
বর্তমানে ভিডিও এডিটিং করার জন্য অসংখ্য অ্যাপ রয়েছে। কিন্তু এখনও অনেক মানুষ আছেন যারা ভিডিও এডিটিং করতে পারেন না বা নতুন শুরু করতে চান। তাদের জন্য আজকের পোস্টটি।
যারা একদমই ভিডিও এডিটিং জানেন না, তাদের জন্য InShot একটি সহজ, জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী ভিডিও এডিটিং অ্যাপ। মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই খুব সহজে পেশাদার মানের ভিডিও তৈরি করা যায়। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম রিলস বা শর্টস ভিডিও তৈরির জন্য InShot বেশ উপযোগী।
InShot অ্যাপে ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় টুলসমূহ
১. Video (ভিডিও যোগ করা)
প্রথমে InShot অ্যাপ ওপেন করে Video অপশনে ক্লিক করুন। এরপর আপনার গ্যালারি থেকে ভিডিও নির্বাচন করুন।
কাজ: নতুন প্রজেক্ট তৈরি এবং ভিডিও ইমপোর্ট করা।
২. Trim (ট্রিম)
ভিডিওর অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে ফেলার জন্য Trim টুল ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
ভিডিওর শুরু বা শেষের অংশ কাটতে।
ভুল অংশ বাদ দিতে।
৩. Split (স্প্লিট)
একটি ভিডিওকে একাধিক অংশে ভাগ করার জন্য Split টুল ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
মাঝখানের অংশ মুছে ফেলার জন্য।
বিভিন্ন ক্লিপ আলাদা করতে।
৪. Crop (ক্রপ)
ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশ রেখে বাকি অংশ কেটে ফেলার জন্য Crop টুল ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
TikTok, YouTube Shorts বা Facebook Reels-এর জন্য ভিডিও রিসাইজ করতে।
৫. Canvas (ক্যানভাস)
ভিডিওর সাইজ বা অ্যাসপেক্ট রেশিও পরিবর্তন করতে Canvas ব্যবহার করা হয়।
জনপ্রিয় সাইজ:
16:9 (YouTube)
9:16 (Shorts/Reels)
1:1 (Facebook Post)
৬. Music (মিউজিক)
ভিডিওতে গান বা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যোগ করতে এই অপশন ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
গান যোগ করা।
সাউন্ড এফেক্ট যোগ করা।
ভয়েস রেকর্ড করা।
৭. Text (টেক্সট)
ভিডিওতে লেখা যোগ করার জন্য Text টুল ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
শিরোনাম লেখা।
সাবটাইটেল যোগ করা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদর্শন করা।
৮. Sticker (স্টিকার)
ভিডিওকে আকর্ষণীয় করার জন্য স্টিকার ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
Emoji যোগ করা।
Animated Sticker ব্যবহার করা।
৯. Filter (ফিল্টার)
ভিডিওর রঙ এবং লুক পরিবর্তনের জন্য Filter ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
ভিডিওকে আরও সুন্দর ও প্রফেশনাল দেখাতে।
১০. Effect (ইফেক্ট)
ভিডিওতে বিভিন্ন ধরনের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট যোগ করার জন্য Effect ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
Glitch Effect
Blur Effect
Flash Effect
১১. Transition (ট্রানজিশন)
একটি ভিডিও ক্লিপ থেকে অন্য ক্লিপে যাওয়ার সময় সুন্দর পরিবর্তন আনতে Transition ব্যবহার করা হয়।
জনপ্রিয় ট্রানজিশন:
Fade
Zoom
Slide
Dissolve
১২. Speed (স্পিড)
ভিডিওর গতি বাড়ানো বা কমানোর জন্য Speed টুল ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
Slow Motion
Fast Motion
১৩. Volume (ভলিউম)
ভিডিওর মূল সাউন্ড কমানো বা বাড়ানোর জন্য Volume অপশন ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে সাউন্ড ব্যালেন্স করা।
১৪. Background (ব্যাকগ্রাউন্ড)
ভিডিওর পেছনে রঙ বা ছবি যোগ করতে Background ব্যবহার করা হয়।
১৫. PIP (Picture in Picture)
একটি ভিডিওর উপর আরেকটি ভিডিও বা ছবি যোগ করার জন্য PIP ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
রিঅ্যাকশন ভিডিও তৈরি।
লোগো বা ওয়াটারমার্ক যোগ করা।
১৬. Keyframe (কীফ্রেম)
ভিডিওতে অ্যানিমেশন বা মুভমেন্ট যোগ করার জন্য Keyframe ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহার:
ছবি বা টেক্সট নড়াচড়া করানো।
Zoom In / Zoom Out তৈরি করা।
১৭. Export (এক্সপোর্ট)
সব কাজ শেষ হলে ভিডিওটি গ্যালারিতে সংরক্ষণ করার জন্য Export অপশন ব্যবহার করুন।
প্রস্তাবিত সেটিংস:
Resolution: 1080P
Frame Rate: 30FPS অথবা 60FPS
Quality: High
নতুনদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
✅ প্রথমে ছোট ভিডিও এডিট করার চেষ্টা করুন।
✅ অতিরিক্ত ইফেক্ট ব্যবহার করবেন না।
✅ ভিডিওর সাথে মানানসই মিউজিক ব্যবহার করুন।
✅ নিয়মিত প্র্যাকটিস করুন।
✅ YouTube Shorts বা Facebook Reels তৈরি করে অনুশীলন করুন।
ভিডিও এডিটিং শেখার জন্য দামি কম্পিউটার বা জটিল সফটওয়্যারের প্রয়োজন নেই। শুধু একটি স্মার্টফোন এবং InShot অ্যাপ ব্যবহার করেই আপনি খুব সহজে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। আপনি যদি ভিডিও এডিটিংয়ে একদম নতুন হন, তাহলে InShot দিয়েই শুরু করুন। কয়েকদিন অনুশীলন করলেই আপনি নিজেই প্রফেশনাল মানের ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে। কোনো প্রশ্ন থাকলে টিউমেন্টে জানাতে পারেন। 😊
আমি মুজাহিদ গাজি। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 2 দিন 16 ঘন্টা যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 3 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
“Tech lover | Content Creator | Online Earning & Mobile Tips”