মুড সুইং কেন হয় এবং প্রতিকার

টিউন বিভাগ অন্যান্য
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

মুহূর্তে মন পাল্টানোই হলো মুড সুইং। বিশেষ করে মেয়েদের এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এটি মুলত হরমোনাল ইমব্যালান্স, মেসট্রুয়াল সাইকেল, বয়ঃসন্ধিতে, গর্ভাবস্থায় দেখা দেয়।

আগের টিউনে বিস্তারিত প্রকাশ হয় নি। তাই আবার এই বিষয়ে আলোকপাত করছি। মুড সুইং সমস্যার কারণে কিছু মেয়ে বা ছেলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়ে। এর ফলে শুধু মানসিক প্রব্লেমই হয় তা নয়। শারীরিক ভাবে ও অনেক প্রব্লেম হয়। মুড সুইং এর সময় মানুষ ওভার রিয়েক্ট করে৷ তাদের অভ্যাসের পরিবর্তন হয়। একটুতেই রেগে যায়। কারণে অকারণে মন খারাপ করে। অল্প তেই হতাশ হয়। এক মিনিটে মন খারাপ আবার খুশি হয়ে যাওয়া লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মুড সুইং হলে কিছু করনীয় আছে। যার মাধ্যমে আপনি মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারবেন।

১.ত্বকের যত্ন নেওয়া : ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় সব টুকু সময় নিজের জন্য ব্যয় করবেন। বাসায় যা আছে, তাই দিয়ে শুরু করুন যত্ন নেওয়া। এতে যেমন আরাম বোধ করবেন। আপনার আত্নবিশ্বাস বাড়িয়ে আপনার মুড সুইং কমিয়ে দিবে।

২.গান করা ঃঃ গুন গুন করে বা জোরে আপনার কোন পছন্দের গান করুন। গান অনেক সময় মন খারাপ খুব সহজেই দূর করে দেয়৷ বিভিন্ন সমীক্ষায় পাওয়া গেছে গান হতাশা, চিন্তা দূর করে।

৩.ডায়েরি লেখা: নিজের মনের কষ্ট গুলো লিখে ফেলুন কাগজে। যা মনে আসে তাই লিখুন। এতে আপনার চাপা কষ্ট দূর হবে৷

৪.হাটাহাটি করা :চুপ করে থাকা মানুষ এর হতাশা কে দশ গুন বাড়িয়ে দেয়৷ যখন একা থাকবেন চারদিকে তাকান কি কি আছে খেয়াল করুন। বেশি হাটাচলা আপনার মন কে ফুরফুরে করবে। মস্তিষ্কের অপ্রয়োজনীয় চিন্তা দূর করবে। মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সাপ্লাই হলে আপনার মনস্থির হবে।

৫. ভিজুয়ালাইজেশন : সব কাজের আগে ইতিবাচক চিন্তা করুন। আগে থেকে নেতিবাচক চিন্তা আপনার সফলতা অর্জনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে। ইতিবাচক কোন কিছু শুনুন বা পড়ুন।

৬.শেয়ারিং :চেনা মানুষ বা অচেনা মানুষ কাউকে বাছাই করুন আপনার কথা শেয়ার করার জন্য। তাকে শেয়ার করলে হয়ত আপনার সমস্যা সমাধান না হলেও মন হালকা হবে।

মুড সুইং এর কারণে যেসব সমস্যা দেখা দেয় :

১.বিভ্রান্তি
২.অল্পতেই বিরক্তি
৩.অল্পেই ক্লান্তি
৪. হতাশা বা মন খারাপ
৫.অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা
৬. আচরণে অসমঞ্জস্যতা
দীর্ঘদিন এই সব লক্ষ্মণ কারো মধ্যে দেখা দিলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া উচি৷ শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রে নয় হরমোন এর প্রভাবে ছেলেদের মধ্যে এসব সমস্যা দেখা দেয়৷ ভালো ঘুম যে কোন মানসিক ও শারীরিক অবসাদ দুর করতে সাহায্য করে। তাই অকারণে রাত না জেগে ঘুমানো উচিত। অনেক সময় ঘুম না হলে মানুষের মেজাজ বিগড়ে যায়। যা পরবর্তীতে খারাপ দিকে মোড় নেয়। এত টাই খারাপ একটা মানুষ কে অসুস্থ মন থেকে বের হয়ে সুস্থ হতে বেশ সময় লাগে।
স্বাস্থ্য কর খাবার সব সময়ই জরুরি। এতে শরীর যেমন ভালো থাকে। তেমনি মন ভালো থাকে। ভালো জীবনযাপন মানুষ কে ভালো রাখে। ভালো জীবনযাপনের একটা অংশ হলো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা।

আপনি যখন বুঝতে পারবেন আপনার প্রিয় কোন মানুষ মুড সুইং ভুগছে৷ আপনি তার সাথে খারাপ ব্যবহার না করে, তাকে সময় দিন৷ বোঝার চেষ্টা করুন। সে কি চায় এবং বলতে চায়। সে ওভার রিয়েক্ট করলে আপনি ও তার সাথে তাল মিলিয়ে ওয়ার রিয়েক্ট করবেন।

মানুষের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক রয়েছে, যা মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে৷ কলা, মুরগির মাংস, শসা, অ্যাভোকাডো এসব খাবার সেরোটোনিন ক্ষরনে সাহায্য করে।

ওজন বেড়ে যায় এমন তেল জাতীয় খাবার না খাওয়া ভালো। অবসাদ মানুষের কার্য ক্ষমতা কমিয়ে দেয়৷ দিন শেষে মানুষকে কাজ করেই জীবন অতিবাহিত করতে হয়। তাই মন ভালো রাখা খুবই জরুরি। মন ভালো থাকলে কাজে ও মন বসে ভালো। প্রিয় মানুষ গুলোর মুড সুইং এ সংবেদনশীল হোন। তাদের সমস্যা থেকে বের হতে সাহায্য করুন৷

Level 1

আমি ইফাত শারমিন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 মাস 1 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 10 টি টিউন ও 6 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 2 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 3 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

এই রোগ টার ব্যাপারে আমি জানতাম এ না। অল্প পরিচয়ে এক মেয়ের সাথে আমার রিলেশন হয় । খুব ভালো সম্পর্কই ছিল। বিয়ে করার সিদ্ধান্ত ও নেই , কিন্তু ওর ও মুড সুং প্রব্লেম টা আছে । অল্প প্রেসার এই ও অসুস্ত হয়ে যেত । বুঝতেই চাইতাম না । কিন্ত আর হলনা , অজান্তেই কি যেন মনে করে ই নরমাল সম্পর্কটাকে শেষ করে দিল । আর কখনই আমাদের কথা হয়নি। সেও ডাইরি লিখত, গান করতো, নাচ করতো, সাজগোছ করতে পছন্দ করতো , আর এগুলো করত ই ওই রোগ এর কারনে। আজ আপনার লেখা পরে মনে পরলো। আমার মতে সব ছেলেদের এ ব্যাপারে জানা উচিৎ । না হলে আমার মতই হবে। শুভকামনা

    ধন্যবাদ। মুড সুইং সমস্যা ছেলেদের থেকে মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। যারা বেশি সমস্যায় থাকে তাদের চিকিৎসা প্রয়োজন। ভুক্তভোগী নিজেকে আলাদা একা মনে করে অনেক সময় প্রিয় মানুষদের থেকে দূরে সরে যায়। তাই এই সমস্যায় থাকা মেয়েদের প্রিয়জন দের সতর্ক থাকা উচিত, না হলে ভবিষ্যতে অন্য সমস্যা ও দেখা দেয়। মানসিক বিষয় গুলো পর্যবেক্ষণ করা সম্পর্ক তৈরীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।