

উইলমা রুদলফ, তেনেসিসের গরীব ঘরে জন্ম নেওয়া এক প্যারালাইটিক নারী। চার বছর বয়সে তিনি স্কারলেট ফিভারসহ ডাবল নিউমেনিয়ায় আক্রান্ত হন যা পরবর্তিতে তাকে পোলিওতে আক্রান্ত করে প্যারালাইজড করে দেয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শে উইলমাকে সর্বদা পায়ে ব্রেস পড়তে হতো। কারন ডাক্তারের ভাষ্যমতে উইলমা কখনই তার পায়ের পাতা মাটিতে রাখতে সক্ষম হবে না। কিন্তু উইলমার মা ডাক্তারের এ কথায় সহজে দমে গেলেন না। বরং তিনি ডাক্তারের কথা অগ্রাহ্য করে উইলমাকে উৎসাহিত করার জন্য বললেন-
"মা, স্রষ্টা তোমাকে যতটুকু সামর্থ দিয়েছে সেটাকে কাজে লাগাও। অধ্যাবসায় আর নিজের প্রতি বিশ্বাস নিয়ে তুমি সামনে এগিয়ে যাও। অবশ্যই তুমি যা চাও তা করে দেখাতে পারবে।"
মায়ের এ কথা শুনে উইলমা তখনই বলে উঠলো – "মা আমি দৌড় প্রতিযোগিতায় পৃথিবীর দ্রুততম মানবী হতে চাই।"
উইলমা তার এই স্বপ্ন পূরনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নয় বছর বয়সেই ডাক্তারের সকল উপদেশ উপেক্ষা করে পা থেকে ব্রেসটা সরিয়ে ফেলেন। দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে তিনি তের বছর বয়সে প্রথম দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতায় তিনি সবার শেষে গন্তব্যে পৌছান। কিন্তু তাতেও তিনি দমে যান নি। বরং এভাবে করে তিনি ২য়, ৩য়, চতুর্থ দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করতে থাকেন যতক্ষন না তিনি সবার আগে গন্তব্যে পৌছাতে পারছেন।
১৫ বছর বয়সে উইলমা তেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কোচ এড টেম্পলের সাথে দেখা করেন। কোচ টেম্পলকে উইলমা তার মনের ভিতরের লালিত স্বপ্নের কথা খুলে বলেন। উইলমার কথা শুনে কোচ টেম্পল তখন অভয় দিয়ে বললেন –
“উইলমা, শুধুমাত্র তোমার এই স্প্রিটটার জন্য তোমাকে কেউ থামাতে পারবে না। এবং আমি সর্বদা তোমার পাশে আছি তোমাকে সাহায্য করার জন্য”।
অবশেষে সেই কাঙ্খিত দিনটি আসলো যখন উইলমা দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য অলিম্পিকে অংশগ্রহন করার সুযোগ পেলেন। সেই প্রতিযোগিতায় উইলমার কম্পিটিটর হিসেবে ছিলেন জুটা হেইন নামের আরেকজন নারী যিনি কখনই কোন প্রতিযোগিতায় পরাজিত হন নি। কিন্তু উইলমা তারপরও নিজের প্রতি আস্থা হারান নি। প্রতিযোগিতার প্রথম ইভেন্টটা ছিল ১০০ মিটার দৌড়ের। কিন্তু বিস্ময়করভাবে প্রথম ইভেন্টেই উইলমা জুটা হেইনকে হারিয়ে বাজিমাত করে দেয় এবং পুরস্কার হিসেবে ১ম গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।

এরপর ২০০ এবং ৩০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় তিনি আবারো জুটা হেইনকে হারিয়ে আরো দুটো গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। তার এই অর্জন পরবর্তিতে ইতিহাসে পরিনত হয়ে যায়। কারন তিনি ছিলেন সেই প্যারালাইটিক নারী যিনি ১৯৬০ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া অলিম্পিকে পৃথিবীর দ্রুততম নারী হিসেবে খেতাব অর্জন করেন।

#মোরালঃ সফল ব্যক্তিরা সমস্যার অনুপস্থিতিতে নয়, বরং সমস্যার উপস্থিতিতেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে যায়।
আমি আল মাহদী। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 10 বছর 8 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 13 টি টিউন ও 8 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
আমি আলাউদ্দিন আল-মাহদী a.k.a Mahdi Mehedi, একজন প্রফেশনাল সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার এবং উদ্যোক্তা। ২ বছর এর বেশি সময় ধরে অনলাইন মার্কেটিং পেশার সাথে জড়িত। বর্তমানে ডেভসটিম ইন্সটিটিউটে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছি পাশাপাশি নিজস্ব অনলাইন বিজনেস পরিচালনা করছি। মাঝে মাঝে শখের বশে লেখালেখি করি বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর...