আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য

টিউন বিভাগ মহাকাশ প্রযুক্তি
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 1
এসএসসি ২০২২, খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে মহাকাশে প্রবেশ করা মানবজাতির ইতিহাসে বড় একটি সাফল্য বা অর্জন। 'আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন' বা International Space Station (ISS) হচ্ছে তারই একটি নিদর্শন। এটিকে নিয়ে আমাদের কৌতুহলেরও শেষ নেই। আজকে জেনে নিবো মহাকাশ স্টেশন সম্পর্কে জানা-অজানা কিছু বিষয়। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

১. এভরট হেল ১৮৬৯ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন নির্মানের পরিকল্পনা করেন। তারপর বিংশ শতকের প্রথম দিকে তিশোলকোভস্কি ও হারমান ওবের্থ এতে আরও কিছু পরিকল্পনা যুক্ত করেন। পরবর্তীতে ১৯২৯ সালে হার্মান পোটকনিক The Problem of the Space Travel নামক বইয়ে মহাকাশ স্টেশনের নকশা প্রণয়ন করেন।

২. বাস্তবে সম্ভাব্য এই মহাকাশ স্টেশন তৈরির কাজ শুরু হয় ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের 'স্পেস স্টেশন ফ্রিডম' নামে একটি প্রজেক্ট হাতে নেওয়ার পর। তবে তখন এটি যেমনভাবে তৈরি করা হবে বলে ভাবা হয়েছিল, বাস্তবে তেমনভাবে তৈরি করা যায় নি। তাই বিভিন্ন দেশ মিলে এবার প্রকল্পটি হাতে নেয় এবং এর নাম দেওয়া হয় 'আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন' বা International Space Station.

৩. বর্তমানে আমরা যে রুপে স্পেস স্টেশনকে দেখি প্রথম দিকে এটি এমন ছিলো না। স্টেশনের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সময়ে পৃথিবী থেকে রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে নিয়ে জোড়া দেওয়া হয়েছে। অবশেষে এটি আজকের মহাকাশ স্টেশনের রুপ নিয়েছে। তবে এ রুপটিও পরিবর্তনশীল।

৪. এর ভেতরটা একটা ওজনবিহীন জায়গা।

৫. প্রতি ঘন্টায় এটি ২৮, ০০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। এই গতিতে পুরো পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৯২ মিনিট।

৬. মধ্যাকর্ষণ বল এখানে নেই বললেই চলে। যার কারণে ছোটখাটো বস্তু এমনকি মানুষেরাও এখানে ভাসতে থাকে।

৭. নির্দিষ্ট সময় পর পর মহাকাশ স্টেশনকে উপরের দিকে তোলা হয়। কারণ এমনটা করা না হলে স্পেস স্টেশনটি প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে নামতে থাকবে এবং একসময় পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের সাথে এর ঘর্ষণ লাগতে লাগতে আগুন ধরে যাবে।

৮. উপর নিচ বলতে যেমন কিছু নেই এখানে তেমনি নেই দিন অথবা রাত।

৯. ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে অবস্থান করছে।

১০. বর্তমান স্পেস স্টেশনটি তৈরি করতে ১৩ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে এবং ৪২ বার মহাকাশ যাত্রার প্রয়োজন হয়েছে।

১১. এটি বানাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি ডলার।

১২. ২০০০ সালের নভেম্বর মাসের পর থেকে স্টেশনটিতে নভোচারীরা বসবাস করতে শুরু করেন।

১৩. মহাকাশ স্টেশনের ওজন ৪, ২০, ০০০ কেজি এবং সবগুলো সোলার প্যানেল প্রসারিত অবস্হায় এর দৈর্ঘ্য হয় ৭৩ মিটার বা ২৪০ ফুট। এর প্রস্থ ১০৯ মিটার বা ৩৬০ ফুট।

১৪. ৬ জন মহাকাশচারী সর্বক্ষণ মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করে থাকেন। সেখানে তারা বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন গবেষণা করেন। তাদের জন্য রয়েছে ৬ টি শোবার ঘর, ২ টি বাথরুম এবং কাঁচ দিয়ে ঘেরা একটি বসার ঘর। এ ঘরটি থেকে মহাকাশের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

১৫. মহাকাশচারীরা ২৪ ঘণ্টায় ১৬ টি সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখতে পায়।

১৬. একজন মহাকাশচারী ৬ মাস স্পেস স্টেশনে অবস্থান করেন। কাউকে আবার ১২ মাসও সেখানে অবস্থান করতে হয়। মাত্র একজন নভোচারীর সবচেয়ে বেশি দিন অর্থাৎ ৬৬৫ দিন মহাকাশে থাকার রেকর্ড রয়েছে।

১৭. পৃথিবী থেকে চাঁদ এবং শুক্র গ্রহের পর এই কৃত্রিম উপগ্রহকেই সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল দেখায়।

১৮. মহাকাশচারীরা ফিরে আসার পর তাদের উপর পরীক্ষা চালানো হয়। আসলে দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকার পর মানুষের শরীরে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন হয় সেটা জানতেই এই পরীক্ষা করা হয়।

১৯. পৃথিবী থেকে কোনো মহাকাশযানের এই স্পেস স্টেশনে পৌঁছাতে ৬ ঘন্টা সময় লাগে।

২০. মহাকাশ স্টেশনের আকৃতি একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়।

২১. এখন পর্যন্ত ১৫ টি দেশ স্পেস স্টেশনে তাদের নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ১৫ টি দেশ হলোঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রাশিয়া, জাপান এবং ইউরোপিয়ান স্পেস স্টেশনে থাকা আরও ১১টি দেশ। (যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, নরওয়ে, সুইডেন, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম ও ডেনমার্ক)

২২. স্পেস স্টেশনের বিভিন্ন কাজ যেমনঃ আর্দ্রতা, মহাকর্ষ বল, পানি উৎপাদন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে ৪৪ টি কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

২৩. ৩ দশকের বেশি সময়ে প্রায় সাড়ে তিনশ নভোচারী মহাকাশ স্টেশনে কাজ করেছেন।

২৪. মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে নভোচারীদের শরীরে মাংসপেশী এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। এজন্য প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের শরীরচর্চা করতে হয়। ২০২০ সালের আগের দুই দশক পর্যন্ত মোট ১৯ টি দেশের ২৩৯ জন নভোচারী মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করেন। এর মধ্যে ১৫১ জনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

২৫. এখন পর্যন্ত মহাকাশ স্টেশন থেকে ফেরার পথে দুটি মহাকাশযান বিধ্বস্ত হয়ে মোট ১৪ জন নভোচারীর মৃত্যু হয়েছে।

২৬. ভবিষ্যতে গবেষকেরা মহাকাশ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন সেসব সমস্যা সমাধানে মহাকাশে অবস্থানরত বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ ধরনের লেখা নিয়মিত পেতে উপরের একাউন্টটি ফলো দিয়ে রাখতে পারেন।

আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সব ধরনের তথ্য এবং আপডেট পেতে টেকটিউনস এর সাথেই থাকুন।

Level 1

আমি জান্নাতুল ফেরদৌস ইভা। এসএসসি ২০২২, খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 4 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 10 টি টিউন ও 14 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 6 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 8 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস