তিন গোয়েন্দা রিভিউ (পর্ব-৮): রত্নদানো রিভিউ+পিডিএফ

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি ভালো আছেন। আমি অবশ্য তেমন ভালো নেই। কারণ-

শনি, সোম, বুধ: সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা

রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি: সকাল ৭টা-৯টা+ বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৫টা

ভরকে যাবেন না। এটা আমার স্কুল, প্রাইভেট, কোচিংএর সময়। বলেন তো এসবের জ্বালায় ভালো থাকা সম্ভব? রাতেও বাড়িতে পড়া একটু তো থাকেই। তাই লেখার সময় পাই না। গত পর্বে আমি বলেছিলাম, এখন থেকে নিয়মিত লেখার চেষ্টা করবো। আর তাই যতটুকু সময় পাই লিখি। কিন্তু আসলে নিয়মিত লেখা সম্ভব হয়ে উঠছে না। সেজন্য দুঃখিত।

এর আগের সপ্তম পর্বটা কিবা জানি কিবা কারণে স্থগিত হইয়াছে। সেখানে ক্যাডেট ইশতিয়াক টিউমেন্ট করেছিলো "আপনার ‘তিন গোয়েন্দা’ রিভিউ গুলো আনক ভালো হয়, তবে যদি আগের রিভিউ গুলোর লিঙ্ক নিচে বা উপরে দিয়ে দেন, তাহলে পাঠকদের সেগুলো খুঁজে পেতে সহজ হবে। [কিন্তু এই রিভিউ গুলো যদি চেইন টিউনে পরিণত হয়, তবে আলাদা কথা!]"

আসলে এই সিরিজ চেইন টিউন হওয়ার সম্ভাবনা ০%। উল্টো স্থগিত হলো। তাই আমি এটাকে চেইন টিউনস করার কথা ভাবছিও না। তাহলে সেভাবেই টাইটেল দিতাম। তবে হ্যাঁ, একটা কথা ছিলো আমার এডমিনদের উদ্দেশ্যে। টিউনটি কেন ব্যান হলো জানিয়ে দিলে ভালো হয়। আমি ডেস্কে বলে উত্তর পাইনি।  তাই টিউন করলাম। আর এই সিরিজ এখানে চেইন টিউন হবে ভাবার চান্স নেই। তবে এখানে এই সিরিজের সকল টিউন একসাথে পাবেন।

এখন মূল রিভিউ শুরু করি। আমার রিভিউয়ে গল্পের সারসংক্ষেপ প্রথমে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। তারপর আমার মতামত।

টিউন খারাপ লাগলে টিউমেন্ট করবেন টিউনের কোন অংশটা আরো উন্নতি করতে হবে। আর কেন ভালো লাগেনি। আর ভালো লাগলে অবশ্যই সেটাও টিউমেন্টে জানাবেন। আপনি যদি অসংখ্য গালি দিয়েও আমাকে একটা ছোট্ট উপদেশ দেন তাও সেটা আমার জন্য লাভজনক হবে ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য। তাই অনুগ্রহ করে টিউন সম্পূর্ণ পড়ে এই টিউন সম্বন্ধে টিউমেন্ট করবেন।

রেইনবো জুয়েলস, কিশোরের করা বাংলায় রংধনু রত্নহার। খুবই দামী আর সুন্দর একটা রত্নের প্রদর্শনী চলছে পিটারসেন মিউজিয়ামে। জাপানী সুকিমুচি জুয়েলার্স প্রদর্শনীর আয়োজক। কিশোর পাশা জানালো চিন্তিত নেকলেসটা কিভাবে চুরি করবে তা নিয়ে। কিশোরের কথা শুনে ভরকে গেলো দুই সহকারী। কিশোর সহজ গলায় আশ্বস্ত করলো অনেকদিন কেস না পাওয়াই ব্রেনকে চালু রাখতে ভেবে বের করবে সেটা চুরি করা কিভাবে সম্ভব। সেটা জানলে ভবিষ্যতে চোর-ডাকাত ধরতে সুবিধা হবে। কিন্তু কড়া পাহাড়ায় রাখা হয়েছে সেটি। সিসি ক্যামেরা, পিস্তলধারী পাহাড়াদার, ইনফ্রারেড লাইট সিস্টেমসহ খুব কঠিন পাহাড়ায়। অদৌ কি সেটা চুরি করা সম্ভব? কিশোর আগ্রহী প্রদর্শনীটা দেখতে। চিলড্রেন্স ডে এর সুবিধা নিয়ে হাফ টিকিটে প্রদর্শনী দেখতে গেলো তিন গোয়েন্দা। প্রথমেই দেখে নিলো চারপাশ। একটা দুর্বলতা চোখে পড়লো কিশোরের। কারেন্টের তারগুলো কাটা সম্ভব। কিন্তু তাতে কি চোরের খুব লাভ হবে? এলার্ম সিস্টেম ব্যাটারি সংযুক্ত। ভেতরে গিয়ে দেখলো রত্নটা কাঁচের ভেতর রাখা সবার নাগালের বাইরে। হঠাৎ হারটা ঘুষি মেরে কাঁচ ভেঙে নিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। হারটার দাম বিশ লক্ষ আমেরিকান ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশী টাকায় কত ১৬ কোটি প্রায়। নিরাপত্তা তো থাকবেই। আর এত নিরাপত্তার মাঝে চুরি করা নিশ্চয়ই সহজ হবে না। কিন্তু....

অসুস্থতার ভাণ করে গার্ডদের চোখ আকর্ষণ করলেন একজন। সেদিকে মনযোগ দিতেই অন্ধকার হয়ে গেলো ঘর। আর তারপর ঝনঝন একটা শব্দ। আর এলার্ম বেজে উঠলো। এলার্মে খুব লাভ হলো না। সে অবস্থায় সকলে এমনিই বুঝতে পেরেছিলো চুরি হচ্ছে। ঘরে কোন জানালা নেই। পালানো অসম্ভব। সবাইকে বেরিয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হলো এবং সবাইকে সার্চ করা হলো। কিন্তু না, রত্নহার মিললো না। একজন জাপানী টর্চ নিয়ে দেখলো, রত্নহার না চুরি হয়েছে অারেকটা দামী বেল্ট! অবাক হলো কিশোর পাশা। বেল্ট কেন? রত্নহার চুরি করাই তো সহজ আর দামী ছিলো। তার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ক্লু। সিকিউরিটি ইনচার্জকে কিশোর জানালো তারা সাহায্য করতে আগ্রহী। কিন্তু তিনজন কিশোর গোয়েন্দাকে আমলেই নিলেন না তিনি।

এরই মধ্যে আসলো আরেক রহস্য। মিস্টার ডেভিস ক্রিস্টোফার, সেই বিখ্যাত পরিচালকের ফোন। মিস শ্যানেল ভারনিয়া, একজন লেখিকা। তার বাড়িতে নাকি রত্নদানোর উৎপাত হয়েছে। কল্পনার বামন মানবাকৃতির জীব ওরা যারা সুরঙ্গ কেটে রত্ন খোঁজে। তাদের নাকি দেখা যায়। বিশ্বাস করেনি পুলিশ। তাই সাহায্য চেয়েছেন বিখ্যাত পরিচালকের কাছে।

রহস্য বা কেসের জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলো তিন গোয়েন্দা। খুশিই হলো তারা। রত্নের কেসের চেয়েও কঠিন কেইস মিলেছে। সেখানে গিয়ে মুসা পড়লো গেইটে লিখা মানুষ হলে বেল বাজাতে বলা হয়েছে, আর বামন, রত্নদানো, খাটোভূতদের শীষ দিতে বলা হয়েছে। বোঝা গেলো, এসবে বিশ্বাস আছে মহিলার। ঘরে ঢোকার কিছু পরে রবিনও একজনের দেখা পেলো। একটা রত্নদানো!

টোহা মুচামারু, সেই সিকিউরিটি ইনচার্জের ছেলে মিরো মুচামারু হঠাৎ হাজির হলো তিন গোয়েন্দার সাথে দেখা করতে। জানালো আগের দিন দুর্ব্যবহারের কারণে ক্ষমা চেয়েছেন বাবা। সেই বেল্ট এখনো খুজেঁ পাওয়া যায়নি। দুটো কেস মিললো তিন গোয়েন্দার। আর বলবো না। বললে গল্পের মজা নষ্ট হবে।

আমার মতামত: আমি ১০ এ ৭ দিবো এই বইটাকে। ফিনিশিংটা একটু কেমন লেগেছে। তবে হ্যাঁ, খুব খারপা না। অবশ্যই পড়ে দেখবেন। গল্পটার পিডিএফ দিলেও প্রকাশনার দিকটাও সবাইকে চিন্তা করতে বলবো। বাজারের যেকোন বইয়ের তুলনায় খুব কম দামে ২৫০-৩০০ পৃষ্ঠার তিন গোয়েন্দার একেকটি ভলিউম মাত্র ৫০-৮০ টাকার মধ্যে পাবেন। বাজারে না পেলে রকমারি ডট কম বা অন্যান্য অনলাইন দোকান থেকেও কিনতে পারবেন। অতএব, পিডিএফ ভালো লাগলে বইটি কিনে নিবেন। এই গল্পটি ভলিউম ১.২ এর ৩য় গল্প। ডাউনলোড করতে ছবিতে ক্লিক করুন।

টিউনটি ভালো লাগলে আমার ব্লগে ঘুরে আসতে পারেন।

Level 0

আমি তাহমিদ হাসান। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 113 টি টিউন ও 286 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 4 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

যদিও অনেক আগেই বইটা পড়ে ফেলেছি, ভাল রিভিউ লিখেছেন। আপনার ব্লগটা দারুণ। তবে মোবাইল থেকে সাইটের navigation bar এ ক্লিক করলে নিচে বাংলা ঠিকমত আসছে না। ভবিষ্যতে আরও বুক রিভিউ চাই। 🙂

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। জানেন তো, এমন একটা কমেন্টের জন্যই আমি লিখে যাই। আপনার মোবাইল সেটের মডেল জানালে সলভের চেষ্টা করতাম।

      সাধারণ এন্ড্রয়েড ফোন। লেটেস্ট অপেরা মিনি থেকে। navigation bar থেকে কোনো মেনু ( যেমন “রেঞ্জার্স “) এ ক্লিক করলে নিচে ড্রপডাউন মেনু আসে যাতে উল্টাপাল্টা ইংরেজি অক্ষর আসে। ক্লিক করলে একই পেজই লোডিং হয়। অন্য ডিভাইসে অবশ্য ঠিকভাবে আসতে পারে । কম্পিউটার দিয়ে দেখিনি। 🙂

        আমি তো এন্ড্রয়েডে কোন সমস্যা পাইনি। হয়ত, আমাদের ফন্ট সিয়াম রূপালী আপনার ফোনে সাপোর্ট করে না। সমাধানের চেষ্টা করবো(পুনশ্চ: অপেরা থেকে ইউসি ভালো)

little bro GR+ site ta darun lagce…caliye jao….

    অনেক ধন্যবাদ, ভাইয়া। একটা টিউমেন্টের অনেক মূল্য আমার কাছে, আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

ভাল হইছে টিউনটা ।কোন ক্লাস এ পড় তুমি ?

অসঃ ধইন্যা পাতা

    আমারে পাতা দেওয়াই ধইন্যা। আপনারে পুরা ধইন্যা গাছ দিলাম।