কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৬] :: আমাদের এ পৃথিবী- ডিম্বাকার ,গোলাকার না সমতল?

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে 🙂 আপনাদের সেবায় আজ খুব কমন বিষয় এনেছি তা হলো-

কুরআনে প্রযুক্তি [পর্ব-] :: আমাদের এ পৃথিবী- ডিম্বাকার ,গোলাকার না সমতল?

geoid shap of earthআদিম সময়কাল থেকে মানুষের অনুমানপূর্ব ধারনা করত যে, পৃথিবীর আকার হচ্ছে চ্যাপ্টা বা সমতল। হাজার বছর ধরে হাস্যকরভাবে মানুষ বেশি দূর পযর্ন্ত ভ্রমন করত না পৃথিবীর কিনারা থেকে ছিটকে পড়ে যাবার ভয়ে । ১৫৯৭ সালে ফ্রান্সিস ড্রেক প্রথম পৃথিবীর চারদিকে নৌ-ভ্রমন করে প্রমান করেছিলেন যে, পৃথিবী গোলাকার। দিনরাত্রির পরিবর্তন সম্পর্কে আল কোরআনের নিচের আয়াতটির দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক-

031.029 أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى وَأَنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

“তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পযর্ন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন? ” [সুরা লুকমান-৩১:২৯]
লক্ষনীয় যে এখানে বলা হচ্ছে, রাত ধীরে ধীরে এবং ক্রমশ দিনে রূপান্তরিত হয়, অনুরূপভাবে দিনও ধীরে ধীরে রাতে রূপান্তরিত হয়। এ ঘটনা কেবল পৃথিবী গোলাকার হলেই ঘটতে পারে। পৃথিবী যদি চ্যাপ্টা বা সমতলভূমি হত, তাহলে রাত্রি থেকে দিনে এবং দিন থেকে রাত্রিতে একটা আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে যেত। অর্থাৎ সেকেন্ডের মধ্যে দিন হতো আবার সেকেন্ডের মধ্যেই কিছু বুঝে উঠার আগেই রাতের প্রবেশ ঘটতো। একই তথ্য আল্লাহপাক দিয়েছেন সুরা যুমার : ৩৯ : ৫

৩৯ : ৫- خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لأجَلٍ مُسَمًّى أَلا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ

globe-e1273717716551তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রি দিয়ে দিনকে আ‪ছাদিত করেন এবং দিন দিয়ে রাত্রিকে আ‪ছাদিত করেন। তিনি নিয়মাধীন করেছেন সূর্য ও চন্দ্রকে। প্রত্যেকেই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলতে থাকবে। জেনে রাখ তিনি পরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল। (কোরআন, ৩৯ : ৫)

Al-Qur'an, 039.005 (Az-Zumar [The Troops, Throngs])

উপরোক্ত বর্ণনা দিতে গিয়ে কোরআনে যে সমস্ত শব্দাবলী ব্যবহৃত রয়েছে - সেগুলো বেশ উল্লেখযোগ্য। “আ‪ছাদিত বা মোড়ানো” অর্থে উপরের আয়াতটিতে যে আরবী শব্দটির ব্যবহার করা হয়েছে সেটি হলো “يُكَوِّرُ”। ইংরেজীতে এর অর্থ ”একটি জিনিষ দ্বারা অপর একটি জিনিষকে জড়িয়ে বা মুড়িয়ে দেয়া - যা কিনা একটি পোষাকের মতো ভাঁজ করা অবস্থায় গোছানো রয়েছে।” (উদারহণত, পাগড়ী যেমন করে পরিধান করা হয়, ঠিক তেমনিভাবে একটি জিনিষ দিয়ে অপরটিকে জড়ানোর কাজে আরবী অভিধানে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে)। দিন ও রাত্রি পরস্পরকে জড়িয়ে বা আ‪ছাদিত অবস্থায় রয়েছে - আয়াতটিতে প্রদত্ত এই তথ্য দ্বারা পৃথিবীর আকৃতির সঠিক তথ্যই প্রদান করা হয়েছে। এ অবস্থাটি কেবল সেই পযার্য়ে সঠিক হতে পারে যখন পৃথিবীর আকৃতি হয় গোলাকার।

এর অর্থ সপ্তম শতাব্দীতে নাযিলকৃত কোরআনে পৃথিবী গোলাকার হওয়ার বিষয়টির ইংগিত দেয়া হয়েছিল। যাই হোক এটা স্মরণ রাখা উচিত যে মহাবিশ্ব সম্পর্কে সে সময়কার জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞান ছিল ভিন্নরূপ। তখনকার সময় মনে করা হতো যে পৃথিবী একটি সমতল এলাকা আর এ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞান বিষয়ক সমস্ত গণনা আর ব্যাখ্যাদি দাড় করানো হয়েছিল। অথচ আমরা গত শতাব্দীতে যে তথ্যটি জেনেছি তা কোরআনের আয়াতটিতে অন্তভুক্ত ছিল। যেহেতু কোরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী, সেহেতু যখন মহাবিশ্বের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, তখন সবচাইতে শুদ্ধ আর সঠিক শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

“তুমি কি দেখ না আল্লাহ রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিবর্তন করেন?” (সূরা আল লুকমান, ৩১:২৯) “তিনি রাত্রি দ্বারা দিনকে আচ্ছাদিত করেন এবং রাত্রিকে আচ্ছাদিত করেন দিন দ্বারা।” (সূরা আয যুমার, ৩৯:৫)

marco-polo-day-n-night-globe-educational-toys-400x400পেঁচানো বা জড়ানো আরবী শব্দ কাওওয়াররার অনুবাদ। এর মূল অর্থ হচ্ছে মাথার চারপাশে পাগড়ী পেঁচিয়ে বাঁধা। অবিরত পেঁচানোর পদ্ধতি-যাতে এক অংশ আরেক অংশের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে, কুরআনে এমনভাবে বলা হয়েছে যে মনে হয় সে সময়ে পৃথিবীর গোলাকৃতি হওয়ার ধারণার সাথে মানুষ পরিচিত ছিল, যা স্পষ্টতঃই সত্য নয়।

পৃথিবী বলের মত পুরপুরি গোলাকার নয় বরং কমলা বা ডিমের মত, নিচের আয়াতে পৃথিবীর আকারের বর্ণনা দেয়া হয়েছে-

079.030 وَالأرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا

“আর আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে উহার পর ডিম্বাকৃতি করে তৈরি করেছেন”[৭৯:৩০]

Al-Qur'an, 079.030 (an-Naziat [Those who Drag Forth, Soul-Snatchers])
এখানে ডিমের জন্য ব্যাবহৃত আরবি শব্দ হচ্ছে “دَحَاهَا” , যার অর্থ হচ্ছে উট পাখির ডিম, এবং উট পাখির ডিমের আকৃতি হল পৃথিবীর মত। স্যাটেলাইট হতে প্রাপ্ত ছবি ও বিভিন্ন জটিল যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পরীক্ষা- নীরীক্ষার দ্বারা সুনিশ্চিত হওয়া গেছে আমাদের এ পৃথিবী exactly উট পাখির ডিমের ন্যায়। এইভাবে কোরআনে ১৪০০ বছর আগে পৃথিবীর আকৃতির বর্ণনা সঠিক দেয়া হয়েছে, যদিও পৃথিবী চ্যাপ্টা হবার ধারনাটাই তখন প্রচলিত ছিল।

আপনাকে ধন্যবাদ সময় নিয়ে পোষ্টটি পড়ার জন্য।

শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com/

Level 0

আমি Sharear Azam। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 8 বছর 4 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 42 টি টিউন ও 365 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

Level 0

thank u????????for nice post……

    @Sajid11194: আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি ধৈয ধরে পড়ার জন্য। আল্লাহ আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে দিন:)

vai khub darun hoye che

আপনাকেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ধৈয ধরে পড়ার জন্য। আল্লাহ আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে দিন:)

Level 0

সকল সদস্যদের প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানিয়ে একটি আকুল আবেদন নিয়ে হাত বাড়ালাম জানিনা আমার আবেদনে কেউ সাড়া দেবেন কিনা (?) অবশ্য যারা হ্যাকার তাঁদের জন্যই মূলতঃ আমার এই আকুল আবেদন….
১) ফেসবুকে “আল্লাহ” নামে একটি http://www.facebook.com/allahbd পাতা কোন একজন নাস্তিক তৈরী করেছে। এই পাতাটি কি কেউ চিরতরের জন্য Hack করে ব্লক করে দিতে পারেন না! আপনারা তো অনেক বিষয়ের জ্ঞান রাখেন। বিশেষতঃ MRN Hacker ভাইয়েরা দেখুন না একটু চেষ্টা করে…… বুঝতেই পারছেন, আমি আমার নিজের জন্য আপনাদের কাছে আবেদন করছি না, শুধুমাত্র ‘মহান আল্লাহর’ নাম ও মহত্ব কলঙ্কিত হচ্ছে তাই। এছাড়া আরও একটা পাতা আছে নবী (সঃ) কে নিয়ে। সেটা হল http://www.facebook.com/sexymohammad দয়া করে এটাও ব্লক করার চেষ্টা করবেন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক পটহ প্রদর্শন ক্রুন।আমিন।
আল্লাহ হাফিজ

সম্মানিত ভাই Sajid…..আপনার উদাত্ত আহবানে সব মুসলিমের সাড়া দেয়া উচিৎ…বেশ কয়েকটা পদ্বতি আছে যদি পেজটিকে বন্ধ করতে চান…Best পদ্বতি হলো তার যে ফ্যান আছে তৎসংখ্যক সেইম রিপোর্ট করা নট ডিফারেন্ট রিপোর্ট…সেটা হল…টাইমলাইনের ঠিক নিচের ডানদিকে লাইকের পাশে একটা সেটিংটস দেখবেন—
1. ক্লিক করেন (মেনু আসবে)
2.report. পেজে ক্লিক করেন
3……3 নম্বর অপশনে ক্লিক করুন …I think it should’nt be on FB…continue ক্লিক করুন
4.Hate speech- ক্লিক করুন … (মেনু আসবে)..Target a religios Group ক্লিক করুন
5.Report to Facebook….এ টিক দিন…

**-সবাই সেম Report বেশি পরিমানে (এট লিস্ট -200 Report ) করলে ….বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে ডিফারেন্ট রিপোর্ট করলে হবেনা…
যাযাকাল্লাহ….সালাম

Level 0

Thanks for the awesome knowledgeable post………. 🙂

ভাল লাগছে আপনার পোস্ট ……চালিয়ে জান

ami report korsi…