ইলন মাস্ক সম্পর্কে ১৫টি তথ্য যা হয়তো আপনি জানেন না

টিউন বিভাগ প্রতিবেদন
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

কেমন আছেন সবাই! আজ টেকটিউনসে আমি একটু তথ্যবহৃল অন্যরকম টিউন করতে যাচ্ছি। টেকটিউনসে এই জাতীয় টিউন আগেও হয়েছে কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে কোনো ব্যক্তিত্ব নিয়ে আগে এই ধরনের টিউন করিনি! আশা করি কোনো ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আজ আমি একজন টেক বিশেষঞ্জ, ব্যবসায়ী, ইঞ্জিনিয়ার ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক সম্পর্কে ১৫টি তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যা হয়তো আপনারা জানেন না! ইলন মাস্ক সম্পর্কে যারা জানেন তা তাদের জন্য আমি টিউনটি শুরু করার আগে ইলন মাস্ক সম্পর্কে একটু বেসিক ধারণা দিয়ে নেই!

ইলন রিভ মাস্ক হচ্ছেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকান বিনিয়োগকারী, প্রকৌশলী এবং আবিষ্কারক। তিনি মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX) এর CEO এবং CTO, ইলেক্ট্রনিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান TESLA মোটরস এর CEO এবং পণ্য প্রকৌশলী, OpenAl এর কো-চেয়ারম্যান এবং Neuralink এর ফাউন্ডার এবং CEO. এছাড়াও তিনি SolarCity এর কো-ফাউন্ডার এবং সাবেক চেয়ারম্যানে, Zip2 এর কো-ফাউন্ডার এবং PayPal এর ও সাবেক ফাউন্ডার তিনি! ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তার সম্পদের নেট পরিমাণ প্রায় ২০ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যার কারণে তিনি আমেরিকার ২১তম ধনী এবং বিশ্বের ৮০তম ধনী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন।

তিনি গোবাল ওয়ার্মিং সমস্যার সমাধানের জন্য Sustainable energy production & consumption নিয়ে কাজ করছেন, মানব জাতির বিলুপ্ত রোধে মাল্টি-প্ল্যানেটারী প্রজেক্টেও কাজ করছেন। টিউনের সামনের দিকে আমরা তার এই কাজ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে পারবো!

তো ইলন মাস্ক সম্পর্কে বেসিক ধারণা দেবার পর এবার চলুন মূল টিউনে চলে যাই।

১)  তরুণ থেকেই শুরু!

তিনি মাত্র ১২ বছর বয়সে তার জীবনের প্রথম গেমটি কোড করেন এবং ৫০০ ডলারে বিক্রি করে দেন। গেমটির নাম ছিলো Blastar এবং গেমটির ওয়েব ভার্সন এখনো নেটে ঘাঁটাঘাঁটি করলে আপনি পেয়ে যাবেন। বিল গেটসের মতোই ইলন মাস্ক তার যুবক বয়সেই কোডিং এর কাজ শুরু করেন এবং দিনে প্রায় ৫ ঘন্টা করে কোডিং এর পড়াশোনা করতেন। তিনি ছোটবেলায় অন্ধকার নিয়ে খুব ভীতু ছিলেন, আর তিনি নিজেই তার এই ভয়কে জয় করেন সাধারণ ফিজিক্স এর বই পড়ে! ফিজিক্স এর বই পড়ে তিনি জানতে পারেন যে দৃশ্যমান Wavelenght এর মধ্যে প্রোটনের অভাবেই কারণেই অন্ধকার তৈরি হয় আর তিনি সামান্য প্রোটেনের অভাবকে ভয় পাবার আর কোনো কারণ দেখেন না!

২) মিতব্যায়ীতা!

কলেজ লাইফের জীবনে তিনি দৈনিক মাত্র ১ ডলার করে খরচ করতেন! তিনি উচ্চবিত্ত পরিবারের থেকে আসলেও নিজের তখনকার আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে স্টুডেন্ট লাইফে তিনি এই রকম মিতব্যায়ী ছিলেন। তার দৈনিক খাদ্য তালিকায় কমদামী নুডলস থাকতো আর তিনি তার কলেজের ফি এবং হাতখরচ তার নিজের এবং তার এক বেস্ট ফ্রেন্ড এর রুমকে নাইট ক্লাব হিসেবে ভাড়া দিয়ে চালাতেন।

৩)  পিএইডি কোর্স বোরিং লাগতো!

মাত্র ২ দিনের মাথায় তিনি তার স্বপ্নের প্রোজেক্টে কাজ করার জন্য Physics PhD কোর্সকে বাতিল করে দেন! ফিজিক্স এবং ইকোনোমিক্সে ডিগ্রি অর্জনের পর ২৪ বছর বয়সে ইলন মাস্ক ১৯৯৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্সের উপর পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হন। মাত্র ২ দিনের মাথায় তিনি পিএইডডি কোর্সের উপর বোর হয়ে যান এবং তার ভাইয়ের সাথে ব্যবসায় নেমে পড়েন! পরে যা Zip2 হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তিনি তার এই বিজনেস এর জন্য পিএইডি কোর্সকে বাতিল করে দেন এবং মূলধন হিসেবে তার বাবার কাছ থেকে ২৮ হাজার মার্কিন ডলার ধার নেন। আর সেটায় দারূণ ব্যবসা করে মাত্র কয়েক বছর পর তিনি সেটাকে প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেন!

৪) গাড়ী প্রেমী!

১৯৯৯ সালে ২৮ বছর বয়সে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার দিয়ে তিনি একটি McLaren F1 সুপার গাড়ি কিনেন। তখন McLaren গাড়ির জন্য ইন্সুরেন্স পাওয়া যেতো না। কিন্তু তিনি ইন্সুরেন্স এর পরোয়া না করেই গাড়িটি চালান এবং পড়ে তিনি গাড়িটি নিয়ে এক্সসিডেন্টও করে ফেলেন! এই ঘটনা নিয়ে তিনি এখনো মজা করে বলেন যে তার গাড়ির উপর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে!

৫) রিয়েল লাইফ আইরন ম্যান!

মার্ভেল ফ্লিম Iron Man এর মূল চরিত্র টনি স্টার্ক টি ইলন মাস্কের জীবনের উপরই ভিক্তি করে তৈরি করা হয়েছে। Iron Man ফ্লিম সিরিজের অভিনেতা Robert Downey Jr. তার ফ্লিমের চরিত্রটি ইলন মাস্কের জীবন বিলাসের উপর থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

৬) পেপাল এর কো-ফাউন্ডার:

পেপাল এর কো-ফাউন্ডার এবং পেপাল মাফিয়ার একজন সদস্য ছিলেন ইলন মাস্ক! Zip2 ব্যবসায়ের সাফল্যের পর তিনি তার পরবর্তী টার্গেট নির্বাচন করেন ব্যাংকিং ইন্ড্রাট্রির উপর। আর তাই তিনি x.com নামের একটি অনলাইন ইমেইল ভিত্তিক অর্থ আদান প্রদানের সাইট খুলেন। x.com এবং PayPal তাদের সময়ে প্রধান প্রতিদ্বন্ধি ছিলো অনেক বছর ধরেই! তারপর এই দুটি প্রতিষ্ঠান একত্র হয়ে PayPalX হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে লিডারশীপ আইনি জটিলতায় তিনি কোম্পানির CEO পদ থেকে সরে যান। পরে যখন পেপালকে বিক্রি করে দেওয়া হয় তখন তার ভাগে ১৬৫ মিলিয়ন ডলার শেয়ার পড়েছিল।

আর পেপাল মাফিয়া বলতে পেপালের পেছনে যারা যারা অবদান রেখেনে তাদের সম্মলিত গ্রুপ কে বুঝায়।

উপরের চিত্রে আপনি পেপাল মাফিয়ার সদস্যদের তাদের বর্তমান অবস্থা সহ দেখতে পাচ্ছেন।

৭) ভাগ্য নিয়ে খেলা!

২০০৮ সালে তার কাছে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিলো, তিনি এই অর্থে সবটুকুই তিনটি ভিন্ন প্রজেক্টে ইনভেস্ট করে দেন। ১০০ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করেন SpaceX প্রজেক্টে, ৭০ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করেন TESLA তে এবং বাকি ১০ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করেন Solar City প্রজেক্টে। তখন তার বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য তাকে ঋণ নিয়ে চলতে হতো! কথা আছে না, No Risk No Gain! এর বাস্তব উদাহরণ হলেন ইলন মাস্ক!

৮) বিবাহ খেলা!

এলিযাবেথ টেইলরের মতোই তিনি একই মহিলাকে বিয়ে করেন, তাকে পরবর্তীতে ডিভোর্স দেন, আবারো তাকে বিয়ে করেন এবং আবারো তাকে ডির্ভোস দিয়ে দেন। তিনি ২০০৮ সালে একজন ব্রিট্রিশ অভিনেত্রীকে বিয়ে করেন, ২০১২ সালে তাদের ডিভোর্স হয়, পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আবারো বিয়ে করেন তারা এবং আবারো ২০১৬ সালে তাদের ডির্ভোস হয়। তিনি এ ব্যাপারে বলেন যে, তিনি তার কাজ, প্রজেক্টের জন্য তার ব্যক্তিগত জীবনকে বির্সজন দিয়ে দিয়েছেন।

৯) প্রতি বছরে ১ ডলার!

আপনি জানেন কি ইলন মাস্ক এর TESLA কোম্পানিতে তার বছর প্রতি বেসিক স্যালারি হলো মাত্র ১ ডলার করে! TESLA কোম্পানির ফাউন্ডার ইলন মাস্ক নন, তবে তিনি কোম্পানিতে নিজের অবস্থান পাকা করে নেন তার উচ্চ মানের আইডিয়ার কারণে!

১০) মঙ্গল-প্রিয়!

তিনি তার SpaceX প্রজেক্টের মাধ্যমে মঙ্গলগ্রহে মানুষ বসবাসের জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলগ্রহে মৃত্যু বরণ করতে চান, পৃথিবীতে নয়! তার SpaceX প্রজেক্টের মুল লক্ষ্য হলো এক প্ল্যানেট হতে অন্য প্ল্যানেটের যাতায়াতের খরচ কে ১০০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে নিয়ে আসা। বর্তমানে এক প্ল্যানেট হতে অন্য প্ল্যানেটের যাতায়াতের খরচ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার! তিনি ২০২৪ সালের মধ্যে মঙ্গলগ্রহে ১ মিলিয়ন মানুষ পাঠাতে চান।

১১) আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বিরোধী!

ইলন মাস্কের মতে AI বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট মানুষের জীবননাশের আশঙ্কার প্রধান কারণ। কারণ ভবিষেৎ যখন AI নিজে নিজেই চিন্তাভাবনা করতে পারবে তখন সেটা মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তার মতে AI এর চিন্তাভাবন করার ক্ষমতা উদ্ভাবন করা আর জাহান্নাম হতে শয়তানকে ডেকে আনা একই কথা! তাই তিনি AI নিয়ে রিসার্চের জন্য নিজেই একটি AI রিসার্চ প্রজেক্ট খুলে ফেলেছেন!

১২) গিগাফ্যাক্টরী!

তিনি বিশ্বের ২য় বৃহৎ ফ্যাক্টরি “Gigafactory“ নির্মাণ করছেন। কারণ তার স্বপ্ন হচ্ছে তিনি সম্পূর্ণ বিশ্বকে ব্যাটারি এনার্জির আওতায় বা Sustainable energy production & consumption এর আওতায় নিয়ে আসতে চান। তার এই স্বপ্নকে পূরণ করতে হলে তার প্রচুর পরিমানের ব্যাটারির দরকার, যে পরিমাণ ব্যাটরি পুরো বিশ্ব বছরে উৎপাদন করতে পারবে না, তাই তিনি নিজেই নিজস্ব ফ্যাক্টরি নির্মাণ করা শুরু করে দিয়েছেন। এই ফ্যাক্টরির নির্মাণ কাজ শেষে প্রতি বছর এমন পরিমাণ ব্যাটারী উৎপাদন করতে সক্ষম হবে যা পুরো বিশ্বের সকল ফ্যাক্টরির ব্যাটারী উৎপাদন ক্ষমতার থেকে বেশি হবে। থিউরি অনুযায়ী পৃথিবীতে এই রকম আরো ৯৯টি ফ্যাক্টরি থাকলে পুরো দুনিয়া একেবারেই ব্যাটারি এনার্জির উপর নির্ভরশীল হতে পারবে!

১৩) আপগ্রেডেড সোলার প্যানেল:

তিনি কিছুদিন আগে সোলার প্যানেল এর একটি আপগ্রেড উন্মুচন করেন। যেটার ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি একই সাথে পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন এবং আপনার TESLA গাড়ি এবং আপনার বাড়ির বিদ্যুৎ সংগ্রহও করে রাখতে পারবেন। এবং সব থেকে মজার ব্যাপার হলো এর জন্য আপনারকে সাধারণ বিদ্যুৎ থেকেও কম খরচ করতে হবে!

১৪) তার তিন দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে!

ইলন মাস্কের তিন দেশের অফিসিয়াল সিটিজেনশীপ রয়েছে। তিনি জন্মগত ভাবে সাউথ আফ্রিকান সিটিজেন, পরবর্তীতে ১৯ বছর বয়সে কানাডায় এসে সেখানের নাগরিকত্ব পান এবং ২০০২ সালে আমেরিকায় চলে এসে এখানের সিটিজেনশীপ পেয়ে যান তার ব্যবসায় সাফল্যের জন্য।

 ১৫) সবার জন্য ইন্টারনেট!

ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রায় সব দেশের সরকারের কাছে কিছুদিন আগে পৃথিবীর উপরে ৪৪২৫টি স্যাটালাইট প্রতিস্থাপন করার অনুমতি চেয়েছেন। এতে তিনি পুরো বিশ্বের সবার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থার আয়োজন করতে পারবেন। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে তিনি তার মঙ্গলগ্রহের প্রজেক্টের জন্য যথাযথ অর্থ অর্জন করতে পারবেন!

মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ইলন মাস্ক এত কিছু অর্জন করে ফেলেছেন এবং তার ভবিষ্যৎ তের আইডিয়াগুলোও আমাদেরকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছে। তার মতো ব্যক্তিত্ব আজকাল অহরহ পাওয়া যায় না! আর তার সম্পর্কে ১৫টি অন্যরকম তথ্য নিয়ে আজকের এই টিউনটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে সেটা টিউমেন্টে জানাতে ভুলবেন না যেন! আজ এ পর্যন্তই! আগামী অন্য কোনো টপিকে আমি টিউনার গেমওয়ালা চলে আসবো আপনাদের প্রিয় বাংলা টেকনোলজি ব্লগ টেকটিউনসে!

টিউনটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ!

Level 10

আমি ফাহাদ হোসেন। Supreme Top Tuner, Techtunes, Dhaka। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 9 বছর 4 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 661 টি টিউন ও 428 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 119 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

যার কেউ নাই তার কম্পিউটার আছে!


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

খুব ভাল মানের টিউন। ধন্যবাদ।

Copy paste tune