ব্লকচেইন কী, আর এটা আসলে কাজ করে কীভাবে?

কয়েক বছর ধরে "ব্লকচেইন" শব্দটা আমরা প্রায়ই শুনছি—কখনো বিটকয়েনের সাথে, কখনো এনএফটির সাথে, আবার কখনো ব্যাংকিং বা সরকারি সিস্টেমের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের কাছেই ব্যাপারটা এখনো একটু ধোঁয়াশা—শুনতে জটিল লাগে, অথচ এর পেছনের ধারণাটা আসলে বেশ সহজ।

সহজ কথায় ব্লকচেইন

ধরুন, আপনার আর আপনার কয়েকজন বন্ধুর মধ্যে টাকা ধারদেনার হিসাব রাখার জন্য একটা খাতা আছে। কিন্তু এই খাতাটা কোনো একজনের কাছে নেই—প্রত্যেকের কাছে একটা করে কপি আছে। যখনই নতুন কোনো লেনদেন হয়, সবাই মিলে সেটা যাচাই করে নিজেদের খাতায় লিখে রাখে। কেউ চাইলেও একা একা খাতা পাল্টে ফেলতে পারবে না, কারণ বাকিদের কাছেও একই তথ্য আছে।

ব্লকচেইন মূলত এই ধারণারই ডিজিটাল রূপ। এটা হলো একটা তথ্যভাণ্ডার বা ডেটাবেজ, যা কোনো একটা কেন্দ্রীয় সার্ভারে না থেকে হাজার হাজার কম্পিউটারে (একে বলা হয় নোড) ছড়িয়ে থাকে। প্রতিটা লেনদেন একটা "ব্লকে" জমা হয়, আর প্রতিটা ব্লক আগের ব্লকের সাথে একটা বিশেষ কোডের মাধ্যমে (হ্যাশ) যুক্ত থাকে। এভাবেই তৈরি হয় একটা শেকল বা চেইন—ব্লকচেইন।

কীভাবে কাজ করে

মনে করুন, আপনি কাউকে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠাতে চান। প্রক্রিয়াটা মোটামুটি এভাবে চলে:

প্রথমে আপনার লেনদেনের অনুরোধটা নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে। নেটওয়ার্কের অসংখ্য কম্পিউটার তখন সেটা যাচাই করতে শুরু করে—আপনার কাছে আসলেই যথেষ্ট পরিমাণ কারেন্সি আছে কিনা, লেনদেনটা বৈধ কিনা, এসব। যাচাই শেষ হলে সেটা অন্যান্য লেনদেনের সাথে একটা নতুন ব্লকে জমা হয়।

এরপর আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—কনসেনসাস বা ঐকমত্য। নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলোকে একমত হতে হয় যে এই ব্লকটা আসলেই সঠিক। বিটকয়েনের ক্ষেত্রে এই কাজটা হয় "প্রুফ অফ ওয়ার্ক" নামের একটা পদ্ধতিতে, যেখানে মাইনাররা জটিল গাণিতিক ধাঁধা সমাধান করে প্রমাণ করে যে তারা কাজটা সততার সাথে করেছে। একমত হয়ে গেলে ব্লকটা চেইনে যুক্ত হয়ে যায়, আর সব নোডের কপিতে একসাথে আপডেট হয়ে যায়।

আপনি যদি Blockchain Development Service নিতে চান। তাহলে, CoreDevs এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন

কেন এটাকে "নিরাপদ" বলা হয়

ব্লকচেইনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর স্বচ্ছতা আর অপরিবর্তনীয়তা। একবার কোনো ব্লক চেইনে যুক্ত হয়ে গেলে, সেটা মুছে ফেলা বা বদলানো প্রায় অসম্ভব—কারণ তার জন্য নেটওয়ার্কের হাজার হাজার কপিতে একসাথে পরিবর্তন আনতে হবে, যা বাস্তবে করা অত্যন্ত কঠিন। আর যেহেতু কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির হাতে পুরো নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই কেউ চাইলেই ইচ্ছেমতো তথ্য বদলে ফেলতে পারে না।

শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সিতেই সীমাবদ্ধ নয়

মজার ব্যাপার হলো, ব্লকচেইন কিন্তু শুধু বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোর জন্য নয়। সাপ্লাই চেইন ট্র্যাকিং, জমির দলিল রেকর্ড, ভোটিং সিস্টেম, এমনকি স্বাস্থ্যসেবার তথ্য সংরক্ষণেও এটার ব্যবহার নিয়ে কাজ চলছে। যেকোনো জায়গায় যেখানে বিশ্বাসযোগ্য আর স্বচ্ছ রেকর্ড রাখা দরকার, সেখানেই এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা আছে।

তবে সব প্রযুক্তির মতোই এরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে—যেমন লেনদেনের গতি কম হওয়া বা এনার্জি খরচ বেশি হওয়া। তারপরও, কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বিশ্বাস তৈরি করার এই ধারণাটা—সত্যিই একটা অভিনব পরিবর্তন এনেছে আমাদের ডিজিটাল দুনিয়ায়।

Level 2

আমি মেশকাত শরিফ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 6 বছর 2 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 5 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 2 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।

Visit My Blog-: https://appvado.com


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস