হোয়াইট হোল কি?

প্রথমেই বলে রাখি যাদের পড়তে কোনো সমস্যা আছে তারা নিচে link এ ক্লিক করে ভিডিও দেখে নিবেন। আর প্লিজ ভালো লাগলে subscribe করে দিবেন।

link:

https://youtu.be/vzySldvmSwY

 

আমাদের ইউনিভার্স আর রহস্যের মধ্যে একটা গভীর সম্পর্ক আছে। ইউনিভার্স যেমনটা দেখা যায় আশাকরি না কেন আজও আমরা এটা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না। আমরা মহাকাশ সম্পর্কে যতটা জানতে পেরেছি তা এই সমস্ত মহান সব বিজ্ঞানীদের কারণে যারা ম্যাথমেটিক্স এর সাহায্যে আমাদের এই ব্রহ্মাণ্ড সম্পর্কে জানতে সাহায্য করেছে। ব্রহ্মাণ্ডের একটি সব থেকে বড়ো রহস্যময় জিনিস হল ব্ল্যাক হোল। ব্ল্যাক হোল স্পেস টাইমের এমন একটি স্থান যেখানকার গ্রাভিটির অকল্পনীয় রূপ এতটাই অধিক হয় যে এই স্থান থেকে কোন কিছু বাইরে যেতে পারে না এবং যেটা মহাকাশে সবথেকে দ্রুত গতিতে যাত্রা করে সেটাও এর থেকে বাইরে যেতে পারে না। আর এই কারণে আমরা ব্ল্যাক হোলকে দেখতেও পাই না।

আমরা যা দেখি সেটা হচ্ছে এর বাইরের অংশ। যেটাকে বলা হয় ইভেন থরাইসন। কিন্তু কঠিন হলেও সত্যি এটাই যে আমরা বাস্তবে ব্ল্যাক হোলকে আজ পর্যন্ত দেখতে পাইনি। আমাদের কাছে এতটা আধুনিক টেলিস্কোপ নেই যে আমরা তার সাহায্যে এটাকে দেখতে পারি। যে সমস্ত পিকচার আপনারা ইন্টারনেটে দেখে থাকেন সেগুলো বিজ্ঞানিদের অনুমান থেকে  তৈরি। যেটা আমাদের এটাই বোঝায় যে ব্ল্যাক হোল দেখতে এমনটা হতে পারে। কিন্তু আমরা যখন এটাকে আজ পর্যন্ত দেখতেই পারিনি তাহলে আমরা কিভাবে বলতে পারি ব্ল্যাক হোল বাস্তবে আছে। আর বিজ্ঞানিরাই বা কেন বলে আমাদের গ্যালাক্সির মধ্যে একটি সুপার মাসিভ ব্ল্যাক হোল আছে। তাহলে এই সমস্ত জিনিস কি মিথ্যা?

না, এই সমস্ত জিনিস মিথ্যে নয়। ব্ল্যাক হোল বাস্তবে আছে। আমরা বাস্তবে এটাকে না দেখলেও আমরা চারপাশে হওয়া  পরিবর্তন এবং এর প্রভাব কি অধ্যায়ন করে ব্ল্যাক হোল হওয়ার অনুমান করতে পারি। ব্ল্যাক হোল আছে বা হতে পারে এই বিষয়ে আলোচনা সর্বপ্রথম জন মিশাইল নামে এক বিজ্ঞানী ১৭৮৪ সালে করেছিল। এরপর ১৯১৫ সালে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের থিউরি অফ জেনারাল লিবিলিটিবিটির সাহায্যে স্পেস টাইমের এমন একটি স্থানের কথা উল্লেখ করেন যার গ্রাভেটি আলোর গতির থেকেও অধিক। কিন্তু এর সাথে তিনি স্পেস টাইমের এমন একটি স্থানের কল্পনা করেন যেটা ব্ল্যাক হোলের থেকেও অধিক রহস্যময়। এটাকে ব্ল্যাক হোলের ঠিক বিপরীত বলা যেতে পারে আর এটাকে বলা হয় হোয়াইট হোল। আর অধিকাংশ বিজ্ঞানী হোয়াইট হোলের আস্তিত্তকে মানেন না। এমনটা এই কারণেই যে এটা আমাদের ভৌতিকের নিয়মের বিরুদ্ধে। একটি ব্ল্যাক হোল তার আশেপাশের সব বস্তুকে তার ভেতরে নিয়ে নেয় আর কোন কিছু এর থেকে বাইরে যেতে পারে না। কিন্তু একটি হোয়াইট হোল এর ঠিক বিপরীত কাজ করে। কোন কিছু এর থেকে বাইরে আসতে পারে না কিন্তু আমরাও এর ভেতরে যেতে পারবো না। কিছু ভৌত বিজ্ঞানী বলেন হোয়াইট হোল বাস্তবে হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমানে পাওয়া কিছু প্রমাণ হোয়াইট হোলের অস্তিত্ব হওয়ার দিকে ইশারা করে। কেননা ব্ল্যাক হোল আর হোয়াইট হোল একে অপরের সাথে জুড়ে আছে। এর জন্য হোয়াইট হোলকে সম্পূর্ণরূপে বোঝার জন্য প্রথমে আমাদেরকে black হোল সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে হবে।

আমাদের সূর্যের থেকেও বড় তারার যখন জ্বালানি শেষ হয়ে যায় তখন এর রেডিয়েশন আর গ্রাভিটির মধ্যে ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যায়, যার কারণে তারার পোর কোলাপ্স হতে থাকে এবং তখন একটি বিশাল বিস্ফোরণ হয় যেটাকে বলা হয় সুপার নোভা। সুপার নোভার পর এই সমস্ত তারার পোর গ্রাভিটেশনাল ফোর্সের কারণে অধিক ঘন হয়ে যায়। অবশেষে সেটা একটি ইনফাইন ডেনসিটি বিন্দুতে পরিনত হয় যেটাকে বলা হয় গ্রাভিটেশনাল সিঙ্গুলারিটি। এর আকর্ষণ বল এতটাই অধিক হয় যে কেউ এর থেকে বাইরে আসতে পারে না এমনকি আলোও নয় এটাকে আমরা বলি ব্ল্যাক হোল।

আমরা ব্ল্যাক হোলকে দেখতে পাই না কারণ এটি কোন আলোকে রিফ্লেক্ট করে না। আর আমরা ব্লাক হোল সম্পর্কে শুধু এতোটুকুই জানি। এর থেকে বেশি কোন তথ্য আমরা জানি না। এর ভেতরে কি আছে? আর এর ভিতরে জাওয়া কোন কিছু কোথায় চলে যায় আমরা সেটা জানি না। আর আমরা এটা জানতেও পারব না কিন্তু আমাদের কাছে বেশ কিছু এমন তথ্য  আছে যা আমাদেরকে এই সমস্ত ব্যাপারে জানতে সাহায্য করতে পারে। প্রথম যে থিওরিতি এটির অনুসারে ব্ল্যাক হোল টাইম পোর্টাল হতে পারে যা আমাদের সময় যাত্রা করাতে পারে। দ্বিতীয় থিওরি অনুসারে এটি ওয়ার্ম হোল হতে পারে, যা মহাশূন্যের অনেকে দুরের দূরত্বকে একে অপরের সাথে জড়িয়ে রেখেছে। যার ব্যবহার করে আমরা আলোর থেকেও অতি দ্রুত গতিতে ভ্রমন করতে পারি।

কিন্তু একটি থিওরি যেটার ওপর বিজ্ঞানীরা পূর্ব থেকেই বিশ্বাস করে আসছে, আর সেটা হল যে জিনিস এর ভেতরে যায় তা সবসময়ের জন্য এর ভেতরে লক হয়ে যায়। ব্ল্যাক হোলে যাওয়া বস্তুকে বিজ্ঞানীরা একটি নাম দিয়েছেন আর সেটি হলো ইনফর্মেশন। দশক থেকে বিজ্ঞানিরা এটা মেনে আসছেন যখনই কোনো ইনফরমেশন ব্লেক হোলের ভেতরে চলে যায় সেটা চিরতরে হারিয়ে যায়। কিন্তু একটি অন্য থিওরি আছে যেটাকে বেশকিছু তথ্য দ্বারা প্রমাণ করা হয়েছে যে ইনফর্মেশনকে সম্ভাবিত রূপে রিকভারও করা যেতে পারে। আর এখান থেকেই হোয়াইট হোলের সিদ্ধান্ত সামনে আসে। আসলে ইনফর্মেশন ব্ল্যাক হোলের ভিতরের একটি মৌলিক সমস্যাকে তুলে ধরে। কেননা আলবার্ট আইনস্টাইন আর আইজ্যাক নিউটন দুইজনই মনে করতেন পদার্থকে না বানানো যায় না নষ্ট করা যায় এটাকে শুধু অন্য রূপে পরিবর্তন করা যেতে পারে। তাহলে কোথায় যায় এগুলো? এর একটি সম্ভাবিত উত্তর হতে পারে, ব্ল্যাক হোল তার বিনাশের সময় হোয়াইট হোল হয়ে যায় আর যখন এটা হয় তখন সে তার ভেতরে থাকা সব পদার্থ এবং ইনফরমেশনকে বাইরে বের করে দেয়। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন ব্ল্যাক হোল আর হোয়াইট হোল একে অপরের সাথে জুড়ে আছে। যা স্পেস টাইমের  বিশাল দূরত্বকে একে অপরের সাথে জুড়ে দেয় আর যদি আমরা কোন ব্ল্যাক হোলে যেতে পারি তাহলে আমরা আলোর থেকে অতি দ্রুত গতিতে মহাশূন্যের অন্য কোন প্রান্তে চলে যেতে পারব। আর না হয় অন্য কোন ইউনিভার্সে যেতে পারব। এর মাদ্ধমে সময় যাত্রাও সম্ভব।

আপনারা হোয়াইট হোলের সম্পর্কে যা কিছু জানলেন তার অনুসারে আমাদের মনে একটি প্রশ্ন আসে এটা কি শুধুই বিজ্ঞানের কল্পনা? নাকি এটি সত্যি আছে। লম্বা সময় ধরে বিজ্ঞানীরা হোয়াইট হোলের অস্তিত্ব হওয়া সম্পর্কে বিশ্বাস করতেন না কিন্তু ইদানিং কিছু ঘটনা ঘটেছে যা বিজ্ঞানিদের এই ধারণাকে কিছুতা পরিবর্তন করেছে। ২০০৬ সালে একটি গ্লামার ব্লাস্টকে দেখা যায়। যার সাথে পরম্পরা গত ব্লাস্টের কোনো মিল ছিল না। ধারনা করা হয়েছিল হয়ত এটা কোন সুপার নোভার বিস্ফোরণ থেকে হয়েছিল কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে অইখানে কোন সুপার নভার বিস্ফোরণই হয় নি।

বিজ্ঞানিদের এই ব্লাস্টের সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিল না। কিন্তু ৫ বছর পরে তারা এই পরামর্শ দেন যে ২০০৬ সালে গ্লামার ব্লাস্ট হয়ত কোন হোয়াইট হোলের জন্মের সময় হয়েছিল যা ১০২ সেকেন্ডের জন্য অস্তিতে ছিল। যা তার সকল ম্যাটারকে বাইরে বের করে দেয় এবং শেষ হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তকে সব বিজ্ঞানী মানেন না।  কিন্তু যদি হোয়াইট হোলের  সম্পর্কে বলি তাহলে এটি হয়তো তার একটি প্রমাণ হতে পারে যা এটাই বোঝায় যে স্পেস টাইমের সব থেকে বড় এবং রহস্যময় জিনিস এই হোয়াইট হোল বাস্তবে হতে পারে।

Level 0

আমি দিব্য সিয়াম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 7 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস