সামান্য সময়েই অচেনা একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সাইকোলজি!

টিউন বিভাগ মনোবিজ্ঞান
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 1
এসএসসি ২০২২, খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

শুরু করার আগে প্রথমত যে কথাটি বলা আবশ্যক তা হচ্ছে, প্রতিটি মানুষই ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বহন করে এবং তাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধেও রয়েছে তফাৎ।

দ্বিতীয়ত, সবার জীবনেই খারাপ সময় আসে। কখনো কখনো কারো সাধ থাকলেও সাধ্য থাকে না।

তাই প্রথম দেখাতেই কাউকে যেমনটা মনে হয় সে আসলে তেমনটা নাও হতে পারে। তাই এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই এ নিয়ে জ্ঞান অর্জন করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা যখন কারো সাথে কমিউনিকেট করি তখন আমরা আমাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দ্বারা ৫৫%, কন্ঠস্বরের মাধ্যমে ৩৮% এবং আমাদের বলা কথার মধ্য দিয়ে মাত্র ৭% ভাব প্রকাশ করে থাকি।

একজন স্বল্প পরিচিত কিংবা সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তিটি কেমন হতে পারে তা বুঝতে চাইলে প্রথমেই ব্যক্তিটির বাহ্যিক অবস্থা লক্ষ্য করতে হবে। যেমন- হাঁটার ধরন, পোশাক, জুতা ইত্যাদি। এরপর তার কিছু আচরণ আর মনস্তাত্ত্বিক বিষয় খেয়াল করলে সেই ব্যক্তিটির ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মোটামুটিভাবে সামগ্রিক একটি ধারণা পাওয়া যাবে। এমনি কিছু বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের লেখাটি।

যেভাবে স্বল্প পরিচিত অথবা একেবারে অপরিচিত কোনো মানুষ কেমন ব্যক্তিত্বের হতে পারে তা বুঝবেন–

১. হাঁটার ধরন

প্রথমেই যে বিষয়টি একজন মানুষ সম্পর্কে ধারণা দেয় তা হলো মানুষটির 'হাটার ধরন'।

  • ১. যারা দ্রুত, আত্মবিশ্বাসের সাথে মাথা উঁচু করে হাঁটে তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে ফোকাসড বা মনোযোগী হয় এবং জটিল সমস্যাগুলো সুন্দরভাবে সমাধান করে থাকে।
  • ২. যদি মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু করে বুক টানটান করে হাঁটে তাহলে তারা সামাজিক, অন্যদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করে এবং কেউ যদি তার প্রশংসা করে তাহলে সেটা উপভোগ করে। আবার তারা সহজেই বোর হয়ে যায় এবং চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে।
  • ৩. যদি স্বাভাবিক গতিতে রিল্যাক্স হয়ে কেউ হাটে তাহলে তারা নিজেরাও সাধারণত রিল্যাক্সড, শান্ত এবং নিজেদের চেয়ে অন্যদের প্রতি বেশি মনোযোগী (দায়িত্ববান) হয়ে থাকে। তারা অবশ্য অন্যদের দ্বারা সহজে প্রভাবিতও হয়ে যায়।
  • ৪. যারা মধ্যম গতিতে কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সাথে পদক্ষেপ করে তারা কো-অপারেটিভ অর্থাৎ অন্যদের সাথে সহযোগিতামূলক আচরণ করে এবং ভালো শ্রোতা হয়ে থাকে। তারা বিশ্বস্ত লয়াল এবং অন্যদের উপর একটু নির্ভরশীল হয়ে থাকে।
  • ৫. যারা ধীর গতিতে এবং তাদের মাথা নিচু রেখে হাঁটে তারা সাধারণত ইন্ট্রোভার্ট (অন্তর্মুখী) এবং লাজুক হয়ে থাকে। যদি তার সাথে সাথে দুই হাতের বাহু আড়ারি ভাবে রেখে হাঁটে তাহলে তাদের সম্পর্কে একটু চেষ্টা করলেই তাদের মনের কথা জানা যায়।

২. পোশাক

দ্বিতীয় যে বিষয়টি একজন মানুষ সম্পর্কে ধারণা দেয় তা হচ্ছে তার পোশাকের ধরন। যেমন–

  • ১. যারা ক্যাজুয়াল পোশাক পড়তে পছন্দ করে তারা স্বচ্ছন্দ প্রকৃতির, কমফোর্ট কে গুরুত্ব দেয়, নিজেদের মতো থাকতে পছন্দ করে এবং অন্যদেরকে ইমপ্রেস করার প্রয়োজন বোধ করেনা।
  • ২. যারা বিভিন্ন রঙিন ছাপের বা প্যাটার্নের পোশাক করতে পছন্দ করে তারা সৃজনশীল এবং পোশাকের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রকাশ করতে পছন্দ করে।
  • ৩. যারা পোশাকের লোগোকে গুরুত্বের সাথে ফুটিয়ে তোলে, এবং একইসাথে ডিজাইনিং পোশাক পড়ে তারা সাধারণত শো-অফ করতে অর্থাৎ তাদের নিজেদের যা আছে তা অন্যদের কাছে প্রকাশ করতে চায়।
  • ৪. যারা তাদের কর্মক্ষেত্রের পোশাক পড়ে থাকে তারা সাধারণত সর্বদাই কাজে ব্যস্ত থাকে। কারণ তারা নিজেদেরকে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে অথবা চাকরিতে এবং তার অর্জনগুলোর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
  • ৫. যারা অফিশিয়াল স্টাইল ফলো করে এবং ফরমাল পোশাক পড়তে পছন্দ করে তারা সাধারণত রুচিসম্পন্ন, সংস্কৃতিবান, পরিশিলীত এবং আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হয়ে থাকে।
  • ৬. স্পোর্টস ড্রেস পড়তে যারা পছন্দ করে তাদেরকে আত্মবিশ্বাসী হতে দেখা যায়।
  • ৭. যারা নিরপেক্ষ রঙ অর্থাৎ নিউট্রাল কালারের কাপড় পড়তে পছন্দ করে তারা সাধারণত নিজেরা নিজেদের মধ্যেই পরিবেস্টিত বা আবদ্ধ থাকতে পছন্দ করে এবং অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায় না। তারা নিজেদের মতো করে থাকতে ভালোবাসে।
কিছু নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ রং

৪. জুতা

আপনি কি জানেন মানুষের পরিচিত জুতাটিও তার সম্পর্কে কিছু বলে? চলুন দেখে নিই–

  • ১. কারো জুতা যদি দেখতে নতুনের মতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয় তাহলে অন্যদের সাথে তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো হয়ে থাকে এবং চিন্তাশীল ব্যক্তিত্বধারী।
  • ২. যারা আরামদায়ক জুতা পড়তে পছন্দ করে তারা অমায়িক হয়ে থাকে।
  • ৩. 'অ্যাংকল বুট' পছন্দকারী ব্যক্তিটি সাধারণত নিজেকে প্রকাশ করতে পছন্দ করে।
অ্যাংকল বুট

৫. আই কন্ট্যাক্ট

যখন কারো সাথে কথা বলবেন তখন তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। পাশাপাশি অপর পাশের ব্যক্তিটিকে বুঝতে তার আই কন্ট্যাক্টও খেয়াল করুন।

  • ১. অপর পাশের ব্যক্তিটি যদি আই কন্ট্যাক্ট বজায় রেখে কথা বলে তাহলে বুঝবেন ঐ ব্যক্তিটি খোলাখুলি কথা বলছে এবং আপনার কথা শুনতে আগ্রহী আর আপনার দিকে মনোযোগীও।
  • ২. যদি প্রতিনিয়ত লোকটি আই কন্ট্যাক্ট ব্রেক করে তাহলে এটা তার নার্ভাসনেস এবং অস্বস্তিকে প্রকাশ করে। অথবা এটি তার লাজুকতাও প্রকাশ করতে পারে কেননা, লাজুক মানুষেরা বেশিক্ষণ আই কন্ট্যাক্ট ধরে রাখতে পারে না।
  • ৩. সামনে থাকা লোকটি যদি ঘন ঘন চোখের পাতা বন্ধ করে ও খোলে তাহলে বুঝতে হবে লোকটি আসলে ডিসস্ট্রেসড অর্থাৎ সে কোনো যন্ত্রণা বা মুশকিলের মধ্যে রয়েছে।
  • ৪. কেউ যদি চোখ সামান্য ছোট করে তেড়ছাভাবে বা বাঁকা চোখে তাকায় তাহলে সে এমনটি প্রকাশ যে সে আসলে আপনাকে সন্দেহ করে এবং আপনার প্রতি তার বিশ্বাস নেই।

৬. পাওয়ার বা ক্ষমতা পাওয়ার পর

ক্ষমতাই মানুষের প্রকৃত ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে দেয়। যদিও এখানে একজন মানুষের সাথে দেখা হওয়ার পরপরই তাকে বিশাল ক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করার মতো কোনো কথা বলা হবে না। তাই আমরা ছোট ছোট কিছু হ্যাকস ফলো করবো–

  • ১. যারা আমাদেরকে বিভিন্ন সার্ভিস দিয়ে থাকে (যেমন রেস্টুরেন্ট বা হোটেলের স্টাফ বা কর্মী) তাদের প্রতি মানুষটির আচরণ দেখুন। কারণ যারা সার্ভিস দেয় তাদেরকে কাস্টমারদের প্রতি ভালো ব্যবহার করতে হয় কিন্তু কাস্টমারদের এমন কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। এতে কাস্টমারদের মধ্যে এক ধরনের 'আচরণের স্বাধীনতা' কাজ করে। সুতরাং এই সময়টাতে আপনি মানুষটির প্রতি মনোযোগ দিন এবং দেখুন তিনি স্টাফদের প্রতি কেমন আচরণ করেন। মানুষটি কি ভালো আচরণকে বেছে নেয় নাকি অবজ্ঞামূলক আচরণকে বেছে নেয়।
  • ২. যদি ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি তার থেকে নিচু পর্যায়ের কোনো ব্যক্তির সাথে রুক্ষ ব্যবহার করে তাহলে বুঝতে হবে সেই ব্যক্তিটি অধিক ভোগবাদী এবং সুবিধাভোগী। তাই ব্যক্তিটি বাইরের দিক থেকে যতই ভালো আর বিশ্বস্ত‌ দেখাক না কেন সে আসলে ততটা ভালো আর বিশ্বস্ত‌ নয়।
  • ৩. অন্যদিকে, মানুষটির আচরণ যদি তার থেকে নিচু সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির প্রতি অমায়িক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ হয় তাহলে এটা তার উচ্চমানের ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে।
  • ৪. যারা তাদের কথাবার্তায় 'প্লিজ', 'ধন্যবাদ' এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে জানে তাহলে তারা অবশ্যই ভালো, বিবেচক এবং সহানুভূতিশীল হয়। তারা অন্যকে সম্মান দিতে জানে।

৭. একজন ব্যক্তি কোন ধরনের বই পড়তে পছন্দ করে তার উপর ভিত্তি করে

  • ১. যারা ক্লাসিক বা উচ্চ পর্যায়ের এবং সহানুভূতি জাগায় এমন ধরনের লেখা পড়তে পছন্দ করে তারা অন্যদেরকে গভীরভাবে বুঝতে বা জানতে চেষ্টা করে।
  • ২. ফ্যান্টাসি বই পড়তে যারা সবসময় পছন্দ করে তারা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে দিবাস্বপ্ন দেখা মানুষ যারা বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে থাকে এবং কখনো কখনো পুরো পৃথিবীকেই উপেক্ষা করে ফেলে।
  • ৩. ঐতিহাসিক গল্প পছন্দ করে এমন ব্যক্তিরা সাধারণত দৈনন্দিন জীবনের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর বিষয়গুলোর প্রতিও মনোযোগ দিয়ে থাকে।
  • ৪. যারা হরর বা ভৌতিক গল্প পড়তে পছন্দ করে তারা এডভেঞ্চারাস প্রকৃতির হয়।

আবারও একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই আর তা হচ্ছে, একেকজন মানুষ একেক রকমের বিশ্বাস এবং চিন্তাধারার। আর এ বিষয়গুলো একজন মানুষের ব্যক্তিত্বেও প্রভাব ফেলে। যা কিনা তার বাহ্যিক লুকেও পরিবর্তন নিয়ে আসে। তাই সবাইকে একই পাল্লায় রেখে মাপা অথবা জাজ করাটা যেমন ঠিক নয় তেমনি আপনার জাজমেন্ট এক্ষেত্রে সবসময় সঠিক নাও হতে পারে।

যাইহোক, আপনি যদি এ ধরনের লেখা আরও পড়তে চান তাহলে এ একাউন্টটি ফলো দিয়ে রাখতে পারেন।

আর পরিবর্তনশীল সময়ের সাথে নিজেকে আপডেটেড করে রাখতে নিয়মিত চোখ রাখুন টেকটিউনস এর পাতায়।

Level 1

আমি জান্নাতুল ফেরদৌস ইভা। এসএসসি ২০২২, খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 4 মাস 2 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 10 টি টিউন ও 14 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 6 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 8 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস