বিজ্ঞান যখন ভয়ংকর
পারমাণবিক বোমার ধ্বংস ক্রিয়া
বিস্ফোরণের পর একটি পারমাণবিক বোমা কি অবিশ্বাস্য ধ্বংস সাধন করে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। বিস্ফোরণের এক সেকেন্ডের ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে সৃষ্টি হয় প্রচন্ড তাপ এবং শক্তির। প্রচন্ড গতিতে চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে শক্তি। চারদিকে বিস্ফোরণ তরঙ্গ প্রবাহিত হয় আলোর গতিতে চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে শক্তি। চারদিকে বিস্ফোরণ তরঙ্গ প্রবাহিত হয় আলোর গতিতে অর্থাৎ সেকেন্ডে ১,৮৬,০০০ মাইল বেগে। ২০,০০,০০,০০,০০,০০,০০,০০,০০,০০,০০,০০০ টি ইউরেনিয়াম পরমাণু ভেঙ্গে যায়। এই সময় তাপমাত্রা গিয়ে পৌঁছায় এক মিলিয়ন সেলসিয়াসের দশ গুণ মাত্রায়। এটা যে কি সাংঘাতিক মাত্রা তা অনুমান করা কঠিন। বিজ্ঞানীরা বলেন, একটি বোমা বিস্ফোরণ কালে যে তাপের সৃষ্টি হয় তা সূযের্র কেন্দ্র স্থলের তাপমাত্রার সমান। উল্লেখ্য যে, মাত্র ২৭৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপ মাত্রায় শক্ত লোহা গলে মুহূর্তে বাষ্পে পরিণত হয়ে যায়। বোমা বিস্ফোরণের মুহূর্তে তার বিস্ফোরণ এলাকার যাবতীয় পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়। এই বিষ্ফোরণ তরঙ্গ প্রবাহিত হতে থাকে তার বিস্ফোরণ কেন্দ্র বিন্দু (Point Zero) থেকে চারদিকে। যেমন হিরোসিমাতে যে বোমাটি নিক্ষিপ্ত হয়েছিলো তার শূন্য ভূমি (Ground Zero) থেকে চারপাশে আধমাইলের (০.৮কি. মি.) মধ্যে যত ভবন ছিলো তা সমস্ত কিছু গলে বাষ্পীভূত হয়ে গিয়েছিলো। শূন্য ভূমি বলতে বুঝায়-বোমাটি শূন্যে যেখানে নিক্ষিপ্ত হয় সেখান থেকে সরাসরি নিচে ভূমি সংলগ্ন স্থান। যেমন হিরোসিমার বোমাটি বিষ্ফোরিত হয়েছিলো মাটি থেকে ১,৮০০ ফুট (৫৪৯ মিটার) উপরে। এই পয়েন্ট থেকে নিচেই হলো শূন্য ভূমি। এই শূন্য ভূমি থেকে চার পাশের একমাইল (১.৬০ কি.মি.) পর্যন্ত সমস্ত ভবনের ১২ ইঞ্চি (৩০ সেন্টিমিটার) পুরু সব দেয়াল ভেঙ্গে যাবে। দেড় মাইল (২.৪০ কি.মি.) পর্যন্ত স্থানের সব বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যাবে এবং দু'মাইল (৩.২০ কি.মি.) পর্যন্ত সমস্ত কিছু তছনছ হয়ে যাবে। এরপর আট মাইল (১২.৮০ কি.মি.) পর্যন্ত দাহ্য সমস্ত কিছু জ্বলে উঠবে। এগারো মাইলের (১৭.৬০ কি.মি.) মধ্যে অবস্থিত সকল প্রাণী অগ্নিদগ্ধ হবে। এবং বিশমাইলের (৩২ কি.মি.) মধ্যে অবস্থিত সকল প্রাণীই কমবেশি অগ্নিদগ্ধ হবে। পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় স্বাভাবিকের তুলনায় দশ লক্ষ গুণ বেশি চাপ। বিপুল পরিমাণের তাপ বিক্রিয়া করে এক্সরে রশ্মি। এই বিকিরণ মিশে যায় চারপাশের বায়ুমন্ডলে। তখন চারপাশের বায়ুমন্ডলে সৃষ্টি হয় প্রচন্ড তাপ। এতে শুরু হয় প্রচন্ড বাত্যা বা অভিঘাত তরঙ্গের। প্রবাহিত হয় ঘন্টায় ১,১২০ কি.মি. (৭০০ মাইল) বেগে বায়ু প্রবাহ। এতে ভেঙ্গে পড়ে সমুদয় ঘড়বাড়ি এবং সজোরে নিক্ষিপ্ত হবে শূন্যে। সৃষ্টি হয় নারকীয় কান্ড। কিন্তু বিস্ফোরণের মুহূর্তেই ঘটনাটি শেষ নয়। এর ফল আরো দীর্ঘস্থায়ী। ঘটনার মুহূর্তে যে নিউট্রন এবং গামা রশ্মির বিকিরণ ঘটেছিলো-তার প্রভাব পরে অব্যাহত থাকে। তীব্র তাপে যেসব পদার্থ বাষ্পায়িত হয়েছিলো সেগুলো আবার ঘনীভূত হয়ে কঠিন কণাযুক্ত তেজস্ক্রিয় ধূলোয় পরিণত হয়। বৃহত্তর ত্ত ভারী কণাগুলোতো বিস্ফোরণের কিছু পরই মাটিতে নেমে আসে। কিন্তু থেকে যায় অতি ক্ষুদ্র কণার ধূলো। এগুলো নেমে আসতে সময় নেয় কয়েক মাস পর্যন্ত। এগুলো আবহাত্তয়া মন্ডলে থেকে যায়। এই ধূলো কণায় থাকে প্রায় ২০০ রকমের তেজস্ক্রিয় মৌল। এগুলোকে বলা হয় রেডিত্ত আইসোটোপ। এই তেজস্ক্রিয় মৌল জীবদেহের কোষে মিউটেশন ঘটাতে পারে এবং ক্যান্সার রোগের জন্ম দিতে পারে। আলফা কণাবাহিত ইউরেনিয়াম ত্ত প্লুটোনিয়াম আইসোটোপগুলো জীবদেহের যকৃত, কিডনীর ক্ষতি সাধন করে। এই আইসোটোপগুলো আরো মারাত্নক যে, এগুলোর বিপদজনক প্রভাব হাজার বছর অব্যাহত থাকে। এই বিকিরণ অত্যন্ত গোপন এবং এতই ছলনাময়ী যে লোক গ্রহণ করে সে ভুলেত্ত জানতে পারে না কি মৃত্যুবান সে গ্রহণ করলো নিঃশ্বাসের সাথে। অথচ এতেই তার ঘটতে পারে মৃত্যু।এই বিকিরণ অত্যন্ত সংগোপনে জীবদেহের জীবন রক্ষাকারী রাসায়নিক পদার্থের পরিবর্তন ঘটায়। বিকিরণের মাত্রা অতি সংগোপনে গ্রহণকারীর জীবনী শক্তিকে নিঃশেষ করে দেয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ঠেলে দেয় মৃত্যুর দিকে। এই বিকিরণের ফলে জীবদেহের রক্তের কণিকা কমে যায়। দেখা দেয় রক্ত শূন্যতা। দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাত্ত হ্রাস পায়। বিকিরণের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন প্রভাব হলো নিউক্লীমিয়া নামক এক প্রকার মারাত্নক রোগের প্রার্দুভাব। হিরোসিমার বোমা বর্ষণের এক মাইলের মধ্যে যারা ছিলো তাদের দেহে এই রোগের সম্ভাবনা ছিলো সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের প্রথম আণবিক বোমার বাস্তব প্রয়োগ হয় ১৯৪৫ সালের ৬ আগষ্ট তারিখে জাপানের হিরোসিমা শহরে বোমা নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। হিরোসিমাতে যে পারমাণবিক বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়েছিলো তার ধ্বংস ক্ষমতা ছিলো -১৩,০০০ শর্ট টন(১১,৮০০ মে.টন) টিএনটি। বোমাটির নিজের ত্তজন ছিলো ৯,০০০ পাউন্ড (৪১০০ কেজি)। এতে প্রাণ হানি ঘটেছিলো ৯২ হাজার লোকের। এর একটি শৌখিন নামত্ত ছিলো-'ক্ষুদে বালক' (Little Boy). এরই মাত্র তিনদিন পরে ৯ আগষ্ট তারিখে জাপানের নাগাসাকি শহরে ফেলা হয়েছিলো দ্বিতীয় বোমাটি। এতে নিহত হয়েছিলো ৪০,০০০ জন। বোমাটির ত্তজন ছিলো ১০,০০০ পাউন্ড (৪,৫০০কেজি)। দ্বিতীয় বোমাটির ছদ্দনাম ছিলো- 'মোটা মানুষ' (Fatman). এরপর পারমাণবিক বোমার বাস্তব প্রয়োগ আর হয়নি। কিন্তু বোমা তৈরীর কাজ অব্যাহত আছে। তৈরী হয়েছে আরো উন্নত মানের পানমাণবিক বোমা, হাইড্রোজেন বোমা এবং সর্বাধুনিক নিউট্রন বোমা। যার ধ্বংস ক্ষমতা আরো অনেক বেশি। এবং প্রায় অবিশ্বাস্য। হিরোসিমা, নাগাসাকিতে কত যুগ আগে বর্ষিত হয়েছিলো বোমা বর্ষণ। আজো সেখানকার লোকেরা ভোগ করছে সেই অভিশাপ।
বি.দ্র. এটা আমার প্রথম টিউন। টপিকটি সংগ্রহিত।
আমি আল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 15 বছর 10 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 3 টি টিউন ও 15 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।
স্বাগতম।
তথ্যবহুল।
ট্যাগ গুলো ঠিক হয় নাই। টিউটোরিয়াল না হয়ে পারমানবিক হওয়া উচিত ছিল।