কিভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখবেন? অন পেজ এসইও ট্রিকস

টিউন বিভাগ এসইও
প্রকাশিত

আমরা যখন একটি সাইট তৈরি সেই সাইটে ভিজিটর দরকার হয়। ভিজিটর আনার জন্য আমাদের অনেক কৌশল খাটাতে হয়। বর্তমানে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করতে গেলে অবশ্যই ট্র্যাফিক প্রয়োজন। কারন ওয়েবসাইটে কোনো ভিজিটর বা ট্রাফিক না থাকলে কখনই ইনকাম করা সম্ভব না। একটি ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনতে হলে সবথেকে বেস্ট উপায় হলো এসইও করা।

এসইও অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে অনেক জরুরী। এখন সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন কি? একটি ওয়েবসাইট যখন তৈরি করা হয় তখন তার একটি ডোমেইন তৈরি হয়। এখন একজন ভিজিটর কষ্ট করে সেই ডোমেইন দিয়ে সেই ওয়েবসাইট সার্চ দিবে না। বর্তমানে বেশিরভাগ লোক কোনো কিছু সার্চ দিতে হলে তারা বিভিন্ন ধরনের সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে। সেখানে হাজার হাজার ওয়েবসাইট থাকে। আবার একজন ভিজিটর খুব কমই সার্চ রেজাল্টের নিচের দিকের রেজাল্ট গুলোতে ক্লিক করবে। অর্থাৎ আপনাকে যদি আপনার ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক আনতে হয় তাহলে এসইও এর বিকল্প নেই।

আপনি যদি ভালো ভাবে এসইও করতে পারেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইট সয়ংক্রিয় ভাবে সার্চ রেজাল্টের উপরে চলে আসবে। এসইও এর আবার প্রকারভেদ আছে। এসইও মোট দুই প্রকার:- ১. অন পেজ এসইও এবং ২. অফ পেজ এসইও। অন পেজ এসইও এর মধ্যে অনেক বিষয় আছে। তার মধ্যে আর্টিকেল একটি। আজকে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে ওয়েবসাইটে এসইও ফ্রেন্ডলি? পরবর্তী পর্বে অফ পেজ এসইও নিয়ে আলোচনা করা হবে।

অন পেজ এসইও কি?


একটি ওয়েবসাইটের মধ্যে যেসব এসইও করা হয় তাকে অন পেজ এসইও বলে। অন পেজ এসইও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে টাইটেল, আর্টিকেল, কিওয়ার্ড, হেডার ইত্যাদি। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে অন পেজ এসইও সবথেকে জরুরী। এখন কিভাবে অন পেজ এসইও করবেন? অন পেজ এসইও একটু জটিল।

আমাদের এই অন পেজ এসইও সিরিজে প্রত্যেকটি অন পেজ এসইও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা হবে। আজকে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখবেন।

আর্টিকেল

আর্টিকেলকে ওয়েবসাইটের রাজা বলা হয়। আপনার আর্টিকেল যত ভালো হবে ওয়েবসাইটে তত ভিজিটর আসবে। বিশেষ করে অর্গানিক ভিজিটর আনার ক্ষেত্রে আর্টিকেল অনেক জরুরী। এখন অর্গানিক ভিজিটর কী? যেসব ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট প্রতিনিয়ত ভিজিট করে তাদের অর্গানিক ভিজিটর বলে।

আর অর্গানিক ভিজিটর পেতে হলে আপনাকে ভিজিটরদের এমন কিছু উপহার দিতে হবে যা তাদের জন্য উপকারী। আর্টিকেল দিয়ে খুব সহজেই অর্গানিক ভিজিটর পাওয়া যায়। তবে আর্টিকেল এমন ভাবে লিখতে হবে যেনো একজন ভিজিটর আকৃষ্ট হয়।

কিভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখবেন?


যেহেতু আপনার ওয়েবসাইটের এসইও বেশিরভাগ নির্ভর করে আর্টিকেলের উপর তাই একটি মানসম্মত আর্টিকেল লেখা অনেক জরুরী। এখন প্রশ্ন হতে পারে কিভাবে আর্টিকেল লিখলে ভিজিটর আকৃষ্ট হবে। আপনাকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর আর্টিকেল লিখা লাগবে।

শুধু ইনকাম করার মন মানসিকতা নিয়ে আর্টিকেল লিখলে কখনই ভালো ভাবে লিখতে পারবেন না। আর্টিকেল লিখতে হবে ভিজিটরদের উদ্দেশ্যে। আপনার আর্টিকেলের মধ্যে এমন কিছু থাকতে হবে যা অন্যের আর্টিকেলে নেই। অবশ্যই আর্টিকেল শিক্ষামূলক হতে হবে। প্রায় সব ধরনের সার্চ ইঞ্জিন আর্টিকেলের মধ্যে নতুন কিছু খোঁজে এবং ওয়েবসাইট র‌্যাংক করে।

অতএব ওয়েবসাইটের মধ্যে নতুন কিছু থাকা আবশ্যক। একটি এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখার জন্য নিচের নিয়ম গুলো অনুসরণ করতে পারেন।

১. কিওয়ার্ড রিসার্চ


আমরা একটি ওয়েবসাইটে বা সার্চ ইঞ্জিনে কোনো কিছু খুঁজে বের করার জন্য একটি শব্দ বা একাধিক শব্দ ব্যবহার করে কোনো কিছু সার্চ দিই। এখানে সেই একটি শব্দ বা একাধিক শব্দই কিওয়ার্ড। এখন এসইও এর ক্ষেত্রে কিওয়ার্ড রিসার্চ কেনো জরুরি? বর্তমানে কোটি কোটি ওয়েবসাইট বিভিন্ন ধরনের সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে আছে।

আবার কালের পরিবর্তনে মানুষের রুচি পরিবর্তন হয়। তাই কিওয়ার্ড রিসার্চ অনেক জরুরী। কেমন কিওয়ার্ড বেছে নিবেন? প্রথমত এমন কিওয়ার্ড বাছতে হবে যেটি কম ব্যবহার হয়েছে। এরপর সেই কিওয়ার্ড আবার জনপ্রিয় কি না এবং পরেও জনপ্রিয় হবে কি না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি ভালো ভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করেন তাহলে এমনিতেই আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিন গুলোর প্রথম পেজে চলে আসতে সক্ষম হবে। কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য প্রচুর টুল আছে। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই পেইড অর্থাৎ টাকা দিয়ে চালাতে হবে। গুগল কিওয়ার্ড প্লানার দিয়ে আপনি সম্পুর্ন ফ্রিতে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারবেন। আবার গুগল প্লানারে বাংলা কিওয়ার্ড সাপোর্ট করে। মজার বিষয় হলো বেশিরভাগ পেইড কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলে বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চ করা যায় না।

২. টাইটেল


আপনার টিউনের পরিচিত হলো টাইটেল বা শিরোনাম। আপনি কি নিয়ে আর্টিকেল লিখছেন তার উপর একটি সুন্দর টাইটেল লিখতে হবে। যদি উল্টা পাল্টা টাইটেল দেন তাহলে সার্চ ইঞ্জিন গুলো কখনই আপনার টিউন র‌্যাংক করাবে না। আবার অনেকে পড়তে গেলে বিরক্ত হবে। একটা কথা মনে রাখবেন। সাধারণ ভিজিটরের থেকে অর্গানিক ভিজিটর অনেক বেশি জরুরি। এখন মানসম্মত টাইটেল কিভাবে তৈরি করবেন? আগে দেখে নিন আপনার আর্টিকেল কি বিষয় নিয়ে তৈরি এবং আপনি কি লিখেছেন। তারপরে আপনার আর্টিকেলের উপর একটি সুন্দর এবং তুলনামূলক ছোট টাইটেল দিন। মনে রাখবেন আপনার টাইটেলে যা দিবেন তা জেনো আপনার আর্টিকেলে থাকে।

৩. কিওয়ার্ড যুক্ত করা


টিউনের মধ্যে অবশ্যই কিওয়ার্ড যুক্ত করতে হবে। আপনি কি নিয়ে আর্টিকেল লিখছেন তার প্রধান কিওয়ার্ড কি সেটা আগে দেখে নিন। এরপর আপনি আর্টিকেলের মধ্যে সেই কিওয়ার্ড গুলো দিয়ে দিন। আর্টিকেলের প্রথম দিকে প্রধান কিওয়ার্ড গুলো বোল্ড করে দিতে পারেন। এতে এসইও পারফেক্ট হয়। এরপর আরো কিছু কিওয়ার্ড বাছতে হবে যেগুলো সেই আর্টিকেল রিলেটেড হতে হবে। সেই কিওয়ার্ড গুলো আর্টিকেলের মধ্যে বসাতে হবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেটি হলো কিওয়ার্ড ডেনসিটি। প্রতি ১০০ ওয়ার্ডে আপনি প্রধান কিওয়ার্ড ৫ বার ব্যবহার করতে পারেন।

৪. টেবিল অব কন্টেন্ট

টেবিল অব কন্টেন্ট আপনার আর্টিকেলের সূচীপত্রের মতো কাজ করে। আপনি আপনার আর্টিকেলে কি নিয়ে আলোচনা করবেন তার একটি তালিকা হলো টেবিল অব কন্টেন্ট। বর্তমানে বেশিরভাগ ওয়েবসাইটে টেবিল অব কন্টেন্ট ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে বড় আর্টিকেলের ক্ষেত্রে টেবিল অব কন্টেন্ট অনেক জরুরী। ধরুন আপনি বড় আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করছেন। এখন কিছু বা অধিক ভিজিটরের আপনার আর্টিকেলের সব পড়া লাগবে না।

তাদের কিছু অংশ পড়লেই হবে। এখন আপনি যদি টেবিল অব কন্টেন্ট ব্যবহার না করেন তাহলে সেই অংশ পেতে একজন ভিজিটরের অনেক খাটনি হবে। টেবিল অব কন্টেন্ট ব্যবহার করলে খুব সহজেই সেই নির্দিষ্ট অংশ বের করা সম্ভব। এতে আপনার অর্গানিক ভিজিটর অনেক বেড়ে যাবে। সার্চ ইঞ্জিন গুলোও টেবিল অব কন্টেন্ট পছন্দ করে তাই আর্টিকেল খুব তাড়াতাড়ি র‌্যাংক করে। অতএব টেবিল অব কন্টেন্ট ব্যবহার করা জরুরী।

৫. রিলেটেড আর্টিকেল

ধরুন আপনি একটি আর্টিকেল লিখেছেন। এখন আপনার আর্টিকেলের কিছু অংশের বিস্তারিত আলোচনা ইতোমধ্যে হয়েছে। আপনি সেই আর্টিকেলের লিংক আপনার টিউনের মধ্যে দিতে পারেন। এতে ভিজিটর অনেক খুশি হয় এবং আপনার অর্গানিক ভিজিটর বেড়ে যাবে। তাছাড়া আপনার অন্যান্য আর্টিকেল গুলো প্রমোট হয়ে যাবে। সার্চ ইঞ্জিন গুলোও রিলেটেড আর্টিকেল খুব পছন্দ করে। তাছাড়া রিলেটেড আর্টিকেল ব্যবহার করলে এসইও ভালো হয়।

আজ এ পর্যন্তই। আমাদের এসইও পর্বে অনেক আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে। ততদিন আমাদের সাথে থাকুন।

ধন্যবাদ সবাইকে।

Level 2

আমি রায়হান মাহমুদ সাকিব। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 7 মাস 1 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 14 টি টিউন ও 8 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 3 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস