
অনেকদিন পর আবার এলাম আপনাদের সামনে। এবার এসেছি সর্ম্পুন অন্য একটি বিষয় নিয়ে। আমরা অনেকেই এখন ক্রেডিট র্কাড ব্যবহার করি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দিন দিন এর ব্যবহার বাড়ছেই। এর অন্যতম কারন হলো এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই মানিব্যাগে টাকা না নিয়েই কেনাকাটা করতে পারি। কিন্তু একটা অভিযোগ প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায় যে, ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে বেশি টাকা কেটে নিচ্ছে। আসুন জেনে নেই আসল সত্যটা কি।
আমরা যারা সাধারনত ব্যাংকে টাকা জমা রাখি , ব্যাংক সেই টাকা তোলার জন্য চেক বই এবং ডেবিট র্কাড দেয়। ডেবিট কার্ডের মাধ্যমেও আপনি কেনাকাটা করতে পারবেন ক্রেডিট কার্ডের মতই। তবে র্পাথক্য হলো ডেবিট র্কাডের মাধ্যমে আপনার ব্যংকের জমা টাকা আপনি খরচ করছেন। আর ক্রেডিট র্কাডের মাধ্যমে আপনি সেই পরিমান টাকা খরচ করতে পারবেন, যেই পরিমান টাকা ব্যাংক আপনাকে লোন বা ধার হিসাবে দেবে। সুতরাং ক্রেডিট র্কাড হলো একটি র্কাড, যার মাধ্যমে ব্যাংকের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে তা খরচ করা এবং মাস শেষে সেই টাকা আবার ব্যাংকে ফিরেযে দেয়া। তার মানে হলো, ব্যাংক আপনাকে কিছু টাকা লোন আকারে দিচ্ছে, একমাস বা ৪৫ দিনের জন্য, আপনি সেই টাকা খরচ করার পর আবার ব্যাংকে ফেরত দিয়ে দেবেন। তবে ব্যাংক চায় আপনি এই টাকাটা ওই সময়ের মধ্যে ফেরত না দেন কারন তাতেই ব্যাংকের লাভ শুরু । আর এটি বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন VISA, Master card, American Express. তবে বাংলাদেশে ভিসাই বেশি চলে।
এখন প্রায় সব দোকানেই এই POS মেশিনটি চোখে পড়ে, যার মাধ্যমে ক্রেডিট র্কাড বা ডেবিট কার্ডের লেনদেন করা হয়।
উপরের ভিডিওতে দেখা যায় প্রথমে র্কাডটিকে Swipe বা নিদৃষ্ট অংশে ঘসা দেয়ার পর টাকার সংখ্যা দিয়ে সবুজ বোতাম চাপছেন। তারপর যে কাগজটি বেরিয়ে এলো সেটি সে কার্ডের মালিককে দিবে যেখানে সে সই করে দিবে। এবং পরে আবার সবুজ বোতাম চেপে আর একটি কাগজ বের করেছেন যেটি সে কার্ডের মালিককে দিবেন রসিদ হিসাবে। আর সই করা কাগজটি রেখে দিবেন ব্যাংকে দিয়ে টাকা বুঝে পাবার জন্যে। এভাবে কেনাকাটা করলে ব্যাংক আলাদা করে কোন টাকা কাটে না তবে যে দোকানে আপনি এটি ব্যাবহার করছেন সেখানে আলাদা করে টাকা কাটতে পারে। সাধারনত ইলেকট্রনিক্স পন্যের ক্ষেত্রে ২.৫% আলাদা র্চাজ করা হয়। তাই যেখান থেকে কেনাকাটা করছেন, সেখানে ভালভাবে জেনে নিন যে তারা আলাদা কোন টাকা কাটছে কিনা।
র্কাড চেক , ব্যাংকের চেক বই এর মতই চেক বই তবে র্পাথক্য হলো এর মাধ্যমে টাকা সরাসরি ব্যাংক থেকে ক্যাশ টাকা তোলা যায় না। কারন এটি Account Payee চেক বই। এর মাধম্যে আপনি কাউকে চেক দিতে পারবেন তবে তার অবশ্যই নিজের ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে এবং টাকা তার নিজের একাউন্টে জমা হবে । আর এই চেক নিজের একাউন্টে জমা দেয়া যায়না। ব্যাংক এখানে মোট টাকার উপর ১% ফি এবং এই ১% এর উপর আরও ১৫% ভ্যাট আদায় করে । অর্থাৎ ১০০০ টাকা চেক দিলে এর উপর ১% ফি (১০ টাকা) এবং ১% এর উপর ১৫% ভ্যাট (১০ টাকার ১৫% = ১.৫ টাকা) মোট ১১.৫ টাকা ফি দিতে হবে।
ডেবিট কার্ডের মতোই ক্রেডিট র্কাড দিয়ে বুথ থেকে ক্যাশ টাকা তোলা যায়।
তবে এক্ষেত্রে প্রথমেই মোট টাকার উপর ২% ফি এবং আবার মোট টাকার উপর ২.৫% চক্রবিৃদ্ধি সুদ ওই সময় থেকেই শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ ১০০০ টাকা ক্যাশ তুললে ২% (২০ টাকা) ফি এবং আবার ২.৫% সুদ ( ২৫ টাকা) মোট ৪৫ টাকা মাস শেষে আলাদা জমা দিতে হবে। অনেক ব্যাংক আবার নিদৃষ্ট করে বলে দেয় ১০০ বা ১৫০ টাকা সরবনিম্ন দিতে হবে কারন ২% এ ২০ টাকা হলে তাদের কাছে কম কম লাগে। এবং সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে।
ইন্টারনেটে কেনাকাটা করার মাধ্যমেও ক্রেডিট কার্ডের টাকা খরচ করা যায়। তবে বাংলাদেশে এই সেবাটি এখোনো সেভাবে চালু হয়নি কারন এখানে নিরাপত্তা একটি অনেক বড় বিষয়।
ইদানিং প্রায় সব ব্যাংক তাদের ক্রেডিট কার্ডের মেয়াদ ৪৫ দিন দিয়ে থাকে। অর্থ্যাৎ কেনাকাটা করার ৪৫ দিনের মধ্যে টাকাটা ফেরত দিতে হবে, তবে বুথ থেকে নগদ টাকা তুললে এই সুবিধা পাওয়া যাবেনা । কিন্তু ব্যাংক একটা ব্যাপার বিস্তারিত জানায়না আর সেটা হলো বিল সাইকেল (Bill cycle) । বিল সাইকেল হলো আপনার বিল তৈরি হবার সময়। মনে করুন আপনি একটি ক্রেডিট র্কাড করেছেন মাসের ১ তারিখে এবং আপনার বিল তৈরি হবে ঔ মাসের ৩০ তারিখে। আপনি এই বিলের টাকা ফেরত দেবার সময় পাবেন পরের মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত । এই মোট ৪৫ দিন্ই (মাসের ১ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ মোট ৩০ দিন এবং টাকা ফেরত দেবার জন্য পরের মাসের ১৫ দিন=৪৫ দিন)হলো আপনার বিল সাইকেল। এখন আপনি যদি মাসের ১ তারিখে কোন কেনাকাটা করেন তবেই আপনি ৪৫ দিন টাকা ফেরত দেবার সময় পাবেন। আর আপনি যদি মাসের ৩০ তারিখে কোন কেনাকাটা করেন তবে আপনি সময় পাবেন মাত্র ১৫ দিন। আপনি যদি এই ৪৫ দিনের মধ্যে টাকাটা ফেরত না দেন তবেই ব্যাংকের লাভ কারন তখনই আপনার খরচ করা টাকার উপর ব্যাংক ২.৫% (বছরে ৩০%) চক্রবিৃদ্ধি হারে সুদ আরোপ করবে। আর এটা শুরু হবে যেদিন আপনি কেনাকাটা করেছিলেন সেদিন থেকেই। অনেকেই মনে করেন সুদটা ৪৫ দিন পর থেকে শুরু হবে, আসলে তা না। আর চক্রবিৃদ্ধির কারনে সুদটা খুব তারাতারি বাড়তে থাকে। ৪৫ দিন মেয়াদ কেবলমা্ত্র POS মেশিন ও চেক বই এর মাধ্যমে পাওয়া যায়। চেক বই এ শুধু আলাদা করে ফি দিতে হয়। ক্যাশ টাকা তোলার ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যায় না।
সাধারনত এটা বলা হয়ে থাকে কোন বাৎসরিক ফি নেই। কথাটা সত্যি তবে কমপক্ষে বছরে ১৮ বার কেনা কাটা করতে হবে। তবে ১৮ বারই ক্যাশ টাকা তুললে হবে না। আর প্রখম বছর বাৎসরিক ফি দিতেই হয়। সুতরাং বলা উচিৎ দ্বিতীয় বছর থেকে কোন ফি নেই তাও আবার সর্ত সাপেক্ষে।
প্রায় সবগুলো ব্যাংক যে কথাটি একদম এড়িয়ে যায় সেটি হলো এই ইনস্যুরেন্স ফি। ব্যাংক তাদের দেয়া লোনের টাকার ইনসুরেন্স ফি নেয়। এটা করার কারন হলো কেউ যদি টাকা ফেরত না দিতে পারে তবে ব্যাংক ইনসুরেন্স কম্পানির মাধ্যমে সেই টাকা উঠিয়ে নেয়। আর ইনস্যুরেন্স কম্পানির ফি দিচ্ছেন আপনি। সাধারনত এই ফি মোট টাকার উপর ২.৫% অর্থাৎ আপনার লিমিট ১০,০০০ টাকা হলে আপনাকে আলাদা করে ২.৫% বা ২৫০ টাকা দিতে হবে। এবং এটি গ্রাহককেই দিতে হয়। তবে এটিকে বন্ধ করে দেয়া সম্ভব। এই ব্যাপারটি অনেকেই জানেনা বলে এই ফি ব্যাংক নিয়ে নিচ্ছে। আর গ্রাহক মনে করে এতো টাকা বিল কি করে হলো?
তবে হ্যা যারা খুব বেশি ক্রেডিড র্কাড ব্যাবহার করেন তাদের একটি সুবিধা আছে, তা হলো প্রতি ৫০ টাকা খরচে এক পয়েন্ট জমা হয়। আর এই জমাকৃত পয়েন্ট দিয়ে আপনি আপনার ব্যাংক থেকে ক্যাশ টাকা উপহার পেতে পারেন। আবার অনেক বাংক ক্যাশ ব্যাক অফার দিয়ে থাকে। অর্থাৎ আপনি যে পরিমান টাকার কেনাকাটা করেছেন তার উপর কা্শ ব্যাক পাবেন। সাধারনত ঈদের সময় ব্যাংকগুলো এধরনের অফার দিয়ে থাকে।
আমি ক্রেডিট কার্ডের বিপক্ষে নই তবে এর ব্যাবহার যেন কেউকে দেউলিয়া না বানিয়ে দেয় সে জন্যই আমার এই ছোট আয়োজন। কোথাও ভুল হলে ক্ষমা করবেন।
আমি আবদুল বাকী। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 15 বছর 7 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 12 টি টিউন ও 198 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
প্রিয়তে রাখার মত একটি টিউন করেছেন… অনেক ধন্যবাদ।