প্রকৃতির বৈচিত্র্য: ডারউইনবাদীদের নাইটমেয়ার-৬

[পর্ব-১|পর্ব-২|পর্ব-৩|পর্ব-৪|পর্ব-৫] বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী এককোষী একটি জীব থেকে উদ্ভিদজগত ও প্রাণীজগত সহ পুরো জীবজগত বিবর্তিত হয়েছে। একটি জীবের জায়গায় একাধিক হলে বিবর্তন তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হবে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব যেমন কারো পক্ষেই প্রমাণ করা সম্ভব নয় তেমনি একটি জীব থেকে পুরো জীবজগতের বিবর্তন প্রমাণ করাও অসম্ভব। ফলে এই তত্ত্বকে কোন ভাবেই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বলা যেতে পারে না। এখানে আরো স্মরণ রাখতে হবে যে, বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী “এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন” এর মাধ্যমে উদ্ভিদজগত ও প্রাণীজগত বিবর্তিত হয়েছে। ডারউইনবাদীদের বিশ্বাস অনুযায়ী বিবর্তন প্রক্রিয়াকে যদি পুনরাবৃত্তি করা হয় তাহলে বর্তমান জীবজগতের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবজগত বিবর্তিত হতে পারে। এটি তাদেরকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতেই হবে। নইলে বিবর্তনকে একটি পরিকল্পিত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকার করতে হয় – যেটি তাদের মতবাদের বিরুদ্ধে যাবে। ফলে বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী ডারউইনবাদীরা হচ্ছে অসংখ্য অপ্রত্যাশিত ও দৈব ঘটনার ফলাফল!

নিচের ভিডিও দুটিতে হামিং বার্ড ও মৌমাছির পাখার গতি লক্ষ্য করুন। পাখার গতি এত দ্রুত যে, খালি চোখে প্রায় দেখাই যায় না। প্রকৃতিতে এরকম অসংখ্য উদাহরণ আছে। প্রশ্ন হচ্ছে হামিং বার্ড ও মৌমাছির পাখার অত্যন্ত দ্রুতগতি কি প্রথম থেকেই ছিল নাকি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়েছে? এরা যদি ভিন্ন প্রজাতি থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে প্রথম থেকেই পূর্নাঙ্গ পাখা ও এত গতি এক সাথে থাকা সম্ভব নয়। অন্যদিকে পাখার গতি ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাওয়াই বা সম্ভব কী করে? পাখার গতি যখন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাচ্ছিল তখন হামিং বার্ড ও মৌমাছির দৈহিক অবস্থা কেমন ছিল? ভেবে দেখুন।


উপসংহার: হামিং বার্ড ও মৌমাছির পাখা, পাখার দ্রুত গতি, এবং দৈহিক অবস্থা যদি যুগপৎভাবে বিবেচনা করা হয় তাহলে দেখা যাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে অন্য কোন প্রাণী থেকে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব নয় এবং এই ধরণের বিবর্তনের পক্ষে কোন প্রমাণও নাই। ফলে প্রাণী দুটিকে প্রথম থেকেই পূর্ণাঙ্গভাবে থাকতে হবে, যেটি বিবর্তন তত্ত্বের পুরোপুরি বিপরীত।

নিচের ভিডিওতে চিতাবাঘ ও হরিণের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে দৌড়ের প্রতিযোগীতা দেখুন। চিতাবাঘ এভাবেই হরিণ শিকার করে খায়। প্রশ্ন হচ্ছে চিতাবাঘ ও হরিণের অত্যন্ত দ্রুতগতি কি প্রথম থেকেই ছিল নাকি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়েছে? এরা যদি ভিন্ন প্রজাতি থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে প্রথম থেকেই এত গতি থাকা সম্ভব নয়। অন্যদিকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গতি যখন বৃদ্ধি পাচ্ছিল তখন প্রাণী দুটির দৈহিক অবস্থা কেমন ছিল? প্রাণী দুটির ক্ষীপ্র গতি আর জৈবিক বিবর্তন কি যুগপৎভাবে ঘটেছিল? তা কী করে সম্ভব!

উপসংহার: চিতাবাঘ ও হরিণের মধ্যে যে প্রতিযোগীতা দেখছেন সেটি একটি পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি, যেখানে ক্ষীপ্র গতির ব্যাপারও জড়িত। এরকম একটি পদ্ধতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে অন্য প্রাণী থেকে বিবর্তিত হতে পারে না এবং এই ধরণের বিবর্তনের পক্ষে কোনই প্রমাণ নাই। ফলে প্রাণী দুটিকে প্রথম থেকেই সব কিছু সহ পূর্ণাঙ্গভাবে থাকতে হবে, যেটি বিবর্তন তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক।

নিচের ভিডিওতে একটি মাছরাঙার মাছ শিকার করার পদ্ধতিটা মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন। বেশ উঁচুতে কিছুক্ষণ স্থির থেকে, যথাযথভাবে শিকারীর দিকে তাক করে, পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মাছ শিকার করছে। মাছরাঙার এই মাছ শিকার করার কৌশল কীভাবে এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব? এই পদ্ধতি যদি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হতে থাকে তাহলে সেই মধ্যবর্তী ধাপগুলোতে মাছরাঙার দৈহিক অবস্থা ও শিকার করার পদ্ধতি কেমন হবে? আবারো ভেবে দেখুন।

উপসংহার: মাছরাঙা যে পদ্ধতিতে মাছ শিকার করে সেই পদ্ধতি সহ মাছরাঙার মতো কোন প্রজাতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে অন্য কোন প্রাণী থেকে বিবর্তিত হতে পারে না। ফলে এই প্রাণীকে একদম প্রথম থেকেই সব কিছু সহ পূর্ণাঙ্গভাবে থাকতে হবে, যেটি বিবর্তন তত্ত্বের সাথে যায় না।

Level 0

আমি এস. এম. রায়হান। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 10 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 27 টি টিউন ও 123 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

Level 0

হামিংবার্ড এর ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত নিখুঁত। এটি ফুলের উপর না বসে কি করে যে মধু সংগ্রহ করে দেখতেই আশ্চর্য লাগে!!! এমনকি বর্তমান যুগের বিজ্ঞানিরা পর্যন্ত আশ্চর্য বোধ করেন।

    ব্যস্ততা আর গাফলতির কারণে বিস্তারিত লিখা হয়ে ওঠেনি। সুন্দর একটি পয়েন্ট উত্থাপনের জন্য ধন্যবাদ।

আপনাকে বলেছিলাম যেহেতু এটা চেইন টিউন,তাই আগের গুলোর লিঙ্ক দিন।আপনি তো শুধু একটির লিঙ্ক দিয়েছেন।যারা নতুন দেখছে তাদের জন্য সমস্যা হবে।আপনি এই টিউনে আগের ৫টার লিঙ্ক ধারাবাহিক ভাবে দিন।তাহলে আরও সুন্দর হবে।ধন্যবাদ।

    Level 0

    সহমত

    আচ্ছা, সবগুলো পর্বের লিঙ্ক দিয়ে দিলাম। ধন্যবাদ।

আজ অনেকদিন পর টেকটিউন্সে টিউন পড়ার জন্যে আপনার চেইনটা চোখে পড়ল …… আজকাল নাকি ভালো টিউন হয়না। এই কথা শুনতে শুনতে পাগল হবার পর এখানে এসে দেখলাম ব্যাপার পুরো উল্টো …. এখানে আজকাল হয়ত আগের চাইতেও ভালো এবং বিশ্লেষনধর্মী টিউন ও হচ্ছে ….. আপনাকে অনেক ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ন একটা বিষয়ে আমাদের ধারনা পরিস্কার করার জন্য।

পরবর্তী পর্বের আশায় রইলাম……

চালিয়ে যাবেন. ….

    আপনার মন্তব্য থেকে অনুপ্রেরণা পেলাম। ধন্যবাদ। আশা করি চলবে…