অ্যাপল ম্যাক এর ফিরে দেখা ৩০ বছর

বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর যুগ। আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই উন্নতির পিছনে রয়েছে কম্পিউটারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যবহার। আর এই কম্পিউটার জগতের পিছনে যে প্রতিষ্ঠান অ্যাপেল ভুমিকা পালন করেছে সেটি অ্যাপেল এবং তাদের বিস্ময়কর আবিষ্কার ম্যাক। অ্যাপেল তাদের ম্যাক বা ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ২৪শে জানুয়ারি ১৯৮৪ সালে, ৩০ বছর পূর্বে। সেই সময় মানুষ দেখেছিল বর্তমান সময়ের কম্পিউটারের মত গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসযুক্ত এমন এক যন্ত্র যার দ্বারা মানুষের জীবনযাত্রার বহুবিধ কাজকর্ম অনেক সহজেই করা যেতো। স্টিভ জবস আর স্টিভ ওজনিয়াকের হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল অভিনব এই প্রযুক্তিপণ্য। ম্যাকের এই আগমণ বরাবরই প্রযুক্তি বিশ্বের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হিসেবে আলোচিত হয়ে এসেছে। সম্প্রতি এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কুপারটিনোতে ফ্লিন্ট সেন্টারে অল প্ল্যানেট স্টুডিওস, দ্য কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়াম এবং ম্যাকওয়ার্ল্ড ও আইওয়ার্ল্ড যৌথভাবে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। অ্যাপেল ম্যাক নিয়ে এই ৩০ বছরের যাত্রায় ম্যাকের যেসব ভার্সন বের করেছে সেসব প্রযুক্তিগত আলোচিত বিস্ময় সম্বন্ধে বর্তমানে সবাই জানতে আগ্রহী। ১৯৮৪ সালে তাদের তৈরি প্রথম ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারটির নাম লিসা। এটি তৈরি করতে ৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির। তৈরির পর অ্যাপেল প্রতিটি কম্পিউটারের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১০ হাজার ডলার। কিন্তু এই লিসা ম্যাক বুক বিশেষ কিছু কারণবশত কোন প্রকার জনপ্রিয়তা বা আকর্ষণীয়তা লাভ করেছিল না। অ্যাপেল মাত্র গুটি কয়েক লিসা ম্যাক বুক বিক্রয় করতে সক্ষম হয়েছিল। তবুও ধৈর্য না হারিয়ে হতাশাগ্রস্থ না হয়ে এর পরপরই একই বছরেই কোম্পানিটি ম্যাকিন্টোশ ১২৮কে মডেলটি বাজারে ছাড়ে। এটি ছিল ২৮৯৫ ডলার মূল্যের। এর র‍্যাম ছিল ১২৮কে এবং পর্দার আকৃতি ছিল ৯ ইঞ্চি। অ্যাপেলের এই মডেলটি নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল এবং এই মডেলটির মাধ্যমেই অ্যাপেল সর্বপ্রথম জনপ্রিয়তা লাভ করে ও দৃষ্টিগোচর হয়। ম্যাকিন্টোশ ১২৮কে এর সফলতার পর অ্যাপেল ১৯৮৫ সালে অর্থাৎ এক বছর পরেই বাজারে নিয়ে আসে ম্যাকিন্টোশ এক্সএল। পূর্বের মডেলের তুলনায় এই মডেলে আরও অনেক সুবিধা সংযুক্ত করা হয়। এই মডেলটি পূর্বের মডেলের তুলনায় অ্যাপেলকে আরও অনেক বেশি সাফল্য এনে দেয়। এর বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪৯৪ ডলার। ম্যাকিন্টোশ এক্সএল এর ব্যাপক সফলতায় পুনরায় উৎসাহী হয়ে এর পরপরই অ্যাপেল বাজারে নিয়ে আসে ম্যাকিন্টোশ ৫১২কে মডেলটি। ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি বাজারে আসে। এই সংস্করণটির প্রায় পুরোটিই ম্যাকিন্টোশ ১২৮কে এর আদলে তৈরি করা হয়েছিল কিন্তু সুধুমাত্র এর ধারণ ক্ষমতা ১২৮কে এর পরিবর্তে আরও বাড়িয়ে ৫১২কে তে আনা হয়। এর মূল্য নির্ধারিত করেছিল ২৭৯৫ ডলার। অ্যাপেল এর পূর্ববর্তী সংস্করণের ন্যায় এই সংস্করণটিও ক্রেতারা লুফে নেয়। এই সংস্করণটির প্রায় ২ মাস পর ১৯৮৬ সালের ১৬ই জানুয়ারি অ্যাপেল নিয়ে আসে তাদের পরবর্তী সংস্করণ ম্যাকিন্টোশ প্লাস। এই মডেলটির মাধ্যমেই অ্যাপেল সর্বপ্রথম এসসিএসআই পোর্ট বাজারে নিয়ে আসে। এটির ধারণ ক্ষমতা ছিল ১ মেগাবাইট যা পরবর্তীতে ৪ মেগাবাইট পর্যন্ত বর্ধিত করার সুবিধা ছিল। এটি ২৫৯৫ ডলার মূল্য নির্ধারণ করে বাজারে ছাড়া হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে ম্যাক মডেলে যুক্ত হয় নতুন ম্যাকিন্টোশ পোর্টেবল। এটি বহনযোগ্য ছিল এবং ব্যাটারির সাহায্যে চলত। এটির বাজার মূল্য ছিল ৬৫০০ ডলার। এর ওজন ছিল ১৬ পাউন্ড এবং এতে ১৬ মেগাহার্জ এর চিপ সংযোজিত ছিল। তবুও এত কিছুর পরও অ্যাপেল এর এই মডেলটি ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারেনি। ম্যাকিন্টোশ পোর্টেবল এর পর ধারাবাহিকতা রক্ষার খাতিরে অ্যাপেল বাজারে নিয়ে আসে হালকা, বহনযোগ্য এবং ব্যাটারি চালিত অ্যাপেল প্রোবুক। এই মডেলটি চরম জনপ্রিয়তা লাভ করে। এটি আনা হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর থেকে শুরু হয় অ্যাপেল মডেলগুলোর ব্যাপক পরিবর্তন। আই ম্যাক হল এমনই একটি মডেল। মডেলটি আরও একটি কারণে উল্লেখযোগ্য কারণ এই মডেল বাজারে আসে স্টিভ জবস অ্যাপেল এর প্রধান হওয়ার পর। এটি পূর্ববর্তী যে কোন মডেল অপেক্ষা অনেক বেশি আধুনিক ডিজাইনসম্পন্ন এবং আকর্ষণীয়। পরবর্তীতে অ্যাপেল আনে আইম্যাক জি৪, এটি অ্যাপেল এর ম্যাক সংস্করণগুলোর মাঝে বহুল আলোচিত একটি মডেল। এই মডেলেই প্রথম পাতলা পর্দা প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়। এটি প্রধানত জনপ্রিয়তা পায় এর মডেলের কারণেই। এরপর ২০০৬ সালে অ্যাপেল বাজারে নিয়ে আসে ম্যাকবুক। এটি অ্যাপেল এর আধুনিক ল্যাপটপ। এতে আলাদা কোন যন্ত্রাংশ নেই এবং সহজেই পরিবহনযোগ্য। ওয়েবক্যাম সর্বপ্রথম যুক্ত করা হয় অ্যাপেল এর এই মডেলটিতেই। এরপর কোম্পানিটি ম্যাকবুক এয়ার বাজারে ছাড়ে যা অ্যাপেল এর মহা সাফল্য নিয়ে আসা ম্যাক সমূহের মাঝে একটি। এটি পৃথিবীর অন্যতম পাতলা ল্যাপটপগুলোর মাঝে একটি। কোম্পানিটি প্রফেশনালদের কথা মাথায় রেখেই এই মডেলটি বাজারে এনেছিল। ম্যাকবুক এয়ার উন্মোচন করেন স্টিভ জবস। এরপরই ম্যাক এর সর্বশেষ সংস্করণ আইম্যাক বাজারে আসে। ২৭ ইঞ্চি পর্দাবিশিষ্ট আইম্যাকটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, কাজেও তেমনই পারদর্শী। বর্তমানে যে কোন কম্পিউটার ব্যবহারকারীর স্বপ্নের বস্তুটি হল এই আইম্যাক।

ব্যক্তিগত কম্পিউটিং এর ক্ষেত্রে ৩০ বছর ধরে ম্যাক এক অন্যতম কার্যকারিতা দেখিয়ে এসেছে। এখনও এক কথায় সহজ ভাষায় বলতে গেলে অ্যাপেল এর ম্যাক এযাবৎকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কম্পিউটার হিসেবে বিবেচিত রয়েছে।

আমি দৈনিক সমকালের আইটি রিপোর্টার। আমার এই লেখাটি গত ২৮/০১/১৪ তারিখে দৈনিক সমকালের ফিচার পাতায় প্রকাশিত হয়। সুতরাং কেউ কপি পেস্ট ভেবে ভুল করবেন না।

Level 2

আমি Leo। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 8 বছর 10 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 2 টি টিউন ও 25 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

so much interested abt technology....................


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস