পণ্য বাজারজাতকরণের কৌশল ও অনলাইন মার্কেটিং

টিউন বিভাগ সমগ্র
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

আসসালামু আলাইকুম। আশাকরি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। এই ই-কমার্স যুগে কম -বেশি অনেকেই উদ্যোক্তা। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক বিক্রেতা আছে ভালো পণ্য নিয়ে কাজ করে। কিন্তু মার্কেটিং প্রক্রিয়া ভালো মত না জানার কারণে অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করতে পারেন না বা সফলতা অর্জন করতে পারছেন না। আজকের আলোচনার বিষয় হলো বাজারজাতকরণের নানারকম প্রক্রিয়াঃ

বাজারজাতকরণ কৌশল হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যা দ্বারা বিভিন্নরকম কৌশল অবলম্বন করে পরিবর্তনশীল বাজার অবস্থায় কোম্পানীর সম্পদ, সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বৈচিত্র্যায়নের মাধ্যমে কিভাবে পণ্য উপস্থাপন করা যায়, ক্রয়-বিক্রয় ও তার রূপরেখা তৈরি করে।

কিভাবে বাজারজাতকরণ করতে হয়ঃ


অর্থাৎ বাজারজাতকরণ কৌশল হলো সম্ভাব্য অথবা প্রকৃত বাজারের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা খুঁজে বের করা। বাজারজাতকরণ কৌশল অবলম্বন করে যেসকল কৌশল উন্নয়ন করা হয় সেগুলো হলোঃ পণ্য কৌশল, মূল্য কৌশল, বন্টন কৌশল এবং প্রসার কৌশল। ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েবসাইট বানানো, ই-মেইল পাঠানো, টুইট করা, অ্যাড দেয়া, ল্যান্ডিং পেইজ বানানো, ব্লগিং করা।

আরও অনেক মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যবসার উন্নতি যায়। উদাহরণঃ আমরা ইউটিউবে কোন রান্নার ভিডিও দেখছি, সেখানে হয়ত কোন উদ্যোক্তার বা কোম্পানির মশলা সম্পর্কে প্রসংশা করলো। পরবর্তীতে ভিউয়ার সেই মশলা কিনলো। ফলে বিক্রয় বৃদ্ধি হলো।

প্রোফাইলে বা কভার ফটোতে প্রিয় ছবি গুলোর বদলে কোম্পানির লোগো সংবলিত একটি ছবি ঝুলিয়ে দিন। ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউব পর্যাপ্ত পরিমান অবকাঠামো এবং পটভূমি তৈরির সুযোগ দিয়ে রেখেছে। সাইটগুলোর মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দিতে পারবেন আপনি কে এবং কী করেন। এমনকি যদি ব্যক্তিগত ব্যবহারেও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম গুলোতে অবস্থান করেন, আপনি কী করেন তা বন্ধুদেরকে মনে করিয়ে দেয়ার সুযোগটি কেন হাতছাড়া করবেন?

মার্কেটিং কৌশলটা একটা সিদ্ধান্ত যা আপনি করবেন, আর এটা দিয়ে অনেক ভাল ফল পাবেন। কৌশলটা হচ্ছে সচেতনতার মূল ভিত্তি, লভ্যাংশ, বিক্রয় বৃদ্ধি, ক্রেতার সাথে যোযোগাযোগ রাখা। মার্কেটিং কৌশলটা কোম্পানীর সংস্কৃতি, পণ্য, সার্ভিস এবং দামের প্রদর্শক। এখানে অনেক কিছু ছাড় দিতে হয় সকল কৌশল প্রদর্শনে। উদ্যোক্তা বা ছোট ব্যবসায়ী রা কৌশল ব্যবহার করতে পারে।

ক্রেতা নির্ধারণ কিভাবে করবেনঃ


মার্কেটিং এর প্রধান কৌশল হল টার্গেটেড কাস্টমার নির্ধারণ করা। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন করা। কোন পণ্য উৎপাদন করলে ক্রেতার চাহিদা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে তা অনুসরণ করতে হবে। আপনি কি পরিবেশন করেন তা সবসময় পরিষ্কার ভাবে উত্তর দিতে হবে। পণ্যের গুণগত মান থাকতে হবে। ক্রেতা দের কাছ থেকে ভালো রিভিউ পেলে বিক্রয় বেড়ে যাবে। তাই সঠিক নিয়মে ব্যবসা করতে মানহীন পণ্য বিক্রি না করাই ভালো। আপনি যদি ক্রেতা দের ইচ্ছে কে গুরুত্ব না দেন নিজের ইচ্ছে তে পণ্য সংগ্রহে রাখেন। তাহলে তাদের "না" বলতে হবে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।

একটি ভাল লক্ষ্যের দিকে মননিবেশ করা প্রথম দিকে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু এটাতে লেগে থাকুন, অনুসরণ করুন। যদি আপনি মার্কেটিং এ সময় এবং অর্থ ব্যয় করেন কিন্তু ফলাফল মানে, ভাল সেল পান না। তাহলে সমস্যাটা হল আপনি আপনার সার্ভিস উন্নত করেন নাই। যার ফলে ভাল ফলাফল পাচ্ছেন না। ব্যবসার ধরণটা আপনাকে ছোট করে নির্ধারণ করতে হবে। এভাবে আপানি আপনার সার্ভিসের উপর ভালভাবে ফোকাস করতে পারবেন। এভাবে সফলতা আসবেই

পণ্য ক্যাটাগরি নির্ধারণ কিভাবে করবেনঃ


ক্যাটাগরি হচ্ছে ব্যবসার ধরন বা বিবরণ যা আপনি কি নিয়ে কাজ করেন। কয়েকটি শব্দ বা বাক্য যা আপনার পুরো ব্যবসার বর্ণনা করবে। ক্রেতার কাছে বোধগম্য প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। অনেক ব্যবসায়িক তার কোম্পানির বর্ণনাটা সহজতর করতে পারে না। যার কারণে আপনি কি করেন মানুষ বুঝতে পারে না। এটা মার্কেটিং প্রবৃদ্ধির অন্তরায়। এটা সাধারণ নিয়ম যদি কেউ পরিষ্কার ভাবে বুঝতে না পারে আপনার ক্যাটাগরি, তাহলে কখনই পরিষ্কার হতে পারবে না।

ক্যাটাগরির সঠিক বর্ণনা মার্কেটিং এ সাহায্য করবে এবং সেল বৃদ্ধিতে প্রভাব পরবে। চিন্তা করুন কি হতে পারে আপনার ক্যাটাগরি। একটি প্রধান ক্যাটাগরি বাহির করুন। প্রধান ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে পারেন নাই, তাহলে ছোট করে ফেলুন ক্যাটাগরি লিস্ট। কিন্তু লক্ষ্য স্থির না থাকলে ভালো ভাবে ফোকাস করা যায় না।

অন্যান্য সুবিধা অবশ্যই হাইলাইট করতে হবে। ১টা অথবা ২টা এর বেশী না। এর মাধ্যমে টার্গেটেড কাস্টমার কি চায় তা বুঝানো। বিক্রয় বৃদ্ধি এবং সময় বাঁচাতে তাদেরকে শত সুবিধা অফার না করে প্রধান সুবিধাগুলো অফার করতে হবে এবং বুঝিয়ে দিতে হবে যে এটা দিয়ে আরও অনেক কিছু করা যায়।
পণ্যের প্রসার নির্ধারণঃ


যখন কেউ কিছু কিনতে চায় তখন সে খুব সহজেই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে আপনার পণ্যের তুলনা করে। তবে অনেক উদ্যোক্তাই জানেনা যে তাদের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী কারা এবং তাদের ম্যাসেজ ফোকাস করে না। ক্রেতাকে পরিষ্কার বর্ণনা/পার্থক্য উল্লেখ করে না। প্রতিদ্বন্দ্বী কারা তা আগে বুঝতে হবে। আপনি যে পণ্য নিয়ে কাজ করেন, একই পণ্য নিয়ে একই প্লাটফর্মে অন্য কেউ কাজ করে তারাই প্রতিদ্বন্দ্বী।

যখন আপনি নির্ধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী করে ফেলবেন তখন একটা লিস্ট করবেন। আপনি যা করেন, অন্যদের থেকে কতটুকু ভাল। বেশী কমপ্লিকেটিং করবেন না। ক্রেতা সিদ্ধান্তের জন্য ১টা অথবা ২টা ব্যাপার চায়। এটা কি চিপার? আপনার কি দ্রুত ডেলিভারি আছে? ভাল সার্ভিস? আপনি একমাত্র যে একচেটিয়া ভাবে সার্ভিস দিচ্ছেন? এগুলো মাথায় রাখবেন।

পণ্যের মূল্য নির্ধারণঃ
ভোক্তারা পণ্য কেনার বেপারে খুবই সচেতন। তারা সেই পণ্যই কিনতে চান যা তারা ব্যবহার করেছে অথবা যে পণ্য সম্পর্কে কেউ ভালো বলছে। তাই খেয়াল রাখতে হবে যে নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং এর বাজারজাতকরণ যেন সমান গুরুত্ব পায় এবং সাথে সাথে এই নিশ্চয়তা দেয় যে, পণ্যের খুচরা বিক্রি শুরু হলে ভোক্তার যেন তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য কিনতে পারে।

মনে রাখতে হবে, সব ধরনের কাজ করে সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা না করাই ভালো, এতে করে কোন একক কাজ ভাল ভাবে না করতে পারা বা নিজের বিশেষ দক্ষতা ফুটে উঠে না। যে কারনে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানের প্রস্তাব, নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে পণ্য উদ্ভাবনের চেষ্টা অথবা কিছু টাকার জন্য পূর্বনির্ধারিত বাজারের বাইরে বিপননের চেষ্টা করা সব সময় ঠিক নয়। যখন এটা করা হয় তখন লক্ষ্য অর্জন ঝুঁকির মুখে পরে এবং আপনি আপনার দলের সদস্যদের, বাজেট এবং সর্বোপরি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য শুভকর নয়।

লক্ষ্য ও পরিকল্পনাঃ

উন্নতির পথে আমরা সব সময়ই কৌশলী থাকার চেষ্টা করি। সাধারণত দুই/তিন বছরের ব্যবসায়ের পরিকল্পনা তৈরি করার চেষ্টা করুন, তা অনুসরন করার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজন বুঝে তাকে পরিবর্তন করুন। এটা বিশ্বাস করুন যে লক্ষ্য স্থির ছাড়া কোন কিছু সম্ভব নয়। যখন প্রতিষ্ঠানের সকলের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকবে তখনি সবাই একসাথে তা অর্জনের জন্য কাজ করবে।

মেধাহীন ব্যক্তিদের দিয়ে কোন ব্যবসায় চলছে এবং উন্নতি লাভ করছে এমন নজির খুব কমই আছে। তাই আগে অভিজ্ঞতা নিন। সত্যি বলতে, আমরা প্রায়ই বলি মানুষই হল আমদের একমাত্র সম্পদ যারা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং আমরা সবসময়ই তাদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করি যার কারণে তারাও আমাদের সাথে কাজ করতে চায়।

প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অনেক ব্র্যান্ড বাজারজাতকরণকে একটি খরচের উৎস ধরা হয়। শুরুতে অনেকে এতে খুব একটা খরচ করতে চায় না। যাই হোক, এর ফলে বাজারে পণ্যের ভাল দিকগুলোর ধারণা কম থাকে। এমনকি যে ধারণা নিয়ে তারা পণ্যটি বাজারে আনে যে “তাদের পণ্য এতই সেরা যে এর ক্রেতারা দল বেঁধে তা কিনছে” এ ধারণাও বিপন্ন হয়।

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ব্যবসায়ে সাফল্যের কোন নিশ্চয়তা নেই। এটা এক দিকে কৌশল এবং অন্য দিকে নতুন চিন্তার সমন্বয় যা একটি ব্যবসায়ের সাফল্য নিয়ে আসে। আমারা প্রায়ই বলে থাকি এরকম কথা তা হলো, ইঞ্জিনিয়ারটি খুব ভাল দক্ষ। খুব ভাল মানে এই নয় যে সে ইঞ্জিনিয়ারিং সব বিষয়েই দক্ষ। অন্য সব পেশার ক্ষেত্রে ও এ কথাটা সত্য। ভাল ব্যবসায়িক মন আর সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে দক্ষতাই সফলভাবে ব্যবসায়ের উন্নতির চাবিকাঠি।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে যে কোন শিল্পেই নতুনত্ব প্রয়োজন। এটা হতে পারে-নতুন অনুষ্ঠান, নতুন চিন্তা অথবা নতুন প্রক্রিয়া। হয় আপনি এগিয়ে যাবেন অথবা অচল হয়ে যাবেন। তাই আমরা অনবরত কাজ করার নতুন উপায় খুঁজি যা হতে পারে উন্নত পণ্য, আমাদের ক্রেতার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং কাজে আরও পারদর্শী হাওয়া যা শেষপর্যন্ত মুনাফা অর্জনে সাহায্য করে।

Level 2

আমি ইফাত শারমিন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 12 টি টিউন ও 6 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 2 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 3 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস