যিনি SEO সম্বন্ধে কিছু জানেন না, সেই ব্যক্তিকে SEO সম্পর্কে সহজ করে কীভাবে বোঝাবেন?

টিউন বিভাগ এসইও
প্রকাশিত

"ধরুন আমার বাসায় পাঁচটা রুম রয়েছে। আমি পাঁচজনকে আমার বাসায় আসতে বললাম। যে আগে আসবে সে প্রথম রুমে যাবে এবং যে পরে আসবে সে তারপরের রুমে যাবে। এভাবে যে সবার শেষে আসবে সে সবার শেষের রুমে যাবে।

ঠিক আছে?

এখন ধরুন আমি বললাম যে, আমি এই পাঁচজনকে পাঁচটা গিফট দেবো!

এখন আবার প্রশ্ন করবেন না যেন, কি গিফট দেবো! এটা মূখ্য নয়!

যাই হোক!

আমি পাঁচজনকে পাঁচটা গিফট দেবো! প্রথম রুমে যে আছে সে সবার বড় গিফটটা পাবে আর যে সবার শেষের রুমে আছে সে সবচেয়ে ছোট গিফটটা পাবে!

আপনি কোনটা চাইবেন? নিশ্চয়ই বড় গিফটটা তাই না?

এখন আমি যদি বলি, সার্চ ইঞ্জিনগুলো (গুগল, বিং, ইয়াহু ইত্যাদি) উপরের এই ঘটনাটাই ঘটিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, তাহলে কি আমাকে বিশ্বাস করবেন? কখনোই না! কারণ, আপনি আদৌ কোনো গিফট পাচ্ছেন না গুগলের থেকে তাই না?!

হ্যা! আপনি কোনো গিফট পাচ্ছেন না কারণ আপনি একজন ভিজিটর বা অডিয়েন্স বা কাস্টোমার। আপনার কাজ হচ্ছে, শুধু দেখে যাওয়া আর সার্চ ইঞ্জিনের বিভিন্ন লিংকে ক্লিক করে যাওয়া। কিন্তু যার ওয়েবসাইট রয়েছে বা যার ব্লগ রয়েছে, যার ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে সে কিন্তু ঠিকই গিফট পাচ্ছে! কিভাবে?

চলুন তাহলে উপরের ঘটনার সাথে পুরো বিষয়টাকে মিলিয়ে দেখা যাক!

আমার বাসাটাকে সার্চ ইঞ্জিন ধরুন। এবার আমি পাঁচজনকে বলেছিলাম বাসায় আসতে। এরা হচ্ছে ওয়েবসাইটধারী পাঁচটা ব্যক্তি যাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ব্লগ অথবা একটা অনলাইন শপ রয়েছে।

বুঝতে পারছেন কি? না বুঝতে পারলে প্রশ্ন করুন! প্রশ্ন করেছেন? আমি শুনতে পাচ্ছি না! ওহ আচ্ছা! এটা তো বই! দুঃখিত!

আমার বাসায় যে প্রথমে এসেছে সে প্রথম রুমে গিয়েছে, যে শেষে এসেছে সে শেষ রুমে! তাই না?

কিন্তু ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখবেন যে, আমার বাসায় প্রথম রুমে কিংবা দ্বিতীয় রুমে কিংবা শেষ রুমে যাওয়ার আগে তাদেরকে কিন্তু প্রথমে আমার বাসায় এসে প্রবেশ করতে হয়েছে। বাসায় না প্রবেশ করে তারা কি রুমে আসতে পারবে?

পারবে না তো?!

সার্চ ইঞ্জিন এই কাজটাই করছে! একেকটা ওয়েবসাইটকে তাদের বাসায় অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিনে ঢুকতে দিচ্ছে। আর তারপরে তাদের গুণ দেখে, কাজ দেখে তাদেরকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় অবস্থানে রাখছে। যেভাবে আমি আমার বাসায় সেই পাঁচজনকে পাঁচটা রুমে রেখেছিলাম। এক্ষেত্রে তাদের গুণ বা কাজ ছিলো ‘যে সবার আগে আসবে!’

এখন গিফটের কথায় আসি!

তার আগে আমাকে একটা কথা বলুন। যদিও বললেও আমি শুনবো না!

আপনি যখন গুগলে যান, গিয়ে কিছু একটা লিখে সার্চ করেন তখন সেখানে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত বিভিন্ন লিংক দেখতে পাবেন। যেগুলোতে ক্লিক করে সেই সাইটগুলোতে প্রবেশ করেন তাই না?

এখন মনে করুন আপনার ভাইয়ের একটা গান ডাউনলোড করার ওয়েবসাইট রয়েছে। সে আপনাকে বললো, “নেক্সট টাইম আমার সাইট থেকেই গান ডাউনলোড করবি!”

আপনিও আজকে গান ডাউনলোড করতে তার ওয়েবসাইটের নাম লিখে গুগলে সার্চ করলেন। প্রথম পেইজে তার সাইটের লিংকটা দেখতে পেলেন না, গেলেন দ্বিতীয় পেইজে। সেখানেও পেলেন না। এভাবে শেষমেষ গিয়ে পেলেন সপ্তম পেইজে। তারপর ঢুকে গান ডাউনলোড করতে শুরু করলেন!

এখন আপনি একটা প্রশ্নের উত্তর দিন তো!

আপনি তো তার কাছের মানুষ! আপনি নাহয় তার সাইটকে খুঁজে খুঁজে এত দূরে গিয়েও তার সাইটে ঢুকেই গান ডাউনলোড দিচ্ছেন। কিন্তু যদি আপনার জায়গায় আরো ১০০টা মানুষ হতো, তাহলে তারা কি এই একই কাজটাই করতো?

আপনাকে উত্তর দিতে হবে না, আমিই উত্তর দিচ্ছি!

কখনোই নয়!

কেউই এত কষ্ট করতে চায় না! সবাই চায় গুগলের প্রথম দুটো কিংবা তিনটি পেইজের মধ্যে চলে আসতে! যাতে করে মানুষ সহজেই সেই সাইটটাকে খুঁজে পায়!

তাই না?

এখন এক্ষেত্রে গুগলের প্রথম পেইজে আসার জন্য আপনার ভাই কি করতে পারে?

সে এসইও করতে পারে!

এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন। অর্থাৎ সহজ কাঁচা বাংলায়, সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে আপনার সাইটটাকে ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে আসা!

এখন আপনার ভাই সাইট বানানোর সাথে সাথেই কি সেটা সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম পেইজে চলে আসবে? উঁহু! আসবে না!

সেজন্য তাকে শুরুতে অন পেইজ এসইও করতে হবে। অন পেইজ এসইও হচ্ছে, এসইওয়ের একটি প্রকারভেদ! এই অন পেইজ এসইও দ্বারা মূলত একটা ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে তুলে দেয়া হয়। অন পেইজ এসইও করার মাধ্যমে আপনি সার্চ ইঞ্জিনের বাসার দরজা নক করে বলেন, “আমার আমি সাইট নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছে! আর মুখ ফিরিয়ে থেকো না! অন্তত এখন আমায় ঘরে ঢুকতে দাও!”

আপনার ভাইয়ের এই ওয়েবসাইট তৈরি করার পর, সে যদি অন পেইজ এসইও করে তাহলে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে খবর চলে যাবে যে, আপনার ভাইয়ের এই নামে একটা সাইট এসেছে। তখন গুগল সেটাকে টেনে ধরে তার সাইটের ভান্ডারে নিয়ে জমা করবে!

ঠিক যেভাবে আমার বাসার সেই পাঁচজন মানুষের মতো। যারা বাসায় এসে শুরুতে রুমে যাওয়ার পূর্বে, আমার বাসার কলিংবেল বাজিয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা বাসায় চলে এসেছে। আর আমিও তাদেরকে বাসার ভেতরে ঢুকতে দিয়েছি!

এখন তো আপনার ভাইয়ের ওয়েবসাইটকে গুগল চেনে! তাই না?

গুগল এখন কি করবে জানেন?

আপনার ভাইয়ের সাইটটাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবে যে এটাকে কত নাম্বার পেইজে রাখা যায়। আপনার ভাইয়ের সেই সাইটের গুনাবলী, কাজ, সাইটের অবস্থাসহ বিভিন্ন কিছু পরীক্ষা করে তারপরে ঠিক করলো যে, সপ্তম পেইজ এই সাইটের জন্য সঠিক অবস্থান!

এখন আপনার ভাইয়ের ঘটনায় যাওয়া যাক! আপনি গান ডাউনলোড দিলেন। আপনার ভাইকে দুপুরের খাওয়ার টেবিলে জানালেন যে, আপনি তার সাইট থেকেই গান ডাউনলোড দিয়েছেন। এটা শুনে সে খুশি হলো।

কিন্তু পরক্ষণেই তাকে জানালেন যে, আপনাকে তার সাইট খুঁজে পেতে সপ্তম পেইজ পর্যন্ত যেতে হয়েছে। তখনই সে চিন্তায় পড়ে গেলো। তার মাথাতেও একই প্রশ্ন আসলো। আর সেটা হচ্ছে, একটা মানুষ কি তার সাইট খুঁজতে এত দূর অবধি যাবে?

যাবে না!

তাহলে এখন উপায়?

আর তখনই তার মাথায় আসলো অফ পেইজ এসইওয়ের কথা। অফ পেইজ এসইও হচ্ছে অন পেইজ এসইওয়ের আরেক ভাই এবং এসইওয়ের সন্তান!

অফ পেইজ এসইও করার পর আপনার ভাইয়ের সাইট কিছুদিনের মধ্যেই গুগলের তৃতীয় পেইজে চলে আসলো। তারপর সেটা কন্টিনিউ করতে থাকলো সে। আরো পনেরদিন পর সে দেখলো তার সাইট প্রথম পেইজে চলে এসেছে! এবার সে হাফ ছেড়ে বাঁচল।

আপনাকে এসে আবারো বললো, গান ডাউনলোড দেয়ার জন্য! আপনিও আবারো সার্চ করলেন গুগলে, আপনার ভাইয়ের সাইটের নাম লিখে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে দেখলেন যে, সাইট কিছুদিন আগেও সপ্তম পেইজে ছিলো এখন সেটা প্রথম পেইজে চলে এসেছে! আপনিও ডাউনলোড দিলেন খোঁজাখুঁজির কোনো ঝামেলা ছাড়াই।

এই যে একটা সাইটকে গুগল সপ্তম থেকে তৃতীয়, তারপর তৃতীয় থেকে প্রথম পেইজে নিয়ে আসার পদ্ধতি, এটাকেই মার্কেটাররা বলে থাকে অফ পেইজ এসইও।

কারণ, গুগলের সপ্তম পেইজে যদি আপনার সাইটে প্রত্যেকদিনে ক্লিক পড়ার সম্ভাবনা থাকে ১০০টি তাহলে তৃতীয় পেইজে সেই সম্ভাবনা বেড়ে হয়ে যায় ৫০০টি! আর প্রথম পেইজে সম্ভাবনা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় হাজারের কাছে! আর এটাই একটা সাইটের জন্য গিফট! যত বেশি ভিজিটর, তত বড় গিফট!

ঠিক একইভাবে আমার বাসায় যারা এসেছে, তাদের আমি শুরুতেই র‍্যান্ডমলি প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা শেষ রুমে যেতে দিই নি। তাদের গুণগুলো দেখেছি, তাদের বাসায় আসার সময়টাই এখানে তাদের গুণ ছিলো। তারপর যে শুরুতে এসেছে তাকে প্রথম রুমে দিয়ে সবচেয়ে বড় গিফট দিয়েছি আর যে শেষে তাকে ছোট গিফট দিয়েছি!

যেটা গুগল করছে প্রতিনিয়ত!

সুতরাং, শেষ কথায় বলি – এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিনে একটা ওয়েবসাইটকে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসা। এসইওয়ের দুটো অংশ রয়েছে। অন পেইজ এসইও, যেটা দ্বারা সার্চ ইঞ্জিনে একটা ওয়েবসাইটকে দেখানো হয় বা র‍্যাংক করানো হয় এবং অফ পেইজ এসইও, যেটা দ্বারা সার্চ ইঞ্জিনে একটা ওয়েবসাইটের র‍্যাংক উপরে নিয়ে যাওয়া হয় বা বৃদ্ধি করানো হয়!"

বুঝেছেন?

সুত্রঃ https://bd-tech-help.blogspot.com/2020/07/seo-seo.html

Level 3

আমি ইমরান হোসেন হৃদয়। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 2 বছর 5 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 20 টি টিউন ও 5 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।

I am Imran Hossen Hridoy. My Professional Skills Web designing, Software Makeing, Internet, OLD Phones Expert, Smart Phones Expert, Computer Expert , Etc. My website: theshopinfo.com


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস