ল্যাবে তৈরি কৃত্রিম মাছ খাওয়া যাবে

Level 1
প্রথম পর্বের ছাত্র, ইনস্টিটিউট অফ মেরিন টেকনোলজি, সিরাজগঞ্জ

প্রথমবারের মতো ল্যাবে তৈরি কৃত্রিম মাছ খাওয়া যাবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন তারা 3D প্রিন্টারের  সাহায্য খাবার যোগ্য কৃত্রিম মাছ তৈরি করেছেন যার স্বাদ একদম আসল মাছের মতো। ইসরায়েল এর স্টেকহোল্ডার ফুডস নামে সংস্থা ঘোষণা করেছেন যে তাদের তৈরি বিশেষ 3D প্রিন্টারের থেকে সরাসরি খাবার যোগ্য মাছ  তৈরি  করা যাবে এবং  এই মাছের স্বাদ ও গঠন মানুষ বা পরিবেশের ক্ষতি করবে না। মাছটি বিশেষ প্রিন্টার থেকে সরাসরি তাজা রান্না হতে পারে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েল এর স্টেকহোল্ডার ফুডস সংস্থা আশা করছেন কয়েক মাসের মধ্যে তারা, এই খাবার বাজারে আনতে পারবেন। এরই মধ্যে কৃত্রিম মাছ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রান্নাও টেস্ট করা হয়েছে। টেস্ট  এর বিবরণ দিতে গিয়ে তারা বলেছেন "মাছটি আপনার মুখের মধ্যে গলে যায় ঠিক আসল মাছের মতো"। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে তাদের প্রযুক্তিটি বিভিন্ন ধরনের মাছের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা যাব।

কিভাবে কৃত্রিম মাছ তৈরি করা হয়? 

স্টেকহোল্ডার ফুডস সংস্থা তাদের তৈরি 3D প্রিন্টারের থেকে কিভাবে সরাসরি খাবার যোগ্য মাছ তৈরি  করেছে তার বর্ণনা করেছেন। প্রাণী থেকে কোষ বের করে সেগুলো পেশী ও চর্বিতে পরিণত করে। তারপর সেগুলিকে বিশেষ 3D প্রিন্টারের জন্য উপযুক্ত একটি বায়ো-ইঙ্ক এ যোগ করে এবং সরু ফিল্লেট এর সাহায্যে  মাছের বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করা হয়। 3D প্রিন্টার কাস্টমাইজ "বায়ো কালি" কৃত্রিম টিস্যু গুলো তৈরি করে। 

 

এই কালি গুলো সাধারণ কোষ দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে যা অনেক টা জেলির মতো হয়ে থাকে। এর পর 3D প্রিন্টার এর ভিতরে রাখা হয়। 3D প্রিন্টারের সোয়াইপ করলে  মাংস ভর লাভ করে। মাছটি প্রিন্টা হওয়ার সাথে সাথেই রান্না করা যেতে পারে।

কৃত্রিম মাছের সুবিধাগুলো কি কি? 

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন এই কৃত্রিম মাছির করণে ভবিষ্যতে আমাদের জীবন যেমন পরিবর্তন আসবে, তেমনি প্রকৃতির ক্ষতি পরিমাণও কমিয়ে আনা যাবে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা আরো অনেক তথ্য বিবরণ আকারে উল্লেখ করেছেন।

 

  • "3D Printed Fish"  বা কৃত্রিম মাছ গুলো অনেক কম সময়ের মধ্যে তৈরি করা যায়। বিজ্ঞানী দের দেওয়া তথ্য মতে এক ঘন্টার মধ্যে এটি Printing শেষ করতে পারে। 
  • শরীরের স্বাস্থগত দিকেও এর বড় পভাব আছে। শরীরের দ্রুত প্রোটিন ও আমিষের চাহিদা পূরণ করে।
  •  গত বছর ডব্লিউডব্লিউএফ সামুদ্রিক খাদ্য খাতের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার জন্য এটি কয়েক ডজন প্রজাতিকে হত্যা করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। "3D Printed Fish" সাহায্য মাছ প্রজাতির উপর আর চাপ দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কারন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ তৈরি করতে 3D প্রিন্টার ব্যবহার করার আশা করছে।
  • পৃথিবীর প্রায় চার ভাগের তিন ভাগই সমুদ্র। আর প্রতিদিন এই সমুদ্রিক পরিবেশের একটি বড় অংশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। "3D Printed Fish" কারনে এই ক্ষতি কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা যায়।
  • বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার খাদ্য ভান্ডার তেরি তে স্থান করে নিতে পারে এই "3D Printed Fish"।

কৃত্রিম মাছের অসুবিধাগুলো কি কি?

যদিও "3D Printed Fish" ভবিষ্যতে আমাদের অনেক কাজে আসতে চলেছে। কিন্তুু প্রায় অন্য যেকোনো দ্রব্য মতোই 3D প্রিন্টিং প্রযুক্তিরও কিছু অসুবিধা রয়েছে যা  ব্যবহার করার আগে বিবেচনা করা উচিত।

 

  • 3D প্রিন্টারে অনেক আইটেম গুলো পুনর্ব্যবহৃত করা যায় না তাই  খুব কমই খাদ্য নিরাপদ। 
  • বর্তমানে 3D প্রিন্টার তৈরি কৃত্রিম মাছের আকার গুলো সীমাবদ্ধ। কারণ এখন কার কৃত্রিম মাছগুলো ছোট ছোট চেম্বার এ তৈরি করা হচ্ছে। বড় আকারে তৈরি করতে হলে প্রিন্ট কোম্পানিগুলো কে আরো বেশি খরচ ও সমায় ব্যায় করতে হবে। 
  • "3D Printed Fish" যেহেতু অনেক উন্নত প্রযুক্তি তাই উন্নয়শীল দেশ গুলোর কাছে এই প্রযুক্তি আসতে প্রায় অনেক বছর লেগে যেতে পারে।
  • যেহেতু "3D Printed Fish" কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয় তাই অন্য যে কোন কম্পানি এর ফেক কপি আইটেমও বের করতে পারে।
  • বর্তমান বাজারে "3D Printed Fish" এর দাম অনেক যা সবার সামর্থের মধ্যে হবে নয়। 

 

আমার মতে এর অনেক সুবিধা আছে বিশেষ করে আমাদের মতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য। যেখানে বাসস্থান ও খাদ্যের সমস্যা প্রায় বিপুলসংখ্যক জনসংখ্যাকে প্রভাবিত করে।

Level 1

আমি মাহিম বিন নূরে এলাহি। প্রথম পর্বের ছাত্র, ইনস্টিটিউট অফ মেরিন টেকনোলজি, সিরাজগঞ্জ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 বছর 1 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 4 টি টিউন ও 7 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 3 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস