ক্লাসে উপহাসের ছাত্রটি বিজ্ঞানী আলবার্ট আইন্সটাইন

প্রকাশিত
জোসস করেছেন

আশাকরি মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সবাই নিজ নিজ স্থানে ভালো ও তীর আছেন।
বন্ধুরা যদি কাউকে বলা হয় একজন অমনোযোগী ছাত্র পড়িয়ে আপনি সবচেয়ে ভালো ফল অর্জন করিয়ে দিতে পারবেন, তিনি অবশ্যই বলবেন এটা কি করে সম্ভব। আর যদি বলা হয় সেই ছাত্র কে বিশ্বখ্যাত উদ্ধাপক বানিয়ে দিতে পারবেন তাহলে তো যে কেউ হেসে বলবে আরে এতো পাগলামো সব কথা বলছে। হ্যাঁ আজ আমরা তেমনি একজনের কথা বলব, যে ছাত্র সবসময় অমনোযোগী হয় তার শিক্ষক থাকে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছিলেন।

শুধু তাই না তার মাকে ডেকে বলেছিলেন আপনার এই হাবাগোবা ছেলেকে দিয়ে কিছুই হবে না। আর সেই ছেলে কিনা এক সময় বিশ্বের বুকে সেরা বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম হয়েছিলেন। হ্যাঁ বন্ধুরা আমরা আলবার্ট আইনস্টাইনের কথা বলছি। প্রিয় বন্ধুরা আশাকরি খুব মনোযোগ সহকারে দেখবেন ও পড়বেন আজকের এই টিউন।
ছোট বেলায় চুপচাপ ও শান্ত স্বভাবের হওয়ায় সবাই একটু ভিন্ন চোখে দেখত আলবার্ট আইন্সটাইন কে। ক্লাসের শিক্ষক একদিন তার মাকে বলেই বসলেন আপনার এই হাবাগোবা ছেলেকে দিয়ে কিছুই হবে না। কিন্তু তার মা জানতেন কি সন্তান তিনি গর্ভে ধারণ করেছেন।
তিনিও মুখের উপর বলে দিতেন দেখে নিও আমার সন্তান বড় হয়ে একজন বিশ্বখ্যাত উদ্ধাপক হবে। শত্যি হলো মায়ের কথা। আলবার্ট আইন্সটাইন বড় হয়ে শুধু উদ্ধাপক নন কালজয়ী পদার্থ বিজ্ঞান হয়েছিলেন।
চলুন শুরুতেই একটা মজার গল্প বলি।

আইন্সটাইন ছোট বেলায় চার বছর বয়স পর্যন্ত কোন কথা বলেন নি। বই পড়তে শেখেন সাত বছরে। তাই তার বাবা মা মনে মনে ভাবতেন, ছেলেটি হয় আর কথাই বলতে পারবে না। আর এজন্যই দুশ্চিন্তার শেষ ছিলো না তাদের। কিন্তু একদিন রাতে ঘটল এক মজার ঘটনা। খাবার টেবিলে আইন্সটাইনের মা তার জন্য স্যুপ রান্না করে রাখলেন। এরপর থাকে খাবার টেবিলে ডেকে স্যুপ খেতেও দিলেন। কিন্তু হটাৎ আইন্সটাইন বলে উঠেন মা স্যুপটি খুব গরম। সন্তানের মুখে এমন কথা শুনে সবাই হতবাক। তার মুখে কথা শুনে বাড়ির সবাই জিজ্ঞেস করলেন আইন্সটাইন, তুমি এতদিন কথা বলো নি কেন? তিনি জবাব দিলে এতদিন সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলছিলো।
আলবার্ট আইন্সটাইনের জন্ম

আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্ম ১৮৭৯ সালের ২৪ মার্চ। জার্মানির মিউনিখ শহরে। তবে শৈশবের পরে বাকি জীবন কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। তার জীবন ছিলো খুবই সাধাসিধে। তাই বিজ্ঞানী তো দূরের কথা, তিনি কিছু হতে পারবেন এমনটা ও ভাবেনি কেউ। কিন্তু বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য বিশ্ব সেরা নোভেল পুরস্কারটা যে এই আত্নভোলা ছেলেটির জন্যই যে অপেক্ষা করছে, সে কথা জানত। ছেলেবেলা থেকেই নিরবে কি যেন ভাবতেন আলবার্ট আইন্সটাইন। ক্লাসে শিক্ষকরা কোন প্রশ্ন করলে অনেক ভেবে উত্তর দিতেন আলবার্ট আইন্সটাইন। অন্যদের মতো হটাৎ কিছু বলতে পারতেন না তিনি। কিছু কথা মুখে আটকেও যেত, এজন্য সহপাঠীদের কাছ থেকে কম উপহাস সইতে হয় নি থাকে। যে যাই বলুক চুপচাপ এই ছেলেটি সবকিছুতে ছিলো খুব কঠোর। আইন্সটাইনের বাবা হ্যারিমেন আইন্সটাইন ছেলেকে একবার একটা কম্পাস কিনে দিলেন। এরপর বালক আইন্সটাইন সবসময় এই যন্ত্রটি নিয়ে থাকতেন। হটাৎ তার মনে প্রশ্ন জাগল কম্পাসের এই কাটাগুলো একদিকেই কেনো ঘুরছে, অন্য দিকে কেন ঘুরছে না। এবার তার বাবার কাছে কারণ জানতে চাইলেন আইন্সটাইন। বাবা ছেলের এমন কৌতুহল দেখে খুব খুশি হলেন। বাবা কম্পাসের কাঠা একদিকে ঘোরার কারণ ব্যাপক করে বললেন। এছাড়াও আত্নভোলা আইন্সটাইন সবার নজড় কাড়েন একটা নিবন্ধন লিখে। তখন তার বয়স ২০ বছর। নিবন্ধের বিষয় ছিলো আপেক্ষি কথাবাজ। ছোট বেলায় আলোর রতে বেড়ানোর সপ্ন দেখতেন আলবার্ট আইন্সটাইন। তাই আলো নিয়ে সবসময় নানা ভাবনাছিলো তার। ক্লাসে বসে সূর্যের আলো বা বাড়িতে বিদ্যুৎ এর আলো নিয়ে ভাবনা করতে করতে কম বকুনি ও খেতে হয়নি বড়দের কাছে। তাই মাত্র ১৪ বছর বয়সেই আলোর রতে চড়ার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিয়ে ভাবনা শুরু করেছিলেন আইন্সটাইন। তবে আপেক্ষিক তথ্য আবিস্কারের চিন্তাই তাকে সবচেয়ে বেশি আলোরিত করেছে। কারণ বড় হয়ে আলোর রতে চড়ার এই ভূত নামাতে পারেনি কেউ।
বন্ধুরা এবার আরো একটি গল্প বলি।
স্কুলের বাধাদরা পড়াশোনা মুঠেও ভালো লাগত না আইন্সটাইনের। কিন্তু কি আর করার মায়ের আদেশ স্কুলে না গিয়ে উপায় নেই। কিন্তু সেখানে গিয়েও ক্লাসের শেষ দিকে দেওয়ালের কোণে বসে থাকতেন আইন্সটাইন। একদিনে সূর্যের আলো জানালার কাচ ভেদ করে ক্লাসের ভেতর আসতে দেখে এর কারণ বুঝতে ভাবনায় পড়ে গেলেন কিশোর আইন্সটাইন। এসময় শিক্ষক তাকে দাড়াতে বলে পড়া জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু ক্লাসে অমনোযোগী থাকায় উত্তর দিতে পারলেন না। এতে ক্ষিপ্ত হলেন শিক্ষক। তাকে শাস্তি হিসেবে হলরুমে গিয়ে বসার নির্দেশ দিলেন শিক্ষক। অথচ তার শাপে বর হলো। হলরুম বেশ বড় ও শীতল হওয়ায় রুমটা বেশ পছন্দ হয় আইন্সটাইনের। কারণ সেখানে তিনি নির্জন পরিবেশে নিজের মতো করে ভাবতে ভাবতে ক্লাসের সময় পার করে দিলেন তিনি। আর এই গভীর ভাবনাই ছিলো তার গভেষণা।
এবার আরেকটি চমকে দেবার মতো গল্প বলে বিদায় নিচ্ছি। আইন্সটাইনকে একবার এক তরুণ আপেক্ষিক তত্ত্বটি বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এরই তিনি বলেছিলেন কেউ যখন কোন সুন্দরীর সাথে গল্প করে, তখন তার ঐ এক ঘন্টাকে এক মিনিট মনে হবে। কিন্তু যখন থাকে কোন গরম উনুনের কাছি নিয়ে এক মিনিট দাড় করানো হবে, তখন তার কাছে মনে হবে সে যেন এক ঘন্টা থেকে দাঁড়িয়ে আর এটাই আপেক্ষিক তথ্য। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, আমি মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে চিন্তা করেছি। তবে শততম বারে আমি সফল হয়েছি। তিনি আরো বলতেন, স্কুলে যা শেখানো হয়, তার সবটুকু ভুলে গিয়ে যা অবশিষ্ট থাকে তাই হলো আসল শিক্ষা। জার্মান বংশদ্ভূত মার্কিন এই পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইনের মস্তিষ্কের গঠন নিয়ে চীনের এজদল গবেষক বলেছেন, তার মস্তিষ্কের গঠন অন্যদের চেয়েও ব্যাতিক্রমি ছিলো। আর এজন্যই তিনি এতো মেধার অধিকারী ছিলেন।

বন্ধুরা এই ছিলো আজকের মতো। এতক্ষণ ধৈর্য সহকারে এই টিউন দেখার ও পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। দেখা হবে আবার নতুন কোন টিউনে নতুন কোন বিষয় নিয়ে, ততক্ষণ সবাই ভালো ও সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

Level 4

আমি মাহবুব আলম তারেক। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 4 মাস 3 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 35 টি টিউন ও 75 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।

I am a graphics designer, and have worked on a few other web sites 01616234154


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস