নতুন Ideas গ্রহণ করতে দ্বিধা করেন না, যা Apple-এর মতো কোম্পানির জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।

iPhone-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর Apple তাদের Next Big Thing খুঁজছিল। তখন Turnis-কে দায়িত্ব দেওয়া হয় একটি Large Screen Tablet তৈরির, যা পরবর্তীতে আমাদের কাছে মূল iPad হিসেবে পরিচিতি পায়। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের একটি Big Moment। এর তিন বছর পর তিনি Hardware Engineering-এর Vice President হিসেবে পদোন্নতি পান। তার হাত ধরেই iPad Air, iPad mini এবং আজকের শক্তিশালী iPad Pro-এর যাত্রা শুরু হয়।
২০১৬ সালে তিনি Apple-এর প্রথম Truly Wireless Headphones বা AirPods তৈরির দায়িত্ব পান। এটিও Apple-এর জন্য একটি বিশাল বড় Hit ছিল। সে সময় মনে করা হতো, Turnis যা স্পর্শ করছেন তা-ই সোনা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই সাফল্যের ধারা কি চিরকাল বজায় ছিল?

সাফল্যের পাশাপাশি Turnis-এর ক্যারিয়ারে কিছু বড় ব্যর্থতাও আছে। অক্টোবর ২০১৬-তে লঞ্চ হওয়া Redesigned MacBook Pro ছিল তার জন্য একটি কঠিন সময়। অতিমাত্রায় পাতলা করতে গিয়ে সেখান থেকে সব Essential Pro Ports সরিয়ে ফেলা হয়। যুক্ত করা হয় বিতর্কিত Butterfly Keyboard এবং Touch Bar। Turnis ছিলেন এই Touch Bar-এর অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা। তিনি ভেবেছিলেন এটি Marketing এবং User Experience-এর জন্য দুর্দান্ত হবে। কিন্তু বাস্তবে Users-রা Physical Escape Key না পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং Software Support-ও ছিল খুব সীমিত।
সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল Butterfly Keyboard-এর সমস্যা। এটি টাইপ করতে যেমন Uncomfortable ছিল, তেমনি এর Failure Rate ছিল অনেক বেশি। এই ভুলের কারণে Apple-কে একটি Class Action Lawsuit মোকাবিলা করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত $50 Million দিয়ে বিষয়টি মিটমাট করতে হয়। এছাড়া HomePod তৈরির সময় তিনি খরচ কমাতে গিয়ে এতে Advanced Sensors বা Built-In Camera যোগ করতে দেননি। তিনি Smart Home সেক্টরকে বড় কোনো Revenue Driver মনে করেননি, যা বর্তমানে Apple-কে এই বাজারে প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে দিয়েছে।

John Turnis-এর একটি বড় গুণ হলো তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং তা থেকে শিক্ষা নেন। ২০১৯ সালে তিনি অনুভব করেন যে iPad-এর শক্তিশালী Hardware-এর সাথে এর Software খাপ খাচ্ছে না। তিনি Craig Federighi-এর সাথে কথা বলেন এবং তারপরামর্শেই তৈরি হয় iPadOS। এতে Windowing এবং Background Task-এর মতো সুবিধা যুক্ত হয়, যা iPad-কে ল্যাপটপের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করায়।
তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় হলো ২০২০ সালে Intel Chips থেকে সরে এসে Apple Silicon-এ রূপান্তরের প্রক্রিয়া। তিনি ছিলেন এই বিশাল পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান Leader। এই সফলতার পুরস্কার হিসেবে তিনি Senior Vice President of Hardware Engineering পদে উন্নীত হন এবং সরাসরি Tim Cook-এর সাথে কাজ শুরু করেন। এর পরবর্তী ৫ বছরে তিনি MacBook Pro-কে আবার প্রো লেভেলে ফিরিয়ে আনেন, যা Creatives-দের জন্য একটি আদর্শ যন্ত্রে পরিণত হয়।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ Apple-এ এক বিশাল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। Turnis চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে Mac পৌঁছে দিতে। তার সেই চিন্তার ফসল হলো MacBook Neo, যা ২০২৬ সালের শুরুতে লঞ্চ করা হয়। খরচ কমাতে এতে পুরনো iPhone Chips ব্যবহার করা হয়েছিল, যা কোনো বড় Compromise ছাড়াই বাজেটের মধ্যে একটি দুর্দান্ত Laptop ছিল।
২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল, সোমবার দুপুর ১:৩০ মিনিটে (Pacific Standard Time) ঐতিহাসিকভাবে ঘোষণা করা হয় যে, Tim Cook পদত্যাগ করছেন এবং John Turnis হচ্ছেন Apple-এর নতুন CEO। তবে এই দায়িত্ব নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি তিনটি বড় সমস্যা হাতে পান:

John Turnis ব্যক্তিগত জীবনে একজন দারুণ মানুষ। কলেজে তিনি Swimmer ছিলেন, বর্তমানে তিনি Biking and Racing পছন্দ করেন। তিনি তার নিজের Porsche নিয়ে Laguna Seca Raceway-তে প্রতিযোগিতামূলক Lap Times দেন। Apple-এর অন্দরে তিনি Marketing Guy হিসেবেও পরিচিত। তিনি নিজেই অনেক সময় Website Copy বা Press Release-এর শব্দ পরিবর্তন করেন যাতে তা নিখুঁত হয়।
কাজের ক্ষেত্রে তিনি Middle Managers-দের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি Engineer-দের সাথে কথা বলে সমস্যার সমাধান করেন। iPhone 12 Pro-তে LiDAR Sensor যুক্ত করার পেছনে তার হাত ছিল। তবে খরচ কমানোর জন্য তিনি এটি শুধুমাত্র Pro Models-এই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

John Turnis-কে অনেকে Steve Jobs বা Tim Cook-এর সাথে তুলনা করতে চাইলেও, তাকে বরং Apple-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা Steve Wozniak-এর সাথে তুলনা করা বেশি সার্থক। Wozniak যেমন নির্ভেজাল এবং মেজাজি ছিলেন না, Turnis-ও তেমনই একজন নিরহংকার Engineer and Leader।
ল্যাটিন ভাষায় 'Turnis' শব্দের অর্থ হলো "Of Three", যা কাকতালীয়ভাবে তাকে Apple-এর আধুনিক যুগের তৃতীয় প্রধান CEO (Jobs ও Cook-এর পর) হিসেবে চিহ্নিত করে। Apple-এর এই নতুন অধ্যায়ে একজন দক্ষ Engineer এবং একজন "Good Guy" হিসেবে John Turnis কীভাবে কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে যান, তা এখন দেখার বিষয়।
আমি সোহানুর রহমান। সুপ্রিম টিউনার, টেকটিউনস, ঢাকা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 12 বছর 7 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 684 টি টিউন ও 200 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 125 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
কখনো কখনো প্রজাপতির ডানা ঝাপটানোর মত ঘটনা পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।