স্বপ্নের অজানা তথ্য

    আজকে আমরা স্বপ্নের মানে বোঝার চেষ্টা করব।

আমরা অনেকে কমবেশি স্বপ্ন দেখি। কিন্তু আসলে বুঝতে পারি না আমরা স্বপ্নে যা দেখতেছি আসলে সেটা কি দেখতেছি বা কেন দেখছি। যদি মানুষের কাছে সঠিক তথ্য থাকে তাহলে সে নিজেকে বুঝতে পারবে।

আমরা সকলেই স্বপ্ন দেখি আর স্বপ্ন দেখার পরে চিন্তা করি যে এই স্বপ্নগুলো হয়তো অহেতুক। স্বপ্ন গুলার কোনো মানে নেই। বিভিন্ন ধর্মে স্বপ্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করে থাকে। নবী-রাসূলগণ স্বপ্ন যখন দেখতেন তখন স্বপ্নের মানে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতেন। বিজ্ঞানীরা স্বপ্নে তাদের নতুন আবিষ্কারের খুঁজেঁ পান। অনেকে মনে করে স্বপ্ন তাদের দিকনির্দেশনা দেয় আবার অনেকে স্বপ্নের মধ্যে সমস্যার সমাধান খুঁজে পান। অনেককে বলে স্বপ্নে নাকি ভবিষ্যৎ দেখা যায়। মানুষ বিভিন্ন বই বা কোন কিছু দেখে স্বপ্নের ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করে।

তারা স্বপ্নে যদি কোথা থেকে পড়ে যায় তাহলে ভাবে চাকরি হারাবে চাকরি ছুটে যাবে, এমন অনেক কিছু তারা ভেবে নেয়। সিড়ি দিয়ে ওঠা বা ফুল দেখা বা সাপ দেখা যেগুলোর মানুষ ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করে। যদি বেশিরভাগ মানুষের দেখে স্বপ্নের যে, সে পড়ে যাচ্ছে অথবা সে কোন ফুল দেখে সে হয়তো ভেবে নেয় যে তারা চাকরি থেকে সরে যাচ্ছে বা চাকরি হারাতে পারে। অনেকে ভাবে যে যারা স্বপ্নর ব্যাখ্যা দিতে পারে তাদের কাছে আমার যাওয়া উচিত। এটা সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা কেননা আপনি আপনার থেকে অন্য কেউ আপনাকে বেশি ভালো চিনতে পারবে না। কেননা আপনি কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন সেটা শুধুমাত্র আপনি ভাল জানেন। ধরুন একটি আর্টিস্ট ছবি আঁকে, যদি সেই ছবিটির ব্যাখ্যা নিতে যান তাহলে আপনাকে সেই আর্টিস্ট এর কাছে যেতে হবে আপনাকে। অন্য কোথাও সে ব্যাখ্যা পাবেন না। যিনি বই লেখে তার কাছে আপনি বইয়ের মানে জানতে পারবেন অন্য কোথাও সেটা জানতে পারবেন না। ঠিক সেইরকম ভাবেও স্বপ্নের মানে নিজে যতোটুকু ভালো জানবেন, অন্য কেউ সেটা জানবেন না। স্বপ্নের মানে বের করতে গেলেই কে মনে রাখতে হবে বেশিরভাগ মানুষ সেটা মনে রাখতে পারে না।

অটো সাজেশন
কিছু কিছু মানুষ যখন ঘুমাতে যায়, সে কিন্তু অ্যালার্ম দেয় না নিজেকে বলে যে সাড়ে চারটার দিকে বা পাঁচটার দিকে উঠবে ঠিক ওভাবেই কিন্তু পাঁচটার দিকেই ওঠে। তাই আপনি যদি নিজেকে সেই ভাবে সাজেশন করেন, গাইড দেন যে আমি আজকে স্বপ্নে যা দেখবো সেটা আমার মনে থাকবে এভাবে যখন আপনি নিজেকে এলার্ম দিতে থাকবেন তখন আপনার সেই স্বপ্নটা মনে থাকার প্রবণতা বেড়ে যায়। অটো সাজেশন আপনাকে দুইবার দিতে হবে
১। একটা হচ্ছে দৈনন্দিন কাজের সময়
২। একটা হচ্ছে ঘুমানোর সময় যখন আপনি ঘুমাতে যাবেন তখন আপনি নিজেকে বারবার বলবেন, যখন আপনি কাজে যাবেন তখন আপনি নিজেকে বারবার বলবে।

    স্বপ্ন মনে রাখার কৌশল

    ঘুম থেকে উঠে চোখ বন্ধ রাখ

ঘুম থেকে ওঠার পর আপনি আপনার চোখ যথেষ্ট সম্ভব বন্ধ রাখবেন এবং মনে করার চেষ্টা করবেন যে আপনি স্বপ্নে কি দেখলেন ক্রমাগত আপনি প্রথম থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে বুঝার চেষ্টা করবেন তাহলে আপনার স্বপ্নটি মনে থাকা সম্ভবনা বেড়ে যাবে।

    ঘুম থেকে উঠে নাড়াচাড়া না করা

ঘুম থেকে উঠার পর অনেকে ঘুমের মাঝে নাড়াচাড়া করে যার কারনে ঘুমের মধ্যে যেই স্বপ্নটি সে দেখতে পেল সেই সেই স্বপ্নটি মনে রাখতে পারবে না এজন্য সবচেয়ে বড় ফর্মুলা হচ্ছে স্বপ্ন মনে রাখার -আপনি ঘুম থেকে ওঠার পর নড়াচড়া করবেন না।

    স্বপ্নের মানে বের করতে গেলে আপনাকে কি কি জিনিস লক্ষ্য করতে হবে

স্বপ্ন প্রথমে কি হচ্ছে শেষে কি হচ্ছে এবং স্বপ্নটি কোথায় দেখতে পাচ্ছেন, স্কুলে না কলেজে না বাসায় যে স্থান সেটা মনে রাখতে হবে প্রথমে।

    কতগুলো চরিত্র দেখতে পান

স্বপ্নে আমি কতটি ক্যারেক্টার মানে কতটি চরিত্র দেখতে পান। সেটা আপনাকে মনে রাখতে হবে দুটি না তিনটি এতগুলো কি সেগুলো মনে রাখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আপনাকে বুঝতে হবে ও মনে রাখতে হবে যে আপনি স্বপ্নে যার সাথে আছেন তার সাথে আপনার সম্পর্কটা কি। সে কি আপনাকে তাড়া করছে, সে কি তার সাথে কি আপনার বন্ধুত্ব ছিল, আপনাকে সে মারতে আসতেছে অথবা এইসব।

আপনি পার্টিসিপেন সেটা দেখতে হবে যে আপনি কি নিজে থেকেই কাজগুলো করতেছেন নাকি? আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে ও সবাই আপনি সহ অনেকেই এই কাজগুলো করতেছে আর আপনি শুধুমাত্র দেখতেছেন এটা আপনাকে বুঝতে হবে।

এরপর শেষে আপনাকে দেখতে হবে আবেগটা আসলে স্বপ্নে এটা কি ধরনের একটি ছিল যে এটাকে রাগান্বিত কোন কিছু ছিল নাকি এটা কোন আনন্দের ছিল নাকি কষ্টের ছিল নাকি দক্ষিণ ছিল এটা আপনাকে বুঝতে হবে।

সর্বোপরি আপনাকে এখন বাসতে হবে যে আপনার স্বপ্নের সাথে আপনার জীবনের কি সম্পর্কটা রয়েছে সম্পর্কটা কি আপনি তুলে ধরলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার স্বপ্নে আসলে কি ছিল এবং কি দেখাতে চেয়েছিল বা কি দেখলেন আপনি।

এরপর বুঝতে হবে যে আপনি কত কয়েক দিন ধরে কি বিষয় নিয়ে চিন্তা করছেন কি বিষয়ে আপনার মনের মধ্যে নাড়া দিচ্ছে সেটির মাধ্যমে আমরা স্বপ্নের মধ্যে রিলেটিভ কিছু খুঁজে পাই। গবেষণায় দেখা গিয়েছে মানুষ একদিন মানে ২৪ ঘন্টার মধ্যে যা চিন্তা ভাবনা করে সে স্বপ্নগুলোই সে রাতে দেখতে পারে।

তারপরে দেখতে পারবেন আপনি বর্তমানে কোন আবেগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন যে আবেগগুলো আপনার মধ্যে থাকবে সে আপনার স্বপ্ন গুলোর মাধ্যমে সেই আবেগগুলোই ফুটে উঠবে।

এবং দৈনন্দিন জীবনে আপনাকে যে বিষয়ে একটি বেশী ব্যস্ত করে রেখেছে স্বপ্নে সেই জিনিসটি আপনার স্বপ্নে দেখতে পারবেন।

তারপর দেখতে হবে স্বপ্নগুলো আপনাদের অতীতের সাথে সম্পর্কযুক্ত কিনা কারন আমরা অনেক স্বপ্নই দেখি যে আমাদের অতীতের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

ধর্ম নিয়ে অনেক সময় স্বপ্ন কারণ আপনি ধর্ম নিয়ে যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত সেই বিষয়টি নিয়ে স্বপ্ন হতে পারে।

অনেক সময় মানুষ দেখে যেটা নিয়ে সে চিন্তা করছে সেটা হতে হয় যেমন হোক সেবা সে এখন বিষন্ন জন্ম মৃত্যু বিয়ে এসব নিয়ে চিন্তা করে তার স্বপ্নে কিন্তু এরকম রিলেটেড কোন কিছুই হয়।

সবশেষে আপনি যদি জীবনের লক্ষ্য নিয়ে চিন্তিত হন তাহলে আপনার স্বপ্নে এই বিষয়গুলোও চলে আসতে পারে।

Level 1

আমি নাহিদ শাহ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 1 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 10 টি টিউন ও 17 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 3 টিউনারকে ফলো করি।

আমি একজন জব পরীক্ষার্থী নতুন কিছু অনুসন্ধান করার ইচ্ছা আমার তাই তা আমি উপস্থাপন করবো ইনশা আল্লাহ।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস