ব্যাথাযুক্ত দাতেঁর চিকিৎসা

# *ব্যাথাযুক্ত দাঁতের চিকিৎসা*

 

সুন্দর দাঁত আমাদের হাসিকে আরও সুন্দর করে তোলে। কিন্তু আমরা অনেকেই দাঁতের যথাযথ যত্ন নিতে অবহেলা করি। প্রতিদিন সঠিকভাবে দুবার দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম আমাদের জানা থাকলেও অনেকেই তা পালন করি না। সঠিকভাবে পরিষ্কার না করার দরুন দাঁতে জমে থাকে খাদ্যকণা, তৈরি করে ক্ষতিকর অ্যাসিড। এতে দাঁতের ক্ষয়রোগ হয়। আর তা অবহেলায় হতে পারে তীব্র ব্যথাযুক্ত পাল্প ইনফেকশন, মাড়ি ইনফেকশন, সিস্ট, টিউমারসহ নানা ধরনের জটিল সমস্যা।

 

দাঁতের চিকিত্সককে এবং দাঁতের চিকিত্সা নিতে ভয় পাওয়াকে বলে ডেন্টোফোবিয়া। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ডেন্টোফোবিয়া রয়েছে। অনেকেই ভোগেন প্রচণ্ড দাঁতের ব্যথা কিংবা অন্য কোনো দন্ত সমস্যায়, তবু তাঁরা চিকিত্সা নিতে চান না। দাঁতের অনেক চিকিত্সাপদ্ধতিতেই অবশকারী ইনজেকশন নেওয়া দরকার। শুধু ইনজেকশনের ভয়ে দাঁতের চিকিত্সা করাতে চান না বেশির ভাগ রোগী। এসব রোগীর দাঁতের সমস্যাটা মারাত্মক আকারে চলে যায়। পরে তাদের চিকিত্সা দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে ওঠে।

 

সুখবর হলো, আধুনিক বিজ্ঞানের যুগান্তকারী চিকিত্সাপদ্ধতিতে দাঁতের ইনজেকশন-ভীতি পুরোপুরি দূর করার চেষ্টা করেছেন বিজ্ঞানীরা। দেশে-বিদেশে আজকাল বহুভাবে ব্যবহূত হচ্ছে টপিক্যাল অ্যানেসথেসিয়া। আর এটি পাওয়া যায় জেল অথবা স্প্রে হিসেবে। এগুলো ব্যবহার করা হয় ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতের চারপাশ সাময়িকভাবে অবশ বা নিস্তেজ করার জন্য।

 

ওয়ান্ড একটা পদ্ধতি। এটা ওল্ড ফ্যাশনড সিরিঞ্জের বিকল্প একটি ক্ষুদ্র কলম আকৃতির কম্পিউটার ইউনিট। ওয়ান্ড যেকোনো দাঁতের রোগীর জন্য হতে পারে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। এর সাহায্যে রোগীকে কোনো ব্যথা না দিয়েই তাঁর দাঁতকে নিস্তেজ করা যেতে পারে। প্রচলিত ইনজেকশনের মতো জিব, গাল, ঠোঁট ইত্যাদি অবশ না করেই নির্দিষ্টভাবে একটি দাঁতকে নিস্তেজ করা যায় এই পদ্ধতিতে।

 

দাঁতের চিকিত্সায় এয়ার এব্রেশন নতুন আরেকটি আবিষ্কার। এতে ইনজেকশন কিংবা ড্রিলিং দরকার হয় না। এয়ার এব্রেশন পদ্ধতিতে ডেন্টাল হ্যান্ডপিসের মাধ্যমে সিলিকা, অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড বা বেকিং সোডা মিশ্রিত কম্প্রেসড গ্যাস দাঁতের ক্ষতের ভেতর প্রবাহ করা হয়, যাতে দাঁতের ক্ষয় দূর হয়।

 

এ রকম আর একটা পদ্ধতি হলো ‘ইলেকট্রিক্যালি এক্সিলারেটেড অ্যান্ড এনহ্যান্সড রিমিনারেলাইজেশন’। এই পদ্ধতিতে ক্যালসিয়াম ও ফসফেট মিনারেলের স্বাভাবিক গতিকে উদ্দীপিত করা হয়। সঙ্গে ব্যবহার করা হয় বিশেষ ইলেকট্রিক্যাল কারেন্ট। সেই কারেন্ট মিনারেলকে দাঁতের ক্ষয়প্রাপ্ত অংশে ঠেলে দিয়ে দাঁতের নিখুঁত গঠন পুনরুদ্ধার করা হয়।

 

দাঁতের চিকিত্সায় আরেকটি যুগান্তকারী পদ্ধতি ইনজেকশন বা ড্রিলিংহীন পদ্ধতি হলো ওজনথেরাপি। ওজন অক্সিজেনের আরেকটি রূপ, যা ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহূত হয়ে আসছে। দাঁতের ক্ষয়রোগ চিকিত্সার পাশাপাশি দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে ওজনথেরাপি অত্যন্ত কার্যকর। ওজন গ্যাস সঠিক মাত্রায় দাঁতের জীবাণু-আক্রান্ত অংশে প্রবাহিত হয় এই পদ্ধতিতে। মাত্র ২০ সেকেন্ডে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দাঁতের ক্ষয়কারী ব্যাকটেরিয়া দূর করতে পারে। দ্রুত প্রশমিত করতে পারে ক্ষতিকর অ্যাসিডকেও।

 

একজন রোগীকে যথাযথ সেবা ও আধুনিক চিকিত্সা দিতে আমাদের দন্তচিকিত্সকেরা সব সময়ই চেষ্টা করেন। সে জন্য দেশে-বিদেশে দন্তচিকিত্সকেরা নানা ধরনের প্রশিক্ষণ নেন। আশা করা যায়, দাঁতের চিকিত্সায় পাশ্চাত্যে ব্যবহূত অত্যাধুনিক পদ্ধতিগুলো শিগগিরই বাংলাদেশেও চালু হবে। তখন আমাদের দেশের মানুষের ডেন্টোফোবিয়া কমে যাবে, সেই সঙ্গে দাঁতের চিকিৎসা গ্রহণ হয়ে উঠবে আনন্দদায়ক।

 

Level 2

আমি অপুর্ব আহমেদ। , Matlab, chandpur। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 4 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 18 টি টিউন ও 8 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস