ভালোবাসা তোমাকে দিলাম ছুটি

ভালোবাসা তোমাকে দিলাম ছুটি
লেখা - Masud R Rahman

পর্ব ১>>https://www.techtunes.io/other/tune-id/702121

পর্ব ২

প্রতি উত্তরে আমি বললাম, 'চলো তোমাকে বাসায় পৌছে দেই'! মিরা একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছে মনে হচ্ছে। আমি যে তাকে বাসায় পৌছে দেয়ার কথা বলেছি সেটা সে বিশ্বাস করতে পারছেনা, আবার পারছে!

- চলো।

মিরাদের বাসার সামনে আসতেই মিরা থমকে দাঁড়ালো। এবার আমি ওর দিকে একটু তাকালাম। বহু পরিচিত মানুষটাকে বহুদিন পর এতো কাছ থেকে দেখছি। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা ঠিক হবে না। আমি চোখ সড়িয়ে নিলাম। কেনো জানি মনে হচ্ছে মিরা কিছু বলতে চাচ্ছে। আমি সামনের দিকে পা বাড়াতেই মিরা ডাক দিলো! বহুদিন পর কারো মায়া মাখানো ডাক শুনতে পেলাম!

- মিরা কিছু বলবে?

- না মানে, তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো। শুনবে একটু?

- না, শুনতে ইচ্ছে করছে না। বাসায় যাও। আমি গেলাম। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

মিরাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই আমি সামনে পা বাড়ালাম। একটু এগিয়ে গিয়ে, আবার একটু পেছনে তাকালাম। মিরা এখনো এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

আমি এবার আরেকটু দ্রুত গতিতে সামনে পা বাড়ালাম।

ফোন বাজছে। আমি বিছানা ছেড়ে উঠলাম। টেবিলের উপর থেকে ফোনটা নিয়ে রিসিভ করতেই মিরার কন্ঠ শুনতে পেলাম!

- হ্যালো, মাসুদ ভালো আছো?

- আলহামদুলিল্লাহ্‌, ভালো। তুমি ভালো আছো?

- হ্যা, ভালো। কি করছো এখন?

- তেমন কিছু না। শুয়ে ছিলাম, তুমি ফোন দেয়াতে বিছানা থেকে ওঠে ফোন রিসিভ করলাম।

- তোমার কি শরীর খারাপ? কথা কেমন যেনো শোনাচ্ছে!

- না মিরা, শরীর ভালো। কিছু হয়নি।

- আচ্ছা, ভালো। তুমি কি আগামীকাল ক্যাম্পাসের গেইটের বাইরে আমার সাথে দেখা করতে পারবে?

- আচ্ছা, আমি দুটার দিকে চলে আসবো।

- আচ্ছা, ঠিক আছে। রাখি এখন, ভালো থেকো।

মিরা ফোন রাখার আগেই আমি রেখে দিলাম। স্কুলজীবনে মিরার সাথে পড়াকালীন সময় থেকে আমি ওকে পছন্দ করতাম। সে বিষয়টা সে প্রথমে জানতো না। আমি যে ওকে পছন্দ করতাম, ওকে দেখে যে জীবনের প্রথম প্রেমের অনুভূতি মনের মধ্যে অনুভূত হয়েছিল সেটা আর কেউই জানতো না! স্কুলজীবনে মিরা বাদে প্রায় সবার সাথেই টুকটাক কথা হতো, বেশিরভাগই ছিলো পড়ালেখা বিষয়ক। কিন্তু মিরার সাথে পড়ালেখা বিষয়ক কোন কথাও পর্যন্ত বলতাম না! প্রচন্ড জড়তা থাকার কারনে ওর সাথে আমার কথা হতো না! জড়তাটা শুধু ওর ক্ষেত্রেই কাজ করতো বেশি! জীবনের প্রথম প্রেমের অনুভূতি ছিলো মিরা, সেজন্যই বোধহয় তাকে দেখে স্বাভাবিক ভাবেই জড়তাটা অনেকটা বেশি কাজ করতো। তবে দূর থেকে বিভিন্ন ভাবে মিরাকে কিছু একটা বোঝাতে চেষ্টা করতাম। স্কুলের শার্টের হাতা গুটিয়ে, হোল্ড করে.একটুখানি ভালোভাবে নিজেকে মিরার সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা চালাতাম! জানিনা সে তখন এসব খেয়াল করতো কিনা, তবে আমি দিনের পর দিন আরো অদ্ভুতভাবে ও নিজেকে দূর থেকেও ওর সামনে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করতাম। স্কুল ছুটির পর, ওকে একটু দেখার জন্য গেইটের বাইরে দাঁড়িয়ে পায়চারী করা বিকেল গুলিকে মনে হতো পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম সময়! বহু অপেক্ষার পর যখন একদল ইউনিফর্ম পড়া মেয়েকে আসতে দেখতাম, বাইরে থেকেই দেয়ালের পাশে লুকিয়ে একই ইউনিফর্ম পড়া একদল মেয়ের মাঝে মিরাকে খুঁজে বেড়াতাম! গেইটের কাছে আসতেই 'মিরা দেখে ফেলবে' এই ভয়ে অনেকটা আড়ালে চলে যেতাম! প্রিয় মুখটাকে দুটা মিনিট দেখার জন্য, ক্লাস পিরিয়ড মিস দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গেইটের বাইরে অপেক্ষা করার মূহুর্তগুলো, আজ. এতবছর পরও আমার কাছে অমূল্য! কিন্তু সেই তিন শব্দের কথাটি বলা হয়নি কখনো! স্কুলজীবনটা এভাবেই কেটে গেলো। কলেজ লাইফটাতে ও মিরাকে প্রায় সবসময়ই আড়াল থেকে এভাবে দেখে কাটিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বলা হয়নি কোনো অনুভূতির কথা। মিরা এখনো এই ব্যাপারে কিছু জানে না! আর যদি জেনে ও থাকে সেটা আমাকে বুঝতে দিচ্ছে নাহ!. এসব ভাবতে ভাবতে আমি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম।

অনেকদিন স্বপ্ন দেখা হয়না!

সকালে ঘুম ভাঙলো কারো কান্নার শব্দ শুনে! আমি অনেকটা থতমত খেয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে মায়ের রুমে যেতেই দেখলাম এক জটলা মানুষ মায়ের বিছানার চারপাশে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে! আমি একটু কাছে গেলাম। মায়ের নিথর, নিস্তব্ধ দেহটার পাশে বসলাম। ছোটবোন কাঁদতে কাঁদতে প্রায় বেহুঁশ হবার মতো অবস্থায়! আমি চোখ বুঝে মায়ের কপালে হাত রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস দিয়ে সবাইকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বললাম। সবাই বেরিয়ে গেলো। আজ এতো বড় হয়ে যাওয়ার পরও যে মানুষটা রোজ আমাকে মুখে তুলে নিজ হাতে খাইয়ে দিতো, কিছুক্ষণ পর পর আমার রুমে এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতো 'বাবা, তুই চিন্তা করিস না, তোর বাবা ঠিক হয়ে যাবে. তুই মন দিয়ে লেখাপড়া কর'. সেই মানুষটা আর নেই! আমি নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলাম। চোখে পানি আসার উপক্রম হলেও, আসতে দিলাম নাহ!

মায়ের কোন রোগ ছিলোনা। হয়তো এই পরিবার, বাবার অসুস্থতা এইসব চিন্তা করতে করতেই.!

 

তৃতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন.

Level 0

আমি টিএফ ফাহিম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর 10 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 6 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস