
ভালোবাসা তোমাকে দিলাম ছুটি.
লেখা - Masud R Rahman.
বাবা হাসপাতালে ভর্তি। বাড়িতে শুধু মা আর ছোট বোন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা। বাবা অসুস্থ হয়ে যাওয়াতে নিদারুণ সংকটের মধ্য দিয়ে এখনকার সময়টা অতিবাহিত হচ্ছে। আমিও তেমন কিছু করতে পারছিনা। মাত্র অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে। তারপর ও চাকরীর জন্য এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছি। গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে ও যেখানে হাজার হাজার তরুন চাকরীর জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে, পাচ্ছে না। সেখানে অনার্সে পড়া অবস্থাতেই আমার চাকরী পাওয়াটা অনেক, অনেকটা কঠিন ব্যাপার। তারপর ও চেষ্টা করে যাচ্ছি, যদি কোনমতে একটা চাকরী পেয়ে যাই।
এদিকে ছোট বোন সেদিন দেখলাম আম্মুর সাথে বলছে, কলেজের তিন মাসের বেতন বাকি পরে আছে, সামনে ওর পরীক্ষা। কলেজ থেকে নোটিশ দিয়েছে পরীক্ষার আগে দিতে হবে।
আমার পকেটে তখন দু টাকা ছিলো। এসব শোনার পর বাসা থেকে বেরিয়ে যাই। বেরোতেই সামনে একটা আট-দশ বছরের ছেলেকে দেখলাম ছোট্র একটা বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাটা দিয়ে একটু কাছে গেলাম। ছেলেটা দেখলাম তখনো কেঁদে যাচ্ছে। বাসার সামনের এই রাস্তাটায় যে ছেলেটাকে আমি নতুন দেখছি তা নয়। সেই ছোট থেকেই তাকে এখানে দেখে আসছি, তবে তখন সাথে তার মা ছিলো। আজ শুধু ছেলেটাকে, আর তার কোলে ছোট একটা বাচ্চা দেখছি। ছেলেটার নাম আমি জানি না। তবে তাকে আমি সংগ্রাম সাহেব বলেই ডাকি। এই নামে ডাকার পেছনে ও একটা গল্প আছে। থাক, সেটা অন্য কোন একদিন বলবো। থাকনা একটু রহস্য।
কাছে গিয়ে সংগ্রাম কে কাদার কারণ জিজ্ঞেস করতেই, আমার নিজের ও কেঁদে ফেলার উপক্রম হলো। নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, চল সংগ্রাম সামনের ওই দোকানটায় তোকে নিয়ে ভালো কিছু খাওয়া যাক। ছেলেটে দুদিন না খেয়ে আছে, পানি ছাড়া তার নিজের পেটে তেমন কিছুই পরে নি। বাসায় বাসায় গিয়ে অনুনয়-বিনয় করে ছোট বোনের জন্য সামান্য কিছু খাবার পেয়েছে। সংগ্রামের কোলের মেয়েটা তার বোন। বয়স এক বছরের চেয়ে একটু বেশি হবে।
পকেটে দু টাকা নিয়ে, সাথে সংগ্রাম কে ভালো খাবার খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে.উন্নতমানের একটা রেস্টুরেন্ট এর ভেতরে যখনি চেয়ারে বসতে যাবো; ঠিক তখনি পেছনের টেবিলটায় আমার চোখ পড়লো। দেখলাম মিরা বসে আছে। মিরার সাথে আমার পরিচয়টা দীর্ঘদিনের। অনেকদিন পর দেখা, স্বাভাবিক ভাবেই ওর সাথে একটু কথা বলতে মন চাচ্ছিলো! মনের তীব্র ইচ্ছাটাকে বাদ দিয়ে, সংগ্রামকে নিয়ে পাশের টেবিলটায় বসলাম। মিরা সম্ভবত আমাকে দেখতে পায়নি। দেখতে পেলে কথা বলার জন্য ঠিকই ছুটে আসতো।
দোকানের একজনকে ডাক দিয়ে বললাম, ভাই ভালো কিছু খাবার দিন। লোকটা আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে খাবার আনতে গেলো। আমি বসে ভাবতে লাগলাম পকেটে আছে মাত্র দু টাকা, খাবার খাওয়ার পর বিল একশ টাকার নিচে আসবে বলে মনে হয়না। টাকা কোত্থেকে দিবো ভাবছি, ঠিক তখনি মিরা সামনে দাঁড়ালো। এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। আমি একবার তাকিয়ে, চোখ সড়িয়ে নিলাম। আমার পাশেই এসে বসলো। আমি বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি।
- কেমন আছো মাসুদ?
- আলহামদুলিল্লাহ্, ভালো আছি। তুমি ভালো আছো?
- হ্যা, খুব ভালো আছি। তা আজকাল কি করছো? কোথায় আছো? সেদিন তোমার মেসে গিয়েছিলাম, একজন বললো তুমি নাকি মেস ছেড়ে চলে গেছো! কি হয়েছে বলবে কি?
- চাকরীর জন্য ঘুরছি, হ্যা ; আগের মেস ছেড়ে দিয়েছি। এখন এক আত্মীয়ের বাসায় আছি। কিছু হয়নি মিরা, বাবা-মা-বোন নিয়ে এইতো বেশ আছি। তুমি কি করছো?
- আমি লেখাপড়া ছাড়া আপাতত কিছুই করছিনা। তোমার চেহারায় হতাশার ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি! কোন সমস্যা?
- আমার কিছু টাকা লাগবে মিরা। দিতে পারবে?
- অবশ্যই! তুমি টাকা চেয়েছো আমি দিবো না সেটা ভাবলে কি করে! বলো কত টাকা দরকার?
- দুশো টাকা দাও। পরে দিয়ে দিবো।
- দুশো টাকা! কি করবে? তোমার পাশে বসে থাকা ছেলেটাকে কিছু খাওয়ানোর জন্য এখানে নিয়ে এসেছো, আর তোমার পকেটে টাকা নেই! তাইনা?
- হ্যা, ঠিক ধরছো। টাকা নেই বললে ভুল হবে, দু টাকা আছে।
- তুমি যা খাওয়ার খাও, বিল যা আসে আমি দিবো। টাকা নিয়ে তুমি চিন্তা করো না।
- আচ্ছা।
দুশো আশি টাকা বিল দিয়ে বাইরে রাস্তার ধারে এসে দাঁড়ালাম। মিরা ও একটু পরে আমার পাশাপাশি এসে দাড়ালো।
- মিরা আরেকটা উপকার করতে পারবে?
- বলো, এবার কার জন্য কি করতে হবে। নিজের জন্য তো তুমি আমার কাছে কখনো কোন সাহায্য চাওনি। আজ ও যে চাইবে সেটা ও বলছিনা।
- একটা দুধের প্যাকেট কিনে দিতে পারবে?
- চলো। ওই দোকানটায় যাই।
আড়াইশো টাকা দিয়ে একটা দুধের প্যাকেট কিনে সংগ্রামের হাতে দিয়ে বললাম, যা ব্যাটা। আর কাঁদবি না। এই প্যাকেট দিয়ে, তোর বোনকে কয়েকদিন খাওয়াতে পারবি।
সংগ্রাম চলে গেলো। আমি মিরাকে উদ্দেশ্য করে যখনি কিছু বলতে যাবো, আমাকে চুপ থাকার ইঙ্গিত দিয়ে আমার হাতটা টান দিয়ে, হাতের মুঠোয় কিছু টাকা ধরিয়ে দিলো।
- মাসুদ, এখানে কিছু টাকা আছে। রেখে দাও। তোমার কাজে লাগবে।
২য় পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।
ধন্যবাদ!
আমি টিএফ ফাহিম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর 10 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 6 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।